Skip to main content
Internet Archive's 25th Anniversary Logo

Full text of "Kashikhandam"

See other formats




টিভ্তরঙ্জন ঘোম্রাল ক্রতূক্ত অনুদিত 
এবৎ 
তারকেশ্বর মঠাধীশ দন্ডিদ্বা্ি হৃমীকেশাশ্রয়, ডঃ লমানভ্ল 
স্ুশ্োপাধ্র্যামন, উপাচাধ, বববীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, 
ডঃ ল্রঘা চৌল্রুল্লী কতৃক মুখবন্ধ, ভূমিকা ও - 
প্রাসঙ্গিকী সম্বলিত । 


পুর্বাছন্ল 


৮, মভাক্সা! গান্ধী রোড । 
কলিকাতা-৯ 


৪ িসুধান্দ্র চৌধ্রণ 





প্রথম প্রকাশ £ ডিস্হ্বের ৯৯৬৮ 


প্রচ্ছদ £ 'বিভূতি সেনগুপ্ত 


মুদ্রক ঃ শ্রীশত্কর নারায়ণ হাজরা 
মিতালী পপ্রিশ্টাস' 

৩ , রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিট 
কালিকাতা-৫ 


মুখবন্ধ 
জয়গুর 


আপ শুলধরো নিরাময়ো দঢ় বৈরাগ্ারতোহপিরাগধান: | 
আপ ভৈক্ষ্যচরো মহেন্বরশ্চারতং চিত্রামদং হ তে,প্রেভো ॥ 
যিনি শল-(ভ্রশল ) ধারী হইয়াও নিরাময় অথনৎ মঙ্গল [িধানকারণী, 
দঢ়তর বৈরাগাণূত্ত হইয়াও স্বভ্কুলের প্রাত অনুপাগয্ুত্তঃ দানি ভৈক্ষচ্যযা 
পরায়ণ হইয়াও মহে*্বর, হে প্রভো ! তোমার এই বিচিত্র চারশ । 
প্রসিদ্ধ শিবভন্তি-পরায়ণ খাঁষ উপমন্যার এই একটি শ্লোকের মধোই 
পরমে*বর মহাদেবের অষ্ভুত চারন্ত্ চিত্রণ করা হইয়াছে । আলোচ্য গ্রন্ছটি 
অন্টাদশ মহাপুরাণের অন্তর্গত স্কন্দ মহাপুরাণের অংশাবিশেষ যাহা কাশীখণ্ড 
নামে চাহৃত। এই কাশশীথণ্ডে একশতাট অধ্যায় রাহয়াছে । যাহাতে মলত 
আবম ক্ষেত্র কাশর মাহাত্ম্য ও কাশীপুরীর মূল আরাধ্য দেবতা মহেষ্বরের 
মহত্ব বর্ণনা করা হইয়াছে । 
নী চিত্তরঞ্জন ঘোষাল মহোদয় অত যত সহকারে কাশীখণ্ডের বঙ্গানুবাদ 
কারয়াছেন। তাঁহার অনুদিত সমগ্র গ্রন্হটির পান্ডু'লাঁপ আমার দ:ম্টগোচর 
হইবার সুধোগ হয় নাই । মাত্র কিছু অংশ বিশেষের মদত রূপ দোখবার 
সুযোগ হইয়াছে । যদ্্রপ প্রভূত পাঁরমাণ তণ্ডুল পাক কাঁরয়া তাহা স্াসদ্ধ 
হইয়াছে কিনা এক দুইটি তণ্ডুল স্পর্শ কারলেই অনুভূত হইয়া থাকে ইহা 
এসম্ধ আসদ্ধ, তদ্রুপ বিচার-ধারা প্রয়োগ কারিয়া সিদ্ধান্ত করিতে পারা ধায় 
নীচত্তরঞন ঘোষাল মহোদয় কর্তৃক অন্াদত কাশীথস্ড মূল গ্রন্হের ভাবাভি- 
ব্যান্ত করিতে সমথ হইবে । অবশ্যই মুল গ্রন্হটি সংস্কৃত ভাষায় উপানবদ্ধ। 
এ মূল ভাষার সাহত মৃলভাবের যে আঁভব্যান্ত হইয়া থাকে তাহা অনুবাদে 
সধ্বতোভাবে প্রকাশিত করা সম্ভবপর হয় না। বঙ'মান সময়ে সর-সরস্যতীর 
স্নিগ্ধ সলল-রাশতে অবগাহন করিবার স্মযোগ সকলের পক্ষে সম্ভবপর নহে । 
অথচ এমন কিছ; ব্যান্ত আছেন ধাহারা পৌরাণিক আখ্যান ও তাহার মাহ স্যা 
সম্পকে জানবার আগ্রহ পোষণ কাঁরয়া থাকেন। সেই আগ্রহম্ম্পন্ন অথচ 
সংস্কৃত ভাষায় অনভিজ্ঞ শ্রদ্ধাল; ও 'বাবাদিষং ব্যান্তগণের জন্যই সম্ভবত এই 
বঙ্গান;বাদময্ কাশীথণ্ড নামক গ্রন্হটির প্রকাশ কাধণ হইতেছে এই জন্য 


৮] 


অনুবাদকারণ শ্রী চিত্তরঞ্জন ঘোষাল মহোদয় ও প্রকাশক সংচ্ছা পাধুধাদাহ ॥" 
নী চিত্তরঞ্জন ঘোষাল মহোদয়ের বঙ্গানুবাদের যে ধারা অঙ্প হইলেও যাহ! 
দেখিয়াছি তাহা সহজবোধ্য ভাষায় উপাঁনবদ্ধ হইয়াছে, যাহা সাবলীল 
গাঁতিষুন্ত তথা প্রসাদগ্ণ যুস্ত। যেহেতু আলোচ্য গ্রন্থে কাশীমাহ্াত্ম্য ও 
কাশীশ্বর মহাদেবের মহত্ব প্রখ্যাপিত হইয়াছে তথ্জন্য কাশী*্বর মহাদের্য অর্থাৎ 
পরমেশ্যর শিব সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত আলোচনা করিবার প্রয়াস পাইতোছ। 
কিছু কিছ: ব্যক্তির ধারণা ও ভাবনা প্রকাশ পাইয়াছে ষাহাতে শিব নাক বোদক 
দেবতা নহেন 'তাঁন অনার্ধযগণের আরাধ্য রূপেতেই প্রথমে পাাজত হইতেন, 
পরে দেবসমাজে চ্হান করিয়া লইয়াছেন। ইহা যে নিতান্ত অসার তাহা 
অনুসান্ধিংসু সুধী মাত্রেই অনুভব কাঁরবেন। পরাণাদি গ্রচ্হে শিবের 
আঁভধারুপে যে পদসমহ প্রচালত রাহয়াছে তং তৎ নাম কেবল পুরাণাদি 
শাস্ত্রের মধ্যেই নাই আপতু মূল বেদ-মন্দ্ের মধ্যেও এ নাম শিবকে লক্ষ্য 
কাঁরয়াই উত্ত হইয়াছে । অনঃসম্ধিংসু পাঠকের জন্য কয়েকটি উদাহরণ 'নম্নে 
দিতোছ । 


রুদ্র (শুরু বজুবেদ ১৬ অধ্যায় ১ম মন্ত্র), 'গারশ (শু, বজ, ১৬২ ), 
কপর্দী ( শু, যজ;, ১৬|৭ ) পশুপাঁতি (শু, যজু ১৬1১৭ )১ 'শিতিকণ্ঠ (শু 
যজ, ১৬1২৮ )১ সব্্য (শু, বজ;, ১৬1২৮), ভব (শু, বজঃ ১৬1২৮), উগ্র 
( শু, যজ, ১৬1২৮ )১ ভীম (শু, যজ। ১৬1৪১), শঙ্কর (শু জন ১৬1৪১), 
নীললোহিত ( শু; যজ., ১৬1৪০ )১ গড় (শু, ষজু ১৬1৪৯ ), ঈশান (শু, 
যজু (১৬1৫৩) ত্র্যদ্বক (শু, জু ৩1৬০), কৃ্তিবাসা (শু যজু ৩1৬১)? 
মহাদেব (শু বজু ৪৯1৯ )--ইহা কেবল সত্রাকারেই দেওয়া হইল, সমস্ত বেদ 
ভাগেই অনুসন্ধান কাঁরলে 'শববাচক প্রচলিত পদ্সমূহ পাওয়া যাইফে' 
লেখাই বাহুলা । শাস্ত বাঁলতে শ্রুতি, স্মাত ও পূরাণাদকে বোঝায় । 
্মতি, পুরাণাঁদ অপেক্ষা শ্রুতির শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রমাণগত বলধত্ব শাস্তীয়' 
সিদ্ধান্তে স্বীকৃত হইয়াছে । বদ্যাপ শ্রুতি ও স্মৃতিধাক্ের মধ্যে কোন 
বরোধ বা বিরোধাভাস পারলাক্ষত হয় তখন শ্রুীতবাক্যের প্রামাণ্যই 
আঁধকতর বলবস্তর বলিয়া গ্রহণযোগ্য ও প্রমাণম্বরূপ এইরূপ শাস্তীয় 
সম্ধাস্ত সব্ববাদসদ্মত । উপাঁর উদ্ধৃত 'শববাচক পদসমূহ থেহেতু 
মূল বৈদিক মন্ত্রের মধ্যে রাহয়াছে অতএব শিব যোঁদক দেবতা নছেন এই 
উত্তি ধৃত্তিহীন অতএব গ্রহণযোগ্য নহে । সূষ্টি, শ্ছিতি প্রল়রপ ক্রিয়া 


গা 


[নবণহ কারবার জন্য ব্রচ্জা, বিফ, মহেশ্ধর এই ব্রিদেবতার উল্লেখ নানা 
শাদ্রে পারদন্ট হয়। অনেকে হয়তো বোদক মন্দের মধ্যে শুরু যজবেদের 
ষোড়শ অধ্যায়ে বার্ণত কিছ? কিছু পদের আক্ষারক অর্থের বিচার কাঁরয়া 
শিবকে অনাধযগণের দেবতা রূপে চাহুত কাঁরতে প্রয়াস পাইতে পারেন । 
তাঁহাদের উদ্দেশ্যে সবিনয়ে নিবেদন কারতোছি 'যাঁন সব্বেশ্বির তান কেবল 
'যাঁহারা ভদ্রাচরণ-পরায়ণ তাঁহাদেরই ঈম্বর অথচ ধাঁহারা অভদ্রাচরণ-পরায়ণ 
তাঁহাদের ঈশ্বর নহেন ইহা হইতে পারে না, কারণ সেক্ষেত্রে সব্বশব্দের 
ব্যাপকত্তের হান হইবে । সুতরাং সেই দ-ঘ্টভঙ্গি লইয়াই ( সম্মতাম- 
পতয়ে নমঃ শু যজু। ১৭1২১, তস্করাণাং পতয়ে নমঃ শু) যজু। 
১৬1২১) এ সব মন্ত্রের উল্লিখত এ সব পদ্সমুহের তাৎপর্য মূলক 
অর্থ প্রাচীন ভাষ্যকারগণ 'লাখয়াছেন। সেই অথ পাঁরত্যাগ কারবার 
কোন কারণ আছে বাঁলয়া মনে হয় না। বস্তুতঃ ধিনি আরাধ্য যাঁহাকে 
আবাহন করা হইতেছে আরাধনা করা হইতেছে তাঁহার প্রাত কটঠন্ত 
করা কখনই সম্ভবপর নহে, ইহা লাধারণ 'ববেচনায় অনুভূত হইয়া থাকে। 
বেদবাকাসমূহ নিগঢ্ার্থক। এ বাক্যসমহের তাৎপর্য উপক্রম 
উপসংহারের একবাক্যতা রক্ষাপুব্কক শাম্প্রণালী অনুসারে অনুভব 
কারতে হইবে । স্বকপোল-কা্পত বিচার প্রয়োগ কাঁরয়া নহে। শ্রুতি 
প্রাতিপাদিত ব্রদ্ধ নিগ্ণঃ নিরাকার, 'নার্বশেষ, কিন্তু মন্দপ্রজ্ঞ ব্যান্তগণের জন্য 
নিরাকার ও আকার পাঁরগ্রহ করিয়া থাকেন। “চম্ময়স্যা ছিতীয়স্য 
নিছকলস্যাশরশীরণঃ ॥ উপাসকানাম- কাষার্থম: ব্র্ধণোর্প কজপনা ॥৮-৮ 
এই বহুল প্রচলিত শাগ্ব্বাকা এই স্ছলে ম্মরণযোগ্য । ব্রক্ষযরপ শিবও 
-সাধকগণের প্রাত অনযগ্রহ প্রকাশ কারবার জন্য সাকার-রূপে প্রকাশিত হইয্লা 
দছিলেন। সাধারণতঃ শিব ও িফুর পূজাই সমাধক হইয়া থাকে 
€(নিত্যপজা )। উভয় ক্ষেত্রে শাদ্তপ্রোন্ত ধ্যানঅনুসারে বিফ বা শিবের 
বািভল্ন আকার €(পুরুষাকার ) বার্ণত হইলেও আঁধকাংশ ক্ষেত্রে ষে প্রতাঁক 
অবলম্বন কাঁরয়া পূজা ও উপাসনা প্রচলিত আছে তাহা 'বিফুর ক্ষেত্রে 
শালগ্রাম শিলা এবং শিবের ক্ষেত্রে শিষালঙ্গ । শালগ্রাম শিলারুপী বিফু 
অথবা লিঙ্গরূপী মহেম্বরের আরাধনায় অভাষ্ট প্রাপ্তি ঘটয়া থাকে ইহা শাস্রে 
'সবন্ধ পার্ট হয়। ভগবান বিফ বা ভগবান শিবের শিলারপ পরিণামের 
পৌরাণিক আখ্যান রাহয়াছে। মহেম্বর শিবের শ্তম্ভাকৃতি রূপধারণ দশকে 


ঘ্‌ 


শিবপুরাণের বিদ্ন্বর সংহিতায় ষষ্ঠ, সপ্তম? অনত্টম, নবম অধ্যায়ের মধ্যে 
যে আথান রাহয়াছে তদনুসারে বু ও 'বারাণর গবরোধ নিবারণের জন্য 
জ্যোতিময় স্তশ্ভরুপে মহেশ্বরের আবভণষের কথা ধাঁণত হইয়াছে । যেহেতু 
মহে*বর স্তদ্ভরূপে আবিভূত হইয়াছিলেন এবং তংকতক এই প্রাতিকৃতি 
শিবস্বরূপ বলিয়া আখ্যাত হইয়াছিল এবং এ শ্তম্ভাকতি বা 'লঙ্গাকীতি 
শিবের পৃজাতে শিব সম্ভুষ্ট হইয়া অভশন্ট প্রদান কারবেন এমত-ও নিণ'় 
করা হইয়াছে, অতএব শিধালঙ্গের সশংজার প্রবত'ন তদযাঁধ হইয়া আসিতেছে । 
অবশ্যই পুরাণাস্তরে শিবাঁলঙ্গ পুজার প্রবর্তন সম্পরকে কিছ ভিম্ব ভি 
আখ্যান রাঁহয়াছে। তত তং আখ্যানসমূহে কিছুটা যোবধ্য ও বৌঁচন্র্য 
পারলাক্ষিত হইলেও ফলগত এঁক্য রহিয়াছে অথথাং শিবালঙ্গের পূজার ছারা 
অভান্ট প্রাপ্তি রূপ ফল 'বাভন্ন পুরাণে এক । কোন কোন ব্যান্ত ইহার, 
মধ্যে কিছু অশ্লীলতার গম্ধ পাইয়া নাঁসকা কুণুন কাঁরয়া থাকেন তাঁহাদের 
নিকট নিবেদন তাঁহারা নিজের দৃষ্টিকে স্যচ্ছ করুন তাহালেই বুঝিতে 
পারবেন তাঁহাদের কাঁজগত কোন অশ্লীলতা এ সব আখ্যানের মধ্যে নাই। 
কোন কোন সম্প্রদায় 'বশেষের ব্যান্তগণ আপন নিষ্ঠার পরাকাচ্ঠা প্রদশ'ন 
কারবার জন্য 'শবাঁলঙ্গ সম্পকে কিছু কিছ? অবাচ্য বাক্যও প্রকাশ করিয়া 
থাকেন, তাঁহাদের সম্প্রদায়ের শিবমন্দির অথবা শিবালঙ্গ দশনও ইন্ট-নিষ্ঠায়, 
বাধা উপাচ্ছিত করে। তাঁহাদের প্রাত শ্লীভগরবান কৃপা করুন ইহাই বালিতে 
পার, কারণ কোন আরাধ্য ব্যন্তকে কেহ ঘি প্রণাম করে তাঁহার প্রতিটি অঙ্গই 
তাঁহার কট শুদ্ধ ও আরাধ্য ও সম্মাননীয় । কেহ যাঁদ বলেন কোন পজনশয় 
ব্যান্তর [বশেষ অঙ্গাট পূজা অপর কোন অঙ্গ পঞ্ঞা নহে তাহাতে যেমন, 
বাতুলতাই প্রকাশিত হইয়া থাকে, তদ্রুপ শিবালঙ্গ প্রণম্য নহে ইহা বাতুলতার 
নামান্তর । আপন ইস্ট যাঁদ বিশ্বে পরিব্যাপ্ত হন তান কি শিব হইতে 'ভিন্ব 
থাকেন ? যাঁদ কেহ তাঁহার ইন্ট-কে আপন অঞ্চলে বশধিয়া রাখিতে চাহেন ; তান 
তাহা রাখতে পারেন ; আমাদের বাঁলবার কিছু নাই,1কল্তু তাঁহার ইস্ট সাধাচ্ছন্ 
পদার্থে পারণত হইবেন ; এই বিষয়ে আঁধক লেখা বাহূল্য | মূলতঃ শিবাঁলঙ্গের 
বাভন্ন ঠবভাগ করা হইয়াছে-_-ইহা পাঁথব হইতে পারে, শিলাময় হইতে পারে, 
ধাতুময় হইতে পারে, অথবা বি'ভন্ন দ্রব্যের ছারা ইহা 'ন্দ্মাণ করা যাইতে পারে' 
যাহা মুল গ্রদ্হে দুষ্টবা। বস্তুত কাম ও অকীত্রম রূপে শিষ'লঙ্গ দুই 
প্রকারের । স্বয়দ্ড্‌ ব অনাদালঙ্গ ও বাণলিঙ্গ অকুত্িমৎ তদ- ভিন্ন ম:প্িকাচ, 


ঙ 


শিলা, বা ধাতু বা অন্য রতাদি পদার্থে নিম'ত লিঙ্গ কৃতিম। অকৃত্রিম লিঙ্গে 
অর্থাৎ স্বয়ম্ভ্‌ 'লঙ্গে ও বাণাঁলঙ্গে সববণের পুজার আঁধকার থাকে, অবশ্যই 
তাহা শাস্ত্র নিদ্দেশ অনুসারে । 


' আলোচা গ্রন্হে অবিশনন্ত ক্ষেত্র কাশখপুরণীর পৃণ্যবৈভব বাঁণত হইয়াছে । 
যাহা শ্রচ্ধাল্‌ সঙ্জনবন্দ অধ্যয়ন করিয়া ধন্য হইবেন ও প্রেরণা পাইবেন বালয়া 
আশা করিতে পারি। বর্তমান সময়ে শাস্তীয় তথ্য প্রকাশ ও প্রসারের প্রয়াস 
ক্রমশঃ সংকুচিত হইতেছে কারণ পূরাণাঁদির প্রাচীন আখ্যানসমূহ কজ্পনামান্ত 
বালয়াই কিছ কিছ: ব্যন্তি নির্ণয় কাঁরয়া থাকেন। সুতরাং তাঁহাদের নিকট 
পৌরাণিক আখ্যান অধ্যয়ন সময়ের অপচয় বলিয়াই পাঁরগাঁণত হইয়া থাকে। 
তাঁহারা আধানক জ্ঞানের প্রধণান্তীবদ্যা বৈভবের ঘন-ঘটায় আকৃষ্ট হইয়া 
পুরাণকে পুরাতন দ্রবা রাখবার স্থানেই নিক্ষেপ কারতে পারলে সম্ভবতঃ 
স্বান্ত অনুভব করিবেন । এইরূপ ব্যক্তিগণের জন্য নিশ্চয় এই আলোচ্য গ্রশ্ছটি 
প্রকাশ করা হইতেছে না। বস্তুত যাহারা এখনও প্রাচীন পরদ্পরার প্রাত 
মান্যতা প্রদান করিতে চাহেন, পৌরাণিক আখ্যানসমূহ হইতে শিক্ষার, 
আদর্শের অনুকরণ করিতে চাহেন এবং সেই অনুকরণ আপন অনুগামশদের 
মধ্যে অনুসরণ করিবার প্রবণতা সুযৃণ্টি করতে চাহেন তাঁহারা নিশ্চয় এই গ্রম্হ 
প্রকাশকে স্বাগত জ্ঞাপন কারবেন। এই সধাক্ষপ্ত মুখবন্ধ মূলতঃ সংস্কৃত 
শ্লোক পারহার কারয়াই লিখিত হইয়াছে, কারণ মূল গ্রচ্ছটি কেবল অনবাদ- 
মূলক অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষায় অনভিজ্ঞ ব্যন্তগণের বোধ মৌকযেণর জন্যই ইহা 
প্রকাশ হইতেছে। সুতরাং সেই সব পাঠক-গণের পঠন-স্পহাকে পাঁড়াগ্স্ত 
না করিতেই মূল শাস্মধাকাসমূহ ইহাতে সীম্নবন্ট হয় নাই। 
এই নিবন্ধের আরচ্ে প্রসিষ্ধ শিবভান্ত পরায়ণ ধাঁষ উপমনহ্য রচিত শ্লোক 
'দয়াই আরম্ভ করা হইয়াছিল ; সুতরাং পাঁরশেষে ধাঁষ উপমনযযর ভন্তপ্লুত 
কণ্ঠে উচ্চারিত ডান্তর উদ্ধূতি কারিতোছ-- 

শরণং তরুণেন্ব্‌ শেখর, শরণং মে গিরিরাজ কনাকা। 
শরণং পুনরেব তাবৃভো শরণং নানাযঘগোমিদৈবতম: ॥ 


তারকেম্বর মঠ দণ্ডিদ্রাঘি হৃমীকে শাশ্রন্ব 


ভুমিকা 


ভারতীয় মণীষা যখনই শাশ্বত সত্যের সম্ধান পেয়েছে এবং তাকে গ্রম্থে 
বিধৃত করে রাখার চেষ্টা করেছে, তখনই তাকে চ্বজপশান্ত মানুষের প্রষত্বের 
ফলশ্রীত বলে স্বীকার না করে বিশ্বের প:ঞীভূত প্রজ্ঞার বাগ্ময় প্রকাশ বলে 
বণনা করেছে। বেদব্যাস হচ্ছেন এই প্রজ্ঞারই বাহ্য প্রাতরূুপ। তাই 
একাদকে তাঁকে মহাভারত রচনা করতে হয়েছে, 'াভন্ন দেবতার শ্রেন্ঠত্ব- 
প্রাতষ্ঠাপক পুরাণ 'লিপবদ্ধ করতে হয়েছে, আবার পুরাণের শ্রেণীবিভাগ 
করে উপপুরাণের সংল্টিতে আত্মানয়োগ করতে হয়েছে । এক কথায় ইতিহাস- 
পঃরাণাভ্যাং বেদাথমৃপবৃংহয়েং-এই অনুশাসন অবলম্বন করে বোঁদক 
সতোর বস্তুত 'ববরণ দেধার জন্য যত উদ্যম এবং যত সষ্ট তার তিন- 
চতুর্থাংশই বেদব্যাসের, খাঁন হচ্ছেন ভারতবর্ষের সামাগ্রক বৈদগ্ধ্য এবং 
পুঞ্জীভূত প্রজ্ঞার মানাঁধক রূপ । বেদব্যাসের সব স:ষ্টিতেই নোৌতিক, সামাজিক 
ও আধ্যাত্মক মূল্যবোধ সগোৌরবে বিরাজিত বলে সর্বসাধারণের মধ্যে এর 
প্রচার ও প্রসার যত হয়ঃ ততই সমাজের ও জাতির মঙ্গল, একথা নিঃসন্দেহে 
বলা চলে। 

রামায়ণ ও মহাভারতের বাংলাভাষায় অনেক অনুবাদ হলেও বেদব্যাসের 
কাশীখণ্ডের মূলানুগ তথ্যানভ'র বঙ্গানুবাদ এখনও প্রকাশিত হয় নি। বাংলা 
অন্বাদ সা'হত্যের এই দুর্বল িকাটকে সবল করার জন্য শ্রীচিত্তরঞ্জন ঘোষাল 
তাঁর কাশী খণ্ডের বঙ্গানুবাদ নয়ে সা'হত্য ক্ষেত্রে আবিভূত হয়েছেন । সংস্কৃত 
ভাষা ও সাঁহতো গভীর প্রবেশ, বাংলা ভাষায় 'বস্ময়কর আঁধকার, কাঁহনী 
উপস্থাপনের সরস ভঙ্গি, পুরাণ ইতিহাস বর্ণিত কথা-উপকথার সাহত ব্যাপক 
পারচাত, এ-সবের সমন্বয় শ্রীঘোষালের সাষ্টধমর্ঁ মনকে সমদ্ধ করেছে; 
সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অনুবাদও হয়ে উঠেছে উৎকর্ধবান। ম.লসাহত্য সৃষ্টির 
চেয়ে অনুবাদ সাহিত্য সংষ্টির কর্ম দুরূহ ॥ কারণ মংলসাহিত্যে কাবপ্রাতিভার 
গ্যচ্ছদ্দীবহারের অবকাশ আছে । অনুবাদসা।হত্যে মূলের গণ্ডীর মধ্যেই 
সৃগ্টিকে সীমাবধ্ধ রাখতে হয় বলে অনুবাদকের এ অবকাশ নেই। যে 
অনুবাদক মলের কাব্যোৎকর্ষ অক্ষর রাখতে পারেন? তিনি সার্থক শ্্ন্টা ও 
সফল শিজ্পী। শ্রীচত্বরঞ্জন ঘোষাল এ দিক 'দিয়ে বাংলা সাহিত্যে সার্থক 
সঘ্ট উপহার গদতে পেরেছেন নিঃসন্দেহে বলা চলে। তাঁর অনুবাদ 
রাজশেখরের রামায়ণ ও মহাভারতের সারানুবাদের কথাই স্মরণ কারয়ে দেয়। 
আম শ্রীঘোষালের অন:বাদ-সঘ্টকে বাংলা লাহত্যের প্রাঙ্গনে সানন্দে বরণ 
কাঁর। 


৪ লমান জল স্কুপ্রাপাপ্রযান 


উপাচার্য, রবীন্দ্র ভারতা বিদ্বাবদ্যালয়ঃ কাঁলকাতা 
প্রান্তুন উপাচার্ধ বধধমান বিশ্ববিদ্যালয়, বধমান 


প্রাসজিকী 


পরমাদ্রভাজন শ্রীচত্রঞ্জন ঘোষাল মহৃর্ষ শ্রীকৃষছৈপায়ন বেদধ্যাস কর্তৃক 
বরাচত সাবখ্যাত কাশীখণ্ডম্এর সরল, সহজ, সুমধুর অনুবাদ করে 
সকলেরই বিশেষ কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন, নিঃসন্দেহ । 

কাশীখগ্ডম ভাবার মাধুষেঠ ভাবের সৌন্দর্যে, আঙ্গকের এম্বর্ষে 
ভারতীয় সাহত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীভূত স্থান আধকার করে আছে 
আদ্যন্তকাল। অতি মনোরম আখ্যায়কার মাধ্যমে উচ্চতম, নিগুতম গভীরতম 
আধ্যাত্মিক তত্বাবলীর এই অনুপম অপরূপ বিশ্লেষণ সত্যই অতীব [বিয়কর। 
সেজন্য ভারতীয় শা*বত সভ্যতা ও সংস্কীতির মূল উৎস সাম্য-এক্য-প্রীতি- 
মৈতরী-সেবা-ত্যাগের মূর্ত প্রতীকরূপে এই চিত্তাকর্ষক গ্রম্থটি সর্বজনপজ্জ 
পারপূর্ণভাবে | 

শ্রদ্ধেয় গ্রন্হকার মহাশয়ের বাংলা অনবাদও যে সকলের নিকট সমাদৃত 
হবে, তা ?নঃসন্দেহ । তাঁর ভাষা সর্বজনবোধ্য এবং সর্বমনতৃপ্তিদায়ক । তাঁকে 
আমাদের সকলের আভনদ্দন জানাচ্ছি । 

প্রাচাবাণী ডস্টুর রমা চৌপুরী 


৩, ফেডারেশন স্ট্র'ট 
ক।লকাতা-৭০০০০৯ 


॥ বিষয় সূচী ॥ 


মঙ্গলাচরণ ও কাশীবন্দনা ১; দেবার্ধ নারদের 'বদ্ধ্য দশনে আগমন ১% 
[বম্ধ্যের অর্থ দান এবং ধরাধর রূপে আত্মশ্লাঘা প্রকাশ ২; নারদ কর্তৃক 
সুমেরুর শ্রেষ্ঠত্ব কথন ৩ বিদ্ধ্যের মনে বৈরীভাবোদয় এবং গ্রমন-পথ অবরোধ 
৪; গাঁতিরুদ্ধ তপনের তাপে বিপর্যস্ত পীথবী এবং দেবগণের ব্রঙ্াশরণ ৫; 
্র্দার উপদেশ প্রদান ৭; বারাণসীতে দেবগণের অগন্তা-সমীপে আগমন ৮; 
দেবগুরু বৃহস্পাত কর্তৃক পাতব্রতের ব্যাখ্যা, অগন্ত্য-পত্রী লোপামদদ্রার 
প্রশংসা ও মনোবাঞ্থা প্রকাশ ১১; দেবগণের মনোবাঞ্ছাপুরণে আক্ষেপ- 
সহকারে অগন্ত্ের কাশী ত্যাগ ও বিম্ধ্য সমীপে আগমন ১৫; অগন্ত্যকে 
[বন্ধের নতাঁশরে প্রণাম এবং দক্ষিণাপথ থেকে প্রত্যাগমন পর্যন্ত বিষ্ধ্যকে 
নতঁশিরে থাকার নিদেশ ১৬ ; গমনপথের অবরোধমনীস্ত, অগস্ত্যের দাক্ষণা-পথে 
গমন, মহালক্ষমীর দশন বন্দনা শেষে তাঁর নিদে'শে কাশশ-বিয়োগ-জানত 
ব্যথা নিরসনে স্কম্দদেষের উদ্দেশ্যে গমন ১৯; পাঁথমধ্যে অগন্ত্য কতৃকি 
পূণাক্ষেত্র শ্রীশেল দন এবং প্রশান্ত-কথন ২০; লোপামুদ্রার কৌতুহল 
নিরসনে তীর্থর প্রকারভেদ বর্ণন ও কাশীর শ্রেষ্ঠত্ব কথন এবং এই প্রসঙ্গে 
শিবশর্মা উপাখ্যানের অবতারণা ২১। 


সংসারী পণ্ডিত শিবশমণর সংসার ত্যাগ ও পূন্যার্থে তীথ্প্রদ সাতটি 
পুরীর উদ্দেশ্যে তীথ-যান্া ২৪; অযোধ্যা, প্রয়াগ, বারাণস, উজ্জীয়নী, 
কান্তনগরণ, হ্বারাবতী ভ্রমণ-শেষে মায়াপুরীতে আগমন এবং জবরাবকারে প্রাণ” 
ত্যাগ ২৭ 7 'িষুগণদ্বয় সুশগল এবং পৃণ্যশীলের সাহচর্ষে দিব্য বিমানে শিব- 
শমণার বৈকুণ্ঠ যাত্রা ২৭ ; বৈকুণ্ঠগামী রথে শিবশযণার পিশাচলোক, গৃহ্যক- 
লোক, গম্ধব্লোক, বিদ্যাধরলোক আঁত্রমণ ও গণথর-কতৃকি প্রাতাঁট লোকের 
পরিচয় প্রদান ২৮; শিবশমণর যমলোকে আগমন, যমরাজ কর্তৃকি সম্ভাষণ, 
গণহয়-কতক যমপুরের ও ধমরাজের অধিকার বর্ণন ২৯; শিবশর্মার অপ্সরা- 
লোক আঁতিক্রমণ এবং পাঁরাচাত লাভ, সূযলোকে আগমন? গণদ্য়-কতৃকি 
সূয'দেবের মহাত্ম্য ও গায়ন্রপর উৎকষতা কথন ৩১ শিবশমণার অমরাধতা 
দর্শন এবং ইন্দ্রের পাঁরাচাত লাভ ৩৩; আঁগ্রদেবের পুরী অচি্মতঈতে 
শিবশমণর আগমন এবং এই লোকের পাঁরাচাত লাভ ৩৪; আগগ্রদেবের 
উৎপাত্ব-রহস্ প্রসঙ্গে গণছ্য় কর্তৃক শিবভন্ত বিশ্বানর স্হ-্ধার্মনী শ7চম্মতীর 
আভিলাষ, পন্রার্থে ?িণ্বানরের কাশশতে বারেদ্বর লঙ্গেয় অচনা শেষে 
পুন্রলাভ বর্ণন ৩৪; বুপ্ধা কর্তৃক নবজাতকের গৃহপতি' নামকরণ” 


থ 


নারদ কর্তক নবজাতকের সূলক্ষণ বণনা, কাশশতে গৃহপতির সৃকঠোর 
লঙ্গার্চনায় তুষ্ঠ মহাদেব কর্তক গৃহপাঁতকে অংগ্পলোক প্রদানের 
পুরাকাহনী গণছ্বয় কর্তৃক িবশমণা-সমীপে বর্ণন ৬৬ $ নৈষ্ধাত'লোক বর্ণনা 
প্রসঙ্গে শবরাধিপ 'পঙ্গাক্ষের কাহনী কথন ৪০; বরুণ লোকাধপতর 
প্রসঙ্গে কদমপূত্র শুচদ্মানের কাহনপ কথন ৪২; গম্ধবতী-পুরী প্রসঙ্গে 
কশাপ-তনয় পূতাত্বার সাধন কথন ৪৪; কুবেরের উৎপত্তি গুসঙ্গে যজ্ছদত-পতর 
গুণনাধর কাঁলত্গাঁধপাত দম-র কাহনী ও দীপদানের মাহাজ্ম বর্ণন, কুবেরের 
[শব-সখাত্ব প্রাপ্তি এবং একচক্ষু হওয়ার রহস্য কথন ৪৫ 2 গণদ্বয় কতৃক 
শিবশমণ-সমশপে ঈশানপুরী প্রসঙ্গে একাদশ রুদ্রের আধপত্য ও ঈশানেম্যরের 
মাহাত্ম্য কথন ৫১ ; চন্দ্রলোক বর্ণন, চন্দ্রের জন্মরহস্য, কাশঈধামে চন্দ্রের তপস্যা 
এবং লোকাধিপত্য লাভ ৫২ ; নক্ষত্রলোক বর্ণনা প্রসঙ্গে বারাণসীতে দক্ষের 
ষাট কন্যার পাঁতিকামনায় তপস্যা, নক্ষত্র নামরহস্য, শিব-বরে চন্দ্রকে 
পাতরূপে লাভ এবং নক্ষত্রলোক প্রাপ্ত কথন &৪ ; বুধের জন্মপ্রসঙ্গে চন্দ্র" 
কতৃকি দেবগুরু-পত্বী তারার অবৈধ গভ“সণ্থার, বুদ্র-সহ চন্দ্রের যুদ্ধ, 
বারাণসীতে বুধের তপস্যা এবং বুধলোক প্রাপ্ত কথন ৫৫; গণছ্য্ন কর্তৃক 
শুক্রলোক বর্ণন, অন্ধকাসুরের মত সৈন্যদের ভার্গবের মৃতসঞ্জীবনী দ্বারা 
জীবনদান, নন্দী কর্তৃক ভার্গব অপহরণ ও মহাদেষের জঠরে অবস্থান, শিক্ক' 
নামের রহস্য, তপস্যায় শুক্ললোক প্রাপ্তি কথন ৫৭; মঙ্গললোক বণনি, 
'মহশসূত' ও এঅঙ্গারক' নাম-রহস্য কথন ৬০ 3 বৃহস্পাঁত লোক বর্ণনা প্রসঙ্গে 
বারাশসণতে আঙ্গরসের তপস্যা? বৃহস্পাঁত নাম-রহস্য ও দেবগুরদ পদে আঁধাণ্ঠিত 
হয়ে লোকাধিপত্য কথন ৬১ ; শিবশম সমীপে গণহুয়ের শানলোক বর্ণন, শাঁনির 
জন্মরহস্য কথন, ধারাণসীতে শাঁনর তপস্যা ও গ্রহাঁধিপত্য লাভ ৬২; সপ্তা 
লোক বণনা প্রসঙ্গে সপ্ত ধাষ ও খাঁষপত্াী। বারাণসশতে 'লঙ্গ স্থাপন ও তপস্যায় 
লোকপ্রাপ্তি কথন ৬৫ ; ধ্ুধলোক বর্ণনা প্রসঙ্গে উত্তানপাদ-তনয়ের সংসারা- 
[ভমান, প্রাসাদ হতে নিক্মণ, সপ্তাষর উপদেশে বিষুর ধ্যান, ইন্দ্রের ভীতি ও 
[বদসণ্থার, দেখগণের শক্শরণ, বিষুর বরদান এবং তাঁরই পরামর্শে বারাণসীীতে 
আগমন, লিঙ্গ চ্ছাপন, তপমসায় লোকাধিপত্য লাভ কথন ৬৬; মহ-জন- 
তপলোক বন, শিবশমণার সত্যলোকে আগমন; রক্ষার সাক্ষাৎ এবং 1বশ্বেবর 
[লঙ্গের মাহাত্মা, ইলাধতবষ', জদ্বৃদ্বীপ, বর্ণন ও তীর্থখনধ্যে প্রয়াগ অপেক্ষা 
কাশণর শ্রেষ্ঠত্ব ৭২; ভুলেণক হতে লোক-লোকান্তর শেষে শিবলোকের দূরত্ব কথন 


হা 


৭৪ ; গ্রণদ্বয় কর্তৃক বিষু ও ব্রহ্ধা-সহ শিবের শ্রেন্ঠত্ব জ্বাপন ৭৫ ; গণছ্থয়-কর্তৃক 
মুন্তাথথী শিবশমণর সংশয় নিরসন প্রসঙ্গে বন্ধকাল রাজার্‌পে শিবশর্মার 
পুনজর্শন, রাজ্য-বৈরাগ্যঃ কাশনপ্রাপ্তি, মহাকাল স্মরণ? 'লঙ্গস্থাপন ও অর্চনায় 
মোক্ষলাভের বিষয় কথন ৭৬। 


লোপামযদ্রামহ অগস্ত্যের শ্রীপব্ত প্রদাক্ষণ শেষে সকন্দকানন দর্শন, 
ষড়াননের স্তব এবং কাশীক্ষেন্তর সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা ৭৮ $ মহাদেব-কর্তক পার্ধতী- 
সমীপে গীত এবং মাতকোড়াসীন যড়ানন কর্তক শ্রুত আ?স্ত্য সমীপে কাশশ- 
1বষয়ক স্মাতচারণ ৭৯ ১ পণ্ক্লে!শী কাশীর মাহাত্ম্য কথন, ৮০ ; মিকার্ণকার 
মাহাত্মা প্রসঙ্গে মহাদেব করৃতক অছ্াতের সাষ্ট, অচ্াতের তপস্যা এবং কাশন' 
নামোৎপাত্ত কথন ৮০ + কাশনর “বারাণস+* প্রভৃতি নামকরণ প্রসঙ্গে কালষুগ- 
তীরথথমোক্ষদা গঙ্গার মাহাত্ম্য কথন ৮৩ : গঙ্গায় আঁচ্ছদান প্রসঙ্গে পাপাচারী ব্রাহ্মণ 
বাহীকের কাহিনী ৮৫; গঙ্গাস্তোন্র পাঠমাহাত্ময, মণিকার্ণকার উৎকষ'তা 
কথন ৮৭ ; সুরক্ষিত কাশী-প্রবেশ 'িখ্বেবরের অনুমাতি-সাপেক্ষ প্রসঙ্গে বাণক 
ধনঞ্জয়ের কাঁহনী বর্ণন ৮৭ £ কাশীীর “রুদ্রাবাস” ও “মহাম্মশান” নামরহস্য ৮৮; 
অব্যয় তত্ব-বষয়ে ব্দ্ধার মোহ* ক্রতুর সঙ্গে ?ববাদ, কালভৈরবের উৎপাত্ত 
এবং বর্ষার পঞ্চম মুড উৎপাটন ৮৯ বক্গাহত্যা পাপে কপালহস্তে 
কপদ+র 'ভ্রিলোক-ভ্রমণ, বিষ্ণুর আ।ত িবফ্ুকে বরদান, কাশন প্রবেশ, ভৈরবের 
কপালমনুন্ত এবং কপালমোচন তাঁথে'র উদ্ভব ও মাহাত্ম্য ৯১। 

হাঁরকেশ প্রসঙ্গঃ বক্ষ রত্ভদ্রের যোগবলে তনুত্যাঃ পত্বী কনক 
কুণ্ডলা-সহ রত্রভদ্রপত্তর পুণভিদ্রের-পুভ্রাথ্থে কাশীগমন £ শিব বরে হন্সিকেশ- 
নামে পুত্র লাভ ৯৩7 হারকেশের শবঘনস্কতায় পূণভদ্রের কোধ, হরিকেশের 
বারাণসপী গমন এবং তপ্‌প্যা ৯৪; পাবতীর অনুরোধে মহাদেব-কর্তৃক 
হরিকেশকে কাশীীপুরধীর দণ্ডপানত্ব দান ৯৫; জ্ঞানবাপীর উৎপাত্ত ও 
মাহাত্য কখন ৯৬; জ্ঞানবাপী প্রসঙ্গে বিদ্যাধরকতৃকি হারস্বামী-কন্যা 
সশীলার অপহরণ, রাক্ষন বদহয*মালশ-কর্তৃক বদ্যাধর-নিধন এবং বিরহকাতরা 
সুশীলার প্রাণত্যাগ ; কণণউ-প্রদেশে মল্যকেতু ও কলাবতী নামে 'বিদ্যাধর ও 
.সুশীলার পুনজন্ম, িবাহ, কল্লাবতী-কর্তক বারাণসীর চিন্রপট দর্শন এবং 
প্‌বদ্মৃতির উদ্ভবঃ কাশীতে আগ্রমন, তপস্যা ও বরলাভ ৯৭। 

কাশী প্রাপ্তর সহায়ক স্দাচার-প্রসঙ্গে যম-নিয়মন্প্রাণায়াম-গায়নী। যজ্ঞ, 
ঝণ-পারশোধ প্রভৃতি কথন ১০০ ; স্বন্দ্র-কর্তক অগন্ত্যকে মহাযোগ, মহাদান, 


মহতী তপস্যা বিষয় কথন ১০৩। 

অনাবান্টর কারণে স:ম্টলোপ আশঙ্কায় ব্ক্ষা-কতকি রাজীর্য িপহঞ্জয়কে 
পৃথিবীনাথ হওয়ার অনুরোধ এবং শত-সাপেক্ষে রিপজয়ের সম্মতি ত্রদ্ধা" 
কর্তৃক 'িরপহঞয়ের দিবোদাস নামকরণ ১০৪; অলক্ষিতে কাশীতে আবমকেশ্বর - 
লিঙ্গ স্থাপন করে পাব্তী-সহ বিশ্েন্বরের মন্দরে গমন ১০৫ ; অবিমুস্তক্ষেন্র 
ও আবিমুক্তে'বর 'লিঙ্গপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ষড়ানন-কর্তক অগন্তাকে যেদাবাহত 
ধর্মানুশীলন উপদেশ দান, বড়ঙ্গ যোগের ফলশ্রাত কথন এবং বারাণসীর 
শ্রেন্ঠত্ব প্রতিপাদন ১০৬ ; দেষেশের প্রস্থানে দেবগণের কাশীত্যাগ, দিবোদাসের 
ধমণনহ্ঠ রাজ্যশাসন ১১১; কাশী-বরহাতুর দেবেশের কাশীপ্রাপ্তির উদ্দেশ্যে 
দেবতাদের সঙ্গে দেবগুরুর মন্ব্রণা এষং দেবরাজের আদেশে আগ্রর কাশশতাগ, 
দিবোদাসের ক্ষোভ? চন্দ্র, সূর্ষ? বায়, বরুূণকে বতাড়ন। দিবোদাসের 
সর্বমুখীতা ১১২; পাবতাীঁসহ কাশশবিরহ-কাতর মহাদেব কর্তৃক যোগিনখ- 
গণের আহ্বান এবং 'দিবোদাসের ছিদ্রান্বেষণের জন্য আদেশ দান ১১৪। 
উৎসূক অগন্ত্যকে ষড়ানন-কতৃকি চৌষাঁট ষোগিনীর নাম কথন ১১৬  যোঁগিনগর। 
প্রতাবত্ত না হওয়ায় ?ধম্বেবর কতক সূষকে আবাহন ও কাশ প্রেরণ, 
বিফল মনোরথ সযেরিও কাশীতে অবস্থান এবং লোলাক নামে বারাণসীতে 
অবস্থান ১১৭ । 

কাশণর ক্ষেত্র-রক্ষক দ্বা্শ আঁদত্য প্রসঙ্গে লোলাকের পর উত্তরাকে'র উদ্ভব, 
প্রয়ত্রত ও শমুভব্রতার আববাহিতা কন্যার ব্রক্ষচ্য) উত্তরাক সূ"সাম্বকটে 
তপস্যা, বরদাতা 'বিশ্বেশ্বরকে সঙ্গী ছাগসতার পশুযোনিত্ব ম্যান্তর অনুরোধ, 
পরাহতৈষণায় বিমগ্ধা পারতি-কর্তক কন্যাকে স্বীয় সখ'ত্ব দান ১১৮; 
সাম্বাদত্যের কাহনী--নারদের প্ররোচনায় কৃষ্-কর্তৃক পত্র সাম্ঘকে আভশাপ, 
কাশী গমন, তপস্যা, রোগ-আরোগ্য এবং সাম্বাদিত্য-রূপে কাশীতে অবস্থান 
১২০; দ্রৌপদাদত্য প্রসঙ্গ ৪ পাশ্ডুর পণ্চপত্র-রপে মহাদেবের অবতরণ, পাতি- 
[বচ্ছেদ-কাতরা সতারও দ্রঃপদ-ষজ্ঞকুণ্ড হতে সমহদ্ভূতা, পণ-পাণ্ডবের পত্বশত্ব 
লাভ, বারাণসশীতে দ্রোপদীর তপস্যা, ছ্ৌপদী-আরাধিত আদিত্য-কর্তৃক 
দ্রৌপদীকে অক্ষয় স্ছালী দান ১১২ ; পণ্চনদতশর্থে সহম্রমাল কর্তৃক লিঙ্গ এবং 
মঙ্গলগোরা, প্রতিষ্ঠা, তপস্যা, এবং ময়ুখাঁদিত্য নামে ক্ষেব্র-রক্ষকত্ধ লাভ ১২২ % 
খখোলকাদিত্য প্রসঙ্গে বিনতা ও কদ্রুর উপাখ্যান, আদিত্যের খখোজ্ক' 
নামকরণ রহস্য, কদ্রুর আদেশে নাগগণের উচ্গৈঃশ্রবাকে কৃফবর্ণ-করণ, বিনতার 


ঙ 


দাপীত্ব, িনতার মুন্তর শতণপালনে গরংড়ের অমত-আহরণে গমন, দেবতাদের 
সঙ্গে যুদ্ধ গরুরকতৃকি বিষুকে বরপ্রদানঃ বিনতার দাসীত্ব-মোচন, মহাদেব- 
কতৃকি গরুড়কে ধিনতাদত্য তথা থখখোজ্কাদত্য নামে ক্ষেন্তর রক্ষার্থে স্থাপন 
১২৩; গররুড় জননী 'বিনতার দাসীত্ব গ্রহণের রহস্য স্কন্দদেব-কর্তৃক অগন্ত্যকে 
কথন ১২৭ ; অরুণাদত্য, বদ্ধাঁদত্য, কেশবাদিত্, বিমলাদিত্য, গঙ্গাদিত্য ও 
যমাদিত্যের আবিভণব ও মাহাত্ময কথন ১২৯। 

মহাদেবের নিদেশে ব্র্থর কাশী আগমন, দিবোদাসের ছি্রান্বেষণে ব্যর্থ 
ক্ষার রাজধ্য-সমীপে অন্বমেধ যজ্ঞ করার আঁভলাষ জ্ঞাপন, দিযোদাসের 
মাহাধ্ায দশাম্বমেধের উৎপাত্ত রহস্য ১৩১; শম্ভুকর্ণ? শহাকাল,ঃ ঘণ্টাকর্ণ 
প্রত গণদের মহাদেব-কর্তক কাশীতে প্রেরণ গণকতৃকি লিঙ্গ-স্থাপন ও 
কাশীতে অবস্থান ১৩৪; কপদীশ 'লিঙ্গ-মাহাত্ প্রসঙ্গে পুরাণ-মীন বাজ্মীক? 
ও [পশাচযোনিপ্রাপ্ত ব্রা্ষণ এবং বিমলোদক কু'্ড ও পিশাচ-মোচন তথ কথা 
ধর্ণন ১৩৭ £ মহাদেব-কর্তক পত্র গণেশকে আহবান ও কাশী-প্রেরণ ১৩৯; 
গণক-ছদ্নবেশে গণেশের কাশী প্রবেশ স্বগ্রশববরণ ও কাশঈীবাসীর মনে ভ্রাস- 
নণ্চার, উ্ছগ্র দিবোদাসের গণেশ-শরণ ও শ.ভ হীর্গত শ্রবণ ১৪০ ; গণনায়ক 
(বন।য়ক কি ক নামে কাশীক্ষেত্র রক্ষ। করছেন তার পারচয় জ্ঞাপন ১৪৩; গণেশের 
প্রত্যাগমনে বিলম্ষ দশনে 'বিরহাতুর মহাদেবের কাশীতে বিষুকে প্রেরণ ১৪৫ ; 
লক্ষী ও গরুড়সহ বকর কাশ আগমন, পাদোদক তীরথেনদ্ভব, আদিকেশবের 
মত প্রাতষ্ঠা ও অচ্চনা ১৪৩; অল্পাংশে বিষুর সৌগত পুণ্/কৰতি' 
লক্ষমীর পাঁরব্রাজকা, গরুড়ের 'বনয়কীর্তি ছদ্মবেশ গ্রহণ, বেদ-বরোধী ধম 
প্রচার, অজ্তঃপুরচারণীলহ পুর্রধানীদের উন্দাগ্“্গানীতার কাঁহনী কথন ১৪৬ ; 
(দবোদাস-সমীপে বির বরাহ্মণ-বেশে আগমন এবং রাজ্য-বরন্ত দিবোদাসকে 
উপদেশ প্রদান ১৪৯ 7 দিবোদাস-এর -রাজকাধ ত্যাগ, দিবোদাসেশ্বর লিঙ্গ 
প্রতিষ্ঠা এবং মোক্ষলাভ কথন ১৫০; মন্দর পর্বত থেকে মহাদেবের দেবগণ-সহ 
[বিশ্বক্মণ-কৃত কাশীতে প্রবেশ, গণেশ-স্তুঁতি এবং বদ্বকর্মীকৃত নবানাম্ত 
প্রানদে আগমন উদ্যোগ ১৫১ ) 

পণ্চনদতীর্থে কেখবের অবস্থান, পণ্চনদতাথ" প্রসঙ্গে ধাষ বেদাশরা ও 
অগ্নরা শুট, ধৃতপাপার জন্ম, সৎ পাঁত কামনায় কাশন গমন, তপস্যা ও 
চতুকাননের বরলাভ ১৫২; ধৃতগাপার গ্রাতি ধর্মের আগসন্তি, ধূতপ্পার 
প্রত্যাখ্যান এবং আভশাপে ধমেরি নদর্‌গ গ্রহণ ধমেরি অভিশাপে ধতপাপার 


চ 


ন্দীরপ ধারণ, বেদশিরা কর্তৃক রহস্য কথন ১৫৪ ; মঙ্গলগোরীর অঙ্গোষ্ভত 
গকরণা-র উদ্ভব, পণ্চনদ্ তঁথের উৎপাত্ত কথন ১৫৫ ; 'ীবন্দুমাধবের আবিভণব 
প্রসতগ £ পণ্চনদ তাীর্থে মহাদেবের আগমন অপেক্ষায় অবস্থান কালে খাষি 
অগ্নাবন্দুর আগমন ও মাধব স্তুতি, আগ্রাবন্দুকে বর ও আত্মতত্ব জ্ঞান দান 
১৫৬ ; আগ্রাবন্দুর অনুরোধে কাশীক্ষেত্রে মাধব কোন কোন নামে কোথায় 
কোথায় অবস্থান এবং চ্বীয় রুপভেদ বর্ণন ১৫৭ ; দেবেশের আগমন দশনে 
নারায়ণের মহাদেব সম্ভাষণ, কাপল তর্থের উদ্ভব ও মাহাত্য মহাদেব করঠৃকি 
কথন ১৬১; মহাদেবের খাঁষ জৈগীবব্য সমঈীপে গমন, যোগশাম্ম প্রদান এবং 
ফোগাচাধপদে বতীকরণ ১৬৩; দণ্ডখাত তঁর্ের উদ্ভব, তথথণন্তর থেকে 
ব্রুতাবলম্বী ব্রাঙ্মণদের সমাগম, প্রশান্ত এবং মহাদেবের ক্ষেত্র মাহাত্য কথন ১৬৪; 
[লন মাহাত্য প্রসঞ্গ £ জ্যেষ্ঠচ্হানে ঈশান ঈশানীর কন্দুক ক্রীড়া, কম্দ:কাঘাতে 
[বিদল-উৎপলের ধিনাশঃ কন্দকেম্বর লিঙ্গের উদ্ভব ১৬৬, ব্যাঘ্রেষর লিঙ্গ 
প্রসঙ্গে দেত্য দুল্দভ 'নিহ্নাদের কাহিনী ৯৬৭7 শৈলেশ্বর লিঙ্গ প্রসঙ্গে উমা" 
সংবাদে উতকণ্ঠিত 'গাঁররাজের রত্বসম্ভার সহ কাশঈতে আগমন, অলক্ষ্যে 
প্রত্যাগমন কাঁহনী বর্ণ নএবং শৈলেম্বর লিঙ্গ মাহাত্য কথন ১৬৮; রত্বেশ্বর 
.লঙ্গ প্রসঙ্গ $ উদ্ভব, সখাঁসহ গম্ধর্ব রাজকন্যা রত্বাবলীর 'লিঙ্গার্চনা, নাগরাজ 
রহ্‌ড়কে পতিত্বে লাভ কাহিনন বর্ণন ১৭২; মহাদেবের কীত্তবাস নাম রহসা ও 
কৃভিবাসেশ্বর লিঙ্গ, হংসতথেরি মাহাত্ কথন ১৭৯; কাশখতে মহাদেবের 
প্ুত্যাবর্ন সংবাদে ক্ষেত্রে আগত তীর্থ লিঙ্গাদ, গণাধপ-সহ গণনিচয়, 
চামুণ্ডা'দর আগমন এবং অবস্হানের বিবরণ নন্দী কত্ুৃকি শম্ভূকে প্রদান ১৬২ ; 
দেবীর গগন” নাম প্রসঙ্গে অগন্তা কতৃকি দানব দুগ্গের নিধন কাহিনী ব্ণন 
১৯০; ক্ষেব্রুরক্ষার্থে অস্টভৈরব সহ বেতাল প্রসঙ্গ কথন ১৯৬ ; অনাদসিম্ধ 
ও মনুন্তিপ্রদ 'লঙ্গ প্রসঙ্গে ত্রদ্ধার তপস্যা প্রণযেন্ধর লিঙ্গের উদ্ভব, তারতীর্থ 
এবং তথ বিশেষে তারতীর্ের শ্রেন্তত্ব কথন ১৯৮ ; প্রণবেশ্বর লিঙ্গ মাহাত্ম্য 
প্রসঙ্গে গগমিযনির স্মৃতিচারণ, দমন-সহ কাশখতে আগমন এবং লিঙ্গে অন্তঙ্গণণ 
২০১ ; বড়ানন কর্তৃক 'ন্রলোচন নাম মাহাস্থ্য প্রসঙ্গে কপোত-দম্পাত ও ক্ষেন্র 
কথা বণন ২০৬; 


কেদারেন্বর লিঙ্গ মাহাত্ময, বাঁশষ্ঠের তপস্যা ও বরলাভ ২১১ ; গৌরাকুষ্ড 
মাহাত্ম্য বর্ণন ও পাশ্ববত+ লিঙ্গসমূহের পারচয় ২১৩; আনন্দকাননন্থ ধমেন্যর 
'লিঙ্গ প্রসঙ্গে সূয্তনয় যমরাজের তপস্যা, শুক-শাবকগণের ম্যান্ত ২১৪; 


ছ 


মনোরথ তৃতীয়া বলত মাহাত্য কথন ২১৬ ; ধর্মতাথ" প্রসঙ্গে দেবরাজ ইন্দ্রের 
বক্ষহত্যাজনিত পাপমোচন ও রাজা দু্দমের শ্রেয়োলাভ কাহনী বর্ণন ২১৭ ; 
বীরেশ্ধর লিঙ্গাব্ভাব ও মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে বৈষ্ণবপ্রধান রাজা আঅমল্লাজতের 
চম্পকাধতী নগরী গমন, মলগ্গাম্ধনীকে নারদের পরামর্শে কথ্কালকেতু-মন্ত 
করে বিবাহ, মলয়গম্ধনশর পুন্রার্থে অভীম্ট-ততীয়া-্ত্রত উদযাপন ও পূত্রলাভ, 
মন্ত্রীদের পরামর্শে পূত্রত্যাগ, পত্রের তপস্যা ও বিশ্বে বরের আবিভাব 
কাহিনী কথন ২১৯; কামে*বর-লিঙ্গ প্রসঙ্গে ঘুবণাসার আনম্দকাননে আগমন, 
তপস্যা, দুরবাসার আভশাপ, গণসমহের ক্ষোভ, ঘুর্বাসার আতআ্মমংবরণ ২২৪ 
[বম্ধকমেন্বর লিঙ্গ প্রসঙ্গে ি*বকমণার বরহ্ষচযশীশ্রম? গুরদককুলের আদেশ, বারাণসগ' 
আগমন, তপস্যা, বরলাভ, গুরুকুলের সম্তুন্টিকরণ ২২৬; দক্ষেশ্বর লিঙ্গ' 
প্রসঙ্গে দক্ষের শিবহীন যজ্ঞ, পাঁতানন্দায় পাবাতর তনত্যাগ শিবগণ কর্তৃক 
দক্ষষজ্ঞ বিনন্ট, দক্ষের ছাগমুখ+ বারাণসীতে আগমন এবং মুক্তি ২৩০? 
পার্ধতীশ্বর গলঙ্গ প্রসঙ্গে পাধ্তীর পিতৃগৃহ ত্যাগ, আনপ্দকাননে আগমন, 
আনশ্দকাননে 'নরবাচ্ছল্ন আনন্দ রহস্য শ্রধন ২৪৩ ; গঙ্গেশ্বর লিঙ্গ মাহাত্ময 
২৪৫ 3 নমদেশ্বর 'লঙ্গ প্রসঙ্গে নমর্দার গঙ্গাম্যাভিলাষে তপস্যা, ব্রহ্জার বর 
প্রত্যাখ্যান ; বারাণসীতে তপস্যা এবং স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ ২৪৩ ; স্তীশ্যর 
গলঙ্গ সমুম্ভব কাহনী ২৪৮৬ ; কাশীর 'বাভন্ন মোক্ষপ্রদ লিঙ্গ ও ছান্রশ তন 
পারচয় দান ২৫০: ব্যাসদেবের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে নোমবারণ্যে ধ্যাসের 
বিষুপ্রয়তা ঘোষণা, খাবদের অনুরোধে বারাণসীতে আগমন, 'বিষুর 
সবেশ্ষরত্ধ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নন্দীকত্তুক স্তদ্ভন, ফর সাহাযোয স্তদ্ভন 
মানত, শিবের স্তাতি, ক্ষেত্রসম্যাদ, ভিক্ষানটনে পুরবাসর প্রতি অভিশাপ, 
পাবশতর আতথ্য গ্রহণ, ভ্রাম্ত অপনোদন, মহাদেবের আদেশে কাশী বাঁহচ্কার 
২৫২7 আনন্দকাননস্হ 'লিঙস্বরূপ তীর্থসমুহের পাঁরচয়, মযীন্তমণ্ডপের মাহাত্ম্য 
প্রসঙ্গে মহানন্দার কাহিনী ২৫৯, মহাদেবের শঙ্গার মন্ডপে আগমন স্বয়চ্ভু 
[বশ্বেম্ধর লিঙ্গের পরিচয় প্রদান ও মাহাত্ম্য কথন ২৬৬ ॥ স্কন্দকর্তক কাশী- 
মাহাত্ম্য বর্ণণ শেষে শিবশর্মাকে কাশীপ্রাপ্তর আম্াস দান ২৬৭; ধ্যাসদেব' 
কর্তৃক কাশগ যান্রা পরিক্রমা বর্ণন ২৬৮ ! কাশগখন্ডের মাহাত্ম্য কথন ২৭০, 





কাশীর বিশ্রনাথের মন্দির 


পি দূ, ্ 
২ 





1 । ৮, 
৬ টিনা ..8...২ ৯১ ০৮ ন্‌ 





মণিকণিকা ঘাট 





কাশীর গঙ্গাঘাটে পরিচিত স্মানদৃশ্য 





[ অধ্যায় ১ | 


*-০তন শুর নারায়ণকে নমস্কার | বন্দশা কি দেবী সরম্বতীর-।। 
. খ্রিত।স-ধিপহিত, সববিদ্ববিনাশক মহেশ-নন্দন গজেন্দ্রবদন দেব 
গণশি খিনাধককে নমস্কার |. 
ভূলে:কে অবস্থিত হনেগ, যিনি ভূুলোক অন্তর্গত নন; অধঃ- 
প্রদেশে প্রাতিষ্ঠিত হয়েও যিনি স্বর্গাদপি গরীরসী, সংসারাবদ্ধ 
জীবগণের ধিনি মুক্তি-প্রদয়িনী ; জীবদেহ-পরবিশ্যাগকারী প্রাণ 
যেখানে পায় মোক্ষের সন্ধান * ভ্রিভুবন-পাবনী জাহ্ুবীর তরল-তরজ 
যার লীলার সদা-চঞ্চল ; স্বুরগণ তার তীরে বসে নিত্য ধার গান 
বন্দনা; দেবাদিদেব ত্রিপুরারিমহেশ্বর-এর রাজনিকেতন সেই ত্রিভূবন- 
বিদিত কশীধাম, বিশ্বের যাবতীয় বিদ্ব বিনাশ করুক । ত্রিজগতের 
অধীশ্বন ব্রক্মা, বিষু, মহেশ্বর স্বয়ং ভর্গদেবের (স্ুর্যের ) উদ্দেশ্যে 
ভ্রিসন্ধার নিমিত্ত যে স্থানে নিতা যাতায়াত করেন, সেই স্থানাধিপ 
দেবদেব নমহেশকে নমস্কার । 


অষ্টাদশ পুরাঁণ রচয়িত! সভ্যরতীশুনয় বেদব্যাস কাশী-বন্দন। 
শেবে ম্বায় শিষ্য স্থতৈব নিকট সবপাপহারিণী কাশীখ,ণ্ডর মাহাত্ম্য 
কীত্ন করেছিলেন এইভাবে ঃ 

একদিন ত্রিভুবন-পধটনকারী মহধি নারদ নরমদার স্বচ্ছ-সলিলে 
অবগাহন সরে ওঁকারেশ্বর মহাদেবের অনার পর সামনেই বিন্ধ্য- 
পবঠ দেখে, এলেন পবত-দর্শনে। স্থাবর-জঙম নিয়ে সুবিস্তৃত, 
সুউননত বিদ্ধো র পাৰদেশ বিধৌত করে চলেছে নর্মদার নির্মল সলিল । 
ধরাধর এই ভূধনের প্রান্ত হতে প্রান্তে, সাছদেশ হতে শিখর পথস্ত 
বৃক্ষ, পুষ্প, লতা, গুলা, যেন থরে-থরে সজ্জিত ; ফলভারে আনত 
বৃক্ষরার্জিষেন নিরন্তর আহ্বান করে চলেছে ক্ষুধা-তৃষ্ণাতুর পথিককে । 


| ১ 
কাশী--১ 


কোথাও তাল-তমাল হিস্তালের সমারোহ । কোথাও বা বিস্তৃত 
পরিসরে উদ্ম্বর যজ্দডুমুর বৃক্ষনিকর ) কোথাও বা প্রন্ফুটিত নীপ, 
কদম্ব । কোথাও ব রুদ্রাক্ষ, প্ররিয়াল, ধৃস্তর। কোথাও বা শীতল নেহ- 
ছায়াদানে রত বিশালকায় বটবৃক্ষ-সমূহ। কোথাও বা বনলক্ষ্মীর 
বৃত্যালয়-সদৃশ শোভমান রক্তবর্ণ নাগরঞ্জ কুগ্জসমূহ, অনস্ত কক্কাল 
লতিকা, লবলী পল্লব ; বানীর, বিজপুর, জন্বীর । কোথাও বা বাহু 
বিকম্পিত কপূর শাখ।, উজ্জবলকান্তি রাজচম্পক-কলিকা নিত্য যেন 
করে চলেছে বিদ্ধ্যের আরতি । কোথাও বা বদরী, বন্ধুজীব, জীবপত্র, 
তিন্দুক, ইঙ্ছু'দি, সাল, অজুনি, অঞ্জন, খজুরি, নারিকেল, নিম, বকুল, 
তিলক, দেবদারু, হরি । কোথাও বা এলাচ, লবঙ্গ, মরিচ, কুদ্দাল, 
জন্বু, আত্রাতক, ভল্লাত। কোথাও বা অগণিত শ্বেত ও রক্তচন্দন, 
হরীতকীর মেলা । ঘুরে-ঘুরে দেখেন মহধি নারদ অশেষ সম্পদশালী 
অন্ুপম বিন্ধ্য, সবেশ্বর্ষের আকর, স্বর্গ অপেক্ষাও ঘেন ভাম্বর ৷ ভাবেন 
মনে-মনে দেবখধিগণের কাছে তাই বুঝি বিন্ধ্য এত আকর্ষণীয় । 
উদার ভূধর বিদ্ধ্য অভ্যাগতের কাছে প্রকৃতই অকৃপণ। 

্রন্মা-তনয় মহধি নারদ । তেজঃপুঞ্জ কাস্তি। যেখান দিয়েই 
তিনি পরিভ্রমণ করেন, সেখানকারই গুহার অন্ধকার যায় বিদ্ুরিত 
হয়ে। বিচলিত হয় বিন্ধ্যের বিশ্রীম । সচকিত উল্লাসে এগিয়ে আসে 
দেবধির কাছে সসম্ভ্রন আহ্বান নিয়ে। পাষাণ-হৃদয় তার দ্রবীভূত 
হয়ে উঠল দেবধির সন্দর্শনে নিজেকে সে মনে করল সৌভ গ্যশালী | 
উন্নত শির আনত করে আভুমি প্রণাম জানাল সে মুনিবরাকে | 
অষ্টোপকরণে করল তার অঠন]। 

অর্থ-গ্রহণের পর বিশ্রামশেষে মুনিবর অপগত-শ্রম হয়েছেন দেখে 
কৃতকৃতার্থ বিদ্ধ জানাল মুনিবরের এই প্রসাদ লাভ তার পুবজন্মের 
স্থকৃতির ফল-_ধরাধর” নাম আজ তার সার্থক হল । 

কোন প্রত্যুত্তর না কনে বিন্ধ্যের কথায় দেবধি একটি দীর্থনিশ্বাস 
ত্যাগ করলেন মাত্র। 

প্রশ্ন জাগে বিদ্ধ্যের মনে_দেবধষি কী তাকে ধরাধর' হিসেবে 


্‌ 


খ্বীকৃতি দিতে অসম্মত? কেন? পৃথিবীতে ভুধর অনেক আছে 
ঠিকই কিন্তু সর্বৈশ্ব্য দিয়ে কে তার মত পৃথিবীকে ধারণ করে আছে ? 
সবমের পবতকে সকলেই দিগেছেন শ্রেষ্ঠত্বের সন্মান, কিন্তু, স্থমেরু 
ত* তার মত একক নয়। অধিক সুবর্ণ-পুর্ণতা কিংবা বতুময় সান্ুদেশ 
অথবা দেবগণের আবাসস্থল হতে পারে স্থমেরু, তবু বিদ্ধ্যের 
বিশালত্ব আর সবময়ভার সঙ্গে তার তুলন? অন্চিত। হিমাঁলয়কে 
'গিরিরাজ' বলে সন্মান দেয় সকলে । কিছু-কিছু পৰতের আধিপত্য 
তাতে আছে ঠিকই, কিন্ত সত্যিই কি পর্বত-রাজ হবার যোগ্যতা তার 
কাছে? পার্তী-মহাদেবের সম্বন্ধ-সথত্রেই তার সম্মান; এছাড়া আগ কোন 
গুণে পে গুণান্বিত? এছাড়া অনেক ভূধর রয়েছে বটে, যারা অনেক 
মাননীরেরই মাশ্য । কিন্তু দেশ ছাঁড়। বহিধিশ্বে তাদের পরিচিতি 
কতটুকু? উদয়গিরির স্বকীয়তা কোথায়? স্ুযোদরের অপেক্ষায় 
উদয়গিরি জীবন্মত। ওষধিলতা-বিহীন ন্ষিধ পরত অতি নগন্য, 
কান্তিবিহীন। নীলপবত ৩” নিজেই অন্ধকাবাচ্ছন্ন । গ্রীহীন 
মন্দরগিরি। ম্লয়-পৰ্ত একমাত্র সর্পকুলেরই আবাসস্থল । ধনৈশ্বর্ 
কাকে বলে রৈবতপবত তার কিছুই জানে না। হেমকুট হল 
কুটীলাগ্রগণ্য । এছাড়া, কিছ্ষিন্ধ, ক্রৌঞ্চ, সহা ইত্যাদি যেসব 
পবত রয়েছে তাদের সামর্থ্য কোথায় এইভাবে পৃথিবী ধারণের ? 

আখত্মশ্রাঘায় স্ষীত বিদ্ধ্য। সবৈশ্বর্ষের আকর হলেও বিন্ধ্য 
জানে না_আত্বশ্রাঘ! মৃহাত্ের পপ্রিচায়ক. বয়; তাছাড়! শ্রীশৈল প্রমুখ 
এমন অনেক পবত আছে, যাদের শিখর দর্শনেই যুক্তি লাভ হরে 
থাকে । সবজ্ঞ দেবি নারদ মনস্থ করলেন, বিদ্ধ্যের সামর্থ/ কতখানি, 
একবার তা পরীক্ষা করে দেখা যাক । 

বিদায়কালে অত্যন্ত সংযমের সঙ্গে দেবি নারদ তাই বললেন 
বিন্ধযগিরিকে- গ্যাথ বিদ্ধ, একমাত্র শৈলশ্রেষ্ঠ স্রমেরই তোমার 
প্রবল প্রতিদ্বন্দী। এই বলে নারদ তার বাহনে আকাশপথে প্রস্থান 
করলেন । 

নারদের কথ! শুনে, বিদ্ধে/র মনে স্থমেরুর প্রতি জেগে উঠল তীব্র 


৩ 


বৈরীভাব । সুমেরুর গব চূর্ণ করারস্পুহায় উত্তোজত হয়ে উঠল বি্ধ্য । 
চিন্তাক্রিষ্ট হল সে। একবার ভাবল, পক্ষ বিস্তার করে সে উড়ে 
গিয়ে পড়বে সুমেরুর ঘাড়ে ; দেখিয়ে দেবে তার গুরুভার | কিন্তু 
সে উদ্ভমও হল বুথা । বিস্মৃত হয়েছিল, দেবরাজ ইন্দ্র তাদেরই কোন 
পৃৰপুরুষের প্রতি কৌপবশে গব হসমুহ্র পক্ষ ছেটশ করে ভার 
স্থান করে দিয়েছেন । তাহলে কি উপায়ে নজ পরাক্রম প্রকাশ 
করে সুমেরুর দস্ত চুণ করা যায়? ব্রমবর্ধমান ব্যাধি, শক্ত] যেমন 
উপেক্ষা কর! উচিত নয় তেমনি কালক্ষেপ করা ও সমীচীন নয় । 

অনেক ভাবনা-চিন্তার পর অনন্যোপার বিদ্ধ্য শেষে শহণ নিল 
বিশ্বত্রষ্টা; ভগবান বিশ্বেশ্বরের । শণাগহ ভক্ত, মনোবাঞ্ছা পুরাণের 
ইক্ষিতও পেল । ঠিক করল, গ্রহ-নক্ষব্রগণ-সহ স্থমের পরিভ্রমণকারী 
স্র্ধের পথ সে অবরুদ্ধ কপে দাড়াবে * দেখাবে তার অনমনীয় শাক্ত- 
সামর্থ | পথের সন্ধান পাওয়ার সঙ্ষে-সঙ্গেই ম্ফীতকাছ হয়ে উঠতে 
লাগল বিন্ধা। শিখরশ্রেণী ভার গগনপথ আতিক্রম কারে প্রায় 
নভোমার্গের শেষ সীমা স্পর্শ করল । দূরীভূত হল বিন্ধ্যের চিন্তা ; 
সুমেরুর প্রতি সার্থক বৈরিতায়, উৎফুল্লিত তার হৃদয় । মানে-মনে 
এই ভেবে সন্তুষ্ট হল, শক্তির পরিচয় না পেলে সকলেরই স্পর্ধা জাগে 
উপেক্ষা করার । স্বীকৃতি লাভের একমাত্র পথই হল শক্তির 
প্রকাশ । একখগ্ড কাঠিকে উপেক্ষা করে যাওয়। সাজা কিন্তু, সেই 
কাঠ যখন জ্লস্ত হয়ে উঠে, তখন ! 

এইভাবে বিমুক্ত চিন্তায় বিন্ধ্য 'ফীতকায় হযে অপেক্ষগ। করতে 
লাগল স্থোদযের | 


|] 


| অধ্যায় ২ - 

_. পূর্বদিকে কিরণজাল বিস্তার করে সমুদিত হলেন স্থ্ষ । তমিত্রা- 
পজনী শেষে আবার প্রাণস্পন্দনে মুখর হয়ে উঠল বিশ্বচগীচর । 
মুদিতানন। পানী নেলল আখি! স্ব-স্ব কর্মে রত হল জীবকুল । 
গমনপথে প্রির প্ুথবীর যাবতীর স্থাবর-জঙ্গমের উপর অন্ুপাগের 
করস্পশ আর জীবনের আশ্বাস দিতে-দিতে দিকপতি স্ুষ অগ্রসর 
হলেন দক্ষিণ দিকে । কিন্তু অনায়াসে শুম্তমার্গ বিজয়ী সের 
অশ্বগণ বাধা পেল স্ষীতকায় বিন্ধের কাছে এসে । থেমে গেল 
স্থধের রথ । স্থধ-সারথি অনুরু দেব তপনকে জানাল-বিদ্ধ্যগিরি 
নদে গগণ-মাগ অবরোধ করেছে । অভিলাস তার, প্রত্যহ সুমের 
পবতকে প্রদক্ষিণ করে আপনি যেমন আস্তাচলে যান, বিন্ধাকেও 
তেমনি প্রদক্ষিণ করতে হবে। শুনে স্তম্তিত হলেন তপনদেব-- 
শৃণ্যমাগও অধরুদ্ধ হয় ! 

অমিত শক্তির আকর তেজোদীপ্ত তপনদেধ, আধ-পলকে যিনি 
আক্রমন করেন হুহাজার ছুশো যোজন পথ €১ যোজন -৪ 
ক্রোশ ), বিধিব বিধানে তাকেও কিছুকাল একজায়গায় নিশ্চল 
হনে থাকতে হল ! এই শিশ্চল অবস্থানের ফলে ভার প্রথর কিরণ- 
ভাপ পোধবহ্ছিগ মণ প্রজ্মলিত হচ্ছে থাকল পুব ও উত্তর দিকে । 
আবার পশ্চিম এবং দক্ষিণ দিক, চন্দ্র অস্তমিত এবং নিশাবসান 
হওয়ার পরেও সুর্যের অন্ুুদয়ে বিভ্রান্ত হয়ে ভাবতে শুরু করল--এল 
কী প্রলয়কাল ! একদিকে নৈশ-তিমির, অপর দিকে আতপ-তাপে 
দগ্ধ জীবকুল আর স্থির থাকতে না পেরে ভয়বিহ্বল-চিত্তে ইতস্ততঃ 
ধাবমান হল্‌। যাঁগ-বজ্ঞ, দেবাচন। প্রাত্যহিক ক্ক্রিয়াকর্ম পরিত্যাগ 
করে প্রজা বৃন্দ উন্মত্ত হয়ে উঠল নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে । 

ভীত হয়ে উঠলেন দেবগণও | নিরুপায় হয়ে সকলে মিলে 


৫ 


ছুটলেন তারা সত্যলোকে জগৎপিতা ব্রহ্মার কাছে। বিপর্যস্ত 
পৃথিবীকে রক্ষার আবেদন নিবে শরণাগত দেবগণ' ত্রহ্মাব 
হৃদরগ্রাহী স্তব করলেন ঃ “কালাৎ পরায় কালায় স্বেচ্ছা পুরুষায় 
চ। গুণত্রয় স্বরূপার নমঃ প্রকৃতিরূপিণে ॥ বৈষ্ণবে সত্বরূপায় 
রঙগোরপায় বেধসে। তমসে রুদ্ররূপায় শ্থিতিম্বর্গাভতকারিণে 1” 
_-তুমি কালাতীত হয়েও কালম্বরূপ, তুমি স্বেচ্ছায় গ্রহণ করেছ 
পুরুষরূপ। আবা? তুমিই সেই ত্রিগুণা প্রকৃতি ।. সত্বগুণে তুমি 
বিঞু-কর জগতের পালন, রজোগুণে তুমি ত্রহ্মা--কর স্থগ্ি, আবার 
তমোগুণে তুমিই রুদ্র--কর সংহার। তোমারই নিঃশ্বাস-প্রস্ত 
চতুর্বেদ, তোমারই ম্বেদ হতে উৎপন্ন সমস্ত জগৎ, তোমার পদতল- 
সমুভূত সমস্ত প্রাণী, স্বর্গ তোমার মস্তকপপ্রস্থুত, তোমার নাভি হতে 
আকাশ, লে'মরাজি হতে বনস্পতি, মন হতে চন্দ্রমী, চক্ষু হতে সুধ। 
তুমিই সব, তোমাতেই সমস্ত । তত্বমেব সবং ত্বরি দেব সর্বং স্তোতা 
স্বতিঃ স্তব্য ইহ ত্মেব। ঈশ ত্বয়ীবাস্তমিদং হি সব্বং নমোহস্ত 
ভূয়োইপিনমো নমাস্তে ॥”__তুমিই স্ততি, ভূমিই স্তোতা, তুমিই স্তব্য । 
এই বশ্বচরাচর তোমাতেই ব্যাপ্ু! হে ঈশ, তোমাকে নমস্কার, 
বারংবার নমস্কার । 

সবজ্ঞ ব্রন্মা স্তবে তুষ্ট হয়ে প্রণত দেবগণকে অভিলষত 
বরদানে উদ্ভধত হয়ে বললেন-এখানে ব্যাকুলতার কোন 
অবকাশ নেই। মুিমান চারি বেদ, সমস্ত বিদ্যা, যজ্জ, সত্য, 
ধর্ম, তপ, দম, ব্রহ্মচর্য, করুণা, শ্রুতি, স্থৃতি- সমস্ত লোকগণ বিরাজ 
করছেন। ষল্ডরিপুজয়ী ব্রহ্ম নিষ্ঠ, তপোনিষ্ঠ, সদ্ব্রতাচারী, ব্রহ্মচারী 
ব্রাহ্মণগণ এখাঁনে স-সম্মীনে অধিষ্টিত। দান গ্রহণ করার সামর্থ্য 
থাক সত্বেও, যারা প্রতিগ্রহ-বিমুখ, গায়ত্রী জপ-নিরত, অগ্নিহাত্র- 
পরায়ণ ব্রাহ্মণ ; মাঘ মাসের মকর-সংক্রান্ভিতে ধারা হয়েছেন প্রয়াগ 
তীর্ঘন্লাত, কাতিক মাসে বারাণসীর পঞ্চনদে তিনদিন স্নান করে ধারা 
হয়েছেন নির্মল, তার! আমার সকাশে বিরাজ করছেন ্ূর্যতেজ নিয়ে । 
মণিকণিকায় স্নান সেরে ধার। ব্রাহ্মণদের ধনাদি দানে তৃপ্ত করেছেন, 


৬ 


তারা আমার সকাশে এক কল্প (ব্রহ্মার একদদিনরাত অর্থাৎ ৮৬৪ 
কোটি বৎসর) অবস্থানের পর, পুনরায় কাশীধামে প্রত্যাগমন করে 
বিশ্বেশ্বরের প্রসাদে মুক্তি লাভ করবেন। অবিমুক্ত ক্ষেত্রে যদি 
অল্প সৎকর্মও কেউ করে, তবে মুক্তিলাভ তার স্থুনিশ্চিত। 'দেবগণ, 
স্নান, দান, জপ কিংবা পুঞ্জায় স্বনিষ্ঠ হলেও, যদি কেউ ত্রাহ্মণগণকে 
পরিতৃপ্ত করতে না পারেন, তিনি কখনই আমার এ লোকে আসতে 
পারবেন না। বিষু্র, আমার এবং মহাদেবের অতি প্রিয়জন হল 
ব্রন্দণ। আমরাই ধরাধামে ব্রাহ্মণ মুতিতে পরিভ্রমণ করে থাকি । 
বেমন ব্রাহ্মণ, তেমনই হল গো-জাতি। গোদেহে আমি, বিষ্ণু, 
মহাদেব ও মহধিগণের সঙ্গে চতুর্দশ ভূবন অবস্থান করি । গো-সেবা, 
গো-দান এব তুল্য পুণ্যকর্ম নেই। ব্রাক্মণগণকে গোদানের তুল্য 
দান আর নেই। সবদেহে গো-লাঙ্গুলের স্পর্শ, অলঙক্ষ্মী, কলহ, 
অশান্তি দূর করে থাকে । এই পুথিবী ধারণ করে আছে সাতটি 
শক্তি ঃ গো, বিপ্র, বেদ, সতী, সত্যবাদী, অলোভী আর দানশীল । 
আমার এই লোকের উধের্বে বৈকু্ লোক, তার ওপরে উমালোক, 
তার ওপরে শিবলোক, তার ওপরে গোলোক ; মহাদেবের প্রিয় 
স্শীল। প্রভৃতি গোমাতৃগণের এখাঁনেই আবাস । ধারা গো-সেব। 
অথব1! গো-দান করেন তারা এর কোন-না-কোন একটি লোকে সুখে 
অবস্থান করেন! 

তবে দান বথার্থ ব্রাহ্মণকেই কর। বিধেয়, তবেই ফললাভ হয়ে 
থাকে । শ্রুতি, স্মৃতি, পুরাণাদির তত্ব ধারা সম্যক অবগত হয়েছেন, 
অনুশীলন করছেন অথবা শ্রুতি, স্মৃতিকে ধার ছুটি চক্ষু এবং পুরাণকে 
হৃদয়তুল্য জ্ঞান করে থাকেন, তারাই বথার্থ ব্রাক্মণ, অপর সকলে 
'কেবলমাত্র ব্রাহ্মণ নামধারী । সুতরাং গো-দান সেই যথার্থ ব্রাহ্মণে 
হলেই স্থখ-শান্তি লাভ হয়ে থাকে । 

যাই হোক, আমি জানি, তোমাদের আমার কাছে আসার কারণ 
কি? সুমেরুর প্রতি বিদ্বেষবশে বিদ্ধ্যপর্ত স্ফীতকায় এবং উন্নত 
শির নিয়ে গগন পথে স্র্যের গতিরোধ করেছে । শোন, মিত্রাবরুণ- 


চা 


তনয় মহাতপস্বী অগস্ত্য অবিষুক্তক্ষেত্র কাশীধামে কঠোর তপক্তায় 
রত রয়েছেন। তোমরা তার কাছে যাঁও। তিনি তোমাদের অভীষ্ট 
পুরণে অবশ্যই সাহায্য করবেন। সূর্য অপেক্ষাও অধিক তেজশালী 
অগন্ত্য একসময় বাঁতাপি এবং ইন্বল নামে ছুই রাক্ষপকে ভক্ষণ করে 
পৃথিবীকে রক্ষা করেছিলেন। সেই থেকে সকলেই তাকে বেশ 
সমীহ করে । এই বলে ব্রহ্মা অস্তহিত হলেন । 

ব্রহ্মার পরামর্শে তৎক্ষণাৎ কাশীগমনের নিমিত্ত প্রস্তুত হয়ে 
নিলেন দেবগণ। অন্তঃকরণ তাদের পুলকিত হয়ে উঠল অগস্ত্যকে 
উপলক্ষ্য করে কাশীধাম এবং কাশীপতির দর্শন লাভের স্থযোগ 
সমাগত দেখে । মনে-মনে ভাবলেন স্ুকৃতি ন' থাকলে সেই ঘোক্ষধাঁম 
দর্শনের কী স্থযোগ মেলে ? 


] অধ্যায় ৩ 7. 


দেবগণ অতঃপর কী করলেন, অগন্ত্য সমীপে তাঁরা কী প্রার্থন! 
রাখলেন, বিদ্ধ্যপৰতের উন্নত শির কিভাঁবেই বা আনত হল, ম.1মতি 
স্ৃত ত জানতে ইচ্ছুক হলে ব্যণাসদেব বললেন £ 

দেবগণ ব্রহ্মার পরামর্শে আর কাল।বলম্ব না করে সঙ্গী মহস্বিদের 
নিয়ে এদেন বারাণসী ধামে । সবস্ত্রে যথাবিধি মণিকণিকায় আসান 
সেরে সন্ধ্যা-বন্দনা, পিতৃ-তর্পণাঁদি শেষে ব্রাহ্মণদের উৎকৃষ্ট দান, 
বিদ্যার্থাদের অন্ন, অতিথি সেবার জন্য ধনাদি, লেখকদের বৃত্তি, 
দেবালয়ের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দান এবং জপ, হোম, স্তোত্রপাঠ, 
শিব-কীর্তন করতে করতে চতুদিক পরিভ্রমণ, ত্রন্মচ অবলম্বন করে 
বিশ্বেশ্বরকে প্রণাম, বিশ্বনাথ দর্শন, ইত্যাদি নিয়ে পাঁচটি রাত অতি- 
বাহিত করে, এলেন মহাযুনি অগস্ত্যের আশ্রমে । দেখলেন দেবগণ, 
স্বীয় নামে শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে শতরুদ্রী জপে সমাহিত মুনিবর__ 
দ্বিতীয় স্ুর্ম যেন, অথচ সেই তেজ কী অপরূপ ক্িপ্ধ এবং শাস্তিময় । 


৮ 


স্র্যও ম্লান যেন তেজের কাছে, ত্ুশীতল চন্দ্রের প্সিগ্ধ কিরণও যেন 
তার ন্সিগ্ধতায় বিশ্মিত। সেই সঙ্গে দেবগণ দেখলেন, শ্বাপদ-সঙ্কুল 
আশ্রম, অথচ কী অপরূপ হিংসাদ্বেষ£,; দেখলেন সিংহ- 
শাবকদের সরিয়ে দিয়ে সিংহীর স্তন পান করছে মুগশিশু, নিদ্দ্িত 
.ভল্লুকের লোমসমূহের ভিতর থেকে কীট বেছে ভক্ষণ করছে বানর। 
ময়ূরের কণ্ঠে স্বীয় কণ্ঠ বর্ণ করছে সর্প, আসন্নপ্রসবা মৃগ্ীর দিকে 
করুণ নয়নে তাকিয়ে রয়েছে ব্যান আর ব্যাম্রীর সঙ্গে সখীত্বের বন্ধনে 
আবদ্ধা মুগী চলেছে নিরাল! স্থানে । স্বভাব-নৈরিতা ভূলে মনের 
আনান্দে খেলা করছে নকুল সর্পের সঙ্গে । মাংসাশী শ্বাপদ, অথচ 
মাংসভক্ষণে অনীহা নিয়ে প্রাণধারণ করে চলেছে তৃণগুল্মাদি ভক্ষণ 
করে। এমনকি অগক্ত্যের তপঃপ্রভাবে বকও মস্ত ভক্ষণে পরাজ্ঞুখ, 
মধূপের! মধুপানে বিরত । শিবক্ষেত্র বারাণসীর কী অপরূপ মহিম1! 
দেবাদিদেব শঙ্করের অধিষ্ঠানক্ষেত্র কাশীধাম বিশ্বেশ্বরের প্রসাদে 
তারকত্রক্গ নাম নিয়ে তারই মাহাত্ম্য জেনেছে যেন সেই সারতত্ব-- 
হিংসা পাপ, প্রাথ-নাশ এবং প্রাণীর বিনিময়ে প্রাণধারণ এক কল্প 
পরিমিত নরকভোগের সমান, মদ্-মাংস হতে শঙ্করের অবস্থান বহুদূরে 
--মহাদেবের প্রসাদ, মহাদেবের কৃপাই মুক্তিলাভের অনন্ত পথ । 
এখানকার '্রাণীমাত্রেই যেন জেনেছে সেই সারমর্ম-অবিমুক্ত এই 
ক্ষেত্র শিবপবায়ণ হয়ে বসবান করলে মনুষ্য জন্ম ত' বটেই এমনকি 
তিষক জাতিরও যুক্তি সুনিশ্চিত | 

বিন্মিত দেবগণ এইসব দেখতে-দেখতে প্রবেশ করলেন মুনিবরের 
আশ্রমে । পরক্ষীকুলকে দর্শন করে পুনরায় পুলকিত হয়ে উঠলেন , 
তার।। দেখলেন সারসীর কষ্ঠোপরি কণ্ঠলগ্ন সারস নিশ্চল-_-যেন 
শিবধ্যানে রত। রমণেচ্ছু হংসকে হংসী, চক্রবাককে চক্রবাকী যেন 
নীরবে অনুণয় করছে এই পবিভ্র-আশ্রমে কামভাব পরিত্যাগ করতে, 
শালিক পক্ষার স্ত্রী মুছ-মধুর ভাষে শালিককে শোনাচ্ছে “মহাদেব 
অপার এই সংসারের পারদাত1।” কেকারবহীন নিস্তন্ধ ময়ূর । 
ধ্যানমগ্ন 'অগন্ত্যের যেন ধ্যানভঙ্গ না হয়ে যায়। বিহগকুল যেন 


৪১ 


সে বিষয়ে সদাজাগ্রত। 

স্বর্গবাসী, স্বর্গন্থখে সুখী দেবগণ কাশীধামকে দেখে স্বর্গকেও 
ধিকার দিয়ে উঠলেন । বললেন, আমর! স্বর্গবাসী হয়েও কাশীবাসী 
পতিত ব্যক্তির তুল্যও নই। স্বর্গ থেকে পতনের ভয় আছে কিন্তু 
মহাদেবের শরণাগত কাশীবাপীর পতনের কোন আশঙ্কা নেই। 
কাশীতে শশক, মশকেরাও অনায়াসে যে পদ লাভ করে থাকে, 
অন্যত্র যোগবলে যোগীরাও পায়না তা । অন্তর নিক্ষণক রাজ্যভোগ 
থেকে কাশীতে যদি মাসাবধি উপবাস করে থাকতে হয়, দারিক্রযের 
সঙ্গে কাল কাটাতে হয়, তবুও তা অনেক পরিমাণে সুখপ্রদ । 
আমর দেবতা, অমিত-শক্তি নিয়ে স্বর্গরাজ্যের এক-একজন অধীশ্বর, 
অথচ এক বিষ্ক্যগিরির ভয়ে আজ আমর] ভীত । ব্রহ্মার দিবসের 
অষ্টম ভাগে লোকপাল, স্্ধ, চন্দ্র, গ্রহ-তারা সবাই বিলুপ্ত হয়ে যায়, 
বিলুপ্ত হয় ইন্দ্রত্বের পদও কিন্তু পরার্ধদ্য় ( এক পরার্ধ- ১০ কোটি- 
কোটি বছর ) পরিমিতকাল কাশীতে অবস্থান করলেও তাঁর বিনাশ 
নেই। ব্রক্ষাণ্ডের যাবতীয় স্বখের আধার এই কাঁশীধাম । উত্তর- 
বাহিনী গঙ্গায় সান করে এখানে যে জন যায় বিশ্বেশ্বর দর্শনে, সে 
লাভ করে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল। জন্ম-জন্মাস্তরের সঞ্চিত পুণ্যই 
এনে দেয় কাশীবাসের স্যোগ । বিশ্বেশ্বরের শরণাগত জন যারা 
আন্তরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে গঙ্গার দর্শন, স্পর্শন, সান, আচিমন, সন্ধ্যা, 
উপাসনা, জপ, তর্পণ, আর নীলকঞ্ দেবদেব মহাদেবের ভজন করে, 
শুরুপক্ষে বধিত-কলা চন্দ্রের মতই অন্তরে তার ধর্ম কাণ্ডে-পুম্পে-ফলে 
সুশোভিত হরে ওঠে । বিপ্রগণের পাদোদক দ্বার সিক্ত শ্রদ্ধা 
হল সেই ধর্মবৃক্ষের বীজ, চতুর্দশ বিদ্যা তার শাখা অর্থশান্ত্র তার 
পুষ্প। কাম আর মোক্ষ-_-এ ছুটি হল তার স্থুল এবং সুল্ম ফল। 
স্বয়ং ভবানী অন্নপূর্ণা এখানে করেন অর্থপ্রদান, ঢুণ্ডিরাজ গণপতি 
পূরণ করেন জীবের যাবতীয় কামন৷ আর অন্তকালে স্বয়ং বিশ্বেশ্বর 
মৃমুধূুর কর্ণে তারকক্রন্ম উপদেশ দিয়ে ভব-বন্ধান থেকে মুক্ত করেন । 
ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ এই চতুবর্গ নিয়ে ধর্ম কাশীক্ষেত্র ছাড়া আর 


১৩ 


কোথাও বিরাজ করেন না। ভ্রিলোকীও ম্ববপরূপ বিশ্বরূপ 
বিশ্বেশ্বারের অধিষ্ঠান ক্ষেত্র কাশীক্ষেত্রের তুল্য নয় । 

নিজেদের মধ্যে এইসব আলোচন। করতে-করতে মহস্ষিগণসহ 
দেবগণ হোমধূমের স্ুগন্ধে পরিপুর্ণ, পতিব্রতা-সাধ্বী লোপামুদ্রার 
চরণচিহ্ন দ্বার? অঙ্কিত ধ্যানমগ্ন অগস্ত্য মুনির কুটার-প্রাঙ্গণে দাড়ীলেন 
প্রণাম করে। সগ্ঠ সমাধি হতে উখ্িত কর্ণে অক্ষমাল! বিভূষিত, 
কুশাসনে উপবিষ্ট পরমেঙ্টির ন্যায় শ্রেষ্ঠ অগক্ত্য মুনির উদ্দেশ্ট্ে ইন্দ্র- 
প্রমুখ দেবগণ জয়ধ্বনি দিলে, সুনিবর দাঁড়িয়ে তাঁদের আপ্যায়ণ 
জানালেন, আশীরবাদ করলেন এবং জানতে চাইলেন তাদের 
আগমনের কারণ । 


| অধ্যায় ৪ 7 


জিজ্ঞান্্ মুনিবর অগন্ত্ের সামনে দেবগণের মুখপাত্র হারে 
এগিয়ে এলেন দেবগুর বৃহস্পতি । তিনি অগস্ত্যের তপস্ত। এবং 
পরোঁপকাবী মানসিকতার বন্ুতর প্রশংসা কলেন । তারপর পঞ্চমুখ 
হয়ে উঠলেন যেন, অগস্ত্য-সহধমিণী লোপামুদ্রার পাতিত্রত্যের 
প্রশংসার | 

প্রতোক অবন্যে, প্রত্যেক পর্বতে, প্রত্যেক আশ্রমেই আছেন 
অনেক-অনেক তপোধন ; কিন্তু অগক্ত্যের মত এমন গদার্ধ-গুণ- 
সমন্বিত, পুণ্যশ্লী-মণ্ডিত, ব্রহ্মতেজ-সম্পন্ন তাপস বিরল। কেনই 
বাতা হবে না-পতিব্রতা (লাপামুদ্রার মত সহধক্সিণী ধার সতত 
অন্ুগামিণী ! ৃ্‌ 

সতীত্ব এবং পাতিত্রত্যে চিরস্মরণীয় হলেন অরুন্ধতী, সাবিত্রী, 
অনস্থুয়া, শাগ্ডিল্য, সতী, লক্ষ্মী, শতবনপা, মেনকা' সুনীতি, সংজ্ঞা, 
স্বাহা। তবুও পাতিব্রত্যের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলে এ'রাঁও নিদ্ধিধায় 
লোপামুদ্রার প্রশংসায় অ্ুয়াহীন হয়ে ওঠেন। 


১১ 


স্বামী আহার্য গ্রহণ ন! কর পর্যন্ত যে স্ত্রী আহার্ধ গ্রহণ 
করেন না; স্বামী নিদ্রা গেলে, যে স্ত্রী শধ্যাগ্রহণ করেন আবার 
ব্বামীর শধ্যাত্যাগের পূর্বেই যিনি শয্যাত্যাগ করেন ; অনলঙ্কৃত1 হয়ে 
যিনি স্বামী সন্দর্শন করেন না, অথচ অলঙ্কৃতা এবং বেশভূষায় 
সজ্জিত! হয়ে যিনি গৃহান্থর গমন করেন না আবার স্বামীর আয়ু-বৃদ্ধির 
কামনায় যে স্ত্রী কখনও স্বামীর নাম মুখে উচ্চারণ করেন না সেই 
স্্রীই প্রকৃত পতিব্রতা । কোন কারণে স্বামী রাগান্বিত হয়ে তিরস্কার 
করলেও, ধিনি প্রসন্ন-বদনে ত1 গ্রহণ করে থাঁকেন : স্বামীর আহ্বানে 
সাঁড়। দিতে যিনি কালবিলম্ব করেন ন1; স্বামীর বিনা অন্ুমাঁতিতে 
ঘিনি কাউকে কিছু দেন নী; অথচ পুজাদির নিমিত্ত নিত্যপ্রয়োজনীয় 
দ্রেব্যাদি যোগাড় করে দিতে যিনি স্বামীর অপেক্ষা করেন না; 
দ্বারদেশে বন্থকাল অবস্থান বা শয়ন করেন না; পতির উচ্ছিষ্ট যিনি 
মহাপ্রসাদরূপে গ্রহণ করেন আবার দেবতা, পিতা, অতিথি, 
পরিচারকবর্গ, গোরু এবং ভিক্ষুকগণকে যিনি সবদাই অন্ন-ভাগ দিয়ে 
থাকেন- তিনিই যথার্থ সাধবী | 

খতুকালে যিনি থাকেন স্বামীর অন্তরালে এবং তিনদিন পর 
খতুন্নানান্তে ঘিনি সবাগ্রে স্বামী সন্দর্শন করেন, স্বামীর অবর্তমানে 
স্বামী ধ্যানরহা হয়ে ঘিনি স্থধ দর্শন করেন ; প্রগলভা' নারীসঙ্গ- 
বিপজিতা হয়ে ধিনি স্বামীর তৃপ্তি-সাধনে ব্রতচারিণী; যিনি স্বামীর 
সুখে সখী, স্বামীর ছুচখে ভ্বখী ; পতির সেবাই যার একমাত্র ব্রত, 
ধর্ম এবং দেবারাধনা--ভিনিই যথার্থ পতিত্র ৮ পত্বী। 

লোপামুন্রা এই সবকটি গুণে গুণান্বিতা। শুধু তাই নয়, 
লোপামুদ্রারহৃদয়ে স্বামী অগস্ত্যের স্থান সব দেবতারও উধ্বে”। পতির 
পাদোদক পানই একমাত্র পুরণ করে থাকে পত্বীর তীর্থ কানের 
অভিলাষ । কেননা, “ভর্ত। দেবে গুরুর্ভর্ত। ধন্মতীর্থ ব্রতাঁনি চ। 
তন্মাৎ সর্ববং পরিত্যজ্য পতিমেকং সমচ্চয়েৎ ॥” (৪1৪৮)--পতি ব্রত! 
পত্বীর কাছে পতিই হল একমাত্র দেবতা, গুরু, ভর্তী) তীর্থ, ব্রত-_ 
অপরিমেয় সুখদাতা, ষ! পিতা, ভাতা পুত্রও দিতে অপারগ । মহাদেব 


১ 


এবং বিষণ অবশ্থই পুজ্য কিন্তু স্ত্রীর কাছে অধিকতর পুজ্য হলেন 
স্বামী । অনন্যচিত্তে ষে স্ত্রী স্বামী সেবায় রতা তিনিই সাধবী। তার 
তেজের কাছে তপনের তেজও হীনগ্রভ; তার শক্তির কাছে অগ্নির 
দাহিকা শক্তিও ম্লান। যমদূতের কিন্করেরাও ভীত হন সেই সাধবী 
পতিত্রভার কাছে আসতে । বিবাহকালে ত্রান্মণেরা কন্যাকে 
এই বলে আশীবাদ করে থাকেন থে ছ্ছাঁয়। যেমন দেহের, জ্যোহস্ব। 
যেমন চন্দ্রের, বিছ্যৎ যেমন মেঘের অন্ুগামিনী, তুমিও তেমনিভাবে 
হবে পতির মন্গামিনী। ফলে যে স্ুকৃতি পত্বী অর্জন কন্বেন তার 
দ্বারা দৈববশে অধোগতি প্রাপ্র-ম্বামীকেও তিনি উদ্ধার করে নিয়ে 
যেতে পারবেন ব্বর্গলোকে ৷ মনুষ্য দেহে যতগুলি লোম আছে; 
তাবৎ কোটি পরিমিত কাল পত্তিব্রতার সঙ্গে ভাব স্বামী স্বর্গভোগ 
করে থাকেন । 

পতিতব্রতার পুণ্যবলে পিতৃবংশ, মাতৃবংশ এবং পতিবংশের তিন 
পুরুষ স্বর্গমুখ ভোগ করে আর স্ত্রীলোক ব্যাভিচারিণী হলে নিজের 
ইহকাল এবং পরকাল বিনষ্ট ত' করেন-ই সেই সঙ্গে পিতৃ, মাতৃ এবং 
পতিবংশেরও তিনটি করে পুরুষের অধপতন ঘটায়। যেস্থ্ী স্বামীর 
উক্তির ক্রোধতৎপর প্রত্যুত্তর করে সে মৃত্যুর পর গ্রামের কুক্ুরী 
অথবা বনের শৃগালী হয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকে । যেস্ত্রী স্বামী 
পরিত্যাগ করে পরপুরুষগামিনী হয়, সে জন্মান্তরে বৃক্ষকোটর বাসী 
পেচকী হযে থাকে । যেক্ত্রী স্বামীর তাড়নার প্রতিশোধ নিতে গ্রবৃত্তা 
হয়, সে জন্মান্তরে ব্যান্ত্রী বা মার্জারী হয়ে থাকে । যে পরপুরুষের 
প্রতি কটাক্ষপাত করে, সে হয় কেকরাক্ষী (টেরা)। স্বামীকে 
বঞ্চন। করে ষে স্ত্রী হয় মিষ্টান্নভোজী, জন্মাস্তরে সে হয়ে থাকে গ্রামের 
বিষ্ঠাভোজী শৃকরী কিংবা বাছুড়।- যে স্বামীকে তাচ্ছিল্য-সহকারে 
কট, সম্ভাষণ করে, সেহয় বোবা । আর সপত্বী-বিদ্বেষী স্ত্রী হয়ে থাকে 
জম্ম-জন্ম হতভাগিনী। তাই পতি যেমনই হোন ন1 কেন ক্লীব ব 
ছুরবস্থ, ব্যাধিযুক্ত বা! বৃদ্ধ, স্ুস্থিত ব! ছুস্িত পতিতব্রতা সবদাই হবেন 
তার অনুগামিনী | 


১৩ 


একমাত্র বিধবা জননী ছাড়া, আর সব বিধবাই অমঙ্গলদায়িনী-_ 
তা তিনি যতই শুচিন্নাতা হন ন! কেন। কিন্তু ধর্মশীল। পতিত্রতা 
বিধবা পতিত্রতা! স্ত্রীর মতই সবার্থ-সাধিক1। সহমৃতা হবার সুযোগ 
যদি না আসে এবং যথার্থ বৈধব্য-ব্রত অবলম্বন করে সেই নারী যদি 
নিজেকে নিক্ষলঙ্ক' রাখেন, তবে তিনিও কল্যাণদারিনী । ম্বৃত 
স্বামীর হিভার্ে বিধবা কেশবন্ধন না করে, হবেন মুগ্ডিত-মস্তক 
একাহারী-যবান, ফল বা শাক কিংবা আজীবন জলমাত্র পান, 
ভূমিশব্য1 গ্রহণ, সুগন্ধি-দ্রব/ খর্জন করবেন। ব্রতাদি পাল্ন করে, 
যে বে দ্রব্য ছিল পতির অতি প্রিয়, সেই সেই দ্রব্য সদ ব্রাহ্মণকে দাঁন 
রবেন। বৈশাখে জলকুম্ত দান, কাটিক মাসে দেবস্থানে ঘ্ৃত- 
প্রদীপ দান এবং মাঘ মাসে ধান এবং তিল উৎসর্গ করলে দেহাস্তে 
স্বর্গলাভ করে থাকেন । বিষু হরিকে সবদ1ই পতিবোধে ধ্যান এবং 
পুজা করবেন বিধবারা। সবদা পতিচিন্তায় নিরতা থেকে পুত্রের 
অগোঁচরে যে বিধবা কোন কাজ করবেন না, তিনি শুধু মঙ্গলদায়িনী 
হবেন না, মৃতুর পর পতিলোকে গমন করবেন । গঙ্গাক্সানে যে 
পবিত্রতা অর্জন করা বায়, পতিত্র তা নারী দর্শনে সেই ফলই লাভ 
হয়ে থাকে । 
দেবগুরু বৃহস্পতি পতিত্র তা রাজপুত্রী লোপামুদ্রাকে উদ্দেশ্য করে 
তাই বললেন- আজ ভার দর্শনে ভাদের গঙ্গাস্সানের ফললাভ হল। 
তারপর লোপামুদ্রাকে প্রণাম করে অণস্ত্য মুনিকে বললেন-_তুমি 
প্রণবস্বরূপ আর এই লোপামুদ্র' শ্রুতিবূপিণী, ইনি সাক্ষাৎ ক্ষমা আর 
তুমি তপঃম্বরূপ, ইনি সংক্রিয়া আর তুমি তার ফল, অতএব হে 
মহাঁমুনে ধন্য তুমি । ইনি সাক্ষাৎ পাতিব্রত্য তেজ ; তুমি স্বয়ং সাক্ষাৎ 
ব্রক্মতেজ, তার ওপর তুমি আপন তপস্তাঁর তেজে প্রদীপ্ত। তোমার 
অসাধ্য যেমন কিছু নেই, তেমনি তোমার অবিদিতিও কিছু নেই। 
তবুও দেবগণ আজ তোমার দ্বারে কি কারণে সমাগত তা! শোন । 
ইতি হলেন শতযজ্জের অনুষ্ঠাতা, অষ্টসিদ্ধিতে সিদ্ধ, বজ্পাণি, বৃত্রহস্তা 
দেবরাজ ইন্দ্র, যাঁর পুরে সর্বদা বিচরণ করে কামধেন্ু, পুরবাসিগণ 


১৪ 


বিশ্রাম করে কল্পবৃক্ষের ছায়ার । ইশি, জগদ্যোনি অগ্নিইনি ব্ষয়ং 
ধর্মরাজ; এই নৈঝ তি, এই বরুণ, এই বায়ু, এই কুবের, এরা রুদ্রাদি 
দেবগণ -লোকে কামনা-পুরণের অভিলাবে এদেরই ব্তব-আরাধনা 
করে থাকে । আজ এরাই এসেছেন তোমার কাছে ভিক্ষা-পাত্র নিয়ে 
বিশ্বের হিতার্থে। বিদ্ধ্য নামে এক পবত সুমেরুর সঙ্গে প্রতিছন্দিতা 
রুরে বেড়ে চলেছে গগনমার্গে সের পরিক্রমণ পথ রোধ করে। 
তুমি তার এই বৃদ্ধি নিবারণ কর। 

মুনিবর বৃহস্পতির কথা শুনে কিছুক্ষণের জন্য সমাধিস্থ হলেন 
তারপর দেবগনকে নিশ্চিন্ত করে বিদায় দিয়ে আবার ধ্যানমগ্ন 
হলেন । ্ 


| অধ্যায় ৫ - 


ধানযোগে অগন্ত্য কাশীপভি ভগবান বিশ্বনাথকে দর্শন করে 
ডাকলেন লোপামুদ্রাকে। আক্ষেপ-সহকারে বললেন তাকে, 
কাশীধামে তাদের কেন এল এই বিপর্যয়! তত্বদর্শী মুনিদের কথাই 
বুঝি সত্য হল। তারা বলেছেন, কাশীবাসে মহাত্মাগণের প্রায়ই 
বিদ্ব ঘটে থাকে । সেই বিদ্বই বুঝি এখন দেবতাদের মাধ্যমে এসে 
উপস্থিত হল। কারণ স্বয়ং বিশ্বনাথই নিশ্চয় বিমুখ হয়েছেন আমার 
কাশীবাসে | 

পবত সকলের পরাক্রমশালী শক্র ইন্দ্র যিনি একসময় তাদের 
ওদ্ধত্য দনন করতে অবহেলায় পক্ষ ছেদন করে দিয়েছিলেন, বজ্ 
ধার অস্ত্র, ধার প্রাঙ্গণে কল্পদ্রম বিদ্যমান, অষ্টপ্রকার সিদ্ধি ধার দ্বারা, 
সেই দেবরাজ ইন্দ্র আজ কেন অসহায় হয়ে আমার মত ব্রাহ্মণের 
পাহাষ্যপ্রার্থী হলেন? যে দাঁবানলের ভয়ে পৰডসমূহও ভীত হয়ে 
থাকে, সেই দাবানল অধিপতি অগ্নিই বা কেন অসহায়? স্বয়ং ধর্ম 
দণ্ডধর যমরাজ যিনি সবভূতের নিয়ন্তা তিনিই বা বিদ্ধোর ভয়ে কেন 


১৫ 


বিহ্বল ? দ্বাদশ-আদদিত্য, অষ্ট বসু, একাদশ রুদ্র, তেষটি তুষিত, 
উনপঞ্চাশ বায়ু, ত্রয়োদশ বিশ্বদেব, অশ্বিনীকুম রদ্বয়, ছাড়াও অন্যান্য 
দেবগণ বিক্ষুব্ধ হলে যেখানে ব্রিভুবন বিলয় হয়ে যায়, সেখানে 
সামান্য এক বি্ধ্যপবতের দন্ত চূর্ণ করার জন্ত কেন আমার মত 
একজন ব্রাহ্মণের শরণাগত এবং সাহাপ্রার্থী হলেন সকলে ? 

দুর্ভাগ্য আমাদের । অনন্ত পুণ্যের আকর এই কাশীক্ষেত্র 
মুমুক্ষু জনের কাছে চিরকাজিক্ষত। যেখানে সদাচার পালন এবং 
পুণ্যকর্ম করলে পুনরায় জন্মগ্রহণ করে আর ভবযন্ত্রণা ভোগ করতে 
হয়না, পরমাতআ্সার সঙ্গে সাক্ষাৎ যেখানে নিয়তই ঘটে থাকে, 
ব্পাপ-বিরহিতা, দেবছূর্লভ, গঙ্গাবারিবিধোত, যুক্তাকলের শুক্তিরূপ 
স্বর মোক্ষ শিব যেখানে অধিষ্ঠিত, ভব-বন্ধন-বিনাশক সেই কাশীধাম 
কেউ কি পরিত্যাগ করতে পারে, একমাত্র কদাচারী হতভাগ্য 
ছাড়া? যেকাশীকে যাগ-যজ্ঞ-তপন্তায় পাওয়া যাঁয় না, পাওয়া 
যায় একমাত্র বিশ্বেশ্বরের অনুপম কৃপায়, আজ আমরা বুঝিবা সেই 
কৃপাবঞ্চিত হলাম । 

অবিমুক্ত বারাণসীর মত পবিত্র জগত যে আর কোথাও নেই 
কেবলমাত্র পুরাণ, ধর্মশীন্ত্র নয়, বেদেও প্রতিপাদিত। মহধি জাবালি 
ভাব অন্যতম শিষ্য আরুণিকে বলছিলেন, অসি নদীকে খষিগণ 
বলেছেন ইড়। নাঁড়ী, বরুণা নদীকে পিঙ্গল। নাড়ী। এই ছুই নাভীর 
মধ্যভাগে যে অবিমুক্ত পুরী রয়েছে সেটি হল সুষুয়া নাড়ী। এই 
তিন নণড়ী-ইড়া, পিঙ্গলা এলং স্মুয়।কেই বল! হয়ে থাকে বারাণসী । 
আর এখানে দেহাম্বকাঁলে জীবগণের দক্ষিণ কার্ণ মহেশ্বর স্বয়ং 
তারকত্রক্ম উপদেশ দিয়ে মুক্তিলাভের পথ প্রশস্ত করে দিয়ে 
থাকেন । 

এইরকম যে কাশী-সদৃশ পুরী এবং স্বয়ং মোক্ষদাতা বিশ্বনাথ- 
সদৃশ শিবলিঙ্গ পরিত্যাগ করে যেতে হচ্ছে দেখে হৃদয় যেন বিদীর্ণ 
হয়ে যেতে লাগল মুনিবর অগস্ত্যের। তিনি প্রথমে গেলেন ভগবান 
কালভৈরবের কাছে। সান্ুনয় অনুরোধ রাখলেন তার কাছে" 


৮৬ 


আমি ত' আপনার কাছে কোন অপরাধ করিনি। আপনার 
যখাবিহিত অর্চনার কেন ক্রটি ত* আমার দ্বারা হয়নি। তবে কেন 
আমাদের কাশী ত্যাগ করতে হচ্ছে? অতঃপর গেলেন বক্ষরাজের 
কাছে, রাখলেন একই সাঞ্ুনয় আবেদন--হে দগুপাণে ! তপস্তার 
কোন ক্লেশেই ত' আমি কখনও কাতরতা প্রকাশ করি নি, তবে কেন 
আমাকে কাশা ত্যাগে বাধ্য করছেন। হে প্রো, চুণ্ডিবিনায়ক, 
সবাই আমার আবেদনে বধির । শুনেছি, আপনি সববিদ্রহর। ছুশ্চরিত্র- 
জনের মত কেন কাঁশীবাসে আমার এই বিদ্ব উপস্থিত হল? 
চিন্তামণি, কপদ্দি, আশাঁগজনামক বিনায়কছয়, সিদ্ধিবিনায়ক,-- 
আপনারা শুনুন, আমি কখনো পরনিন্দা, পরচ্চা, পরস্থাপহরণা 
করিনি, ত্রিসন্ধ্যা গঙ্গান্সান করেছি, বিশ্বনাথ দর্শন করেছি, তবে 
আমার অদৃষ্টে কেন এই বিপাক ? হে মাতঃ বিশালাক্ষি ! ভবানি, 
জ্যেষ্ঠেশি, 'সর্বসৌভাগ্যদায়িনী, সুন্দরী, বিধে, বিশ্বভৃজে, চিত্রঘণ্টে, 
বিকটে, ছুর্গিকে, আপনাদের নমস্কার । আপনারা, কাশীর যাবতীয় 
দেব-দেবী, আপনারা সকলেই সাক্ষ্য থাকুন, জ্ঞানত এমন কোন 
স্মলনে আমি স্মলিত নই, যার ফলে কাশীত্যাগরূপ বিপাকের আমি 
শিকার হতে পারি । শুধু দেবগণের অনুরোধে পরোপকারের নিমিপ্ত 
বিশ্বের কল্যাণে আমাকে কাশী ত্যাগ করতে হচ্ছে। 

অতঃপর মুনিবর অগস্ত্য পাঁপাচার-বিরহিত কাশীর তৃণ, গুলা, 
লতা, বালক, বৃদ্ধ, কাশীবাসী মুনিগণ, প্রাসাদশ্রেণীকে শেষবারের 
মত বিদায় সম্ভাষণ জানিয়ে, বারংবার অসি নদীর জল স্পর্শ করে 
সববিস্ববিনাশক কাশীপতি বিশ্বেশ্বরকে দর্শন করে গমনোদ্যত হতেই 
শোকবিহ্বল-চিন্তে যৃদ্ধিত হয়ে পড়লেন। ক্ষণকাল পরে মৃর্ছাভঙ্গ 
হলে, দেবগণের অনুরোধ রক্ষার জন্য পুনরায় কাশী দর্শনের প্রার্থন! 
জানিয়ে লোপাম্ুদ্রা-সহ তপোধানে আরোহণ করে উপস্থিত হলেন 
গগন-পথ-রোধকারী বিক্ক্যের কাছে। 

একদিকে ইহ্বল এবং বাতাপি নামক ছুই হর্ধ্ষ অন্থরের বিনাশ- 
কারক, অপরদিকে তপস্তা, ক্রোধ আর কাশীবিয়োগ-নিত খেদে 


১৭ 
কানা, 


জীঙ্ল্যমান প্রলয়কালীন অনল-সদবশ মুনিবরকে দেখে ভীত-ত্রস্ত 
বিশ্ব্যগিরি তৎক্ষণাৎ মস্তক অবনত করে অগস্ত্যকে সম্রদ্ধ অভিবাদন 
জানিয়ে বলল-_সে দাসান্ুদাস কিস্কর মাত্র, যুনিবর আদেশ করবেন, 
এই কিস্কর ত1 নিদ্ধিধায় পালন করবে। 

অগন্ত্য বললেন, তুমি বিচক্ষণ, বুদ্ধিমান । তুমি তাহ'লে আমার 
প্রভাব জানতে পেরেছ । বেশ, তাহলে শোন আমি ফিরে না আসা 
পর্যন্ত তুমি এই ভাবে অবনত মস্তকেই থাকবে ।--এই বলে মুনিবর 
সন্ত্রীক দক্ষিণাভিমুখে গমন করলেন । গগন-পথও অবরোধ-যুক্ত 
হল। বাধাহত স্ূর্ধাশ্ব আপন গতিবেগে বিন্ধ্যকে অতিক্রম করে 
শুর্ধকিরণ বিন্যাসে জগতের ভীতি দূর করল । 

অবনত মস্তকেই ঘাড় ফিরিয়ে মুনিবরকে প্রস্থান করতে দেখে 
ত্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল বিন্ধ্য। ধন্যবাদ দিল তার ভাঁগাকে এই 
ভেবে যে তাকে মুনির কোপে পড়ে অভিশাপগ্রস্ত হতে হল না। 
ছু-তিন দিনের মধ্যেই যুনিবর ফিরে এলে আবার সে মাথ! তুলে 
দাড়াতে পারবে এই উৎকণ্ঠা নিয়েই বিন্ধ্য মাথ! নিচু রেখে মুনিবরের 
আগমন প্রতীক্ষা করতে লাগল । কিন্তু আজও অগক্ত্যের প্রত্যাগমন 
ঘটেনি, তাই বিন্ব্যের পক্ষেও সম্ভব হয়নি অবনত মস্তক উন্নত করে 
তোলা। খলগণের মনোভিলাষ কখনই সিদ্ধিলাভ করতে পারেন।। 
নদী যেমন প্রবাহ পথে ছুই কুলই ভেঙ্গে যায়, খলগণের কুলও 
তেমনি অচিরে বিনাশ প্রাপ্ত হয় । 

এদিকে দক্ষিণাপথে অগস্ত্য এসে উপস্থিত হলেন গোদাবরী 
তীরে । কাশীর বিয়োগব্যথা-জনিত অসহ্য বিরহ-বেদনা- মুনিবর 
প্রায় উন্মাদের মত তটপ্রান্তে ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করতে লাগলেন । 
উত্তরাগত বাতাসকে আলিঙ্গন করে জানতে চান কাশীর কুশলবার্তা। 
কখনো লোপামুদ্রাকে সম্বোধন করে কাতরকণ্ঠে বলেন__-লোপামুস্্া! 
কাশীর পবিত্রতা, কাঁশীর সৌন্দর্য, কাশীর মত ক্ষেত্র, আর কোথাও 
দেখি না কেন? বারাণসী-বিরহে কাঁতর মুনি কখনও কাশীর চিন্তায় 
স্থান্নুর মত নিশ্চল হয়ে থাকেন, কখনও হয়ে যান বাহাজ্ঞানরহিত, 


১৮ 


কখনে পাগলের প্রায় তটপ্রান্ত ধরে দৌড়োতে থাকেন ভাবদৃষ্টিতে 
দ্ষষ্ট কাশীকে উদ্দেশ্য করে। 

এইভাবে পরিভ্রমণ করতে-করতে একদিন অগন্ত্য মুন দর্শন 
পেলেন মহালক্ষ্মীর। স্ুর্ধের কিরণে তখনো উজ্জল আকাশ তবু 
শতচন্দ্রমার সিদ্ধ কাস্তিনির়ে অপরূপা মহালক্্মী যেন অগস্ত্ের সম্তাঁপ 
ঘুর করার জন্ই আবিভূতি হয়েছেন তার সামনে । নারায়ণ যেদিন 
হৃদয়ে দেবী সরম্বতীকে বরণ করে নিয়েছিলেন, সেইদিন থেকেই 
লক্ষ্মী নিয়েছিলেন অস্তরাল-বাস। বরাহরূপে কোন অস্থর যখন 
ভ্রিলোককে ত্রস্ত করে তুলেছিল, তখন সেই কোলাস্ুরকে বিনাশ 
করে দেবী কোলাপুরেই অবস্থান করছিলেন । 

মহালক্মীকে দর্শন করে অগস্ত্য লোপামুদ্রার সঙ্গে সাষ্টা্ে 
প্রণিপাত করে অত্যৎকৃষ্ট এমন এক ইঠ্টপ্রদ স্তব করলেন যে 
মহালক্ষী তাতে অতীব তৃপ্তা হয়ে লোপামুদ্রাকে আলিজন দিয়ে 
তাকে সৌভাগ্যশালিনী করলেন এবং মুনির হৃদয়-বেদনার কারণ 
অবগত হয়ে তাকে বর দ্রিলেন। বললেন, হে বিগ্রাশ্রেষ্ঠ, ভবিষ্যতে 
উনত্রিশ-সংখ্যক দ্বাপর যুগে তুমি বারাণসীতে ব্যাসরূপে জন্মগ্রহণ 
করে বেদ, পুরাণ ইত্যাদির বিভাগ করে, সর্বপ্রকার ধর্মোপদেশের 
দ্বারা তোমার কাশীপ্রাপ্তির মনোভিলাষ পুর্ণ করবে । আর এখন 
তোমার অস্থির চিত্তকে সংযত করার জন্তে তুমি ক্কন্দদেবের কাছে 
যাও। কিছুদূর গেলেই তুমি তার সাক্ষাৎ পাবে। বারাণসীর 
রহস্ত যা পুরে মহাদেব বলেছিলেন দেব কাত্তিকেয়র কাছে সেই গুহা 
এবং রমণীয় কথা শুনে তুমি অপার তৃপ্তি লাভ করবে । 

এই বর লাভ করে মহালক্ষ্মীকে-প্রণাম করে অগন্ত্য শিখিবাহন 
দেব ক্ষন্দের উদ্দেশ্যে গমন করলেন। 


১৪৯ 


[ অধ্যায় ৬ ] 


ব্যাসদ্বেব অতঃপর সৃতকে বলতে লাগলেন-যার হৃদয় সর্বদাই 
পরোপকার ব্রতে সচেতন, পরোপকার ব্রতকেই যারা একমাত্র কর্ম 
হিসাবে গ্রহণ করেছে, তার। কখনে। বিপদগ্রস্ত হয় না বরং সম্পদ 
লাভ করে থাকে । তীর্থক্লান, দান, তপস্তায় যে কল পাওয়া! যায়, তার 
চেয়েও অনেক বেশি ফল পাওয়। যায় পরোপকার ব্রত উদযাপনে । 
বিধাতা একবার মেপে দেখতে গিয়েছিলেন দানধর্ম আর পরোপকার 
ধর্ম-_এই ছুটোর মধ্যে কোনটি শ্রেষ্ঠ? দেখেছিলেন, পরোপকার 
ধর্মে পাল্লাই বেশি ভারী । শাস্ত্রেও বলে, পরের উপকার করার মত 
ধর্ম নেই । আবার পরের অপকার করার মত অধর্মও আর নেই। 
মুনিবর অগন্ত্যই তার দৃষ্টান্ত । পরোপকার করতে গিয়ে কাশীবিরহ- 
জনিত সম্তাপের পরিবর্তে লাভ করলেন লক্ষ্মা দর্শন। এই জীবন 
এই বৈভব সবই হাতির কানের মতই চঞ্চল; যাঁরা সৎ, ভার? 
পরোপকারের মধ্য দিয়েই ইষ্ট লাভ করে থাকেন । 

মুনিবর দেব কান্তিকেয়র উদ্দেশে পথগামী হয়ে দুরে দেখতে 
পেলেন শ্রীপবতকে, যেখানে ত্রিপুরারির অবস্থান। উৎফুল্ল হৃদয়ে 
পত্ী লোপামুদ্রাকে বললেন-_-এঁ সেই লিঙ্গাদি-সমন্বিত শ্রীপবত, যাঁর 
সন্দ্শনে আর পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে হয় না। এই পর্বতের বিস্তার 
হল চুরাশি যোজন । দেবস্থান এই পৰবত ; তাই দর্শনের আগে একে 
আমাদের প্রদক্ষিণ করতে হবে । 

শুনে লোপামুদ্রা মুনিবরকে বললেন, যি অন্থমতি দেন, তাহলে 
আমার এক কৌতুহল আপনার কাছে নিবেদন করি। তৎক্ষণাৎ 
সানন্দে সম্মতি জানালেন মুনিবর। লোপামুড্রা জিজ্ঞাস! করলেন, 
জ্রী শৈলের শিখর দর্শনেই যদি মোক্ষ লাভ হয়, আর পুনর্জন্ম গ্রহণ 
করতে না হয়, তবে লোকে কাশীর প্রতি এত আগ্রহী কেন ? 


সখ ৩ 


প্রশ্ন শুনে খুবই খুশি হলেন মুনিবর। বললেন, তোমার এই প্রশ্নের 
উপর পৃরবাপর যুনিরা বস্ছ আলোচনা কূঁরে যে সিদ্ধান্তে এসেছেন, 
তা শুনলে তোমার সংশয় আর থাকবে না। এই পৃথিবীতে এমন 
অনেক স্থান আছে, যেখানে গেলে ভবযন্ত্রণা থেকে মুক্তি অনিবার্ধ। 
প্রথমে সেই সব স্থান আর স্থান মাহাক্ম্ের কথা শোন। প্রথমেই 
নাম করতে হয় প্রয়াগের। এখানে মেলে চতু্বর্গ-ধর্ম, অর্থ, কাম, 
মোক্ষ। তাই প্রয়াগ. ক্ষেত্রকে বলা হয় তীর্থরাজ। তারপর 
নৈমিষারণ্য, কুরুক্ষেত্র, গঙ্গার, অবস্তী, অযোধ্যা, মথুরা, দ্বারকাণ, 
অমরাবতী, সরস্বতী, সিস্কুসঙ্গম, গঙ্গীসাগর-সঙ্গম, কাঞ্চি (কাস্তিপুরী), 
্রন্বক, সপ্তগোদাবরীতট, কালগ্রর, প্রভাস, বদরিকাশ্রম, মহালয়, 
ওক্কারক্ষেত্র, গোকর্ণ, ভূগুকচ্ছ, ভূগুতুঙ্গ, পু্কর, প্রীপর্বত প্রভৃতি 
পাথিব তীথক্ষেত্র ছাড়াও আছে মানস এবং সত্যাদি তীথকক্ষেত্র । 
সব ক্ষেত্রই মুক্তিপ্রদ । গয়! তীর” শুধু পিতৃপুরুষদেরই মুক্তি দেয় 
না, পিতৃখণ থেকেও পুত্রদের মুক্তি দেয় । 
লোপামুদ্রার কৌতুহল জাগে মানসতীর্ সম্বন্ধে ।: 
অগস্ত্য বললেন, অতি উত্তম তীর্থহল এই মানসতীর্থ। এতে 
স্নান করলে প্রকৃত তীর্থনানের ফল পাওয়া যায়। মানসতীর্থ 
একটি নয়, অনেকগুলির সমাহার । 
সত্যং তীথ€ ক্ষম। তীর্থ তীর মিক্দ্রিয়নিগ্রহঃ | 
সর্বভূতদয়া তীথ€ তীথ'মার্জবমেব চ॥ 
দানতীথ” দমস্তীথণং সম্তোবস্তীথ-মুচ্যতে | 
ব্রহ্মচধ্যং পরং তীথ তীথণ্ প্রিয়বাদিতা ॥ 
জ্ঞানতীথ€ ধৃতিস্তীথ'ং তপস্তীথ'মুদাহৃতম্‌। 
তীর্থানামপিমত্তীথ€ বিশ্তদ্ধির্মনসঃ পরা ॥ 
ন জলাপ্ল,তদেহস্ত সাতমিত্যভিধীয়তে । 
স্সাতো যে! দমস্সাতঃ শুচিঃশুদ্ধমনোমলঃ॥ (৬৩০-৩৩) 
_-সত্য, ক্ষমা, ইন্দ্রিয়-সংযম, সমস্ত প্রাণীতে দয়া, সরলতা, দান, 
দম, সস্তোষ, ত্রহ্ষচর্য, প্রিয়বাদিতা, জ্ঞান, ধৈর্য, আর তপন্তা । এরা 


২১ 


সকলেই এক-একটা মানসতীর্ঘ। এইগুলির অনুশীলন মনকে 
করে বিশুদ্ধ। আর বিশুদ্ধ মনই হল শ্রেষ্ঠ তীর্ঘ। তীর্থক্ষেত্রে 
গিয়ে তীর্ঘজলে অবগাহন করলেই তীর্থ-স্নানের ফল পাওয়া যায় না। 
যদি ইক্দ্রিয়-সংযমের দ্বারা বিশুদ্ধ-মন না হওয়া যায়; লোভ, হিংসা 
দ্বেষ, দত্ত, বিষয়াসক্তি-রূপ মল, যতক্ষণ পর্যন্ত মন থেকে বিদ্ুরিত 
ন! হয়ে মানুষ নির্দলমনা হচ্ছে, ততক্ষণ কোন তীর্থজানই তাকে 
পাপমুক্ত করতে পারবে না। আ'র এই সব অবিশুদ্ধ-চিত্ত মানুষদের 
বারবার এই পুথিবীতে জন্মগ্রহণ করে এই ভবযন্ত্রনা ভোগ করতে 
হবে। যেমনভাবে জল-জন্তর1 জলেই মৃত্যুর পর আবার জলেই 
জন্মগ্রহণ করে থাকে । প্রবল বিষয়াসক্তিই হল মনের মল; বিতৃষ্ণাই 
হল নির্মল । স্ুরাঁপাত্র জলে ভালভাবে ধুলেও যেমন ত৷ পবিত্র হয় 
না, দুষিত-চিত্ত-ও তেমনি তীর্থস্ানে নির্মল হয় না। শুধু তাই নয়, 
দান, যজ্ঞ, তপস্তা, শৌচ, সং-প্রসঙ্গ শ্রবণ প্রভৃতিতে যে পুণ্য অজিত 
হয়, অবিশুদ্ব-চিত্ত ব্যক্তি তা থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে । ইন্দ্রিয় 
ধযম করে মানুষ যেখানেই অবস্থান করুক না! কেন, সেই স্থানই: 
তার নৈমিষারণ্য, কুরুক্ষেত্র, পুক্ষর প্রভৃতি তীর্থ। বিশুদ্ধ জ্ঞান, 
য1 রাগ-ছেষ প্রভৃতি মানসিক মল বিদুরিত করে, সেই জ্ঞানজলই 
হল মানসতীর্থ। আর সেই তীথে”স্নানই হল উৎকৃষ্ট গতিপ্রদ সান ॥. 
এই হল মানসতীর্থ। এছাড়া আছে কতগুলি পাথ্িব 
তীর্থস্থান । 
শরীরের কতগুলি অবয়ব যেমন পবিত্র বলে গণ্য, পুথিবীতেও 
তেমনি কতকগুলি দেশ আছে, যা পবিত্র । পাধিব প্রভাব, জল- 
গুণ আর মুনিগণের স্বীকৃত পবিত্র ক্ষেত্র বলেই পৃথিবীর 'সেই সব 
স্থান হল ভৌমতীর্ঘ। এই ছুই তীর্থই পুণ্যদ, উত্বগতিপ্রদ | 
যতই যন্ঞান্ুষ্ঠান আর দক্ষিণা দান করা যাক না কেন, তীর্থযাত্রার 
মত সুফল আর কিছুতেই নেই। বারা সংযতবাক্‌, সংঘতমন, 
সংযতেক্দ্িয়, তীর্থযাত্রার সফল তারাই লাভ করে থাকে । যার। 
ক্রোধহীন, যাঁদের অস্তঃকরণ নির্মল, যাঁরা সত্যবাদী এবং অবিচল- 


২২ 


চিত্ত, ভীর্ঘকল তারাই ভোগ করে থাকে । এমন কি পাগীরাও 
যদি ইন্দ্রির-সংযত রেখে, স্থিরতা, ধীরতা নিয়ে তীর্থ পর্যটন করে 
তারাও তীর্থষলের ভাগী হয়ে থাকে । যার শ্রদ্ধা নেই, যার মন 
অপবিত্র, কোন কিছুতেই যার বিশ্বাস নেই অর্থাৎ নাস্তিক, যার 
চিত্ত নব সময়ই সংশয়াচ্ছনন, যে নিরর্থক তর্ক করে, সে কোনকালেই 
তীথফ্চল ভোগ করতে পারে না। 

তীথধাত্রায় অভিলাষী জনকে শীত-গরম সম্বন্ধে সান বোধ- 
সম্পন্ন হয়ে, যাত্রার আগে প্রথমে উপবাস, তারপর সামথণানুসারে 
গণেশ, পিতৃগণ, ব্রাহ্মণ এবং সাধুজনের পুজা, তারপরে পারণ করে 
নিয়ম অবলম্বন করে সানন্দে তীর্গমন করতে হবে । প্রত্যাবর্তনের 
পর আবার পিতৃগণের অর্চনা করতে হয়, তবেই তীথকলভোগ্ী 
হওয়া যায়। তীথক্ষেত্রে কখনও ব্রাক্মণের যেমন পরীক্ষা করতে 
নেই। তেমনি, যাওয়া মাত্রই শ্রাদ্ধ-তর্পণ অবশ্থ করণীয় । সেই 
সঙ্গে তীর্ঘে উপবাস এবং মস্তক মুণ্ডনও অবশ্য করণীয় । 

প্রসঙ্গ ক্রমে, তীথগমন করে আ্রীন করলে, সেই স্ানে ফল আছে 
কিন্তু তীথযাত্রার নিমিত্ত তীর্গমন করে স্নান করলে সে স্নানে 
কোন কল নেই। যে অন্যের জন্য তীথ' গমন করে সে ষোলভাগ 
অথণৎ পরিপূর্ণ ফলভোগী হয়, কিন্তু যে প্রসঙ্গক্রমে তীথ'গমন করে 
তার অর্ধেক ফল লাভ হয়। যার উদ্দেশ্টে কুশের প্রতিকৃতি করে 
তীথে”ক্সান করান যায় তার অষ্টমাংশ তীথ-ফল লাভ হয়ে থাকে । 

. কাশী, কাঞ্চী” মায়া, অযোধ্যা, দ্বারধবতী, মথুরা আর অবস্তী 
_-এই সাতটি হল মোক্ষপ্রদ পুরী। ' শ্ীশৈল মোক্ষপ্রদ, তার 
চেয়েও মোক্ষপ্রদ কেদার। আবার শ্রীশৈল এবং কেদার হতেও 
মুক্তিপ্রদ তীথরাজ প্রয়াগ । কিন্তু একমাত্র. নিত্বিশেষ মুক্তি অথাৎ 
নির্বাণ লাভের ক্ষেত্র কাশী। কেননা, কাশীই হল একমাত্র 
অবিষুক্ত ক্ষেত্র । | 

এই বিষয়ে পুরাকালে শ্রিবশর্মা নামর ব্রাহ্মণকে রিষ্কুর 
পারিষদেরা যা বলেছিলেন, তা বলছি, শোন । 


২৩ 


[ অধ্যায় ৭ ] 


অগন্ত্য বলতে শুরু করলেন, পুরাকালে মথুরায় অতি সঙ্জন এক 
ব্রাহ্মণের শিবশর্মী নামে এক পুত্র ছিল। বেদশাস্ত্র থেকে শুরু 
করে বিবিধ বিদ্যায় যথেষ্ট পারদশিতা অর্জন করে, ন্তায়পথে স্থপ্রচুর 
অর্থ উপার্জন করে সংসারীও হয়েছিল। বেশ কিছুকাল সংসারে 
্ত্রী-পুত্র নিয়ে কাল কাটাবার পর হঠাৎ একদিন তার মনে উদয় 
হল বার্ধক্যের জরাগ্রস্থ জীবনের অসহায়তার কথ।। অফুরন্ত 
চিন্তারাশি-_তার মাথায় ভাবনা, কীভাবে এই ভবযন্ত্রণা থেকে সে 
মুক্তি পাবে । বথাবিহিত সংসার সে করেছে ঠিকই, কিন্তু দান, 
ধ্যান, পুজা-অর্চনা, মন্দির বা দেব-বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা, পুষ্ষরিণী খনন, 
শিত্যশ্রাদ্ধ, অতিথি-সেবাঁ, যে সমস্ত কাজ পুণ্যসঞ্চয় করায় এবং 
জন্মান্তরকেও অথপৃধু, করে তোলে না এতাঁবৎকাল সে-রকম 
কোন কাজই তে৷ সে করেনি। পাগ্ডিত্য সে অর্জন করেছে 
ঠিকই, ঘর-বাড়ী, ক্ষেত-খামার এমনকি এই আত্মবৎ স্ত্রী-পুত্রও তো 
মৃত্যুকালে তার সঙ্গে যাবে না, যাবে কেবল--“সঞ্চিত পুণ্য । সংসার- 
মোহাচ্ছন্ন থেকে সেই পুণ্যকর্মই এখনও তার করা হয়নি । সুতরাং 
আর কালক্ষেপ না করে, ইন্দ্রিয় শিথিল হয়ে পড়ার আগেই শরীর 
স্থস্থ এবং সবল থাঁকতে-থাকতেই অস্ততঃপক্ষে তীথভ্রমণ করেও 
পুণ্য সঞ্চয় করতে হবে । 

এই ভাবনায় শিবশর্ম৷ একদিন মনস্থির করে ফেলল । ছেলেদের 
মধ্যে বিষয়-আশয় ভাগ করে দিল। এর পর পাঁচ-ছ' দিন 
বাড়িতে থেকে শুভ তিথি, শুভ বার, শুভ লগ্ন দেখে বাড়ি থেকে 
বেরিয়ে পড়ল । পরে পথে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ভাবতে লাগলে, 
প্রথমে কোথায় যাওয়া যায়? পৃথিবীতে তীথস্থান আছে অনেক 
কিন্ত সীমিত আয়ু নিয়ে তো৷ আর সবতীথ” পর্যটন কর। যাবে না, 


৪ 


সম্ভবও নয়। তাই ঠিক করল, যে সাতটি তীরথক্ষেত্রে পৃথিবীর 
তাবৎ তীর্ক্ষেত্রের ফল পাওয়া! যায়, সেই সাতটি তীর্থক্ষেত্রই সে 
পর্যটন করবে। 

মনস্থ করে শিবশর্মা প্রথমে এল অযোধ্যাপুরীতে। সরষুতে 
স্নান, পিতৃগণের তর্পণ, ব্রাহ্মণভোজন ইত্যাদি সম্পন্ন করে সেখানে 
পাঁচ রাত কাটিয়ে, এল তীর্থরাজ প্রয়াগধামে | গঙ্গা যমুনা সরস্ব তীর 
মিলনে ত্রিবেনী-তীর্থ এই স্থান যাবতীয় যাঁগ-যজ্ঞ-অপেক্ষা-উৎকৃষ্টতর, 
তাই এর নামই হয়েছে প্রয়াগ। মহাদেব এখানে শুলটস্ক মৃত্তিতে 
বিরাজিত, নিত্য পুণ্য-প্রদায়ী অক্ষয় বট, ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ এই 
চতুষ্পদে ধর্ম যেখানে অবিচল, সমগ্র ব্রহ্মাণ্ড যেখানকার ত্রিবেণী 
সঙ্গমে স্সানাজ্বে মোক্ষলাভে সদা-উদ্গ্রীব, সেই সবতীথের সেরা- 
তীর্থ প্রয়াগে এসে শিবশর্ম মাঘমাস অতিবাহিত করে, গেল 
বারাণপীতে । কাশীক্ষেত্রে প্রবেশ পথেই সববিদ্ব-বিনাশক 
দেহলী বিনায়ক। যথাবিহিত তার অর্চনা সেরে শিবশর্মা এল 
মণিকণিকার ঘাটে । উত্তবধাহিনী ন্বর্গতরজিনী গঙ্গাকে দর্শন 
করে, অবিলম্বে সমাপন কুল অবগাহন। তারপর পারলৌকিক 
ক্রিয়া সেরে বিভ্তশাঠ্য না রেখে অকার্পণ্য হৃদয়ে পঞ্চতীর্থ যাত্রা, 
বিশ্বেশ্বরের আরাধনা করে বারবার মহাদেবের সেই পুরী দর্শন 
করতে লাগল । যত দেখে, ততই বিস্ময়ে হতবাক হয়, ভাব-প্রাবল্যে 
ভাসতে থাকে তার মন। নিঃসংশয় হতে থাকে, কাশীপুরীর কাছে 
অমবাবতীও ম্লান , ন্বর্গলোকবাসী দেবতাদেরও কাজ্কিত নন্দী এবং 
প্রমথগ্রণ-বেষ্রিত মহাদেবের এই অধিষ্ঠানক্ষেত্র কাশী । এখানকার 
জলও যেন অমৃত স্তনহ্প্ধ। এই সেই মণিকর্ণিকা যেখানে 
রয়েছে মুক্তিলক্ষ্মীর মহাপীঠের মণি আর তার চরণ কমলের 
কণিক। কৃম্ত। জন্ম-জন্মাস্তরের পুণ্যবলেই একমাত্র কাশীক্ষেত্রে 
জন্মলাভ সম্ভব। যতই দেখে, ততই বাড়তে থাকে দেখার বাসনা, 
বাড়তে থাকে কাশীর প্রতি তীব্র আকর্ষণ। সর্বশান্ত্রে স্থপপ্ডিত 
শিবশর্মার যখন মানসিক অবস্থা এমনিভাবে ধীরে ধীরে আচ্ছন্ন 


৫ 


হয়ে আসছিল, তখন ভাবল, সাতটি পুরী দর্শনের সঙ্কল্ল এখনও তার 
পূরণ হয়নি। বদিও কাশীই শ্রেষ্ঠ, তবুও এটি নিয়ে মাত্র তিনটি 
পুরী দর্শন হয়েছে, এখনও চারটি বাকি । স্থুতরাং স্থির করল, সেই 
চারটি ঘুরে আবার সে ফিরে আসবে কাশীতে। সব জেনে এবং 
সব বুঝেও শিবশর্মা তাই একদিন কাশী থেকে আবার বেরিয়ে 
পড়ল। 

শিবশর্মা অতঃপর নান! দেশ অতিক্রম করে এল মহাকালপুরী 
অবস্তীতে, কলিকালে যার নাঁম উজ্জয়িনী। যে কাল প্রলয়ের কালে 
সমস্ত বিশ্বকে সংহার করে, সেই কালকেও সংহার করে মহাদেব 
এখানে মহাকাল-নামে অবস্থিত। ত্রিভুবনে বিরাজ করছেন 
হাটকেশ, মহাকণল এবং তারকেশ নামে তিন মুক্তিতে, একই লিজ । 
এখানে সিদ্ধবট নামক স্থানে আছে জ্যোতিলিঙ্গ । একমাত্র মহা 
কালের প্রসাদেই মেলে তার দর্শন। এখানে ধারা “মহাকাল মহাকাল 
মহাকালেতি সম্ভতম্‌। স্মরতঃ স্মরতো নিত্যং স্মরকর্তৃম্মরাস্তকৌ ॥৮ 
(৭।৯৯)-_নিরস্তর মহাকাল, মহাকাল, মহাকাল এই বাক্য স্মরণ 
করে, শ্রীকক এবং মহেশ্বর তাদের স্মরণ করেন । মহাকালের 
আরাধনা করে এরপর শিরশর্মা এল কাস্তিনগরীতে । কাাঁস্তময়ী 
লক্ষ্মীকান্তের পুরী কান্তিনগরীতে সাত-রাত বসবাস করে স্তু-কাস্ত 
হয়ে শিবশর্মা এবার এল দ্বারবতী-পুরীতে (দ্বারকা )। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, 
বৈশ্য, শুদ্র--এই চারিবর্ণের সমান উন্নতির দ্বার এই পুরী, তাই নাম, 
দ্বারবতী। এখানকার গোপাচন্দন গন্ধে, বর্ণে এবং পবিত্রতায় 
অতুলনীয় । রত্বসম্বদ্ধ ্বারকার রত্ব যুগ-যুগ ধরে অপহরণ করেই সমুদ্র 
হয়েছে 'রত্বাকর'। এখানে যারা মৃত্যু বরণ করে,তাদেব স্থান বৈকুষ্ঠে। 
এখানকার তীর্থসমূহে ল্লান এবং পারলৌকিক ক্রিয়াদি সেরে শিবশর্মা 
এরপর গেল মায়াঁপুরীতে । এই পুরীর এমনি মাহাত্ম্য, ষে বৈষ্ণবী- 
মায়। জীবমাত্রকেই মায়াপাশে আবদ্ধ করে, এখানে সেই অনন্য- 
শক্তিশালিনী মায়াও পরাজিতা, কেউ কেউ এই মায়াপুরীকে বলে 
মোক্ষদ্বার, কেউব। গঙ্গাদ্ধার। আবার কেউব! বলে হরিদ্বার। এই 


২৬ 


সেই স্থান, যেখান থেকে গঙ্গা! নির্গতা হয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ। 
হয়েছেন মোক্ষদায়িনী ভাগীরথী নামে ; এই সেই স্থান যাকে বল। 
হয়ে থাকে স্বর্গের সোপান। এই পবিত্র তীথক্ষেত্রে এসে স্থপপ্ডিত 
শিবশর্মী ম্লান, তীথেণপবাস, পিতৃতর্পণ প্রভৃতি শাস্ত্রীয় কাজকর্ম সেরে 
যেমন পারণ (ব্রত-উপবাস শেষে আহার্ষ গ্রহণ) করতে ইচ্ছা করলে, 
অমনি প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হল। 

উত্তরোত্তর শিবশর্মার' জ্বর যত বাড়তে লাগল, ততই চিস্তান্বিত 
এবং বিহ্বল হয়ে উঠতে লাগল সে। কোথায় স্ত্রী-পুত্র, ঘর-বাড়ি, 
আর কোথায় এই নিরালম্ব জীবন- _সেবা-শুআষাহীন। জীবনের 
আয়ু তো এখনে শেষ হয়ে যায় নি, বার্ধক্যের জরাও এখনও স্থবির 
করে দেয়নি তাকে, অথচ মৃত্যুরূপ এই গীড়া এল কেন? তবে কি 
মৃত্যু সুনিশ্চিত! তাই যদি হয় তাহলে, আর ধন-জনের চিন্তা 
কেন? কেন ঘর-বাড়ির চিন্তা! শাস্ত্রেইে আছে, যুদ্ধে অথব। 
তীর্থে মৃত্যু মঙ্গলদায়ক। ভাগীরঘীর তীরে মৃত্যু তো পরম শ্রেয় । 
সুতরাং এই সময় হৃষিকেশ এবং মহাদেবের স্মরণ-মনন করাই ঠিক । 
এই ভেবে নিজের উদ্ভ্রান্ত মনকে সংযত করল ব্রাহ্মণ । তেরদিন 
পীড়ার বৃশ্চিক দংশন ভোগ করে চতুর্দশ দিনে দেহত্যাঁগ করল 
শিবশর্মী। কাশী প্রত্যাবর্তন আর হল না, যদিও সঙ্কল্পমত সাতটি 
পুরী দর্শন তার শেষ হয়েছিল । 

মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই গরুড়ধ্বজ রথ এল শিবশর্মাকে বৈকুণ্- 
ধামে নিয়ে যাবার জন্তে। স্ববিশাল সেই রথের চতুদিকে ছোট 
ছোট ঘণ্টার সুমধুর নিনাদ ; রথোপরি বিষ্ণুর ছুই অনুচর-_পুণ্যশীল 
আর স্বশীল, প্রসন্গবদনে চতুভূ্জ মৃতিতে বিরাজিত ; স্বর্ণবর্ণ কৌশেয় 
বস্ত্রে শোভিতা সহত্র দিব্যকল্তা চামর হস্তে বিরাজিতা । শিবশর্মা 
গীতবসনে চতুভূজিমুত্তি ধারণ করে সেই রথে সমাদৃত হয়ে চলল 
আকাশপথে । | 


২৭ 


[ অধ্যায় ৮ ] 


শান্ত্রজ্ঞ তহুপরি তীর্ঘভ্রমণের ফলে শুদ্ধদেহ এবং পুণ্যাত্মা। শিবশমা 
দিব্যদৃষ্টি এবং দিব্যানুভূতির বলে বিষ্ণুর গণদ্ধয়কে চিনতে পেরে, 
তাদের যথাবিহিত মর্ধাদা দিয়ে চলেছে গগনমার্গে। যেতে-যেতে 
দেখল এক স্থান। একেবারে হতশ্ী না হলেও, তেমন সৌন্দর্য- 
মণ্ডিত নয় স্থানটি । অধিবাসীরাও বিকটাঁকার। কৌতুহলী 
শিবশর্মীকে স্থানটির পরিচয় দিলেন পুণ্যশীল আর স্ুশীল-_-“অয়ং 
পিশাচলোকেহত্র বসস্তি পিশিতাশনাঃ। দত্বান্ুতাপভাজো। যে নো 
নো কৃত্বা দদত্যপি ।৮”__-এটি পিশাচলোক, এখানে যারা মাংসাশী 
তাদের বাস। যারা দান করে অন্থৃতাপ করে, প্রথমে বিমুখ করে 
পরে দান করে, যার। অশুদ্ধচিত্তে, অভক্তিসহকারে, না করলে নয় 
এই ভেবে, মহাদেবের পুজা কবে, তারাই (মৃত্যুর পর) এই স্থানে 
স্বল্প পুণ্য এবং স্বল্প বিত্ত নিয়ে বসবাঁস করে । এই লোক অতিক্রম 
করে শিবশর্ম৷ আর একটি লোক দেখে কৌতুহলী হলে বিষ্ণুর গণের! 
বললেন--“গুহাকানাময়ং লোকস্ত্বেতে বৈ গুহাকাঃ স্মৃতাঃ। 
স্তায়েনোপার্জ্য বিস্তানি গৃহয়ন্তি চ যে ভুবি ।”--এটি গুহাক ( যক্ষ) 
লোক । * ম্তারপথে অর্থ উপার্জন করে যারা সবদাই সেই অর্থ 
গোপন করে রাখে, এখানে তাদেরই বসবাস । ক্রোধ এবং অস্থুয়া- 
রহিত এরা নিজ কুলের ব্রাহ্মণের কথাই একমাত্র মেনে চলে, 
তাকেই দেবতাজ্ঞানে পুজা করে এবং কুটুম্ব-পরিবৃত হয়ে 
স্থথে দরিনাতিপাত করে, তারাই এই হষ্টপুষ্ট শরীর নিয়ে প্রফুল্ল 
অন্তঃকরণে অকুতোভয়ে এই লোকে বাস করে। গুহ্যকলোক 
অতিক্রম করতেই আর একটি নয়ন-মনোহর লোক দর্শন করল 
শিবশর্মী। গণছয় তাকে দিতে লাগলেন তার পরিচয়---এটি হল 
গন্ধবলোক | সঙ্গীতাদি কলায় যাঁরা নিপুণ, বিদগ্ধ স্ততিপাঠিক যারা, 


৮৮ 


তারাই পুণ্যবলে হয় এই লোকের অধিবাসী । “দেবানাং গায়না 
হ্যেতে চারণাঃ জ্বতিপাঠকাঃ।৮-__এখানকার অধিবাসীরাই দেবতাদের 
গায়ক, চারণ ও স্ততিপাঠক | গীত-বিদ্যায় সম্যক পারদর্শী জনই 
হরিহরের পরমাত্মীয় হয়ে মুক্তিলাভ করে। তনুর আর নারদ এই 
বিদ্যাবলেই তাই দেবছুর্লভ । “গীতজ্ঞো যদি গীতেন নাপ্পোতি পরমং 
পদম্‌। রুদ্রস্তানচরে! ভূত্বা তেনৈব সহ মোদতে ॥৮ (৮/২৯)-_এই 
লোকে সর্বদাই এই কথাই গীত হয়ে চলেছে যে, গীতজ্ঞ ব্যক্তি যদি 
গানের দ্বারা পরমাগতি লাভ না করে সে রুদ্রের অনুচর হয়ে তাদের, 
সঙ্গে থাকে । 

গন্ধবলোকের মনোহর কাহিনী শুনতে-শুনতে শিবশর্মা এল 
বিদ্যাধর (কিন্নর ) লোকে । পুণ্যশীল আর সুশীল এই লোকের 
পরিচয় দিয়ে শিবশর্মাকে বললেন-যারা নানা বিদ্যায় বিশারদ, 
অথচ অনভিমানী ; বিদ্যার্থাগণকে ধারা অকাতরে ধিদ্যা দান করে 
থাকে ; ধর্মকে অবলম্বন করে যারা সকামী হয়ে অভীষ্ট দেবতার 
পূজা এবং শিষ্তকে পুত্রের ম্যায় প্রতিপালন করে, দেহাস্তে তারাই 
হয় এই প্রিয় লোকের অধিবাসী । 

বিষ্ণগণদ্বয় ষখন শিবশর্মীকে বিদ্যাধর লোকের ইতিবৃত্ত বলছেন, 
দুন্দুভি-নিনাদে অন্য এক বিমানে, সপারদ যমরাজ এলেন, অভ্যর্থ ন। 
জাক্মীলেন শিবশর্মাকে | দ্বিজশ্রেষ্ঠ শিবশর্মার মর্তজীবনের ধর্মানুসারী 
যথাবিহিত কার্ধাবলীর প্রশংসা! এবং মুক্তক্ষেত্র মোক্ষদ্বারে সান এবং 
'বিনশ্বর দেহত্যাগের কারণে বিষ্কগণদয়ের প্রাপ্তির জন্য শিবশর্মাকে 
সাধুবাদ জানিয়ে গণদ্ধয়ের দর্শনে নিজেকে ধন্ত জ্ঞান করে ফিরে 
গেলেন ষমরাজ নিজের সংযমনী পুরীতে । 

বিস্মিত হল শিবশর্মী সপর্ষিদ যমরাজের অতীব সৌম্যতি এবং 
স্রমধুর সম্ভাষণে। যমরাজের যে রূপের বর্ণনার সঙ্গে মর্ভজীবনে 
তার পরিচয়, তার সম্পুর্ণ বিপরীত দেখে, কৌতৃহলী.হল শিবশম৭। 
মনে জাগে অনেক প্রশ্ন যমরাজের এই রূপ ছাড়া কি অন্য কোন 
রূপ আছে? যমলোক কাদের দর্শন করতে হয় না। যমরাজের 


২৯ 


সংযমনী পুরীতে কার! বাস করতে পারে । 
শিবশমর্ণর পুণ্যবলের সঙ্গী পুণ্যশীল এবং সুশীল তৎক্ষণাৎ তার 
ংশয়মোচন করে বললেন-_“ধন্দমূত্তীঃ প্রকৃত্যৈব নিঃশক্ষৈ পুণ্য- 
রাশিভিঃ ॥ অয়মেব হি পিঙ্গাক্ষঃ ক্রোধরক্তাক্তলোচনঃ। দংস্্রীকরাল- 
বদনে। বিছ্যাল্ললনভীষণঃ ॥ উদ্ধকেশোহতিকৃষ্ণাঙ্গ: প্রলয়ামুদনিংস্বনঃ 
কালদণ্ডোছ্ভতকরো। ভ্রকুটিকুটিলাননাঁঃ 01” (৮/৫৪-৫৬)- _পুণ্যাত্াদের 
কাছে ইনি সৌমবপী ধর্মমূত্তি আর ছুরাত্ম! অর্থাৎ পাপীদের কাছে ইনি 
পিঙ্গাক্ষ, ক্রোধারক্তলোচন, দংষ্্রাকরালবদনে বিহ্যৎ লকলক রসনা । 
উধধ্বকেশ, প্রলয়গন্তীর স্বর, হস্তে কালদণ্ড। ভ্ত্রী-পুরুষ-নিবিশেষে 
পাপীজনের পাপকমের গুরুত্ব অনুসারে দেহান্তে এর দত 
তাকে এনে এরই আদেশে এক-এক নরকে নিক্ষেপ করে। 
কাউকে কুন্তীপাক নরক, কাউকে বা রৌরব, মহারৌরব, 
অবীচি নরক | কারো কারো জন্য নির্দিষ্ট করেন জ্বালাকীল, 
কালকুট, লালাপিব, আমপাক, শুলপাক, অন্ধকুপ নরক। কাউকে 
বা পাঠান অধোমুখ, তণ্তকর্দম, ভ্রমর-দংশক নরকে । কালদগ্ড 
হাতে ইনি এইভাবে যেমন করে থাকেন পাঁপীদের শাস্তিবিধান 
অপরদিকে তেমনি ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য নিবিশেষে ধারা সংযমের 
সঙ্গে স্বধর্মে নিরত থাকেন, দেহান্তে তাদের এনে বাস করান সংযমনী 
পুরীতে । নীতিমার্গানুসারী উশীর, সুধন্বা, বৃষপবা, জয়দ্রেখ, রজি, 
সহত্রজিত, কুক্ষি, যুবনাশ্ব, দস্তবক্র, নাভাগা, রিপুমঙ্গল, করদ্ধম, 
ধম্সেন, পরমর্দ, পরাস্তক ছাড়াও ধমীধর্ম বিচারনিপুণ রাজাদের 
জগ্তে নিদিষ্ট সুধর্মী নামে ধমরাজের সভা । তবে, যমরাজের 
নির্দেশে তার কিন্করের! সর্বদা সেইসব ব্যক্তি থেকে দূরে থাকে যার! 
তুলসী, রুদ্রাক্ষ ধারণ করে সদা-সর্বদা সর্বসম্তাপহারী, সদ্যমোক্ষদায়ী 
বিষুণ ও শিব অথণৎ হরিহরের--গোবিন্দ, মাধব, মুকুন্দ, হরে, মুরারে, 
শন্তো, শিবেশ, শশিশেখর, শূলপাণি প্রভৃতি অষ্টোত্তর শতাধিক 
পুণ্য নাম কীতন করে। 


[ অধ্যায় ৯] 


_ বৈকুষ্ঠ পথগামী শিবশমণ গগনমার্গে এরপর এল দিব্যালঙ্কার 
ভূষিতা, দিব্যাভরণভূষিতা, রূপ-লাবণ্যময়ী অপ্নরালোকে । এই 
লোকের সঙ্গে শিবশর্মীকে পরিচয় করিয়ে দিলেন গণছয়-_নারী 
অধ্যুষিতা এই লোকের অধিবাসীরা দেবগণের মনোরঞ্জনকারিণী 
বারবিলাসিনী অপ্সরা; এর! নৃত্য-গীত-বান্ভ-বিদ্ভার অতি নিপুণী। 
চিরযৌবন। এবং স্বেচ্ছাধীন শরীরধারণক্ষম” উবশী, মেনকা, রস্তা, 
চন্দ্রলেখা, তিলোত্তমা, বপুগ্মতী, কাস্তিমতী, লীলাবতী, উৎপলাবতী, 
অলম্বুষা, স্থলকেশী, কলাবতী, কলানিধি, গুণনিধি, অনঙ্গলতিকা। 
প্রভৃতি ষাটহাঁজার অপ্সরার বাস। ঘে নারী সাঙ্গকাম্যব্রতসমূহ 
ইহকালে যথাবিধি অনুষ্ঠান করে, অন্ুঢা বা সীমস্তিনী নারী ম্থলিতা 
হয়েও ব্রহ্ষচর্ধ অবলম্বন করে, দেহান্তে তারাই হয় অপ্সরা লোকের 
বাসিন্দ। | | 

অতঃপর শিবশর্মা দেখলে, কদম্বপুষ্পের কেশরের ন্তায় স্থধ- 
কিরণছটায় দেদীপ্যমান স্ুর্যলোক । দেখলে, নহাজার যোজন 
বিস্তৃত বিচিত্র একচক্ররথে ছুটি লীলাপদ্ম-হস্তে অবস্থান করছেন 
সুর্যদেব। সপ্ত অশ্বযোজিত সেই রথের রশ্মি ধরে দাড়িয়ে অরুণ 
পুরোভাগে । অপ্সরা, মুনি, গন্ধব, যক্ষ আর রাক্ষসেরা তাকে প্রণাম 
করছে কৃতাঞ্জলিপুটে । দেব স্র্যও ভ্রভঙ্গি-সহকারে তাদের প্রণাম 
গ্রহণ করে নিমেষমধ্যে অতিদূর নভোমার্গ অতিক্রম করে গেলেন । 
শিবশর্মাও নুর্যদেবকে প্রণাম জানিয়ে গণদ্বয়কে জিজ্ঞাস করলে, 
কীভাবে এই স্ূর্ধলোক লাভ করা যায় । 

বিষ্ুর গণের] বললেন,--যিনি নাম-গোত্রহীন, রূপাি-বিবঙ্জিত 
সর্বভূতের নিয়স্তা এবং একমাত্র কারণ, ধার কটাক্ষে ঘটে স্যষ্টি প্রলয় 
সেই স্বান্তর্ধামী, সর্বতোগামী পরম পুরুষ অবস্থান করেন আদিত্যের 


৩১ 


মধ্যে । তার যথাবিহিত উপাসনাই প্রশস্ত করে এ লোকপ্রাপ্তির 
পথ। বললেন_-“কিং কিং ন সবিতা স্ুতে কালে সম্যগুপাসিতঃ। 
আয়রারোগ্যমৈশ্বধ্যং বস্থুনি সপশৃনি চ॥ মিত্রপুত্রকলত্রীণি ক্ষেত্রাণি 
বিবিধানি চ। ভোগানষ্টবিধাংশ্চাপি ব্ব্গঞাপ্যপবর্গকম ॥* ৯/৪৭-৪৮) 
_স্রধেব উপাসনা করলে জগতে এমন কি বস্তু আছে» যা তিনি 
দান করেন না]! আয়ু, আরোগ্য, এইশ্বধ, ধন, পশু, মিত্র, পুত্র, কলত্র, 
বিবিধ ক্ষেত্র, অষ্টবিধ ভোগ, ব্বর্গ এবং অপবর্গ সমস্তই তিনি দাঁন 
করে থাকেন। অষ্টাদশ বিগ্ভার মধ্যে প্রণব গায়ত্রী হল এই পরম 
পুরুষের উপাসনার একমাত্র মাধ্যম । তেজোরাশি সমন্বিত ভগবান 
স্র্য কাল এবং কালপ্রবর্তক। এই লোক-নিবাসীরা স্থর্যকে উদ্দেশ্য 
করে এই শ্রুতিবাকা কীর্তন করেন--“এষে। হ দেবঃ প্রদিশোহন্ু 
সর্ববাঃ পুবেবা হ জাতঃ সউ গর্ভ অস্তঃ। স এব জাতঃ স জনিষ্যমাণঃ 
প্রত্যঙজনাস্তিষ্ঠতি সব্বতোমুখঃ ॥৮ (৯/৩১)-_-এই দেব সমস্ত দিকে 
ব্যাপ্ত, এর জন্ম নেই, ইনিই গর্ভে অবস্থান করেন, ইনিই জন্মগ্রহণ 
করেন, ইনিই জন্মগ্রহণ করবেন, ইনিই সমস্তের মধ্যে অবস্থান 
করেন, এবং ইনিই সবতোমুখ । 

ভিম্ন-ভিন্ন মাসে, ভিন্ন-ভিনন বাশিতে যারা সুর্যের উদ্দেশ্যে 
শান্্রবিহিত দান,হোম, জপ” পুজা আদি করে এমনকি বারাণসীতেও 
রবিবারে লোলার্কাদির যারা সেবা পুজা করে, এবং দেব সুর্যের হংস, 
ভানু, সহস্্রাংশড, কশ্যপাত্মজ প্রভৃতি সত্তরটি নাম আদিতে “প্রণব 
শেষে 'নমহ' যোগে কীতন করে, তারাই স্থধলোক লাভ করে। 

এই কথ! বলে গণদ্বয় শিবশর্মাকে বললেন-_-“ইত্যেকদেশঃ 
কথিতে। ভান্ুলোকন্ত সত্তম্। মহাতেজোনিধেরস্ত কো বিশেষ- 
মবৈত্যহো11৮ (৯/৯৪)-__হে দ্বিজশ্রেষ্ঠ। মহাতেজের আলয় 
ভান্ুলোকের একাংশ মাত্র কথিত হল। এই লোকের বিশেষ 
বিবরণ কে-ই বাজানে? 


৩২ 


| অধ্যায় ১০ ] 


এ*্পখ শিবশমী| দেখলে অপুব ছুটি নগবী। গণদ্বয়েব কাছ 
খেকে পাঁবচয় পেয়ে জানল-প্রথমটিব নাম, অমরাবতী, দেবরাজ 
ইন্দ্রের নগরী । সযমনী, অচিম্মতী, পুণ্যবতী, অমরাবতী, গন্ধবতী, 
অলকেশী নামে অনেক পুরীই এখানে আছে, কিন্তু অমরাবতী 
ভলনাবহিত | স্বচ্ছ-্ফটিকের উপর নান মণি-মাণিকা-বত্বাদি-খচিত 
এই অতুলনীয় প্রাসাদ নির্মীণ করেছিলেন সৰকালেব সর্বশ্রেষ্ঠ স্থুপছধি 
বিশ্বকর্মী। অন্ধকাব কখনও এই পুখীতে প্রবেশ করতে পারে না; 
স্গধেণ প্রখর উত্তাপও এই পুবীতে কখনও অনুভূত হয় না। কল্পবৃক্ষ 
এই পুরীন অধিবাসীদের যাবতীয় প্রয়ে।জন যাক্কামাত্রেই মিটিয়ে দেয়, 
কামধেন্ত যোগায় যাবতীয় রসদ,আর পুবীব অধিষ্ঠাত্রী স্বয়ং চিন্তামণি 
ইন্দ্র অধিবাসীদের সব চিন্তা হতে মুক্ত রাখেন । অশ্বশ্রেষ্ঠ উচ্চৈঃশ্রবা, 
কবিশ্রেক্ট এবাবত দেবরাজের বাহন । রত্বভূত। মন্দাকিনী, অপ্নরী- 
শ্রেষ্ঠা উবশী, বৃক্ষরত্ব পারিজাত পুষ্পের সঙ্গে তেত্রিশ কোটি দেবতা, 
নিতা দেবরাজের আরাধন। করে। ইন্দ্রপুবীর এশ্বধ যেমন 
অতুলনীয়, তেমনি স্বর্গলোকমধ্যে ইন্দ্রত্বের সর্বশ্রেষ্ঠ পদও অতীব 
লোভনীয় । নিধিদ্বে পৃথিবীতে ঘিনি শত অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে 
পেন, সেই জিতেন্দ্রিয় বাক্তিই একমাত্র পেতে পারেন ইন্দ্রত্বের 
পদ, লাভ করতে পারেন ইন্দ্রাণীকে । শত-অশ্বমেধ যজ্ঞ সম্পন্ন 
কবতে না পারহলও 'প্রকৃত যাজ্কিক, নির্মল স্বভাব, সত্যবাদী, 
ধৈর্ধশালী, রণক্ষেত্রে অবিচল, পরাক্রমীরাই মাত্র আসতে পারেন 
অমরাবতীতে । কত দনুজ, দানব, যজ্ভ-রক্ষ-মানব যে এই 
লোভনীয় এবং সম্মানার্হ পদ পাবার জন্তে নিয়ত কঠোর তপস্থা 
করে চলেছেন, তার ইয়ত্তা নেই । 

শিবশর্সা এর পব বর্তমান ইন্দ্র, সপ্তলোকপাল-সেবিত দেবরাজ 


৩৩) 
কাঁশী__৩ 


শতমন্ুযুকে, লোকে ধাকে দিবস্পতি বলে থাকেন, তাকে দেখে 
ব্যোমপথে এগোতেই দক্ষিণে দেখতে পেলে আর এক পুরী । 
গণদ্ধয়ের কাছ থেকে জানলে শিবশর্মা তার পরিচয়__এটি হল 
দেব অগ্নির পুরী অঠিম্মতী। এই পুরীর অধীশ্বর হলেন স্বয়ং অগ্নি 
ধার অপর নাম, পাঁৰক। যেহেতু অগ্নির সংসর্গেই সমুদাঁয় পদার্থ 
পবিত্রতা লাভ করে তাই তার নাম পাবক। গণদ্য় বললেন £ 
“অগ্নিরেকো দ্বিজাতীনাং নিঃশ্রেয়সকরঃ পরঃ। গুরুর্দেবো ব্রতং 
তীর্থং সর্ববমগ্নিবিবনিশ্চিতম্‌॥”-_দ্বিজগণের কাছে মুক্তির একমাত্র 
সাধক হল অগ্নি । অগ্নিই গুরু, দেব, ব্রত, তীর্থ । অগ্নিই সব কিছু, 
এ-বিষয়ে কোন সংশয় নেই । ত্রিভূবনেশ্বরের নেত্রম্বরূপ এই চিত্রভান্ 
হলেন অনলরূপা' শান্তবী অর্থাৎ মহাদেবের অন্যতম তেজোময়ী মৃতি। 
অগ্নির যাঁরা উপাঁসক, একমাত্র তারাই এই লোকের বাসিন্দা । 

কৌতুহলী হয়ে উঠল শিবশর্মী।_কে এই অগ্নি? কি এর 
পরিচয় । আর এমন অচিম্মতী নগরীর অধীশ্বরই বা তিনি হলেন 
কিভাবে ? 

পুণ্যশীল আর সুশীল শোনালেন শিবশর্মাকে সেই অভুতপুব 
পুরাকাহিনী। নর্মদ্াতীরে নমপুর নামে এক পুরীতে সবশাস্তে 
পণ্ডিত, ব্রন্মচর্-ত্রতে স্বনিষ্ঠ১ শাগ্ডিল্য গোত্রীয় ব্রহ্মতেজোময় 
বিশ্বানর নামে এক শিবভক্ত মুণি বাস করতেন। একদিন তার মাথায় 
এই চিন্ত'র উদয় হল, ব্রহ্মচারী, গাহস্থ্য, বানপ্রস্থ আর ভিক্ষুক বা! 
সন্গ্যাসী, এই চারটি আশ্রমের মধ্যে কোন আশ্রম শ্রেয়স্কর বা কোন 
আশ্রম অবলম্বন করলে পতিত ব] ভষ্ট হবার সম্ভাবনা থাকে না। 
অনেক ধীর-াস্থর বিচার-বিশ্লেষণের শেষে এই সিদ্ধান্তে এলেন, যে, 
কাম-ক্রোধ, লোভ-মোহ ইত্যাদি ষড়-পিপুকে আয়ত্তাধীন রেখে 
সাগ্িক এবং সদার গাহ্‌স্থাশ্রমই সব কটি আশ্রম থেকে নিরাপদ এবং 
শ্রেয়। এর অল্প কিছুদিন পরেই, নিজের যোগা, এবং সৎ-কুলোস্তব! 
একটি কন্ঠার পাণিগ্রহণ করলেন যথাঁবিহিতভাবেই । গারস্থ্যাশ্রমের 
বেদোক্ত কর্মগুলি করে চললেন অত্যন্ত সংযম এবং নিষ্ঠার সঙ্গে । 


125 


সহধমিণী শুচিগ্মতির সাহচষে বেশ কয়েকটা বছর অতিক্রান্ত হল 
বিশ্বানরের । গাহস্থ্যাশ্রমে. এসে একমাত্র ধর্মকর্মের চিন্তা 
ছড়া অন্ত কোন চিন্তাই ছিল নাতার মাথায়। হঠাৎ একদিন, 
শুদ্ধবেশ। শুধিত্মতী স্বামী সন্নিধানে এসে তার বথাবহিত পূজা সেরে 
সসন্ত্রমে জানালেনতার আকাজিক্রত সুপ্ত বাসন।-_তিনি যেন মহেশ্ব র- 
সদৃশ এক পুত্রের জননী হতে পারেন। চমকে উঠলেন বিশ্ব'নর । 
ব্রহ্মচধে স্বনিষ্ঠ তিনি কখমো! ত এমন চিন্তা করেন নি। তবে ভার 
সহধমিণীর মনে এ-বাসনা কেন জাগল ? যদিও বা জাগল, বাক] 
হয়ে স্ষুরিত হল কেন? তবে কি বাক্যরূপ তার আরাধ্য দেবতা 
শস্তুই অন্তগাল থেকে জানালেন তাঁর বাসনা । তা ছাড়া আর কী 
হতে পারে? এই ভেবে তিনি শুচিম্মতীকে অভিলধিত পুত্র-প্রদানের 
প্রতিশ্রুতি দিয়ে, তপস্তার নিমিত্ত গমন করলেন কাশীনাথ বিশ্বে্বরের 
ক্ষেত্র বারাণসীতে । মণিকণিক দর্শন, প্ুণ্যকুণ্ডে জান, পারত্রিক 
ক্রিয়াকলাপ সেরে লিঙ্গ-সমাকীর্ণ বারাণসীর প্রতিটি লিঙ্গক্ষেত্র দর্শন 
করে চিন্তাকুল হলেন কাশীধামের একশো আট শিবলিঙ্গের মধ্যে, 
কোন্‌ লিঙ্গের অচনা হবে আশু ফলপ্রদ। লিঙ্গ-বিভ্রান্ত বিশ্বানরের 
ক্লুরণ পথে হঠাৎ উদ্দিত হলেন বীরেশ্বর লিঙ্গ । পঞ্চমুদ্রাময় মহাপীঠ 
অবিমুক্তক্ষেত্র কাশীধামের এক গুহাতম স্থানে তার অবস্থান । 
ধর্ম-অর্থ-কাম ও মোক্ষপ্রদায়ী এই লিঙের তুল্য আর কেউ নেই। 
পঞ্চস্বর নামে গন্ধব, স্বচ্ছবিষ্ঠ1 নামে বিদ্ভাধর, বস্থুপুর্ণ নামে বক্ষরাজ, 
শঙ্ঘচুড় নামে সর্পরাজ, এই বীরেশ্বর-এর অর্চনা করেই সিদ্ধিলাভ 
করেছিলেন। আবার বেদশির। নামে খধি, কোকিলালাপা। নামে 
অগ্নরী, চন্দ্রমৌলি এবং ভরদ্বাজ নামে ছুই পাশুপাত-শ্রেষ্ট, 
পেয়েছিলেন নিৰাণ। এমনি আরো অনেক সিদ্ধই বীরেশখ্বরের প্রসাদ 
লাভ করেছিলেন বিশ্বানরও তাই স্থির করলেন, সবসিদ্ধিদাত' 
এই বীরেশ্বর লিঙ্গেরই ত্ররিসন্ধ্যা উপাসনা! করে পত্বী শুচিক্মতীর 
অভিলাষ পুর্ণ করবেন । 

অতঃপর বিশ্বানর চন্দ্রকুপ জলে স্নান করে বীরেশ্বর লিঙ্গের 


৩৫ 


প্রসাদ কামনায় কঠোর কৃচ্ছসাধন শুরু করলেন। কঠোর থেকে 
কঠোরতর তপস্তায় যখন প্রায় তেরে মাস অতিক্রান্ত তখন হঠাৎ 
একদিন মন্দিরে প্রবেশ করা মাত্রই দেখতে পেলেন লিঙ্গের 
মধ্যভাগে শৈশবোচিত-বেশধারী নয়নমুগ্ধকর উলঙ্গ এক বালক 
আপন লীলার বিভোগ হয়ে বেদের স্ক্তসমূহ পাঠ করছেন। 
বালকাকৃতি বিভৃতিভূুষিত, আকর্ণ বিস্তৃত নয়ন, লোহিতবর্ণ সুন্দর 
ওষ্ঠ ও অধর, পিঙ্গলবর্ণ জটাকলাঁপে বিভুষিত মনোহর মস্তক । 
সদাহাস্তময় লীলাবিভোর অষ্টমবষীয় সেই বালককে দেখে রোমাঞ্চিত 
তনু বিশ্বানপ আবেশে আগ্লভ হয়ে কারবার তাকে ইষ্টদেবজ্ঞানে 
প্রণাম করে গদগদ কণ্ে তার স্তুতি বন্দনা করলেন। অভিলাধাষ্টক 
সেই জ্ঞোত্রে গ্রীত দেবদেব শস্তু বিশ্বানরকে এই বলে বর দিলেন £ 
“ত্বয়া শুচে শুচিম্মতাং যোইভিলাষঃ কৃতেো। হৃদি । অচিরেশৈব 
কালেন স ভবিষ্যত্য সংশরঃ ॥ তব পুত্রত্বমেষ্যামি শুচিম্মত্যাং মহামতে | 
খ্যাতে। গুহপতিক্মীস্না শুচিঃ সব্বামরপ্রিয়ঃ ॥৮-হে মহানতে ! তুমি 
এবং তোমার স্ত্রী শুচিক্মত্তি যে অভিলাষ করেছ, তা নিশ্চই সত্বর 
পুর্ণ হবে। শুচিম্মতীর গর্ভে আমিই সকল দেবেন প্রিয় 'গৃহপাতি' 
নামে তোমার পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করব। 

এই বলে বালক অন্তহিত হলেন ৷ বিশ্বানরও গহে প্রত্যাগম্ন 
করলেন। 


| অধ্যায় ১১ 7 
অনস্তর এক শুভদিনে, শুভলগ্নে, বিশ্বানরের ঘর আলো করে 
অপরূপ কান্তিযুক্ত, চন্দ্রভুল্য স্ুখদন, দেবহূর্নভ এক শিশু শুচিম্মতীর 
গর্ভ হতে নিজ্ঞান্ত হলেন । মাতা-পিতার তৃপ্তির সীমা নেই, আনন্দের 
সীমা নেই প্রতিবেশীদেরও । শিশু জন্মগ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে নিবিড় 
মেঘরাশি থেকে হল পুষ্পবৃষ্টি, সুগন্ধি বাতাস বইতে লাগল চতুর্দিক 
থেকে , ছুন্দুভিধবনি করলেন দেবতার! , প্রার্ণীগণ ভূলে গেল 


৩৬ 


অনুয়া। তিলোত্তমা, উর্বশী, রস্তা, প্রভা, শুভা, সুমঙ্গল। প্রভৃতি 
শ্রেষ্ঠ অপ্নরাগণ অগুরু, কন্তুরী, শঙ্ঘ, শুক্তি, কুন্কুম, গোমেদ প্রভৃতি 
সুগন্ধি দ্রব্য আর রত্বসমূহ নিয়ে; অনেক বিদ্যাধরী, কিন্নরী, সহস্স 
সহত্র অুরবালা নানাবিধ মাঙ্গলদ্রব্য নিয়ে ; গন্ধব, উরগ ও যক্ষগণের 
পত্ীর। শ্ুললিত স্বরে শুভগান করতে করাত বারবাধ আসতে 
লাগল বিশ্বানরের ভবনে । বিশ্বানরের আশ্রনে শাজিকমের জন্থা 
এলেন মরীচি, অত্রি, পুলছ, পুলস্ত্য, ক্রতু, আঙ্গিরা, বশিষ্ঠ, অগস্তা, 
ভরদ্বাজ, গৌতম, ব্যাস, কাঁঙ্যায়ন, বামদের, চালন, বিশ্বামি প্রভৃতি 
তাবৎ মুনি আর মুনিকন্যাবা। ব্রহ্মা এব: বৃহস্পতির সঙ্গে দেব 
গরুড়-বাহন বিষ; নন্দী-ভূঙ্গী আর গৌরীকে সঙ্গে নিয়ে বষধ্বজ ; 
মহেন্দ্রাদি দেবগণ; পাঠালবাসী নাগসমূহ , বছব্ধি পু নিয়ে 
সরিতের সঙ্গে মহাসমুদ্রের অধিষ্ঠাতাগণ এবং নানাপ্রকার স্থাবর 
জঙ্গম রূপ ধারণ কারে এলেন সেখানে । 

ত্রক্মা! স্বরং এই বালকের জাতকর্ম কৰে এগারো দিনের দিন তার 
নমকরণ করলেন--গৃহপতি । বালকের নিক্মণ, অন্নপ্রাশন এবং 
চুড়াকর্মা্দি প্রভৃতি যাবতীয় কাজ যথাবিধি করলেন বিশ্বানর। 
শ্রবণানক্ষত্রে বালকের কর্ণবেধ এবং পঞ্চম বধষেই দিলেন পুত্রের 
উপনয়ন। অপুব ধীশক্তিসম্পন্ন বালক তিন বছরের মধ্যেই সাঙ্গ বেদ 
অধ্যয়ন শেষ করলেন ; পারদশী হয়ে উঠলেন সববিদ্যায় | 

বালক গৃহপতির তখন ন'বছর বয়স। পিতা-মাতার সেবা 
করছেন তিনি, এমন এক সময় তাকে দর্শন করার বাসন! নিয়ে 
বিশ্বানরের কুটীরে এলেন দেবধ্ধি নারদ । পাঁছ্-অর্থ গ্রহণের পর 
পিতা-মাতার সেবারূপ পরম তপ্ত, পরম ব্রত, এবং পরম ধর্মে রত 
বালক গৃহপতিকে দেখে হুষ্টান্তঃকরণে নিজের কোলে বসিয়ে বললেন 
_দেখি, তোমার হাতখানা! গৃহপতিও নিদ্ধিধায় এগিয়ে দ্রিলেন 
হাত। জ্যোতিবিগ্ঠাগ্রগণ্য দেবদ্ধি নারদ কেবলমাত্র হস্তরেখা নয়, 
বালকের প্রতিটি অবয়ব--তালু, জিহ্বা, দন্ত, নেত্র, হন, জানু, ললাট, 
কটি, বক্ষস্থল-_ পুঙ্থানুপুঙ্খভাবে নিরীক্ষণ এবং বিচার করে পিতা 


৩৭ 


বিশ্বানরকে বললেন, সবগুণোপেত; সর্ব-স্থুলক্ষণযুক্ত এই বালক হবে 
রাজরাজেশ্বর। কিন্তু বিধাতার বিধানে নির্মল চক্দ্রকেও কলঙ্কের 
মালিন্ত গ্রহণ করে নিষ্প্রভ হতে হয় । আমার আশঙ্কা, বারে। বৎসর 
বয়সে এই বালকের বজ্ঞাগ্রিতে জীবনহানির যোগ অত্যন্ত প্রবল । এই 
কথা বলে ধীমান নারদ চলে গেলেন । 

নারদেকু, এই ভবিষ্যদ্বাণী শেনামীত্রই সন্ত্রীক বিশ্বানরের মাথায় 
যেন তখনি নিদারুণ বজপাতি ঘটল। অনেক ক্লেশস্বীকার, অনেক 
তপস্তার পর দেবছুর্লভ এমন এক পুত্ররত্ব লাভ করেও তাকে হারাতে 
হবে ভেবে শোকাকুল-চিন্ত হয়ে উঠলেন তারা। বিলাপ ছাড়া আর 
কোন উপায়ান্তর খুঁজে পেলেন না। তখন বিলাপরত পিতা- 
মাতাকে গৃহপতি ঈষৎ হান্তে সান্তনা দিয়ে বললেন--ন মাং কৃতবপু- 
স্্রানাং ভবচ্চরণরেণুভিঃ | কাঁলঃ কলয়িতুং শক্তো। বরাকী চঞ্চলালিক॥ 
প্রতিজ্ঞা; শৃণুতং তাতো যদি বাং তনয় হাহম্‌। করিষ্তেহহং তথা তেন 
বিছ্যন্ত্তক্্সিষ্যতি ॥ ( ১১।৯৭-৯৮ )--আপনাদের চরণধুলির প্রসাদে 
স্বয়ং কালও আমাকে বিনষ্ট করতে পারবে না ১ চপল-ম্বভাব সামান্য 
বিছ্যুৎ আমার কি করবে । হে মাতঃ! হে পিতঃ! আমার প্রতিজ্ঞ: 
শুহুন, আমি যদি আপনাদের তনয় হই, তাহলে আমি এমন 
কাজ করব, যাতে বিছ্যৎ-ও আমাকে ভয় করবে । ধিনি কালেরও 
কাল, আমি সেই মহাকাল মুত্যুপ্রয়ের আরাধনা করব । 

পুত্রের এই সঞ্ল্প-বাক্যে সম্ত্রীক বিশ্বানর অনেকখানি বিগত-ক্রেশ 
হয়ে সেই যৃত্যুঞ্জয়ের আরাধনার অন্থুমতি দিলেন পুত্রকে । 

পিতামাতাকে প্রদক্ষিণ করে গৃহপতি এলেন কৈবলা-লাঁভের 
একমাত্র ক্ষেত্র কাশীধামে, যেখানে “বিশ্বেষাং বিশ্ববীজানাং কন্মাখ্যানাং 
লয়ো যতঃ1”-বিশ্বেশ্বররূপ বিশ্বলিঙ্গে বিশ্বের কর্মরূপ যাবতীয় বীজ 
বিলয় প্রাপ্ত হয় । ৃ 

অবিমুক্তক্ষেত্র নিবাঁণপ্রদ এই ক্ষেত্রে এসে শুভদিন দেখে তিনি 
নিজে একটি শিবলিঙ্গ স্থাপন করলেন । আঠারোশো গঙ্গাজলপূর্ণ 
ঘটে মহাদেবকে স্নান করিয়ে, একহাজাঁর আট নীলবর্ণ পদ্মের মালায় 


৩৮ 


তাকে শোভিত করে, যম-নিয়ম অবলম্বন করে ছুশ্চর তপস্তায় ব্রতী 
হলেন গৃহপতি । 

এইভাবে ছু'বছর শুচিসিদ্ধ তপস্তার শেষে গৃহপতির যখন বারো 
বৎসর বয়স পূর্ণ হল, নারদের ভবিষ্যুদ্বাণীকে সত্যরূপ দিতে দেবরাজ 
বজপাণি ইন্দ্র আবিভূ্তি হলেন গৃহপতির সামনে । বললেন, তোমার 
তপস্তায় আমি প্রসন্ন হয়েছি। অভিলধিত বর প্রার্থনী কর। 
গৃহপতি বিনত্র কণ্ঠে বললেন, মহাদেব ছাড়। আমি অন্ত কারও কাছে 
বরপ্রার্থী নই । তখন ইন্দ্র বললেন,_'ন মত্তঃ শঙ্করোইজ্ত্যন্তো 
দেলদেবোইম্মাহং শিশো। ।'--মামিই দেবগণের দেবতা, আমি ছাড়া 
অন্য কোন মহাদেব নেই। বালম্ুলভ চপলতা পরিত্যাগ করে 
তোমার প্রার্থনা তুমি আমার কাছেই রাখ। তবুওগৃহপতি প্রত্যাখ্যান 
করলেন ইন্দ্রকে। ইন্দ্র তখন ক্রোধারক্তলোচনে গৃহপতির উদ্দেশ্যে 
উদ্ত করলেন শতবিদ্যৎতেজোপুর্ণ তার আয়ুধ_বজ। একদিকে 
শতাগ্রির তীত্র তেজ, অপরদিকে নারদেব বাক্য স্মরণে আসতেই 
গৃহপতি মুচ্ছিত হয়ে পড়লেন । 

মূচ্ছাভঙ্গ হল মহাদেবের কোমল স্পর্শে । স্ুপ্তোথিতের মত 
গহপতি দেখলেন, কণ্ঠে কালকুট, বৃষধ্বজ, ভালে চন্দ্র, মস্তকে 
জটাভরা, ত্রিশুলধারী, কণুরের ম্যায় শ্বেতবণ” পরিধানে গজচর্ম, 
বামে হিমাদ্দি-তনয়াকে নিয়ে সামনে দণ্ডায়মান ত্রিনেত্রী মহাদেব | 
বাম্পাকুলিত-কণ্ঠ এই রোমাঞ্চিত-তন্থ নিয়ে গৃহপতি মহাদেবের 
উদ্দেস্খে স্তব এবং প্রণাম সারলেন। '্ুমধুর বচনে দেব শঙ্কর 
বললেন গৃহপতিকে--হে বালক, আমার ভক্তের অনিষ্ঠ সাধন করার 
ক্ষমতা কারও নেই। ইন্দ্রের বেশে আমিই তোমায় ভয় দেখিয়ে- 
ছিলাম মাত্র । প্রসন্ন আমি তোমার প্রতি । নাও, আমার বর-_ 
“সব্বেধামের দেবানাং বদনং ত্বং ভবিষ্যসি 1৮-_তুমি হবে সমস্ত 
দেবগণের মুখন্বরূপ অগ্নি) “সর্ধেষামেব ভূতানাং ত্বমগ্নেহস্তশ্চরো 
ভব। ধন্মরাজেন্দ্রয়োর্মধ্যে দিগীশো রাজ্যমাপ্রুহি ।”-তুমি হবে সমস্ত 
ভূঁতগণের অস্তশ্চর আর ছুই ধর্মরাঁজ যম এবং ইন্দ্রলোকের মধ্যস্থলে 


৩৯ 


হাম রাজ্য পালন করবে দিকপতিরূপে । বীরেশ্বর-লিঙ্গের পৃঝে, 
গঙ্গার পশ্চিম-তটে তোমার প্রতিষ্ঠিত এই লিঙ্মৃত্যুভয়হারী “অগ্রীশ্বর' 
লিঙ্গরূপে পুজিত হবে । | 

এই বর প্রদান করে দেবাদিদেব মহাদেব গৃহপতিকে একটি রথ 
দিয়ে বললেন, তোমার জনক-জননী আত্মীয়-পরিজন সকলকে এই 
রথে নিয়ে তোমার রাজ্যে গিয়ে তুমি অভিষিক্ত হও ।--এই বলে 
লিঙ্গমধ্যে অন্তহিত হলেন মহাদেব । 

এই হল সেই অগ্নিলোক আর অগ্নির পুরী অচিম্মতী। 


| অধ্যায় ১২ ] 


বমরাজের সংযমনী পুরীর পশ্চিমে দিকপতি নি তের লোক । 
যারা ইহজীবনে সৎকর্ম অনুষ্ঠান, নিলেশভ অন্দুয়াহীন জীবন যাপন 
করে এসেছে ; দম, দান, দয়া, ক্ষমা শৌচ, ইক্ড্িয়-পিগ্রহ, আস্তোয়, 
সত্য এবং অহিংসা--এই দ্রশবিধ ধর্মানুষ্ঠানের দ্বার পুণ্য অর্জন 
করেছে, তারাই এই লোকের অধিবাসী হতে পারে । সে যেকোন 
জাতি-ই হক না কেন। 

বহুকাল আগে বিহ্ধ্যপবতে নিবিন্ধ্যা নদীতটে বনমধ্যে বাস করত 
শবর-অধিপতি পিঙ্গাক্ষ। ব্যাধবৃত্তি তার জীবিক! হলেও ছিল বড 
কোমল-প্রাণ। সুপ্ত, মৈথুনরত, জলপানে নিরত. শিশু ব1। সন্তান- 
সম্ভবা কোন পাশু-পক্ষী সে কখনই হত্যা করত না, যত প্রয়োজনই 
আন্মক। শুধু তাই নয়, শ্রমাতুর পথিকদের দিত বিশ্রামের স্থান, 
ক্ষুধাতুরকে আহার, বস্ত্রহীনকে দিত কোমল মৃগচর্ম। অভয় দিত 
দূর-দূরান্তের তীর্থপথগামী পথিকদের। সেই হূর্গম প্রাস্তর 
পথিকেরাও অতিক্রম করে যেত নির্ভয়ে শবরাধিপতি পিঙ্গাক্ষের 
নামে। 

পিঙ্গাক্ষের পিতৃব্য তারাক্ষ থাকত সন্গিকটস্থ গ্রামেই । সে ছিল 
দারুণ খলস্বভাব। পশু-পক্ষী শিকার ছাড়াও পথচারীদের আক্রমণ 


৪০ 


এবং হত্যা! করে, তাঁদের সবস্ব অপহরণ করতে, তার বিন্দ্রমাত্র 
দ্বিধাবোধ জাগত না। জাতিতে শবর হয়েও পিঙ্গাক্ষ তাঁদের 
সমর্থন করত ন1 বলে, তার ওপর নিদারুণ ক্রোধ পোষণ করত 
তারাক্ষ । 

একদিন, ধন-অপহরণ অভিলাষে তার্ণক্ষ পথ অবরোধ করল 
কিছু তীর্থপথযাত্রীর। তাঁরা যাচ্ছিল বিশ্বনাথ-পরায়ণ মন নিয়ে 
বিশ্বনাথ দর্শনে । যাচ্ছিল, পিঙ্গাক্ষের ভরসায়, বিশ্বনাথের কৃপায় 
নিরভীকচিত্তে; তাই হঠাৎ এই অবরোধে খুবই ভয়বিহ্বল হয়ে 
পড়ল তার1। রাত্রিকাল--কোথায় পিঙ্গাক্ষ! বিশ্বনাথধাম-ও 
এখনও বহুদূর । অনেক কাকুতি-মিনতি জানাল তারা তারাক্ষকে__ 
যা আছে তাদের সঙ্গে, সব কিছু সে নিক্‌, কিন্ত প্রাণে যেন না 
মারে। কিন্ত, এসব আবেদন শোনার পাত্রই নয় তারাক্ষ। আর সে 
জাঁনত-ও না, শিয়রে শমন তার দাঁড়িয়ে আছে অলক্ষিতে । 

. শিকার করতে বেগিয়ে পিঙ্গাক্ষও খুরতে-ঘুরতে সেদিন এসে 
পড়েছিল সেই ঘটনাস্থলে । পিভৃব্যের নিষ্ঠুরতায় ক্রোধারুণ হয়ে 
সে আত্মগোপন করে ছিল বৃক্ষাস্তরালে রাত্রি প্রভাতের অপেক্ষায় । 
সকল হতেই গোপন স্থান থেকে বেরিয়ে এল পিঙ্গাক্ষ ধন্ুবাণ 
হাতে । ব্যান্রহুঙ্কারে বলল, “কোহয়ং কোহয়ং ছুরাচারঃ পিঙ্গাঙ্ষে 
মরি জীবতি। উল্জুলুষ্ঠবিষুঃ পাস্থান্‌ প্রাণলিঙ্গসমান মম ॥৮ (১২৩৮) 
_-কে, কে সেই ছুরাচার! পিঙ্গাক্ষ বেঁচে থাকতে তার প্রাণলিঙ- 
তুল্য (কণ্ঠে যার! শিবলিঙ্গ ধারণ করে থাকে) পথিকদের প্রাণে 
মেরে লুঠ করতে চায় ? 

তারাক্ষও বহুদিন ধরে ছিল এমনি এক স্থযোগের অপেক্ষায় । 
্বীয় কৃলধর্মত্যাগী পিঙ্গাক্ষকে বধ করার কোন একটা উপায় সে 
চিন্তা করছিল অনেকদিন থেকেই । দেখল, এই অপুৰ সুযোগ 
--পিঙ্গাক্ষ এক আর তাঁরাক্ষ অন্ুচর-সমারৃত। রণকুষ্কার ছাড়ল 
তারাক্ষ। আদেশ দিল তাঁর অনুচরদের--আগে পিঙ্গাক্ষকে বধ কর, 
তারপর এই পথিকদের । আদেশ পাবামাত্রই অন্ুচরেরা একযোগে 


৪১ 


আক্রমণ করল পিঙ্গাক্ষকে । একাকী পিঙ্গাক্ষ, সমবেত আক্রমণ 
প্রতিহত করতে করতে তীথ'াত্রীদের নিরাপদে নিয়ে এল নিজের 
পল্লীতে । পথচারীর] রক্ষা পেল বটে, কিন্তু ছরাতআ্মাদের বাণে-বাণে 
ক্ষত-বিক্ষত হয়ে কধিরাক্ত কলেবরে নিজের আবাঁসেই একসময় 
প্রাণত্যাগ করল । অস্তিমকাঁলে একটা! মাত্র চিন্তাই তাঁকে আচ্ছন্ন 
করেছিল-_'অস্দয়িষ্যমেতাংস্তদভমিষ্যং যদীশ্বর2- আমি যদি ঈশ্বর 
হতাম, তাহলে এই দন্ুদের বিনাশ করতে পারতাম । 

অস্তিম মুহুর্তে প্রাণীর মনে যে ভাবনার উদয় হয়, দেহান্তে তার 
ভাবনাই সিদ্ধ হয়ে থাকে । পরোপকার ব্রতে ব্রতী, ধর্মপ্রাণ 
শবরাধিপন্তি পিঙ্গাক্ষের সেই আস্তিম অভিলাষ পুর্ণ হয়েছিল দিকপতি 
নৈঞতেশ্বর রূপে। 

এই নখ তিলোকের উত্তরে বরুণলোক | জিজ্ঞান্ শিবশর্মীকে 
একের পর এক লোকের পরিচয় দিয়ে চললেন বিষুণগণদ্বয় পৃণ্যশীল 
এবং সুশীল । 

সমস্ত জলরাশির একমাত্র অধিপতি এবং সমস্ত কর্মের সাক্ষী, 
বারুণীদিগের নিয়স্তা দেব বরুণ এই লোকের অধীশ্বর । যারা! শীতল 
জল দ্বার! তৃষ্তাের তৃষ্ণা দূর করে, পথপার্থে বৃক্ষরোপণ, পান্থশাল। 
নিমণণ, ভীত ব্যক্তিকে অভয়মুদ্রা দেখিয়ে যারা, নির্ভয় করে, 
বাত্রীদের ষার। নৌক্াযোগে নদী পারাপার করায়, তারাই দেহাস্তে 
এই লোকে আশ্রয় পেয়ে থাকে । 

এখন শুনুন এই মহাত্মা বরুণের উৎপত্তির বিবরণ । 

প্রজাপতি কর্দমের সবগুণে গুণান্বিত এক পুত্র ছিল। নাম তার 
শুচি্মান। প্রজাপতি কর্দম ছিলেন দ্রেবাদিদেব মহাদেবের একনিষ্ঠ 
অন্ুরক্ত ভক্ত। পুত্র শুচিম্মান একদিন বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে 
অচ্ছোদ সরোবরে সান করতে গিয়ে জলক্রীড়ায় রত হল। সেই 
ন্নযোগে এক শিশুমার (শুশুক) বালককে অপহরণ করে নিয়ে গেল। 
মুনি-বালকেরা বিষণ্ণ বদনে ফিরে এসে প্রজাপতি কর্দমকে জানাল 
সব ঘটনা । সব শুনে পুত্রবিহনে কিছুমাত্র বিচলিত হলেন না 


৪. 


খবি। মনে মনে আরাধ্য দেবতা মহাদেবকে স্মরণ করে যোগীসনে 
বসে ধ্যানস্থ হলেন তিনি । 
প্রজাপতির ধ্যাননেত্রে ধীরে ধীরে উদ্ভাসিত হয়ে উঠল মহাদেবের 
চতুর্দশ ভূবন ; আলোকোজ্জল হয়ে উঠল ত্রন্মাণ্ড; ফুটে উঠতে লাগল 
্রহ্মাণ্ডের অন্তর্গত ভূতগণ, চন্দ্র, সুর, তারা, পবত, নদ-নদী, 
সরোবর-_একে-একে সুস্পষ্ট ছবির মত। সমাধিস্থ কর্ম দেখলেন 
এক সরোবরে জলক্রীড়ারত তার পুত্র শুচিত্মানকে অকম্মাৎ এক 
শিশুমার আক্রমণ করল । ভয়বিহ্ব॥ ২য়ে উঠল তার পুত্র । হঠাৎ 
এক জলদেবী এসে তার পুত্রকে শিশুমারের কবল থেকে উদ্ধার 
করে সমর্পণ করল সমুদ্রের কাছে। ঠিক এমনি সময়ে ত্রিশূল হস্তে 
রুদ্ররূপী কোন দেবতা ক্রোধারুণলোচিনে এসে দাড়ালেন সমুদ্রের 
কাছে। বজ্বগম্ভীর কণ্ঠে বললেন__-“কুতো জলানামধিপ শিবভক্তস্ত 
বালকঃ। প্রজাপতেঃ কর্দমস্ত মহাভাগস্য ধীমতঃ॥৮” হে জলাধিপ 
শিবভক্ত মহাঁভাঁগ প্রজাপতি কর্দমের পুত্র কোথায়? শিবশক্তি কী 
তোমার অজানা? কোন্‌ সাহসে তুমি তাকে এতক্ষণ আবদ্ধ 
রেখেছ । ভীত-্রস্ত হয়ে উঠল সমুদ্র। তৎক্ষণাৎ বালককে 
রত্বভূষণে ভূষিত করে, শিশুমারকে বেঁধে শস্তুর চরণে সমর্পন 
করে জানাল সমৃদ্রব-এই শিশুমারই বালককে অপহরণ করে 
এনেছে দেব। সে আনে নি। রুদ্ররূপী দেব তখন পাঁশবদ্ধ 
শিশুমারকে শুচিম্মানের হাতে দিয়ে বললেন--হে বৎস! এটিকে 
নিয়ে শিব আজ্ঞায় তুমি সত্বর নিজের গৃহে গমন কর।৮ 
সমাধিমগ্ন প্রজাপতি কর্দম যোগনেত্রে সব দেখলেন এবং পুত্রের 
প্রতি শিব-পার্ধদের এই আদেশ বাক্য শুনে সমাধিভঙ্গ করে নেত্র 
উন্মীলন করতেই দেখলেন, নানা রত্বে বিভূষিত পুত্র তার সম্মুখে 
দণ্ডায়মান, পাশে পাশবদ্ধ শিশুমার। শুচিষ্মানের শিখা তখনো 
জলে আর্দ্র, কষায়বর্ণ নয়ন, রুক্ষ ত্বক। পিতাকে প্রণাম জানালেন 
শুচি্বান। পুত্রকে আলিঙ্গনাবদ্ধ করে মুনিবর বারবার তার মস্তকে 
আব্রাণ নিলেন। ইতিমধ্যে এই সমাধিস্থ অবস্থায় ষে পাঁচশ” বছর 


৪৩ 


অতিক্রান্ত হয়ে গেছে সেদিকে কোন খেয়ালই নেই প্রজাপতি 
কর্মের | 

এরপর কর্দমপুত্র শুচিম্মান পিতাকে প্রণাম করে তার অনুমতি 
নিয়ে তপস্তার জন্য গেলেন বারাণসীতে । সেখানে তিনি একটি 
শিবলিঙ্গ স্থাপন করে পাঁচ হাজার বছর ধরে নিশ্ছিদ্র ছুশ্চর তগস্থা 
করলেন । তুষ্ট হলেন মহাদেব । শুচিম্মানের সামনে আবিভূতি হয়ে 
বললেন-_বর নাও। বিনীতকণ্ঠে শুচিম্মান প্রার্থনা জানালেন__“যদি 
নাথ প্রসঙ্গোহসি ভক্তানামনুকম্পক | সব্বাসামাধিপত্যং মে দেহাপাং 
যাদসামপি।৮-হে নাথ! ভক্তের প্রতি যদি অনুকম্পাই হয়ে 
থাকে, যদি আপনি প্রসন্ন হয়ে থাকেন, তাহলে আমাকে এই 
বর দিন, আমি যেন সমস্ত জল এবং জলজস্তগণের উপর আধিপতা 
করতে পারি । 

কর্দমপুত্রের মনোবাঞ্চ। পুর্ণ করলেন বাঞ্ধা-কল্পতরু মহাদেব । 
তাকে অভিষিক্তকরলেন দেব বরুণের পদে। বললেন_-“জলাশয়ানাং 
সবের্ষাং প্রতীচ্যাশ্চাপি বৈ দিশঃ। অধীশ্বরঃ পাশপাণির্ভব 
সবব্ণমরপ্রির়ঃ1৮__নদী, সরোবর, পন্থল এবং দীঘিকার জলসমূহের ও 
মেঘসমূহের তুমি অধীশ্বর হও এবং প্রতীচীদিকেরও তুমি অধীশ্বর 
এবং সমস্ত দেবগণের তুমি প্ররিয়পাত্র হও? আরও বললেন, 
মণিকরিকেশ্বর মহাদেবের নৈষ্মতদিকে অবস্থিত তোমার প্রতিষ্ঠিত 
শিবলিঙ্গ বরুণেশ্বররূপে সবজীবের জডতা-নাশক রূপে প্রখ্যাত হবে । 


[ অধ্যায় ১৩ ] 


এই বরুণপুরীর উত্তরে গন্ধবতী নামে পবিত্র বাঁয়ুপুরী। প্রভঞ্জন 
নামে জগৎপ্রাণ বায়ু মহাদেবের আরাধনায় এই স্থানের দিকপালত্ব 
লাভ করেছেন। | 

বহুকাল আগে কম্তপের এক পুত্র, নাম পুতাত্মা, বিশ্বেশ্বরের 
রাজধানী বারাণসী ধামে পবনেশ্বর নামে পবিত্র এক মহালিঙ্গ স্থাপন 


চৈ 


88 


করে দশলক্ষ বছর ধরে কঠোর তপস্তায় ব্রতী হয়েছিলেন। উগ্র 
তপন্তার, তপস্যার ফলদাতা জ্যোতিংম্বরূপ ভগবান মহেশ্বর একদিন 
লিঙ্গ থেকে আবিভূতি হয়ে প্রসন্নবদনে পৃতাত্মীকে বললেন-__হে সুব্রত 
পৃতাত্মন্। ওঠ, ওঠ, বর প্রার্থনা কর। দেবাদিদেব মহেশ্বরকে 
পুলকিত-তন্গ পৃতাত্মা সবভূতের নিয়স্তীকে স্ুবললিত বাক্যবিস্যাসে 
স্তব-স্তৃতি করে বললেন-দেবদেব ! আপনার প্রতি আমার যেন 
মতি থাকে”_-এই আমার একমাত্র প্রার্থনা । ভগবান ভূত-ভবোশ 
অত্যন্ত প্রীত হয়ে স্বীয় স্বরূপ তার উপর আরোপ করে বললেন-- 
“সববর্গো মম রূপেন সব্বতিত্বীববোধকঃ। সবেরষামায়ুষে। রূপং 
ভবানেব ভবিষ্যতি ॥”__মৎস্বরূপে তুমি সবতোভাবে অবস্থান কর; 
তোঁমাঁর দ্বারাই জীবগণের তত্বজ্ঞান হবে। তুমি সকল জীবের 
প্রাণরূপে বিরাজ করবে । 

জ্যেষ্টেশ্বরের পশ্চিমে এবং বায়ুকুণ্ডের উত্তরে কশ্যপ-তনয় 
পৃতাত্মার প্রতিষ্টিত পবমানেশ্বর শিবলিঙ্গ মহাদেবের প্রপাদে 
শিবলোক প্রাপ্তির যথার্থ সোপান । 

সেই থেকে পৃতাত্মা হলেন দিকপাল -__গন্ধবতী পুরীর অধীশ্বর | 

গন্ধবতী পুরীর পূর্বে অলকানায়ী পুরী । এই পুরীর অধিপতি 
হলেন মহাদেব-সখা কুবের | 

গণদ্ধয়ের মুখে এই কথা শুনে যার-পর-নাই কুতৃহলী হয়ে উঠল 
শিবশর্মী। - কে এই কুবের ? কীভাবেই বা তিনি দেবদেব মহাদেবের 
সঙ্গে সখ্যতা বন্ধনে আবদ্ধ হলেন ? 

পুণ্যশীল আর সুশীল বললেন, সে এক অপূর্ব কাহিনী । অবিচল 
ভক্তি যে কী অসাধ্য সাধন করতে পারে মহাদেবের সঙ্গে কুবেরের 
সখ্যতাই তার প্রকৃষ্ণ নিদর্শন । 

পুরাকালে কাম্পিল্য নগরে সোমষাজী বেদবিগ্ঠাবিশারদ দীক্ষিত 
যজ্দত্ত নামে স্ত্পপ্তিত এক ব্রাহ্গণ বাঁস করতেন । পাণ্ডিত্য এবং 
সাত্বিকতার গুণে তিনি যেমন ছিলেন রাজান্ুগৃহীত তেমনি নগরের 
প্রতিজনই তাকে দেখত অসীম শ্রদ্ধার চোখে । গুণনিধি নামে ছিল 


৪8৫. 


তার চন্দ্রকান্তিতুল্য পুত্র । যথাসময়ে পুত্রের উপনয়ন দিয়ে তাকে 
পাঠালেন গুরুগৃহে বিদ্ভাশিক্ষা গ্রহণের জন্য । বিদ্যা যথেষ্টই আয়ত্ত 
করল গুণনিধি কিন্তু ছুর্ভাগ্যবশতঃ পিতার অজ্ঞাতসারে হ্যতকর্মে 
(জুয়া) আসক্ত হয়ে পড়ল। দিনে দিনে আসক্তি এমন প্রবল হয়ে 
উঠল, যে ভুলেই গেল সে বংশমধাদা, পিতার সম্মান। এমন কি 
অধীত বিদ্যাও বিস্মৃত হয়ে ক্রমশই বেদনিন্দুক হয়ে উঠল। 
তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠতে লাগল দৃযুতকার, আর দূরাচারীর দল। 
মায়ের কাছ থেকে প্রায় জোর করেই অর্থ-সামগ্রী নিয়ে যেত 
বন্ধুত্বের মাশুল দিতে । পিতার ত্রিসীমানায় কখনই যেত না। 
দীক্ষিত যজ্জদত্ত ব্যস্ত নান কাজে+ পুত্রের সঙ্গে বিশ্রাস্তালাপের 
সময় ভার মোটেই নেই । তবুও মাঝে-মাঝেই ব্রান্মণীর কাছে খোজ 
নেন। ব্রাঙ্মণীও স্লেহবশতঃ প্রকৃত ঘটন! গোপন রেখে এমন সব 
কথা! বলতেন যাতে যাজ্কিক খুশীই হতেন ,বা আত্মতৃপ্তি পেতেন 
এই ভেবে যে পুত্র গুণনিধি কালে প্রকৃতই গুণনিধি হয়ে তার 
স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে । ব্রাহ্মণকে সান্ত্বনা! দিলেও ব্রাহ্মণীর কিন্তু 
মনস্তাপের শে ছিল না। গুণনিধির যখন ষোল ব্ছর বয়স 
পিতা তার বিবাহ দিয়ে তাকে গৃহস্থও করলেন । জননী অনেক 
করে তাকে বোঝালেন, মৃহ শাসনও করলেন । কিন্তু প্রবল 
দ্যুতাসক্ত গুণনিধিকে কোনমতেই আয়ত্তে আনতে পারলেন না। 
দ্রেখতে-দেখতে উন্রিশ বছর বয়স হল গুণনিধির । ঘরে রূপে- 
গুণে বংশমর্ষদায় অতুপনীর1 খোড়শী আর তাগ। ৩বুণ্ড মানসিকতা, 
তার আকৃষ্ট হল না স্ত্রীর প্রতি। ঘরের যাবতীয় দূলভ সামগ্রী 
সে প্রায় জোর করেই নিয়ে যেত দৃযুতক্রীড়ায় আর ফিরে আসত 
নিঃব্য হয়ে। নীরবে ত্রান্মণী পুত্রের এই অত্যাচার এবং অবিমিশ্র- 
কারীত! সন্থ করে যেতেন কোপন-স্বভাব দীক্ষিতের ভয়ে 
আর ধিক্কার জানতেন ভাগ্যকে । 

দীক্ষিত একদিন প্রত্যাগমণ করছেন রাজভবন থেকে । পথিমধ্যে 
দেখলেন এক সর্বপরিচিত দ্যুতকারের আঙ্গুলে নবরত্বময়ী এক অপুব 


রর 5৩ 


আংটি । , বিস্মিত হলেন দীক্ষিত--এই আংটি যে তিনিই ব্রাক্মণীকে 
দিয়েছিলেন উদ্বন্ধনের (বিবাহের ) পর। সেই আংটি' এর হাতে এল 
কীভাবে ? জিজ্ঞাসা করলেন দ্যুতকারকে -কোথা থেকে পেলে তুমি 
এই আংটি ? দযাতকার বলল--কেন, আপনার ছেলেই ত আজ জুয়া- 
খেলায় হেরেগিয়ে আমায় এটা দিয়ে গেছে। গতকাল দিয়ে গিয়েছিল 
তার মায়ের একটা ভাল শাড়ী । আপনার ছেলের মত জুয়াখোর 
আর দ্বিতীয় নেই। হেরে গিয়ে কত সামগ্রী যে কতজনকে দিয়োছে, 
তার সীমা নেই । কেন, আপনি এসবের কিছু জানেন না? লজ্জায় 
মাথ। হেট হয়ে গেল বাজ্জিকের। বস্ত্রাঞ্চলে মুখ-মাঁথা ঢেকে কোন- 
রকমে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেই ডাকলেন ব্রাঙ্ধণীকে । জিজ্ঞেস 
করলেন--গুণনিধি কোথায় ? আর উদ্ধদন্ধনকালে যে নবরত্বময়ী 
আংটি তোমায় দিয়েছিলাম, সেটা কোথায় ? কোথায় সেই উৎকৃষ্ট 
রঙীন শাড়ী, দক্ষিণদেশীর কাংস্তপাত্র, গৌড়দেশীয় তাত্রঘটী, হস্তিদস্ত 
নিমিত পালঙ্ক? বহুবিধ অলঙ্কারভূষিত সেই শালভঞ্জিকা পুতুলই 
বা কোথায় গেল ? 

পতিসেবার জন্য মধ্যাহকালীন পক্কান্ন সেবনে ব্যস্ত ছিলেন তখন 
ব্রাহ্মণী। এখনি বুঝি কোন অঘটন ঘটে যায় এই আশঙ্কায় 
বক্ষম্পন্দন তার দ্রুততর হয়ে উঠল । আহারপৰ সমাধা হবার পর 
তিন এর উত্তর দেবেন ; স্বামীকে অনুরোধ জানালেন এই মুহুর্তে 
শাস্ত হতে । কিন্ত স্থির-প্রতিজ্ঞ শাস্ত্রজ্ঞ ! কৃল-দূষক কদাচারী পুত্র 
অপুত্রকেরই সমান। জীবিত হলেও পিতা দীক্ষিতের কাছে সে 
সৃত। স্বামীর সমীপে সব কিছু গোঁপন করে রাখার অপরাধে ভিনি 
ব্রাহ্মণীকে ভৎসনা করে বললেন--যাঁও, তিল, জল আর কুশ নিয়ে 
এস। যদিও সে আমার একমাত্র পুত্র, তবুও আমার কাছে সে 
মৃত। তার উদ্দেশ্যে তিলাপলি দিয়ে নিঃসম্তান হব. এবং কুলরক্ষার 
জন্য আবার দার-পরিগ্রহ করব। এই বলে যাজ্ঞিক সেই দিনই 
এক শ্রোত্রিয়ের কন্তার পাণিগ্রহণ করলেন। সব শুনে, নিঃস্ব, 
নিঃসম্থল গুণনিধিও দেশ থেকে নিষ্্াস্ত হল দিকৃভ্রাম্ত এবং উদ্ভ্রান্ত 


৪৭ 


পথিকের মত। রারবার ধিক্কার দিতে থাকল নিজের অনৃষ্টকে ৷ 
দেশ-দেশাস্তরে ঘোরে গুণনিধি ; ক্ষুধায় তৃষ্তীয় ক্রমশঃই কাতর 
হয়ে পড়ে। এমন কোন বিদ্ভা তার আয়ত্তে নেই, যা দিয়ে সে 
উপার্জন করতে পারে । ভিক্ষা করতেও শেখেনি। নির্বান্ধব দেশাস্তরে 
এমনি যখন ক্ষুধার জ্বালায় কাতর গুণনিধি, হঠাৎ দেখল শিবরাত্তি- 
ব্রতোপবাদী একজন শিবতক্ত শিবপূজা করার জন্য পক্কান্নের 
উপচার নিয়ে বের হল নগর থেকে । তাই দেখে এবং পক্কান্নের 
আঘ্রাণে উৎফুল্লিত হয়ে ভাঁবল-_-শিবপুজ! হয়ে যাঁবার পর রাত্রে 
এই অন্ন' আমি গ্রহণ করব। এই মনস্থ করে গুণনিধি তার 
পশ্চাঁদন্ুনরণ করল । মন্দিরে উপবেশন করে সে দেখল ভক্তের 
পুজা । নৃত্য-গীত শেষে যখন ক্ষণকালের জন্য ভক্ত নিদ্রাগত হল, 
সেই অবসরে উপচার নেবার জন্তে গুণনিধি প্রবেশ করল গর্ভমন্দিরে। 
প্রায় নিষ্ররভ দীপের আলোয় ভালভাবে কিছু দেখা বাচ্ছে না দেখে, 
নিজের বস্ত্াঞ্চল ছি'ড়ে সলিতা করে দীপশিখাকে উজ্জ্বল করে 
তুলল । তারপর পক্কান্ন গ্রহণ করে ত্বড়িৎ পদে যেই মন্দির থেকে 
বের হতে যাবে, পদতলাঘাতে. তাঁর জেগে উঠল একজন এবং 
চীৎকার করে উঠল “চোর” “চোর বলে। সঙ্গে লে পুররক্ষকের৷ 
ধরে ফেলে তাঁকে এমন প্রহার করল, যে সেই আঘাঁতেই সে 
পঞ্চত্বপ্রাপ্ত হল। পক্ান্ন গ্রহণে উদরপূর্তার অবকাশও (পল না। 
মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই যমকিক্করেরা এসে তাকে পাশবদ্ধ 
করল কুলাঙ্গার, ইন্দ্রিরাপঞ্ গুশনিধিকে যমপুরীতে নিয়ে যাবার 
জন্তে। ঠিক সেই সময়েই কিক্ষিণীজাল শৌভিত দিব্য-বিমান নিয়ে 
গুণনিধিকে নিয়ে যাবার জন্তে সেখানে এসে উপস্থিত হলেন 
শিবদূতেরা। তাদের দেখে সম্ত্রমে নতশির হল ঘযমকিন্করেরা। 
বিস্মিত হল এই ভেবে, কী এমন ধর্মকর্ম, পুণ্য গুণনিধি করেছে 
যে সে যাবে শিবলোকে ! ব্রাঙ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেও ব্রাঙ্মণের 
ক্রিয়াকাগুহীন, দৃতাসক্ত, মছপাঁয়ী, ছুঃশ্চরিত্র, তছপরি শিব-নির্মীল্য 
যারা দান করে, তাদের যে স্পর্শ করে, লঙ্ঘন করে বা শিব-নির্মাল্য 


৪৮ 


যে ভোজন করে, তাদের উপযুক্ত স্থানই হল যমপুরী। কিন্তু 
ধর্মের গুঢ়তত্বের দ্বারা শিবদূতেরা' যমকিঙ্করদের ভ্রান্তি অপনোদন 
করে বললেন,_- তোমরা শুধু এগুলিই দেখেছ । দেখনি কী, নিজ 
বন্ত্রাঞ্চল পিয়ে গভগৃহের দীপ-বত্তিকা উজ্জল করে দিয়েছিল; 
ভক্তেরা বিধিসহকারে যে পুজা করেছিল, অনন্তচিত্ত হয়ে সে তা 
নিরীক্ষণ করেছিল, ক্ষুধার জ্বাল! সত্বেও; শোননি কী তার মুখে 
শিবনাম । এই সব শুনে যমকিস্করেরা শৃণ্যহাতে ফিরে গেল। 

শিবলিঙ্ষের উপরে,বিশেষ করে দীপবন্তিকা' প্রজ্বলনের মহাপুণ্যে 
সেই গুণনিধি জন্মান্তরে দম-নাঁমে কলিঙ্গাধিপতি অরিন্দমের পুত্ররূপে 
জন্মগ্রহণ করে। পিতা অরিন্দমের মৃত্যুর পর দম পিতৃ-সিংহাসনে 
অভিবিক্ত হয়েই গ্রামাধিপদের ডেকে তার আদেশ জানিয়ে 
দিলেন__যস্ত যস্যাভিতো গ্রামং ষাবস্তশ্চ শিবালয়াঃ | তত্র তত্র 
সদ দীপো গ্োতনীয়োইবিচারিতম্‌। মমাজ্ঞাভঙ্গঈদোষেণ শিরশ্ছেৎ- 
স্তাম্যসংশয়ম্‌।--নিজ নিজ গ্রামে যত শিবমন্দির আছে, অবিচারিত- 
ভাবে প্রতি শিবালয়ে রাত্রে দীপ দান করবে । আমার এই আদেশ 
যে লজ্ঘন করবে সে দগুনীয় হবে, যে প্রতিপালন করবে না, তাঁর 
শিরশ্ছেদ হবে। 

ভয়ে প্রতি শিবালয়ে দীপ জ্বলতে শুরু করল। আর নিজেও 
সংস্কারবলে দীপদান ছাড়া অন্ত কিছু জানতেন ন! বলে, জীবনব্যাপী 
অসংখ্য দ্রীপ দান করেছিলেন। সেই পুণ্যবলে মহাদেবের প্রসাদে 
তিনি দিকপতি্ূপে এই অলকাপুরীর আধিপত্য লাভ করেছিলেন । 

এরপর গণদ্বয় শিবশর্মীকে বললেন, কিরূপে কুবের মহাদেবের 
পরম মিত্রত্ব লাভ করেছিলেন। পাদ্ম নামক পুর্বকল্পে ব্রহ্মার 
মানসপুত্র পুলস্ত্যের বিশ্বশ্রবা নামে এক পুত্র ছিল। সেই বিশ্বশ্রবার 
পুত্র হল বৈশ্রবণ। এই বৈশ্রবণ উগ্র তপন্তার বলে মহাদেবকে 
প্রসন্ন করে বিশ্বকর্মীর-নিমিত এই -অলকাপুরীর আধিপত্য লাভ 
করেছিলেন। অনন্তর পাদ্পকল্প অতীত হলে মেঘবাহনকল্পে 
যজ্জদত্তের পুত্র ধনদর মহাদেবের উদ্দেশে দীপদানের তুল্য আর কোন 
৪০৯ 


কাশী--৪ 


ব্রত নেই অবগত হয়ে তপস্তার জন্য এলেন বিশ্বেশ্বরের পুরা 
কাশীধামে । সেখানে একটি শস্তুলিজ স্থাপন করে মহাদেবের সঙ্গে 
অভিন্নতারূপ দীপাধারে অমলা ভক্তিবূপ দ্বুত ঢেলে, হ্ৃদয়রূপ 
রত্রদীপের বতিকায় তপস্তারূপ অগ্নি প্রজ্বলিত এবং নিশ্চল ধ্যানরূপ 
তেজ আর নির্মল জ্ঞানরূপ নির্মল জ্যোতি বিকীরণ করে তপস্তা 
করলেন দশলক্ষ বৎসর | প্রাণবায়ুর অবরোধে নিবাত ধনদ হলেন 
অস্থিচর্মসার। এমনি এক সময়ে বিশালাক্ষী দেবীকে নিয়ে স্বয়ং 
বিশ্বেশ্বর আবিভূতি হলেন সেখানে । ধ্যানভঙ্গ হল তপম্বীর | 
কোটি সর্বাধিক প্রভায় দেদীপ্যমান উমাপতি বিশ্বনাথের দিকে 
নিমেষমাত্র তাকিয়েই আর চেয়ে থাকতে না পেরে চক্ষু নিমীলন করে 
প্রার্থনা জানালেন_হে দেব, আমাকে দৃষ্টি-সামর্থয দিন, যাঁতে 
আপনার শ্রীচরণ দর্শন করতে পারি । দেবদেব উমাপতি করতল- 
স্পর্শে তাকে দৃ্টি-সামর্থ্য দান করতেই তপন্বী প্রত্যক্ষ করলেন । 
উমাকে দেখে তার দিকে নিণিমেষ লোচনে তাকিয়ে ধনদ বারবার 
ভাঁবতে লাগলেন__কে এই অপরূপা রমণী । আহা কী রূপ! কী 
প্রেম! কী শ্রী! কী সৌভাগা! এমনিভাবে যখন দেখছেন 
আর ভাবছেন তপন্বী, ভার বাম চোখ বিনষ্ট হয়ে গেল। তবুও 
তিনি তাকিয়ে রইলেন একচোখে। তপন্বথীকে তদবস্থায় দেখে 
ঈষৎ ক্রুদ্ধ হয়ে উমা অভিযোগ জানালেন মহাদেবকে । শুনে ঈষৎ 
হেসে পাবতীকে মহাদেব বললেন-ভূল ভেব না পার্বতী । তপস্থী 
তোমার রূপ-সৌভাগ্যের প্রতি ঈর্ধাপরায়ণ নয়। বলতে পার, 
তোমার তপৈশ্বধের প্রতি অস্ুরা-সম্পন্ন। উমা, এ তপস্থী 
তোমার পুত্র। তারপর তিনি যজ্ঞত্ত-তনয়কে সন্তষ্টচিত্তে 
বললেন-__-“নিধীমামধিনাথস্তং গুহাকানাং ভবেশ্বরঃ॥ যক্ষাণাং 
কিন্নরাণাঞ্চ রাজ। রাজ্ঞাঞ্চ সুব্রত। প্তিঃ পুণ্যজনানাঞ্চ সর্বেষাং 
ধনদো ভব ॥ মরা সধ্যঞ্চ তে নিত্যম্‌ বতস্তামি চ তবাস্তিকে । 
অলকাং নিকষ মিত্র তব প্রীতি বিবৃদ্ধয়ে ॥ € ১৫৫-৫৭ )- তুমি 
নিধিসমূহ আর গুহাকগণে৭ ঈশ্বর হও । হে সুব্রত! যক্ষ, কিন্নর 


৫৩ 


আর রাজগণের. অধিপতি হও। তুমি হবে পুণ্যজনের গতি আর 
সর্বজীবের ধনদাতা। আমার সঙ্গে তুমি সখ্যতার বন্ধনে বদ্ধ হলে। 
মিত্র, তোমার গ্রীতিবৃদ্ধির জন্য আমি সর্বদাই তোমার অলকাপুরীর 
কাছেই থাকব ।--এখন ওঠ, এই দেবী পার্বতী তোমার জননী । 
এ'র প্রসাদ লাভ কর। দেবীও অলকেশকে এই বলে বর দিলেন__ 
মহাদেবে তোমার ভক্তি নিশ্চল হক। হে পুত্র! বামনেত্র নষ্ট 
হওয়ার জন্য তুমি একলিঙ্গ' নামে খ্যাত হবে আর যেহেতু আমার 
রূপের প্রতি তুমি ঈর্ষাপ্রযুক্ত হয়েছিলে, তাই তুমি পরিচিত হবে 
'কুবের' নামে। তোমার প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গ কুবেরেশ্বর লিঙ্গরূপে 
সাধকগণের সিদ্ধিদাতা হবে । 

এইভাবে বর প্রদান করে মহেশ্বর দেবী পার্বতীকে নিয়ে 
বিশ্বেশ্বরের পরমধামে অস্তহিত হলেন। 


[ অধ্যায় ১৪ ] 


এই অলকাপুরীর পুরোভাগে ঈশানপুরী । একেই বলে রুদ্রপুর | 
ব্মরণে-মননে সবদা ধারা শিব-পরায়ণ, ধার1 সব কিছু শিবপদে সমর্পণ 
করে স্বর্গাভিলাষী হয়ে নিশ্চল তপস্তা করেছেন, তারাই এই রমণীয় 
রুদ্রপুরে রুদ্ররূপে অবস্থিত। ইঈশানেশ্বরের অন্ুকম্পায় ত্রিশুলধারী, 
জটাজুটমণ্ডিত অজ,একপাদ, অহিব্রপ্ন প্রভৃতি একাদশ রুদ্র একত্রচারী 
এবং জঈশানদিকের অধিপতি হয়ে এই পুরে থেকে সদাজ্াগ্রত 
দৃষ্টি দিয়ে আটটি পুরকে রক্ষা করছেন, সেই সঙ্গে শিবভক্তদের 
অভিলষিত বর প্রদান করছেন । কিন্তু, হে দ্বিজ শিবশর্মী ! এই 
একাদশ রুদ্রকেও কিন্তু ঈশানেশ্বরের অন্থুকম্পা লাভের জন্য 
বারাণসীতে ঈশানেশ নামে লিঙ্গ স্থাপন করে স্বকঠোর তপস্তা করতে 
হয়েছিল। এই কথা বলে গণদ্য় ঈশানেশ লিঙ্গের মাহাত্ম্য কীর্তন 
করতে গিয়ে বললেন--ঈশানেশং সমভ্যর্চয কাশ্টাং দেশাস্তরেঘপি ॥ 


৫১ 


বিপন্নাস্তেন পুণ্যেন জায়ন্তেহত্র পুরোহিতাঃ ৮ কাশ্ীতে ঈশানেশের 
অর্চন। করে দেশান্তরে দেহাস্ত হলেও, সেই পুণ্যবলে তিনি এখানে 
পুরোহিতের মধাদায় প্রতিষ্টিত হয়ে থাকেন। 

বিষুর গণদ্বর পুণ্যশীল আর সুশীলের মুখ থেকে এইসব মনোরম 
কথা শুনতে-শুনতে এগিয়ে চলেছে ব্যোমপথে শিবশম্নার বিমান । 
দেখল, নিপ্ধ চন্দ্রকিরণে উদ্ভাসিত এক মায়াময় জগৎ। সমস্ত ইন্দ্রিয় 
তার যেন প্ুলকে উৎফুল্লিত হয়ে উঠল । জিজ্ঞাসা করল-_-এটি 
কোন, লোক ? 

গণদ্বর বললেন__-“শিবশন্মন্‌ মহাভাগ লোক এষ কলানিধেঃ। 
পীযুষবধিভির্ধস্য করৈরাপ্যাফতে জগৎ ।”__হে মহাভাগ শিবশর্মা, 
ধার অমৃতবর্ধী কিরণসমূহের দ্বারা সমস্ত জগৎ আনন্দিত, এই সেই 
চক্রলোক । 

পুণ্যশীল এবং সুশীল এরপর শিবশর্মীকে শোনালেন দ্বিজরাজ 
চন্দ্রের বিবরণ । 

পুরাকালে প্রজাপতি ব্রহ্মা প্রজান্যপ্টির মানসে এক পুত্র উৎপন্ন 
করলেন। সেই পুত্র ছিলেন মনসিজ (অর্থাৎ মনে মনে সঙ্কল্প করা 
মাত্রই জাত। ) তিনি হলেন অত্রিমুনি। আমরা শুনেছি, তিনি 
দিব্য পরিমাণে তিন হাজার বছর ছৃশ্চর তপস্যা করেছিলেন । সেই 
সময় তাঁর রেতঃ উধ্বগামী হয়ে সোমরূপে পরিণত হয়ে ছুই নেত্র 
দিয়ে নির্গত হয়। বিধাতার আদেশে দশটি দেবী সেই তুরস্ত 
তেজসম্পন্ন রেতঃ গ্রহণ করল । কিন্তু গভধারণে অসমর্থ হলে "সাম 
পৃথিবীতে নিপতিত হল । ব্রহ্মা সোমকে নিপতিত দেখে, তৎক্ষণাৎ 
তাকে তার দিব্য বিমানে তুলে দিলেন । তারপর সাগরান্ত পৃথিবীকে 
একুশবার প্রদক্ষিণ করলেন। এই সময় ভূতলে তার যতটুকু তেজ 
ক্ষরিত হয়েছিল, ৩-ই ওষধিরূপে হল পৃথিবীর পোবক। 

এরপর সৌম ত্রক্মতেজে বধিত হয়ে এলেন পরম পবিব্র অবিমুক্ত 
ক্ষেত্র কাঁশীধামে । সেখানে সোম অমৃতোদ-নামে একটি কুপ প্রতিষ্ঠা 
করেছিলেন, যার জলে নান করলে মানুষ অজ্ঞান-অন্ধকার মুক্ত হয় 


৫ 


আর চন্দ্রেশখবর শিবলিঙ্গ স্থাপন করে অনন্ত-মনে শতপন্মসংখ্য। 
( একশ” কোটি বছরে এক পদ্মসংখ্যা) পরিমিত বৎসর তপস্যা 
করেছিলেন। দেবদেব গ্রীত হয়ে জগৎ-জীবনদাঁয়িনী চান্দ্র শ্রেষ্ঠ 
কল। শিজ মস্তকে ধারণ করলেন। দক্ষশাপে মাসান্ডে চন্দ 
ক্ষয়প্রা্ধ হলেও এই কলার দ্বারাই পুনরায় পুণ৩1 লাভ করে 
থাকেন। ভাই নয়, তারই প্রনাদে তিনি বীজ, ওষধি এবং জল ও 
ব্রাহ্মণদের উপর অধিপত্যের অধিকার পেয়েছিলেন । চন্দ্র চান্দ্েশ্বর 
লিজেপ সামনে শুধু ছষ্ষ তপস্যা পয়, শত সহস্র দক্ষিণা-সহকাখে 
রাজস্থয় যজ্ঞ-ও কথেছিলেন। সেই যজ্ঞে খত্বিচ হয়েছিলেন 
হিবণ্যগভ্ ব্রহ্মা, অত্রি আর ভূগু মুর্ন আর সদস্য হবেছিলেন স্বয়ং 
হণ, বহুষুনি পরিবৃত হয়ে । সেবা করেছিলেন সিশীবালি, কুহু, ছ্যতি, 
পুষ্টি, প্রভা, বস্থু, কী, ধৃতি আপ লক্ষ্মী । দেবী উমার সঙ্গে রুদ্র 
পিতুষ্ট হয়ে, সোমমূঠি শত্তুর বেশে দেব চন্দ্রকে সোম" নামে ভূষিত 
করে এই বর দিয়েছিলেন £ িং মমাস্য পরা মুতিরিত্যু্তস্তত্ত- 
পৌঁবলাৎ। জগত্তবোদয়ং প্রাপ্য ভবিষ্যতি স্থখোদয়ম.॥ তৎ 
পীযুষম যৈহস্ভৈঃ স্পষ্টমে তচ্চরাচরম,। ভানুতাপপরীতঞ্চ পরাং গ্লানিং 
বিহাস্যঠি || (৩৮-৩৯ )- ত্রেলোক্যের আনন্দের জন্য তুমিই আমার 
শ্রেষ্ঠ মৃত্তি, সমস্ত জগৎ তোঁমার উদরে সুখী হবে। তপন তাপে 
তাপিত এই বিশ্বচরাচর, তোমার অমৃতবর্ধী কিরণস্পর্শে শীতল হবে। 
মহাদেব এই বলে চন্দ্রকে আরও বর দিলেন_-যে স্থানে তুমি আমার 
নামে চন্দ্রেশ্বর.লিঙ্গ প্রতিষ্ঠ। করেছ, এটি হল সেই সিদ্ধ যোগীশ্বরী পীঠ 
যেখানে সুর, অন্থুর, গন্ধব, নাগ, বিছ্ভাধর, রাক্ষস, গুহাক, যক্ষ, কিন্নর 
এবং নরলোকের সপ্তকোটি সিদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছে। পরম গুস্া 
এই সিদ্ধপীঠে তপস্তা কৰে তৃমিও সেই সুদৃর্পভ সিদ্ধি লাভ করেছ। 
তোমার প্রতিষ্ঠিত চন্দ্রোদ-কুপ চন্দ্রোদ তীর্ঘরূপে গয়াতীর্ঘের সমতুল 
ফল প্রদানকারী হয়ে থাকবে । 

এই সব বর প্রদান করে দেবদেব মহেশ্বর কাশীপুরীতে অস্তৃহিত 
হলেন। 


৫৩ 


ভ্রমণশ্রমহারী মনোরম কাহিনী শুনতে-শুনতে বিষ্ণুর ছুই গণ' 


পুণ্যশীল আর সুশীলের সঙ্গে শিবশর্মা চন্দ্রলোক অতিক্রম করে এল 
নক্ষত্রলোকে | 


| অধ্যায় ১৫ ] 


মুনিবর অগন্ত্য সহধমিণী লোপামুদ্রাকে বলে চলেছেন দ্বিজ 
শিবশর্দার সেই বিচিত্র কাহিনী । গণদ্বয়ের বধিত লোক-লোকের 
বর্ণন। কৌতুহলী করে তুলেছে লোপামুদ্রাকেও। 

নক্ষত্রলোকের দর্শনমাত্রেই জিজ্ঞাস শিবশম্মীকে গণদয় 
বললেন_ . 

পুরাকালে স্থগ্রি-অভিলাধী ব্রহ্মার অন্ধষ্ঠ-পৃষ্ঠ হতে প্রজা- 
স্্টিতে নিপুণ দক্ষ নামে এক প্রজাপতি উৎপন্ন হয়েছিলেন। তার 
তপস্যার ফলে রোহিনী প্রভৃতি ষাটটি অপরূপা কন্ঠা জন্মগ্রহণ 
করেছিল। তারা কাশীতে গিয়ে সঙগমেশ্বরের কাছে নক্ষত্রেশ্বর শিবলিজ 
প্রতিষ্ঠা করে সহজ দিব্য-বৎসর সোমমূত্তি মহাদেবের কঠোর তপস্তা 
করেছিল, যা ছিল পুরুষেরও ছুঃসাধ্য । বিশ্বেশ্বর মহাদেব তাদের 
তপস্ঠায় তুষ্ট হয়ে দর্শন দিয়ে বললেন-__তোমরা নারী হয়েও পুরুষেরও 
অসাধা যে স্ুকঠোর তপস্তা করেছ, তার জন্তে তোমরা স্ত্রী হয়েও 
ইচ্ছাঁধীন পুরুষ-যূতি ধারণ করতে পারবে এবং “ক্ষত্রঁ নামে 
অভিহিত হয়ে চক্দ্রলোকের উপরে অবস্থান করবে । তারকারাজির 
কাছে তোমর। হবে মাননীয় মেষাঁদি রাশিগণের উত্তম উৎপত্তি স্থান। 
দক্ষতনয়ারা বলল--দেব, আপনি যদি '্রীতই হয়ে থাকেন, তাহলে 
আমাদের এই অভিলাষ পুরণ করুন, যে আমরা যেন আপনার 
তুল্য রূপবান, আপনার তুল্য ভবতাপহারী পতি লাভ করি। 

বিশ্বেশ্বর তাদের মনোবাঞ্ছ। পুরণ করে বললেন--ষধীনাং 
স্ধায়াশ্চ ব্রাহ্মণানাঞ্চ যঃ পতিঃ। পতিমত্যে ভবত্যোইপি তেন পত্যা 


6৫৪ 


শুভাননা ॥- হে শুভাঁননা, যিনি ওষধি, সুধা এবং ব্রাহ্মণগণের 
পতি (সেই দেব চন্দ্র), তোমাদের পতি হবেন । 

বিশ্বেশ্বরের আদেশে একমাত্র নক্ষত্র-পুজক, নক্ষত্র-ব্রতচারীরাই 
এই নক্ষত্রলোকের অধিৰাসী হবার যোগ্য আর কাঁশীতে যারা 
নক্ষত্রেশ্বরের দর্শন করবে, তাঁদের যাবতীয় গ্রহবৈগুণ্য দূর হয়ে যাবে । 

'গণদ্ধয়ের মুখে নক্ষত্রলোকের বিবরণ শুনতে-শুনতে শিবশম্নীর 
নয়নপথে আবদ্ধ হল বুধালোক । 

পণ্যশীল এবং স্থশীল শিবশর্মীকে শোনালেন বুধের জন্মবৃত্তান্ত । 

অত্রি মুনির নয়নোৎপন্ন পুত্র, ব্রহ্মার পৌত্র, সমস্ত ওষধি এবং 
জেটোতিঃসমূহের অধিপতি দ্বিজরাজ চন্দ্র, স্বয়ং মহাদেব স্বীয় উত্তমাঙ্গে 
ধার একটি কল। ধারণ করেছেন, সেই দেব চন্দ্র এশ্বধ্যমদে একবার 
এমনি মত্ত হয়ে উঠেছিলেন যে স্বীয় পুরোহিত, গুরু এবং নিজ 
পিতৃব্য অঙ্গিরার পুত্র বৃহস্পতির পত্বীকে কামাসক্ত হয়ে একবার 
হরণ করেছিলেন। বৃহস্পতির পত্বী তারা ছিলেন অপরূপা সুন্দরী । 
দেবতা! এবং খষির! বারবার চন্দ্রকে নিষেধ করেছিলেন । কিন্তু 
একদিকে কামাসক্তি যাকে একমাত্র দেবাদিদেব মহাদেব ছাড়। 
আর কারও পক্ষে জয় করা অসম্ভব, তার উপর এশ্বর্য্যমদমত্ততা 
চক্ত্রকে এমনিভাবে গ্রাস করেছিল যে ছিনি তখন হিতাহিত 
জ্কানশৃশ্য হয়ে পড়েছিলেন । 

দেবতারা সকলে বারবার অন্থুরোধ জানালেন চন্দ্রকে, দেবগুরু 
বুহস্পতিকে তিনি যেন অবিলম্বে তারাকে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু 
চন্দ্র তাদের অনুরোধে কর্ণপাত না করে ভোগাসক্তির প্রাবল্যে 
ভেসে গেলেন । 

যখন কোন কিছুই চন্দ্রকে সু'যত করতে পারল না, তখন 
রুত্রদেব তার সুবিখ্যাত 'অজগব” নামে ধনু তুলে ধরলেন চঞ্রের 
দিকে । চক্দ্রও সঙ্গে সঙ্গে প্রতিআক্রমণ করলেন মহাঁদেবকে 
ব্রহ্মশির' নামে মহান্ত্র নিক্ষেপ করে। ফলে সুরু হল তুমুল যুদ্ধ। 
শেষে তারকাময় সেই যুদ্ধ এমনি প্রলয়ঙ্কর হয়ে উঠল যে অকালে 


৫৫ 


পৃথিবী বুঝি ধ্বংস হয়ে যায়। স্বয়ং বিধাতা ব্রহ্মা তখন সম্বর্ত নামক 
রুত্রকে যুদ্ধ থেকে নিবৃত্ত করে, চন্দ্রের কাছ থেকে তারাকে উদ্ধার 
করে বৃহস্পতিকে সমর্পণ করলেন । বৃহস্পতি তাঁরাকে গর্ভবতী 
দেখে যথেষ্ট ধিক্কার জানালেন পতীকে । জিকা কাশ তৃণরাশিতে 
তারা সেই গর্ভ ত্যাগ করতেই ভূমিষ্ঠ হন দেবকান্তি-বিশিষ্ট এক- 
পুত্র । দেবাশ্রেষ্ঠটগণ সংশরিত-চিত্তে তারাকে জিজ্ঞেস করলেন-_ 
সত্য করে বল, এ পুত্র কার ওরসজাত? লজ্জায় তারা কিছু না 
বলে অধোবদন হয়ে রইলেন! সম্ভজাত অনিতঙেজা সেই বালক 
গর্ভধারিণীকে অভিশাপ দিতে উদ্যত হতেই স্বরং ব্রহ্মা তাকে নিবৃত্ত 
করে তারাকে যখন পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, তারা তখন জানালেন 


--এ পুত্র চন্দ্রের। ব্রন্মা নবজাতকের মস্তক আস্রাণ করে 'ভার 
নাম রাখলেন “বুধ? । 


বুধ এরপর পিতা মোমের অনুমতি নিয়ে কাশীতে গিয়ে 'বুধেশ্বর? 
মহালিঙ্গ স্থাপন করে চন্দ্রশেখর মহাদেবের ধ্যানে মগ্ন হলেন। 
তপন্থায় অযুত বৎসর অতিত্রান্ত হবার পর বিশ্বভাবন 
মহাদেব মহালিঙ্গ হতে আবিভূ্তি হয়ে বুধকে বর যাক্রা করতে 
বললেন। পিণাকপানি মহাদেবের দর্শনে উৎফুল্লিত বুধ স্ততিবাক্যে 
দেবদেবকে প্রীত করে শুধু বললেন--আপনি আমাকে এই বর দিন, 
যেন আপনার চরণকমলে আমার একান্ত ভক্তি থাকে । 


পরিতুষ্ট মহাদেব বললেন--“রৌহিণেয় মহাভাগ সৌম্য সৌম্য- 
বচোনিধি। নক্ষত্রলোকাছুপরি তব লোকো ভবিষাতি। মধ্যে 


সর্ধগ্রহাণাঞ্চ সপধ্যাং লঙ্ষসে পরাম,॥ ত্বয়েদং স্থাপিতং লিঙ্গং 
সর্ধেশং বুদ্ধিদায়কম,। ছুর্ববদ্বিহরণং সৌম্য ত্বল্লোকবসতিপ্রদম.॥ 
(৬০-৬২)।-_হে রৌহিণেয়! হে মহাভাগ ! হে সৌম্য, সৌম্য- 
বচছোনিধে ! নক্ষত্রলোকের উপরে হবে তোমার লোক । গ্রহগণের 
মধ্যে তুমি উৎকৃষ্টতররূপে সম্মানিত হবে। আর তোমার প্রতিষ্ঠিত 
এই লিঙ্গ হবে সকলের বুদ্ধি-প্রদানকারী, ছূর্ুদ্ধি-হরণকারী । 
ভক্তিপরায়ণ ব্যক্তিরাই হবে তোমার লোকের অধিবাসী । 


€৬ 


এই বর প্রদান করে ভগবান শস্তু লিক্ষ মধ্যে অস্তন্থিত হলেন । 
সেই থেকে কাশীতে চকন্দ্রশ্বরের পুর্বে অবস্থিত বুধেশ্বর লিগ দর্শন 
করলে অন্তিমকালেও জীব বুদ্ধি্রংশ হয় না। 


[. অধ্যায় ১৬ ] 

বুধলোক অতিক্রম করে শিবশর্মাকে নিয়ে বিষুর-গণদ্য় পুণ্যশীল 
এবং স্্শীলের বিমান উপস্থিত হল শুক্রলোকে | 

গণদ্বয় শিবশর্মীর সঙ্গে এই লোকের পরিচয় করিয়ে দিয়ে 
বললেন__-এই লোকটি হল দৈত্যগুরু শুঁক্রাচার্ষের ৷ শুক্রাচার্ষের 
অপর এক নাম হল ভার্গব। ইনি স্ুকঠোর তপস্তা করে মহাদেবের 
কাছ থেকে লাভ করেছিলেন মৃত-সঞ্জীবনী বিষ্ভা, ঘা স্বয়ং মহাদেব, 
পাবতী, কাতিক এবং গণেশ ছাড়া এমন কি দেবগুরু বৃহস্পতিও 
জানতেন না। 

ছূর্ভেন্চ গিরিব্যহ এবং বজধ্যুহের ছুই অধিনায়ক-_-অন্ধক এবং 
অন্ধকরিপু। ছুই জনের মধ্যে একবার তুমুল সংগ্রাম শুরু হলে 
দানবরাজ অন্ধকের মহা-মহা যোদ্ধারা, যারা দৈত্যগুরুর কৃপায় 
সান্ুচর রুত্র ও উপেন্দ্রেরও ত্রাস; ভূপাতিত হতে লাগল। তাই 
দেখে অন্ধক যুদ্ধক্ষেত্র পরিত্যাগ করে শরণাপন্ন হল গুরুদেব 
শুক্রাচার্ধের কাছে। প্রার্থনা-তিনি যেন তার লব্ধ মৃতসপ্ত্ীবনী 
বিচ্তা প্রয়োগ করে তাদের সমুহ-সর্বনাশ থেকে উদ্ধার করেন। 
শিষ্কের প্রার্থনায় দৈত্যগুরু শুক্রাচার্ধয সঙ্গে-সঙ্গে তার সেই বিষ্ধা 
প্রয়োগ করতেই হুণ্ড, তুহগ্, কুজস্ত,পাক, চন্দ্রদমন প্রভৃতি নিপতিত 
দানব-বীরেরা যেন নুপ্তোথিতের গ্তায় জেগে উঠল এবং দানব 
সৈন্যেরা জলপুর্ণ মেঘরাশির মত গর্জন তুলে পুনরায় বিপুল বিক্রমে 
প্রমথ সৈম্যদের আক্রমণ করল । 

যুদ্বস্থলে হতবাক প্রমথ সৈন্যদের নিধিশেষ নিহত হতে এবং 


৫৭ 


শুক্রাচার্ষের এই অদ্ভুত কর্ম দেখে শিলাদ-তনয় নন্দী তৎক্ষণাৎ 
মহাদেবের কাছে গিয়ে সমস্ত বৃত্তান্ত নিবেদন করে বললেন--“যদি 
হাসৌ দৈত্যবরান্সিরস্তান সঞ্ীবয়েদত্র পুনঃপুনস্তান্‌। জয়ঃ কুতো৷ 
নো ভবিতা মহেশ গণেশ্বরানাং কৃত এবং শাস্তি: ॥” (৩২)-হে 
মহেশ ! ইনি (শুক্রাচার্য) যদি বারবার বিনাশপ্রাপ্ত দৈত্যগণের 
জীবন দান করতে থাকেন, তাহলে কিভাবে, এই যুদ্ধে আমরা 
জয়লাভ করব আগ প্রমথগণেরাই বা শান্তি পাবে কোথা 
থেকে ? 

গণশ্রেষ্ঠ প্রির নন্দীর কথা শুনে মহাদেব তাকে বললেন-_ 
“নন্দিন, প্রযাহি ত্বরিভোইতিমাত্রং দ্বিজেন্দ্রবধ্্যং দিতিনন্দনানাম. | 
মধ্যাৎ সমুদ্ধত্য তথানয়াংশু স্তেনো যথা লাবকমণ্ডজাতম্‌ ॥. (৩৪)-- 
নন্দী, শ্ঠেনপক্ষী যেভাবে লাবক-শাবককে নিয়ে যায়, তুমি এক্ষুনি 
গিয়ে ঠিক সেইভাবে দানবদের মধ্যস্থল হতে সেই দ্বিজশ্রেষ্ঠকে 
এখানে নিয়ে এস। মহাদেবের আদেশ পাবামাত্র সিংহ-গর্জনে 
ধাবমান হলেন সেখানে, যেখানে পাশ, অসি, বৃক্ষ, উপল প্রভৃতি 
আয়ুধ হস্তে দানবগন ছুেগ্ বাহ রচনা! ঝরে রক্ষা করছিলেন তাঁদের 
গুরুদেবকে । তাদের পরাস্ত করে গণশ্রেষ্ঠ নন্দী গমনোগ্যত হতেই 
তাকে লক্ষ্য করে শিক্ষিপ্ত হতে থাকল বজ, শূল প্রভৃতি মারাত্মক 
দানব-অক্ত্রশত্্র। নন্দীও মুখনিস্ত অগ্নির সাহায্যে সেগুলি দগ্ধ 
করে, দানবসৈম্তকে মথিত করে ক্মলিত-বেশ, বিচ্যুত-ভূষণ, বিমুক্ত- 
কেশরাশি শুক্রাচার্কে নিয়ে উপস্থিত হলেন মহাদেবের সামনে । 
দেবদেব মহাদেবও মুখব্যাদন করে ফলভক্ষনের ন্যায় শুক্রাচার্ষকে 
উদরসাৎ করলেন । | 

শুক্রাচাষধ এইভাবে হৃত হওয়ায় ভগ্নোগ্ভম হয়ে পড়ল দানব- 
সেনারা । অপরদিকে কুলগুরুকে রক্ষা করতে না-পারার ধিক্কারে 
ক্রোধে প্রজ্জলিত হয়ে উঠল দানব অন্ধক) ্থুদৃঢ় প্রতিজ্ঞা করল 
অন্ধক- যোগিব্যক্তির কর্মবিপাক হতে যেমন জীবাত্মাকে মুক্ত করে 
আমিও তেমনি ইন্দ্রাদি দেবগণের সঙ্গে এই প্রমথ সেনাদের নিহত 


৫৮ 


করে আমাদের গুরুকে যুক্ত করে আনবই। উৎসাহিত করে তুলল 
সেনাদের । শুরু হল তুমুল সংগ্রাম,__-গগনবিদারী শব্দ, অস্ত্রের ঘর্ষণ, 
অশ্বের হ্রেষা, হস্তীর বৃংহতি,-_হতাহতের আর্তনাদ-_-যেন সে এক 
প্রলয়কালীন সংগ্রাম। যখন যুদ্ধক্ষেত্রে চলেছে এমনি ঘোরতর 
সংগ্রাম,তুখন মহাদেবের উদরস্থিত ভার্গব মুনি কোনরকমে নিষ্ঞাস্ত 
হবার পথ খুঁজতে লাগলেন দেবদেবের উদর মধ্যে | খুঁজে বেরাঁলেন 
একশ বছর ধরে। দেখলেন, মহাদেবের দেহমধ্যে সপগ্ডুলোক, 
পাতালসমুহ, ব্রহ্মা, নারায়ণ, ইন্দ্র, অগ্দরাগণের বিচিত্র আলয় ॥ 
দেখলেন প্রমথান্থ্রের সেই ঘোরতর যুদ্ধ, কিন্ত এমন কোন ছিদ্র 
দ্রেখতে পেলেন না, যে পথে তিনি নি্্রান্ত হতে পারেন। তিনি 
তখন শাস্তব-যোগবলে বীর্ধরূপ (শুক্র ) ধারণ করে মহাদেবের 
উদর থেকে নির্গত হয়ে প্রণাম জানালেন মহাদেবকে | উদরস্তাৎ 
হওয়া সত্বেও ছিজশ্রেষ্ঠ জীবিত আছেন দেখে গ্রীত মহাদেব তাকে 
বললেন--শুক্রবনিংশূতো যন্মাত্ক্মাত্বং ভৃগুনন্দন। কন্মণানেন 
শুক্রস্তং মম পুত্রোসি গম্যতামত (৭৬ )-হে ভূগুনন্দন ! তুমি 
শুক্ররূপে আমার জঠর হতে নির্গত হলে, তাই তোমার নাম হল 
শুক্র" আর তুমি হলে আমার পুত্রস্বূপ। এখন যাঁও। 

মহাদেবের উদরমধ্য হতে এইভাবে বিনিজ্্রান্ত হয়ে ভার্গব 
দানব-সেনামধ্যে ফিরে এলে আশ্বস্ত হল দানব-সেনার1 আর তদবধি 
ভূগুনন্দন শুক্রাচার্য নামেই অভিহিত হলেন । 

এই ভূগুনন্দন বহুকাল আগে বারাণসী ধামে গিয়ে শিবলিঙ্গ 
প্রতিষ্ঠা করে, তার সামনে এক কৃপ নির্মাণ করে প্রভূ বিশ্বেশ্বরের 
আরাধনায় নিমগ্ন হয়েছিলেন.। রাঁজচম্পক, ধুতুরা, পদ্ম, কদন্ব, 
নাগকেশর, বিশ্ব, চম্পক প্রভৃতি-শত-সহস্র পত্র-পুষ্প দিয়ে পুজা 
করতেন মহাদেবকে । দ্রোণপরিমিত (এক কমণ্ুলু) পঞ্চাম্বত 
আরও নান! সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে লক্ষবার মহাদেবকে ন্সান করিয়ে, 
চন্দন প্রভৃতি অঙ্গে লেপন করে, নৃত্য, গীত, বেদোক্ত স্তুতি-র দ্বার! 
পাচহাজার বছর তপস্তা করেও যখন মহাদেবের দর্শন পেলেন না, 


৫৯ 


তখন ইক্দ্রিয-সংযম এবং চিত্ত-সংহত করে আর কর্ণধূম পান করে 
মহাদেবের ধ্যানে নিবিষ্ট হলেন। এইভাবে আরও একহাজার 
বৎসর অতিক্রান্ত হবার পর বিরূপাক্ষ মহাদেব দর্শন দিয়ে বললেন, 
হে তপোনিধে ভার্গব। বর চাঁও। পুলকিত ভার্গব বন্দনা করলেন 
মহাদেবকে তাঁর অপুব অষ্টমৃত্্যষ্টক শ্তোত্র দিয়ে, বারবার আভূমি 
প্রণত হতে থাকলেন । তখন মহাদেশ, তার বাছ্দ্ধয় ধরে তাকে 
সন্নিকটে এনে বলেছিলেন,__তোমার কঠোর তপস্যা, অবিষুক্ত ক্ষেত্রে 
লিঙ্গ-স্থাপ্ুন, আরাধনা, নিশ্চল ও অনন্যস্থলভ আচরণ তোমাকে 
আমার পুত্রত্বের অধিকার দিয়েছে । তুমি এই শরীরেই আমার 
দেহে প্রবিষ্ট হয়ে আমার বরে ইন্দ্রিয় পথে নির্গত হয়ে সে অধিকার 
অর্জন করবে । এছাড়াও প্রীত আমি তোমাকে আরও বর দিচ্ছি, 
যে মৃতসঞ্জীবশী বিষ্তা আমি তপোবলে নির্মাণ করেছি” যা ব্রক্মাকেও 
আমি দিই নি, তা আমি তোমায় দিলাম । যে মৃতকে উদ্দেশ্য করে 
তুমি এই বি্ভা প্রয়োগ করবে, সে-ই পুনরুজ্জীবন লাভ করবে । 
আর স্থর্য,অগ্নি ও তারাগণ হতেও অধিক তেজসম্পন্ন সবশুভগ্রহ-রূপে 
তুমি আকাশে দেদীপ্যমান থাকবে | 

_ বিশ্বেশ্বরের দক্ষিণে ভার্গব-প্রতিষ্ঠিত এই শুক্রেশ্বর লিঙ্গের যার! 
ভক্তিসহকারে অর্চনা করে, একমাত্র তারাই এই শুক্রলোকে এসে 
অবস্থান করতে পারে । 


[ অধ্যায় ১৭ - 
শুক্রলোক অতিক্রম করতেই শিবশর্মী দেখলে আর একটি অপূর্ব 
লোক । বিষ্ণুর গণছয় পরিচয় করিয়ে দিলেন শিবশর্মাকে এই 
লোকটির সঙ্গে। বললেন, এটি হল ভূমিপুত্র মঙ্গলের লৌক। ইনি 
কি ভাবে 'মহীন্ুত” খ্যাতি প্রাপ্ত হয়েছিলেন, শুনুন । পুরাকালে 
মহাঁদেব একবার দাক্ষায়ণীর বিরহে উগ্র তপস্তায় প্রবৃদ্ত হয়েছিলেন। 


৬০ 


সেই সময় তপস্তাক্লিষ্ট মহাদেবের কপাল হতে স্বেদবিন্দ্র নির্গত হয়ে 
ভূমিতে পড়েছিল । তা থেকে জন্ম-পরিগ্রহ করল এক লোহিতাক্ষ 
পুত্র । আর ধরণী ধাত্রী-রূপে সেই পুত্রকে লালন-পালন করেছিল । 
তাই মঙ্গল খ্যাত হয়েছিলেন “মহীস্থত'-রূপে । এই মহীশ্থত একবার 
ত্রিলোকের মুক্তিদাত্রী অবিমুক্তক্ষেত্র কাশীতে গিয়ে কন্বলাশ্বতর 
লিঙ্গদ্ধয়ের উত্তরে পঞ্চমুদ্রাময় মহাস্থানে একটি লিঙ্গ স্থাপন করে উগ্র 
তপস্যায় রত হয়েছিলেন। সেই স্থুকঠোর তপশ্চর্যার ফলে, সে- 
সনয়, তার দেহ থেকে প্রজ্জলিত অঙ্গারের তুল্য তেজ নির্গত 
হয়েছিল। সেইজন্য মঙ্গল 'অঙ্গারক' নামে প্রসিদ্ধ এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত 
লিঙ্গ হল মঙ্গারকেশ্বর। তপস্যায় তুষ্ট মহাদেব মঙ্গলকে দিয়েছিলেন 
বিশিষ্ট গ্রহ পদ। বারাণসীধামে এই অঙ্গারকেশ্বরের, ধারা অর্চন! 
করে থাকে, দেহান্তে তারা হয় পরম এশ্বরময় এই লোকের 
অধিবাসী । তাছাড়াও মঙ্গলবার চতুর্থী তিথিতে সববিদ্ববিনাশক 
গজেন্দ্রবদন দেব গণেশেরও জন্ম হয়েছিল । 

ম্গললোক অতিক্রম করতেই শিবশর্মীার নয়নপথে অপরূপ 
দ্যুতিময় আর একটি লোক উদ্ভাসিত হয়ে উঠল। পুণ্যশীল আর 
সুশীল বললেন, এটি হল দ্রেবগুরু বৃহস্পতির পুরী । বৃহস্পতি হলেন 
অঙ্গিরার পুত্র, তাই “আজি রস+ নামেই পরিচিত । স্ত্টিভিলাষী ব্রহ্মার 
মরীচি প্রন্ভৃতি যে অন্নুরূপ সাতজন মানসপুত্র আবিভূতি হয়ে স্বপ্টিকর্মে 
রত হয়েছিলেন অঙ্গিরা ছিলেন ভাদেরই অন্যতম । আঙ্গিরস ছিলেন 
যেমন শান্ত, দান্ত, অক্রোধী, মুছুভাষী অথচ বাকপটু তেমনি রূপবান 
এবং সর্বশান্ত্রে স্ুপপ্ডিত। বূপ-গুণ এবং বুদ্ধির সমাবেশে তিনি 
ছিলেন দেবগণের মধ্যে অদ্বিতীয় ।,এই দিব্যতেজ1 আঙ্গিরস কাশীতে 
গিয়ে শিবলিঙ্গ স্থাপন করে দিব্য পরিমাণে দশ হাজার বছর স্থুকঠোর 
তপস্যা করার পর তেজোরাশিরূপে বিশ্বভাবন বিশ্বেশ্বর লিঙ্গোপরি 
আবিভূতি হয়েছিলেন। আঙ্গিরস তখন পুলকিত-চিত্তবে এমন একটি 
স্বললিত স্তোত্রে দেবদেবের.বন্দন1 করেছিলেন যে ত্রিগুণময় হয়েও 
তিগুণাতীত মহাদেব অত্যন্ত প্রীত হয়ে সেই স্তোত্রের নাম 


৬১ 


' রেখেছিলেন “বায়ব্য” স্তোত্র । বৃহৎ-তপস্যা1 করেছিলেন বলে মহাদেব 
অঙ্গিরসের নাম রেখেছিলেন “বৃহস্পতি” আর যেহেতু লিঙ্গার্চনার ফলে 
তিনি মহাদেবের জীবনম্বরূপে পরিণত হয়েছিলেন তাই ভ্রিলোকমধ্যে 
তিনি হন 'জীব' | 

মহাদেব কিন্তু আঙ্গিরসের সববিধ আচরণে এমনি 'প্রীত 
হয়েছিলেন যে ত্রহ্মাকে ডেকে তাকে দেবগণের গুরুরূপে অভিষিক্ত 
করার আদেশ দিয়েছিলেন। মহাদেবের আজ্ঞায় ততক্ষণাৎ তাকে 
আচাধপদে, বশিষ্ঠাদি খাষগণ তাকে সুরাচার্ধের পদে সানন্দে, মহা- 
সমারোহের সঙ্গে বরণ করে নিয়েছিলেন । তদবধি বৃহস্পতি হলেন 
দেবগুর | মহাদেবের অন্ুজ্ঞায় কাশীতে চন্দ্রেশ্বর লিঙ্গের দক্ষিণে ; 
বীরেশ্বর লিঙ্গের নৈখতে বৃহস্পতির প্রতিষ্ঠিত বৃহস্পতীশ্বর লিঙ্গের 
যারা অর্চনা করে তারাই একমাত্র বৃহম্পতিলোকে বাস করার 
অধিকারী । কলিযুগে এটি হবে গুপ্তলিঙ্গ ; এই লিঙ্গের দর্শন 
মাত্রেই ঘটাবে প্রতিভার বিকাশ । 
সিডি মুগ্ধচিত্ত শিশর্মা এল প্রভামগ্ুলমণ্ডিত শনিলোকে । 
বশর্মার জিন্ান্থ মনকে তৃপ্তি দিতে বিষ্ণুর গণদ্বয় বলতে শুরু 
করলেন £. 
ব্রহ্মার অন্য তম মানসপুত্র কশাপের দাক্ষায়ণী নামে স্ত্রীর গভ'জাত 
পুত্র স্থধের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল প্রজাপতি বিশ্বকর্মীর কন্তা সংজ্ঞার । 
প্রখর তেজসম্পন্ন সুখকে উদ্দেশ কবে পিতামহ কশ্তপ একবার 
পরিহাস করে বলেছিলেন, «ন খন্বরং মৃতোইপুন্থ৮ গর্ভেই কেন এটা! 

মরে যার নি। সেই থেকে “লোকোহয়ং মার্তগড ইতি চোচ্যতে 1৮-- 
সেই থেকে ত্রিলোকে সুর্যের অপর এক নাম হয়ে গিয়েছিল- 
মাত । ৰ 

সংজ্ঞা নিজেও তপঃপ্রভাবশালিনী এবং বূপযৌবনগুণান্বিত। হয়েও 

পতি আদিত্যের প্রখর সেই তেজ সহা করতে ন1 পেরে ক্রমশঃই যেন 

ক্ষীণ-কলেবর এবং ছুবল হয়ে পড়তে লাগল । সেই অবস্থাতেই তাঁর 
তিনটি সন্তান হয়েছিল । ছুটি পুত্র, একটি কন্ত।। পুত্র ছুটির মধ্যে 


৬ 


জ্যেষ্ঠ হল বৈবন্বত মন্তু, কনিষ্ঠ হল'যম । আর কন্ঠার নাম হল যমুনা । 
জ্ঞা এরপর যখন স্থূর্ষের সেই অতি-তেজময় বূপকে সহা করতে 
একেবারে আর অসমর্থা হয়ে পড়ল, তখন নিজের শরীর থেকে 
স্বান্ুরূপা এক মায়াময়ী রমণীকে নির্মাণ করলেন। তার নাম হল 
সবর্ণ অর্থাৎ ছায়া । স্বান্ুরূপে নিখুত সেই রমণীকে অতঃপর তিনি 
বললেন £ “মনুরেষ যমাবেতোৌ বমুনাযমসংজ্ঞকৌ । স্বাপত্যদৃষ্ট্যা 
্রষ্টব্যমেতদ্বালব্রয়ং ত্বয়। ॥৮ (৭৯)-__হে শুচিম্মিতে, সবর্ণ, মনু, যম ও 
যমুনা আমার এই তিন অপত্যকে নিজের সন্তান মনে করে লালন- 
পালন কোরো । আমি আমার পিত্রালয়ে চললাম । পতির 
কাছে কিন্তু এই সব কিছু গোপন রাখবে । সবর্ণ সম্মতি জানালে 
ংজ্ঞা গোপনে পতিগৃহ ত্যাগ করে পিত্রালয়ে গেল। প্রজাপতি 
বিশ্বকর্মী কিন্ত সব শুনে কন্যাকে পিতৃগ্ৃহে আশ্রয় দিলেন না। 
ভৎপনা করে পতিগৃহে ফিরে যেতে আদেশ দিলেন। স্থানুরূপা! 
সবর্ণাকে সে ছলনা! করে রেখে এসেছে । এখন সে সেখানে থাকতে 
কিভাবেই বা ফিরে যাবে পতিগৃহে । উপায়াস্তর না দেখে নিজের 
শক্তিকে তুর্যতেজ ধারণক্ষম করে তোলার জন্যে চলে গেল উত্তরকুরু 
জনপদের এক তৃণময় অঞ্চলে । সেখানে বাড়ব। ( ঘোটকী ) রূপ 
ধরে তপস্তায় রতা হল। 
এদিকে, সবর্ণাকে সংজ্ঞা-বোধে নিঃসন্দেহে কেটে যাচ্ছিল স্ৃষের 
সংসার । সবর্ণারও হল তিনটি সম্তান। ছুটি পুত্র, একটি কন্তা। | 
জ্যেষ্ঠ হল সাবি নামক অষ্টম মনু কনিষ্ঠ হল শনৈশ্চর ( শনি ) 
আর একটি কন্তা। নাম ভদ্রা। ক্রমে ক্রমে সবর্ণার মধ্যে জেগে 
উঠল সংজ্ঞার সন্তানদের প্রতি বিমাতৃ-ম্থলভ আচরণ । জ্যেষ্ঠ বৈবস্বত 
নীরবে মায়ের এই অস্বাভাবিক আচরণ সহ্য করে যেতেন কিন্ত, যম 
তা সহা করতে না! পেরে 'একদিন ক্রোধে সবর্ণীকে পদাঘাত করলেন । 
সবর্ণাও অভিশাপ দিলে, যমের এ উদ্ভত চরণ যেন দেহ থেকে খসে 
যায়। অভিশাপ-ভয়ে ভীত ঘম তখনি পিতা স্থৃর্ধের চরণপ্রাস্তে 
গিয়ে লুষ্টিত হয়ে সব বৃত্তান্ত নিবেদন করল । শুনে বিবস্বান ( স্র্য) 


৬৩ 


বললেন, “অপরাধসহজ্রেইপি' জননী ন শপেৎ স্ুতম.। তক্মাৎ 
কিমপি ভো! বাল ভবিষ্যত্যত্র কারণম,॥৮ (১০৪)--বালক ! সহজ্ব 
অপরাধ করলেও জননী কখনও পুত্রকে অভিশাপ দেয় না। নিশ্চয়ই 
এখানে অন্য কোন গু কারণ আছে । তবে মাতৃশাপ অলঙ্নীয় । 
কূমি-কীটেরা যখন তোমার পায়ের গলিত মাংস নিয়ে খসে পড়বে, 
তখন তুমি শাপমুক্ত হবে । 

এই বলে বিবস্বান অন্তঃপুরে গিয়ে সবর্ণীকে স্নেহবৈষম্যের কারণ 
জিজ্ঞাসা করেও যখন দেখলেন সবর্ণ নিরুত্তর তখন সমাধিযোগে 
সব কিছু অবগত হলেন। তারপর সবর্ণাকে শাপদানে উদ্যত হতেই 
সবর্ণী অকপটে সংজ্ঞার গোপন কাহিনী বিবস্বানের কাছে প্রকাঁশ 
করল । সঙ্গে সঙ্গে সপারিষদ বিবস্বান গিয়ে হাজির হল বিশ্বকর্মীর 
কাছে। যথোচিত অভ্যর্থন1 জানিয়ে বিশ্বকর্মী বললেন--“তবাতি- 
তেজসো ভীতা প্রাপ্যোত্তরকুরন, রবে। বড়বারূপমাস্থায় বনে 
চরতি শাদ্ধলে ॥৮ (১১৩)-_-তোমার অতীব তেজভয়ে ভীতা তোমার 
পত্বী সংজ্ঞা উত্তরকুরুজনপদে বনমধ্যে ঘোটকীরূপ ধারণ করে তৃণ- 
সমূহের উপর বিচরণ করছে। মনে-মনে অনুতপ্ত হলেন বিবস্বান। 
অনুরোধ জানালেন প্রজাপতি বিশ্বকর্মীকে তার জন্মগত প্রখর 
তেজকে হাস করে দিতে, যাতে সে পত্বীর কাছে গীড়াদায়ক ন হয়। 
বিশ্বকর্মী তখন তাকে ভ্রমিযন্ত্রে আরোপ (কুঁদে ) করে তাঁর তেজ 
কিছু পরিমাণে হ্রাস করে দিতেই বিবস্বান হলেন অতীব সৌম্যদর্শন ৷ 
অনন্তর তিনি উত্তরকুরুজনপদে গিয়ে শুক্ষ তৃণভক্ষণকারী বড়বারূগী 
সংজ্ঞাকে দেখে সিলন-কামনীয় শিজে বড়বরূপ ( ঘোটক) 
ধারণ করে তাঁর সঙ্গে মিলিত হলেন । ঘোটকীবরূগী সংজ্ঞা ঘোটক- 
রূপী স্থর্যকে পরপুরুষ জ্ঞানে নিজের সতীত্বকে অটুট রাখার জন্যে 
সূর্যের বীর্ধকে নাসিক বিবর দিয়ে বাইরে নিক্ষিপ্ত করলে, বিবস্বান 
অতীব প্রীত হয়ে স্বীয় পপ প্রকাশ করলেন তার কাছে। পতির 
সৌম্যদর্শন মৃত্তি দেখে উদ্বেলিত-চিত্ত সংজ্ঞাও তখন বড়বারূপ 
পরিত্যাগ কৰে স্বামীর সঙ্গে সুখে মিলিত হল । বড়বারূগী সংজ্ঞার 


৬৪ 


নাসিকা-বিবর থেকে সূর্যের এঁ শুক্র থেকে উৎপন্ন হয়েছিলেন ভিষক শ্রেষ্ঠ 
অশ্বিনীকুমারছয় । 

যাই হোক; এই হল ্ূর্য-পুত্র শনির জন্মবৃত্তাস্ত। শনি বারাণপী- 
ধামে গিয়ে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা এবং ছুঃসাধ্য তপস্যা করে গ্রহপদবী এবং এই 
লোকের অধিপতি হয়েছিলেন | বিশ্বেশ্বরের দক্ষিণে আর শুক্রেশ্বরের 
উত্তরে এই শনৈশ্চর লিঙ্গ অর্চনা করলে যেমন গ্রহগীড়। থাকে না, 
তেমনি এই লোকে সুখে বসবাষ করার অধিকারী হয়) 


[ অধ্যায় ১৮ 7] 


মায়াপুরীতে 'ত্যক্তদেহ মাথুর ব্রাহ্মণ শিবশর্ম৷ বিষুর গণছয় পূণ্যশীল 
এবং সুশীলের সঙ্গে ব্যোমমার্গে দিব্য বিমানে বিষুুলোকে যেতে-যেতে 
এবং লোকসমৃষ্র়্' কাহিনী শুনতে শুনতে গল আর এক লোন 
অন্ুপম তেজসম্পন্ক, পরই লোকপথ অতিক্রম করতে গিয়ে দেখল 
শিবশর্সা চারণ আর মাগধগণ এসে তার স্তব করল, দেবকল্যাসদূশ 
কন্যারা এলে তাকে ক্ষণকালের জন্য অবস্থান করার আহ্বাম জানিয়েও 
বিফল মনোরথজনিত দীর্ঘশ্বাস ত্যাগ করে চলে গেল। 

কৌতৃহলী শিবশর্মাকে গণদ্য় বললেন--এটি হল সপ্তধিমগুল। 
অপাপবিদ্ধ ব্রহ্মার সাত মানসপুত্র পুরাণে ধার। সাত ব্রঙ্ষা রূপে 
কীতিত-_-সেই মরীচি, অত্রি, পুলহ, পুলস্ত্য, ক্রতু, অঙ্গিরা ও বশিষ্ঠ 
সর্বলোকের মাতৃম্বরূপা সম্ভূতি, অনসুয়। ক্ষমা, শ্রীতি, সন্নতি, স্মৃতি 
আর উর্জা নামে সতী-সাধবী সহধঞ্জিলীদের নিয়ে বসবাস করেন। 
এদের সঙ্গে এই লোকে বাস করেন দেবদেব নারায়ণের চোখেও 
শ্রদ্ধাশীলা, পতিব্রত-পরায়ণ| অরুদ্ধতী, ধার কেবলমাত্র নাম-গ্রহণেই 
গঙ্গান্নানের ফললাভ হয়। 

পুঝাকালে ব্রহ্মা এই সু মানসপুত্রকে উৎপন্ন করে বলেছিঙ্েন--১ 
“প্রজা: স্জত রে পুত্রাঃ নানারপাঃ প্রযড়ৃতঃ”-হে আমার পুত্রগণ ; 

৬৫ 


কাশা-”৫ 


তোমরা বদ্ধ নিয়ে নানারকম প্রজ। স্থষ্টি কর । 

ব্রহ্মার অভিলাষ পুরণে কৃতকৃত্য হবার জন্য এই সাত খধষি তখন 
ব্রহ্মাকে প্রণাম করে অবিষুক্ত ক্ষেত্র শিবধাম বারাণসীতে গিয়ে আপন- 
আপন নামাঙ্কিত শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে দেবাদিদেব মহাদেবের প্রীতি 
কামনায় কঠোর তপন্তায় ব্রতী হলেন । তাদের তপস্তায় সন্তুষ্ট হয়ে 
মহাদেব এই সাত খষিকে দিয়েছিলেন প্রাজাপত্যপদ। 

গোকর্ণেশ সরোবরের পশ্চিমে অত্রীশ্বর লিঙ্গ ; ককোটবাপীর ঈশান- 
কোণে মরীচিকুণ্ডের পাশে মরীচীশ্বর লিঙ্গ; স্ব্গ্বধারের পশ্চিমে 
পুলহেশ এবং পুলস্ত্যেস লিঙ্গ ; হরিকেশবনে আঙিরসেশ্বর আর বরণা- 
তীরে বশিষ্ঠেশ্বর এবং ক্রতীশ্বর শিবলিঙ্গ । সপ্তখষির প্রতিষ্ঠিত এই 
সপ্তলিঙ্গের মধো যার! যে লিঙ্গের সেবক, সপ্তধ্িলোকে তার! সেই সেই 
লিঙ্গেশ্বরের লোকে স্ব-্য গুণে বিভূষিত হয়ে বসবাস করেন । 

পতিব্রতপরায়ণা; পুণ্যশীলা, অপরূপা অরুন্ধতীও এই লোকেই 
বাস করে থাকেন। বিরল অরুন্ধতীর পতিসেবা । দেবদেব নারায়ণও 
স্বীয় অর্ধাঙ্িনী লক্ষ্মীর সামনেই অবেগীভূত কে তার প্রশংসা করতে 
ছিধ। বোধ করেননি । সতী-সাধবী অরুদ্ধতীর নাম-মাত্র উচ্চারণেই 
মেলে গঙ্গান্সানের পুণ্য । 


[ অধ্যায় ১৯--২১ ] 


সপ্তধষিলোক অতিক্রম করতেই অপরূপ আর এক লোক দেখে 
স্তম্ভিত হল বিষুশর্ী। মনে হল যেন তার বিচ্ছ্ব্নিত তেজোরাশি 
সৃত্রধারের মত স্বত্রহস্তে নভোমণ্ডলে গগনাঙ্গন পরিমাপে ব্যস্ত। 
নানাবিধ বাতময় রঙ্ছুর দ্বারা আকুলিত করাঙ্গুলি, চঞ্চলদর্শন । 

বিষ্ণুর গণদ্বয় শিবশর্মাকে বলল-_-এটি সত্যনিষ্ঠ .ধর্মপরায়ণ ঞরব-র 
জগৎ । 

্বযস্তুব মনুর পুত্র নরপতি উত্তানপাদের ছিল ছুই পুত্র--উত্তম এবং 


৬৬ 


ফ্রব। জ্োষ্ঠ পুত্র উত্তম ছিল প্রধানা মহিষী নুরুচির গর্ভজাত আর 
ফ্ুব ছিল সুনীতির। একদিন সভাস্থলে নৃপতি যখন উপবিষ্ট, সুনীতি 
বালকপুত্র ঞ্রৰরকে অলংকৃত করে পাঠালেন রাজসেবায় ৷ সভাস্থলে 
এসে উত্তমকে পিতৃ-অস্কে সুখাসীন দেখে গ্রুৰ-র মনেও বাসনা প্রবল 
হয়ে উঠল । সে-ও সিংহাসনোপরি পিতার কাছে যেতে উদ্যত হলে 
বিমাতা স্থুরুচি তাকে তিরস্কার করে বলল-_ষে পুণ্যবলে এই সিংহাসনে 
আরোহণ করা যায়, সে পুণ্য তোমার নেই। বালক, ভূলে যেও না 
যে তুমি অভাগিনী স্থনীতির গর্ভজাত। বিমাতার এই কঠোর মন্তব্যে 
পরব নিরস্ত হয়ে কোনরকমে অশ্রজল সংবরণ করে, পিতাকে প্রণাম 
সেরে ফিরে এল মায়ের কাছে। দেখলে বিমাতার এই মন্তব্যের 
বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ বাক্যও উচ্চারণ করলেন না! পিতা উত্তানপাদ। 
মর্মাহত পুত্রের অশ্র্সসক্ত নয়ন দেখে উদ্বেল হয়ে উঠল মাতৃ-দয় | 
সযত্বে তার মুখ মুছিয়ে দিয়ে কারণ জানতে চাইল সুনীতি । আত্ম- 
সংবরণ করে বালক ঞ্রুব বিমাতার দ্বার তিরস্কৃত হবার কারণ জানতে 
চাইল। জানতে চাইল, কোন স্ুকৃতি-বলে উত্তম পিতার প্রিয়, সে 
নয়; উত্তম রাজ-সিংহাসনের উপযুক্ত, সে নয় আর কেনই বা রাজ, 
মহিষী হয়েও জননী তার অবজ্রেয়। ! 

স্বপত্ী-বিছবেষহীনা, সুবুদ্ধিপরায়ণা, সুনীতি বালক-পুত্র প্ুবর এই 
সব প্রশ্ন শুনে ক্ষণকাল চিন্তা করে বললে--এই সবই জন্মাস্তরের কল । 
জন্মাস্তরে স্বুরুচি যে সাধন! করেছিল, এ-জন্মে স-পুত্র সেই ফল তো 
ভোগ করতেই হবে, বাবা । হয়ত, আমাদের তপস্তা, তার তুলনায় 
অল্প ছিল, তাই রাজ-সানিধ্যে এসেও আমর! রাজসম্পদ ভোগের 
অধিকারী হতে পারিনি। নিজের কর্মই যাবতীয় মান-অপমানের 
কারুণ, বিধাতারও সাধ্য নেই। তার ফলভোগ থেকে রেহাই পান। 

স্থিরচিত্তে বালক গ্রুব সব শুনে জননীকে বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয় নিয়ে 
বললে আমি যদি মন্ুবংশে নৃপতি উত্তানপাদের ওরসে আপনার 
গর্ভে জন্মগ্রহণ করে থাকি, আর তপন্যাই যদি যাবতীয় সম্পদের কারণ 
হয় তাহলে তপস্যা করেও লোকে যে পদ লাভ করতে পারে না, আষি 


৬৭ 


নিশ্চয়ই সেই পদ লাভ করব! ন'বংসরের বালক ক্রুব এই প্রতিজ্ঞ 
করে মাতৃ-আঙীরবাদ নিয়ে গৃহ হতে নিক্কান্ত হয়ে বনমধ্যে প্রবে, 
করলে। অজ্ঞাত তার কাছে কানন-পথ। চিন্তানিবিষ্ট হল ঞ্ুব 
তারপর চক্ষু উন্মীলিত করতেই দেখলে; তার সামনে সাতজন খধি- 
তিলক-শোভিত কপাল, অঙ্গুলিতে কুশের অঙ্গুরী, বজ্কসত্রে অলংকৃ, 
হয়ে বসে আছেন তারা কষ্তাজিনের উপর। বিপদ-ভ্রাতারূপে যে 
অকন্মাৎ আবির্ভাব ঘটল এই সগুধির | 

ধ্রুব তাদের যথাযোগ্য অর্চনা করে, আত্মপরিচয় এবং গৃহ হে 
নিক্ষমনের কারণ জানিয়ে বলল £ “অনম্তন্পভুক্তং যৎ যদন্যেভা 
সমুচ্ছি তম্‌। ইন্দ্রাদিছুরবাপং যৎ কথং লভ্যং ছুরাসদম্‌॥”-_হে সপ্তষিগণ 
আপনারা উপদেশ করুন, যে পদ অস্থান্ত ন্পতিগণ কর্তৃক উপযুত্ব 
হয়নি, যা সবোচ্চ, ইন্দ্রাদি দেবগণের পক্ষেও যে পদ সুছুলভ, কীভাবে 
সেই পদ পাওয়া যায়। 

প্রবর মনোগত অভিলাষ জানতে পেরে তৃপ্ত হলেন মারীচ-প্রমুং 
সপ্তষিগণ। তারপর তার! একে-একে গ্ুবকে উপদেশ দিলেন, ভগবান 
অচ্যুতের পদসেবা, ভগবান গোবিন্দের চরণ-কমল ধুলির রসান্বাদন, 
ভগবান কমলাপতির চরণ-পক্কজে মতি, বিষুর স্মরণ বিশ্বব্যাপক 
জনার্দনের উপর পরম নির্ভর, ভগবান হাধিকেশের আরাধনাই, একমাত্র 
তার অভীষ্ট পুরণ করতে পারে । ঞ্ুব জানতে চাইলে আরাধনার 
উপায়। সপ্তধষিগণ তখন তাকে দিয়ে গেলেন সেই পথ £ 

“তিষ্ঠত। গচ্ছতা৷ বাপি স্বপতা জাগ্রতা তথ! 

শয়নেনোপবিষ্টেন জপ্যো নারায়ণঃ সদা ॥ 

দ্বাদশাক্ষরমন্ত্েণ বাস্থদেবাত্বকেন চ | 

ধ্যায়শ্চতুভূ জং বিষ্ণু জপ্তা সিদ্ধিং ন কো গতঃ ॥ (১৯/১১৩-১১৪) 

অবস্থানে, গমনে, নিদ্ায়। জাগরণে, শয়নে উপবেশনে, সব 
সময়েই ভগবান নারায়ণের জপ করবে । রাস্থুদেবাত্মক ঘাদশাক্ষর 
মন্ত্রের ভগবান চতুভূ্জ বিষুকে চিন্তাপূর্বক জপ করে কোন্‌ ব্যক্তি ন! 
সিদ্ধি লাভ করেছে। 


তোমার পিতামহ বৈষ্ণব-প্রধান মন্থুও ছিলেন এই মহামন্ত্বের 
উপাসক। তুমিও বাশ্ুদেব-নিষ্ঠ হও। অভিলাষ পুর্ণ হবে। 

এই ৰলে অন্তহিত হলেন মপ্তধিগণ | 

উত্তানপাদ-তনয় প্ুবও কানন হতে নির্গত হয়ে যমুনাতটস্থ ভগবান 
হরির আদি এবং প্রিয়তম স্থান মধুবনে এসে বাস্থদেবের ধ্যানে নিমগ্প 
হল। ক্রমে-ক্রমে নিখিল সংসার বান্থদেবময় বলে প্রতীয়মান হতে 
লাগল ঞুবের নয়নে | এমনকি স্থলে-জলে মন্ুস্যেতর প্রাণীসমূহেন 
মধ্যেও দর্শন করতে শুক করল শ্রীহরিকে । ঞ্ুবর নয়ন যেমন অখিল- 
চরাচরে গ্রীহরি ছাড়া আর কিছু দর্শন করতে পারেনা, কর্ণদ্বয়ও 
তেমনি মুকুন্দ, গোবিন্দ, দামোদর, চতুর্ভজ ছাড় আর কোন শব্দও ষেন 
শবণ করতে পারে ণা। সর্ব-ইন্দ্িয়ে রাজপুত্র পু যেন অনুভব করতে 
শুক করল পুগ্তরীকাক্ষ গোবিন্দের স্পর্শামৃত। তপস্তায় কশতন্তু প্রুব 
ক্রমশঃই তপঃপ্রভাবে দেদীপ্যমান হয়ে উঠতে লাগল । সেই সঙ্গে 
কৌন্তুভোপ্ভ।সিত হৃদয় পীতকৌষেয় বন্ত্র-শোভিত ভগবান পুগুরীকাক্ষের 
অবিরত ধ্যানে নিখিল সংসারকে গ্রব বিলোকন করতে লাগলেন 
ততজো ময়রূপে । 

ঞ্রব-র ক্রমবর্ধমান তপঃপ্রভাব দেখে চিজ্তিত এবং ভীত হয়ে 
উঠলেন দেবরাজ ইন্দ্র-_বুঝিবা তারই পদাভিষিক্ত হয়ে যায় ঞ্রুব। 
তাই তিনি ঞ্ুবকে স্বলিত করার জন্যে তুত-প্রেতদের পাঠালেন 
বালকের তপোবিত্ব ঘটাতে । বিকউদর্শন বিকটাকৃতি সেই সৰ ভূত- 
প্রেতগণ নানা রোমহধক বিভীষিকা স্থষ্টি করেও ঘখন তপোভঙ্গ কল্পতে 
পারুল নাঃ তখন নিল ছলনার আশ্রয় । মাতৃভক্ত ঞুবকে ভপস্তাচ্যুত 
করার জন্তটে তখন কোন এক প্রেতিনী ঞরব-জননী স্থনীতির রূপ 
পরিগ্রহ করে পুত্রকে গৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যাবার জন্তে অসীম আকুঙ্গতা 
নিয়ে দেখ! দিলে গ্রবের লামনে। ছলনামক্ষী প্রেতিনী বকে বোঝাবান্ব 
চেষ্টা করলে-_-এই বন্ধন তপস্যার্র জঙ্চ নয়। সংসারাশ্রম না কমে কী 
কেউ তপস্তায় প্রবৃত্ত হব । তাছাড়া, যারা জামার শ্রী সংসারে 
যাদের কোন স্থান নেই তাকাই এইভাবে জীবন ক্ঈ্টাতে প্রবৃত হয় । 


৬৪ 


ফ্ুব তো! তা নয়, সে রাজার পুত্র । নিবিকার-চিত্তে সব শুনলে ঞ্রুব 1 
কোন প্রত্যুত্তর না করে আবার শ্রীহরির ধ্যানে নিমগ্ন হল। সেই 
সময় ভূতেরা দেখল, শ্রীহরির সুদর্শন চক্রের তেজোরাশি সর্ষের ন্যায় 
মগ্ডুলাকারে ঞ্রুবকে প্রতিনিয়ত রক্ষা করে চলেছে। ভীত ভূত- 
প্রেতগণ তখন ব্যর্থ-মনোরথ হয়ে স্ব-স্ব স্থানে প্রত্যাবর্তন করল । 

দেবরাজ ইন্দ্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে; দেবগণকে সঙ্গে নিয়ে দেবরাজ 
এল পিতামহ ব্রহ্মার কাছে জানতে, গ্রুবর এই তপস্তা কোন্‌ 
পদাভিলাবে। ব্রহ্মা বললেন-_বিষুভক্ত ঞ্রুব, তাই অপরকে সে 
তাপিত করবে না, সে-বিষয়ে তোমর! নিঃশঙ্ক হতে পার । “আরাধ্য, 
বিষুং দেবেশং লব্বা তন্মাৎ স্বকাজিক্ষতম্। ভবতামপি সবেষাং 
পদানি স্থিরয়িষ্যুতি ॥৮--দেবেশ্বর বিষ্ণুর আরাধনা করে সে তার 
আকাকিক্ষত পদই গ্রহণ করবে ; তোমাদের কারো কোন পদের বিদ্ধ 
ঘটাবে না। 

এদিকে নিরলস তপশ্চর্যায় খিন্ন বালক ঞ্রুব-র নয়নপথে একদিন 
আবিভূতি হলেন স্বয়ং ভগবান গরুডবাহন পুগুরীকাক্ষ। আবেগাশ্রু 
নিয়ে তার চরণে ভূলুষ্ঠিত হল গ্রুব ; রুদ্ধবাক | ন্ুদর্শনধারী বিষু তার 
কঠিন-কোমল করে তাকে উত্তোলন করে ধুলিধুসরিত তার অঙ্গ স্পশ 
করলে বাক্যন্ফুর্ত হল কঞ্রুব-র। স্থুললিত ছন্দোবদ্ধ বাক্যে বিষ্ণুর 
স্তুতিগান করলে ঞ্রব। সেই হিরণ্যগ্ভ, হিরণ্যরেতা, সবভূতাত্মার 
বন্দনা-শেষে তার শ্রীচরণে আত্ম-সমর্পণ করলে প্রুব-_-“সব্বেষাং 
হৃদয়াবাসঃ সাক্ষাৎ সাক্ষী ত্বমেৰ হি: বহিরস্তবিবনা ত্বাস্ত ন হান্যং বেদ্ধি 
সব্বগম্‌॥7--তুমি সব্সাক্ষীরূপে সকলের হৃদয়ে অবস্থিত । অন্তরে; 
বাহিরে হে দেব আমি যে সর্বব্যাপী তোমায় ছাড়। আর কাউকে 
জানি নাঁ। 

শরণাগত প্রবের এই স্ততিবাক্যে গ্রীত ভগবান বিষুণ তখন ঞ্রুবকে 
বললেন, তোমার মনোভিলাষ আমি জানি । জীবজগতের উৎপত্তির 
কারণ অন্ন, অন্নের উৎপত্তির কারণ বৃষ্টি, বৃষ্টির উৎপত্তির কারণ শুর্ব”__ 
ঞ্রুব। তুমি সেই নুর্যের আধার হও। আপন “জ্যোতিশ্চক্রস্ত সর্ধস্ 


লি 


গ্রহক্ষাদেঃ সমস্ততঃ | গগনে ভ্রমতো! নিত্যং  হমাধারে! ভবিষ্যুসি ॥ 
মেধীভূতত্ বৈ সর্ববান্‌ বায়ুপাশৈণিয়ন্ত্রিতান। আকল্পং তৎ পদং তিষ্ঠ 
জ্রাময়ন্‌ জ্যোতিষাং গণান্‌॥” (৭৯--৮০)-- গ্রহ নক্ষত্রাদিসহ 
জ্যোতিশ্চন্র আকাশে যা নিয়ত পরিভ্রমণরত, তুমি নিত্য তার আধার 
'বূপে বিরাজ করবে আর এই জ্যোতিশ্ক্রের বন্ধনস্তম্তরূপে অবস্থান 
করে বায়ুপাশে নিয়ন্ত্রিত এই জ্োতিমগুলকে প্রলয়কাল পর্যস্ত পরিভ্রমণ 
করাবে। 

মহাদেবের প্রসাদে পূর্বে এই পদে আমিই অধিষ্ঠিত ছিলাম । এখন 
আমার এই পদ তোমায় দিলাম। ভূমি এই পে থেকে এক কল্প- 
পরিমিত কাল ( অর্থাৎ ব্রহ্মার এক অহোরাত্র অর্থাৎ ৮৬৪ কোটি 
বসর ) শাসন করবে । সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, মহাত্মা! মনু 
ইন্দাদি দেবগণেরও ছুর্লভ এই পদ আমি তোমাকে দান করলাম। 
তবে, এই পদে স্থায়িত্ব লাভ করতে হলে যা করণীয় সেই গুহ্যাবিষয় 
তোমাকে বলি শোন! 

আমি প্রত্যহ বৈকুগ্ হতে জগৎপূজ্য মহাদেবকে আরাধন। করার 
জন্য কাশীতে গমন করি, যেখানে স্বয়ং বিশ্বেশ্বর জীবগণের কর্মে ভেদ- 
বুদ্ধিহীন মহামন্ত্র দান করে অস্তিমকালে প্রাণীগণকে কর্মবন্ধন হতে 
মুক্ত করেন। তারই প্রসাদে আমার মধ্যে ত্রিভুবন রক্ষার এই শক্তি; 
আমি আমার নেত্রপম দিয়ে তাকে আরাধন] করার কলেই প্রাপ্ত 
হয়েছি দৈত্যমথনকান্রী এই স্তুদর্শনচক্র । আজ ন্ুপবিত্র কান্তিকী- 
যাত্রার দ্িন। এই দিন উত্তর বাহিনী গঙ্গায় সান করে বিশ্বেশ্বর 
দর্শন করলে আর পুনর্জন্ম হয় না। তাই আমি এখনি কাশীতে যাব, 
তুমিও চল। এই বলে ঞ্রুবসহ জনার্দন গরুড়পৃষ্টে আরোহণ করে 
এলেন পঞ্চক্রোশীর সীমান্তে । অতঃপর মণিকণিকায় ল্গান এবং 
বিশ্বেশ্বরকে দর্শন করিয়ে তিনি ঞ্ুবকে বললেন- লোকে আমাকে 
অমস্ত বলে থাকে, কিন্তু আমিও অবিমুক্তক্ষেত্র কাশীর গুণসমুহের অস্ত 
পাই নাঁ। এই স্থানে একটি শিবলিঙ্গের প্রতিষ্ঠ। এবং বিত্বশাঠ্য না 
রেখে তার অর্চনা অশেষ ফলদায়ক 1 বললেন-_-“লিঙ্গং স্থাপয় যত্বেন 


৭১ 


ক্ষেত্রেইত্রৈবাবিমুক্তকে | ত্রৈলোক্যস্থাপনং পুণ্যং বধা ভবতি 
তেহক্ষয়ম্‌॥ (১১৪)-__তুমি এই অবিষুক্তক্ষেত্রে শিবলিঙ্গ স্থাপন কর» 
তাতে তোমার ত্রৈলোক্য স্থাপনের পুণ্য সঞ্চয় হবে । 

ফ্রবও বিষ্ণুর নির্দেশে বৈচ্যনাথের নিকট শিবলিঙ্গ স্থাপন করলে। 
নিমাণ করলে বৃহৎ প্রাসাদ, তারই সামনে খনন করালে কুগ্ড। 
তারপর নিশ্চল আরাধনায় কৃতকৃত্য হয়ে প্রত্যাবর্তন করলে। 

এই প্রবেশ্বরের অর্চনা এবং ঞ্ুবকুণ্ডে যারা উদকক্রিয়া করে, 
তারাই সর্ধবিধ ভোগসম্পন্ন হয়ে এই ঞ্ুবলোকের অধিবাসী হয় | 


[ অধ্যায় ২২ ] 
দিব্য বিমানে বিষ্ুর ছুই সর্বদর্শাগণের সঙ্গে বৈকুষ্টলোকগামী 
শিবশর্মা এরপর উধর্ব-ত্রিলোক পথে প্রথমে এল মহর্পোকে। পরম 
রমণীয় তেজঃসমাবৃত এই লোকে ধার! বাম করেন) তভার। হলেন 
তপস্তাদ্বার। বিধৃতপাপর্াশি কল্পায়ু মহাত্মাগণ, বিষুমম জীবন 
অতিবাহিত করে ক্লেশ যাদের ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে; সমস্ত জগৎকে ধার! 
দর্শন কষেন তেজোনরূপে । মহলোক অতিক্রম করে শিবশর্ম। 'এল মেই 
জনর্লেকে, যেখানে ব্রহ্মার মানস-পুত্রদের সঙ্গে থাকেন উধ্বরেতা, 
ঘ্বম্যবিমুক্ত। নির্সলচিত্ত যোগিগণ। জনর্পোক অতিক্রম করে দিব্য 
বিমান তাদের নিয়ে এল তপোলোকে | ধারা বাস্ুদেবে শরণাগত। 
ধাদের তপন্তা কেবল গোবিন্দের সন্তোষ সাধন; ক্ষুধা-তৃফায় যাদের 
মধ্যে কাতরতা নেই? নেই শীতাতপের বিশেষ অনুভূতি, দেহবোধহীন 
ধারা কেবল তপস্তামগ্ন। তারাই হন এই লোকের অধিবাসী । 
তপোলোক অতিক্রম করে মহোজ্জল সত্যলোকে আল! মাত্রই 
শিবশমাকে নিয়ে বিষুরর ছুই গণ বিমান হতে অবতরণ কনে -ক্রজ্কার 
সমীপে উপস্থিত হয়ে প্রণাম নিবেদন করলে । 
্রন্বা সুতীর্ঘে প্রাগত্যাগকারী সুুপগ্ডিত শিবশর্মাকে স্বাগত জালিনে 


ৰং 


বললেন, মর্তভূমির মানুষের! ইন্দ্রিয় দমন? লোভ-পরিহার ও তামসিকতা 
পরিত্যাগ করে এই সমস্ত লোকে সহজেই আসতে পারে।- মানুষের 
মধ্যে সেই মহদ্গুণ আছে। তবে? 
সত্বরং গত্বরং সব্বং যচ্চৈতভ্তবতেক্ষিতম্‌ । 
দৈনন্দিন প্রলয়তঃ শজামি চ পুনঃপুনঃ ॥ (২২/২৬) 
_তুমি এই যে সমস্ত দর্শন করে এলে, এগুলি সবই নশ্বর। 
দৈনন্দিন প্রলয়ান্তে আমি পুনঃপুনঃ এই সমস্তই স্বজন করছি। 
সব দেবগণই কমন্ুমির অভিলাষী। সেই কর্মভূমিতে অঞ্জিত 
পৃণ্যফলভোগী হয়ে তার। এই সব লোকে এসে বসবান করেন। 
এছাভাও হে দিজ শোন £ 
নাধ্যাবর্তদমো দেশে ন কাশীনদৃশী পুরী । 
ন বিশ্বেশসমং লিঙ্গং ককাপি ত্রল্মাগুমগ্ুলে ॥ (২২/৩৭) 
--আধীাবর্ত তুল্য দেশ, কাশী তুল্য পুরী, বিশ্বেশ্বর তুল্য লিঙ্গ 
ব্রন্মাণ্ডে আর কোথাও নেই। 
পুণ্যশীলদের আবাসভূমি স্বর্গ, সুখের আকর সন্দেহ নেই। কিন্তু 
পাতাল-পরিভ্রমণাস্তে নারদ বলেছেন, দৈত্য-দানব-উরগ অধ্যুষিত 
পাতাল স্বর্গ হতেও রমণীয় । আবার ন্ুমেক পর্বত বেষ্টিত ইলা রৃতবর্ষ 
পাতাল হতেও উৎকুষ্ট--পুণ্যকর্মের ভোগভূমি তোমার মত ভীর্থে 
প্রাণত্যাগকারীদের স্থান। সমুদ্রমধ্যে যতগুলি দ্বীপ, তাদের মধ্যে 
শ্রেষ্ঠ হল জন্ুদ্বীপ। জন্থৃঘ্বীপের ন'টি বর্ধের মধ্যে হিমালয় ও 
বিশ্বপর্বতের মধ্যভাগে অবস্থিত দেবদুর্লাভ কর্মভূমি ভারতবর্ষ সর্ধস্রোষ্ঠ। 
সর্বশ্রে্ঠ ক্ষেত্র অপেক্ষাও ভারতবর্ষে নৈমিযারণ্য পরম ব্বর্গসাথন | 
সর্বতীথ মু হল প্রয়াগ । তবুও দেহাবসানে অনায়াস মুকিলাভেন্ 
একমাজ ক্ষেত্র হল আববমুক্তপুক্রী বারাপনী। আমি চতুর্দশ ভুরনেম্ 
অষ্টা, কিন্তু কাশীক্ষেত্রের অঙ্টা স্বয়ং বিশ্বেশ্বর 1! হুফর তপস্যা কয়ে বদ 
দবকিছুর উপর আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হলেও কাশীর অধিষাসীদেন্ 
নিযস্তা হলেন কালভৈন্বব এবং স্থপ্সং বিশ্বনাথ । অহাপবিজ এই 
কাশীক্ষেত্রে তাই সর্ধবিষয়ে বিশুদ্ধ চিত্ত দিয়েই মানবগণের বাস কক: 


শত 


উচিত। 

ত্ঞান-ব্যতিরেকে মোক্ষলাভ হয় না। তপস্তা, জপ এবং যজ্ঞ হল 
জ্ঞানলাভের উপায়। কাশীবাসীর ক্ষেত্রে এর কোন প্রয়োজনই 
নেই। নিধিকান্ন সদাচার জীবন-যাপনের দ্বাব্ন' সেখানকার মানুষেরা 
একজন্মেই মুক্তিলাভ করে থাকে । সেই কাশীতে পবিত্রচিত্তে তুমি 
ষে পুণ্য অর্জন করেছ, অবশ্থাই তুমি তার ফলভাগী | 


[ অধ্যায় ২৩ ও ২৪ ] 

ব্রহ্মার কথা শুনে হষ্টান্তঃকরণ শিবশমার মনে জাগে প্রশ্ন | বিুর 
গণছয়ই সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে সমর্থ জানিয়ে ব্রহ্মা নিরস্ত হলে 
গণছয়-সহ শিবশর্মা তাকে প্রণাম জানিয়ে আবার বৈকুগ্টপথে বিমানে 
আরোহন করলে ।, 

শিবশর্স। জিজ্ঞাসা করে, কতখানি পথ ইতিমধ্যে তারা অতিক্রম 
করেছে আর কতখানিই বা যেতে হবে আর বিশ্বত্রষ্টা ব্রহ্মা বলেছেন, 
কাঞ্চী, অবস্তী, দ্বারাবতী, কাশী, অযোধ্যা, মায়াপুরী ও মথুর। এই 
সাতটি মোক্ষপ্রদ পুরীর মধ্যে একমাত্র কাশীই হল মুক্তিক্ষেত্র । তকে 
কী আমার নিবান লাভ ঘটে নি? 

গণদ্বয় শিবশম্নাকে প্রসন্ন করার জন্য বললেন, পুথিবী পৃষ্ঠ থেকে 
নিুত যোজন উবে তূর্ধ, ন্র্য থেকে লক্ষ যোজন উধের্ব চক্র এবং চন্দ্র 
থেকে লক্ষযোজন উধ্রে নক্ষত্রমগ্ুল। নক্ষত্রমণ্ডল থেকে বুধ, বুধগ্রহ 
থেকে শুক্র; শুক্রগ্রহ .থকে মঙ্গল, মঙ্গলগ্রহ্থ থেকে বৃহস্পতিক্্ুহস্পতি 
থেকে শনৈশ্চর প্রতোকেই প্রভোকের থেকে দ্বিলক্ষযোজ্বন উধের্বে। 
শনৈশ্চর থেকে সপ্তধিমগ্ডল, এবং সপ্তধিমগ্ল থেকে গপ্রুবলোক 
প্রত্যেকেই প্রত্যেকের থেকে লক্ষ যোজন উধ্র্বে। মহীতল হল 
ভূলোক, ভূলোক থেকে নৃর্য পর্যন্ত ভূবর্পোক। আদিত্য থেকে 
ধ্রবলোক পর্যন্ত ব্র্লোক। ভূতল থেকে এক কোটি যোজন উধ্বে 


৭8 


মহর্লোক, ছু'কোটি যোজন উধের্ব জনলোক, চারকোটি যোজন উধ্বে 
তপোলোক, আট কোটি যোক্তন উধের্বে সতালোক । বৈকুষ্লোক 
এই সত্যলোকের উপরে ষোড়শ কোটি যোজন উধের্ব এবং তারও 
ষোড়শ কোটি যোজন উধধ্র্ধে শিবলোক কৈলাস--যেখানে পাবতী, 
গণেশ, কান্তিক ও নন্দীসহ দেবাদিদেব মহাদেবের অবস্থান । বেদ, 
বিষুণ ব্রহ্মা ধার তত্ব জানতে অক্ষম, যিনি মন ও বাকের অগোচর 
যিনি অদ্বিতীয় এবং সধজ্্ সই বিশ্বভাবন, বিশ্বপাবন বিশ্বেশ্বর মহাদেব- 
এর অবস্থান কারণেই কৈলাস অতুলনীয় । 
এরপর গণদ্বয় বললেন £ 
“নিরাকারোহপি সাকারঃ শিৰ এব হি কারণম্‌। 
ভূক্তয়ে মুক্তয়ে বাপি ন শিবান্মোক্ষদোৌইপরঃ ॥” (১৩/৩৮) 
নিরাকার হলেও মায়াবশে সাকার শিবই জীবগণের ভূক্তি ও 
মুক্তির কারণ। শিব ছাড় দ্বিতীয় মোক্ষপ্রদাত! আর কেউ নেই । 
আরও বললেন £ 
“যথা শিবস্তথা বিষ্ত্ষথ! বিস্ণুস্তথা শিবঃ। 
অস্তরং শিববিষ্চোশ্চ মনাগপি ন বিছ্যাতে ॥” (১৩/৪১) 
_ধিনি বিষুণ তিনিই শিব; ঘিনি শিব ০৪ বিুঃ। শিব ও 
বিষুতে কিছুমাত্র ভেদ নেই। 
পুরাকালে মহাদেবই বিশ্বকর্মীকে দিয়ে স্বীয় সিংহাসন-সদৃশ 
সিংহাসন, সহআ যোজন বিস্তৃত রত্ুময় ছত্র নিমাণ করিয়ে বিষুকে 
সেই সিংহাসনে বসিয়ে, লক্ষ্মীসমাযুক্ত করিয়ে নিজ এশবর্ষে এঁশ্বর্ষা স্বত 
করে ব্রহ্মা, গণাধিপগণ, সনকাদি যোগিগণ, দেবধিগণ, খধিগণ প্রভৃতি 
সকলকে ডেকে ব্রহ্মাগুমণ্ডপের ঈশ্বরপদে তাকে অভিষেক করে এই 
বৈকুষ্ঠলোক দান করেছিলেন। ইচ্ছা, জ্ঞান ও ক্রিয়া শক্তির 
আধাররূপে, ধর্ম, অর্থ ও কামের মোক্ষদাতারূপে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে 
এবং তাকে বামবাহু আর ত্রহ্মাকে দক্ষিণ বাহুরূপৈ স্বীকৃতি দিয়ে 
পাবতীপতি মহাদেব স্বয়ং কৈলাস পর্বতে লীলারত হলেন প্রথমগণের 
সঙ্গে । 


৭৫ 


বৈকুষ্চলোকের বর্ণনা শেষে গণদ্বয় এবার শিবশর্মার নিবাণলাভের 
উপায় সম্বদ্ধে বললেন £ 

সতীর্থ মায়াপুরীতে দেহত্যাগের ফলে তুমি যে পুণ্য সঞ্চয় করেছ 
তার ফলে তুমি ব্রহ্মার বর্ষপরিমিত কাল অপ্দরাগণে পরিবেষ্টিত হয়ে 
বিষুলোকে অবস্থান করবে। তারপর জন্মগ্রহণ করে তুমি হবে 
নন্দীবদ্ধন নগরের অসপত্, প্রতাপশালী, ধামিক রাজা । তোমান্ন 
রাজত্বকালে তোমার নগরী হিংসা-ছ্েষ বিবজিত হয়ে সবদিক থেকেই 
হবে সুউন্নত, সুসমৃদ্ধ। আর তোমার হৃদয়মধ্যে অহরহ চলবে বিষ 
চরণারবিন্দের ধান । 

সেখানে তুমি পরিচিত হবে রাজা বৃদ্ধকালরূপে | দশহাজার 
রমণী হবে তোমার বাজ্জী আর তিনশত পুত্রের তুমি হবে পিতা । 

তোমার রাজত্বকালের কোন এক সময়ে বারাণসী থেকে কতকগুলি 
তীর্থযাত্রী তোমার রাজসভায় সমাগভ হবে, এবং আশীবাদ করে 
বলবে--সমস্ত জগতের গুরু দেবদেব কাশীপত্তি বিশ্বেশ্বর তোমার 
কুমতি অপনয়ন করুন। যার ম্মরণমাত্রে মুক্তি, ধার প্রসাদে তোমার 
এই এ্রশ্বর্ধ এবং নিষণণ্টক রাজসিংহাসন, সেই বিশ্বনাথ তোমার 
হৃদয়ে অবস্থান করুন-এই আশীবাদ গ্রহণ করে তুমি তাদের 
যধোচিত মর্ধাদায় বিদায় দেবে । তারপর শুভক্ষণ দেখে পুত্রের উপর 
রাজ্যভার দিয়ে অনঙ্গলেখা শামে তোমার যে রাজ্বী থাকবে, তাকে 
সঙ্গে নিয়ে কাশীধামে গমন করবে । সেখানে গিয়ে প্রথমেই একটি 
শিবলিঙ্গ স্থাপন, একটি প্রাসাদ নির্মাণ এবং একটি কুপ খনন করে 
্রত্ত। উপবাস, নিয়ম প্রভৃতির দ্বারা শরীর ক্ষয় করতে থাকবে । 

এইভাৰে তুমি যখন কাল কাটাতে থাকবে, সেই সময় এক 
মধ্যান্কে দেখবে এক বৃদ্ধ ভাপস লাঠির উপর দেহের ভার রেখে 
শিবমন্দির থেকে নির্গত হয়ে নির্জনে তোমায় কাছে এসে বসবেন । 
দেখবে, মেই তাপসের দেহ অতিশয় জীর্ণ; মস্তকে পিঙ্গল জটাভার 
এবং তেজোদীপ্ত। তিনি এসে জানতে চাইবেন তোমাদের পল্িচর 
জানতে চাইবেন তোমার প্রতিষ্ঠিত লিঙ্গের নাম, জানতে চাইবেন 


৭৬ 


এই প্রাসাদ কার তৈরি? 

তুমি প্রত্যুত্তর শুধু এইটুকুই বলবে-_-আমি বৃদ্ধকাল নামে রাজা, 
সহধসিনীর সঙ্গে দক্ষিণদেশ থেকে এসে এই লিঙ্গার্চনায় অভিনিবিষ্ট 
হয়েছি। আর এই প্রাসাদের কর্তা এবং কারয়িতা স্বয়ং শস্তু। তাপস 
পিপাসার্ত হয়ে অতঃপর তোমার কাছ থেকে জল চাইলে কূপ থেকে 
জল এনে যখনই তার তৃষ্। নিবারণ করবে তখনই দেখবে, জরাজীর্ণ 
বৃদ্ধ তাপস তরুণের তারুণ্য লাভ করে আবির্ভূত হবেন তোমার 
সামনে এবং বিস্মরাহত তোমাকে তোমাদের পূর্ব পরিচয় জানাবেন । 
তিনি বলবেন, আমি তোমার সহধমিনীকে জানি । পুর্বজন্মে উনি 
ছিলেন বেদজ্ ব্রাহ্মণ তুর্ধস্থুর কনা! শুভত্রতা । নৈঞ্ুবের সঙ্গে বিবাহ 
হয়েছিল। অপ্রাপ্তযৌবনে নৈগ্রর নিধনপ্রাপ্ত হলে শুভব্রতা বৈধব্য 
পালন করে মুক্তিক্ষেত্র অবস্তীপুরীতে পরলোক গমণের পর পুণাফলে 
এ-জন্সে পাণ্তা নৃপতির কন্যা এবং তোমার সহধসিনী হয়ে কাশীক্ষেত্রে 
এসেছেন এবং এবার নির্বাণ লাভ করবেন। আর তুমি শিবশম। 
নামে সেই মাথুর ব্রাহ্মণ, পুণ্যৰলে বৈকুগ্ঠলোকে অবস্থানের পর এজন্মে 
বৃদ্ধকাল রাজা হয়ে কাশীক্ষেত্রে নির্জনে বিশ্বেশ্বরের আবরাধনায় নিধুক্ত 
হয়ে পরম মুক্তির পথ প্রশস্ত কর্ছে। তুমি যথার্থ পথই গ্রহণ করেছ 
-_-অহংবিবজিত হয়ে মহাদেবগত যে হয়েছ, তাতেই তোমার পুণ্যফল 
অটুট । কারণ, 

“ুকৃতং নৈব সততমাখ্যাতব্যং কদাচন | 
কৃতং ময়েতি কথনাৎ পুণ্যং ক্ষয়তি তৎক্ষণাৎ ॥” (২৪/৬৯) 

--আপনার স্থকৃত কথনো। নিজমুখে প্রকাশ করবে না! “আমি 
করেছি” এই কথা বলামাত্রই পুণ্যক্ষয় হয় । 

যাই হোক, কৃত্তিবাসের উত্তরে অবস্থিত এই লিঙ্গ বৃদ্ধকালেশ্বর 
নামে প্রসিদ্ধ হবে, হবে অনাদিসিদ্ধ লিঙ্গ । জর! ও সবব্যাধিবিনাশক 
এই কৃপেক্র নাম হবে কালোদক। এই বলে তিনি তোমার এবং 
অনঙ্গলেখার হাত ধরে সেই লিঙ্গমধ্যে অন্তহিত হবেন। তারপর 
গাণদয় বললেন 


৭৭ 


“মহাকাল মহাকাল মহাকালেতি কীর্তনাৎ | 
শতধ! মুচাতে পাপৈর্নাত্র কার্ধ্যা বিচারণা! ॥৮ (২৭/৮৩) 
“মহাকাল, মহাকাল, মহাকাল'--এই নাম কীঙন করলে শত 
পাপ হ'তে মুক্তিলাভ নিশ্চিত। 
পরোপকার ব্রত ব্রতী কাশীক্ষেত্র পরিত্যাগকারী মুনি অগস্ত্য 
সহধমিনী লোপামুদ্রাকে এই কাহিনী বিবৃত করে বললেন, এইভাবেই 
পরবর্তীকালে শিবশর্জা কাশীক্ষেত্রে পরম মুক্তি লাভ করেছিল। 
তাই--“ইথং মোক্ষস্ত নিনাতঃ পরিয়ে হানন্দকাননে। 
অতঃ স্মবাম তাং কাশীং হেলয়ামুক্তিদায়িনীম্‌ ॥ (২৪/৮৯) 
_-প্রিয়ে ! আনন্দক।ননে এইভাবেই মোক্ষ নিনীতি, সেই কারণেই 
অনায়াস-মুক্তিদারিনী । কাশীক্ষেত্রকে আমি সর্বদাই স্মরণ করি। 


[ অধ্যায় ২৫ ] 


সহধমিনী লোপামুদ্রাসহ অগস্ত্য শ্রীপবত প্রদক্ষিণ করে উপস্থিত 
হলেন ক্বন্দ কাননে | জলপারাধৌত ফলভারাৰণত পাদপ-সমাধুক্ত; 
হিংসা-ছেষ বিবজিত এই কানন যেন তাপসের নির্জন তসস্তাব জন্যই 
অপেক্ষমান । 

মহাভপা মহামুনি অগস্তা সেখানে এসে দর্শন করলেন সাক্ষাৎ 
দেব ক্বন্দকে । পত্বীপ্প গঙ্গে ভূমিতে দণ্ডবৎ প্রণাম করে ষড়াননের 
প্রীতির উদ্দেশ্যে করজোড়ে স্বকৃত স্তব করলেন। 
“নমোহস্ত তে ব্রহ্মবিদাং বরায় দিগস্থরারাম্বর সংস্থিতায় | 
হিরণ্যবর্ণায় হিরণ্যবাহবে নমো হিরণ্যায় হিরণারেতসে ॥” (২৫1১৩) 

আপনি ব্রন্ষবিদ্গণের শ্রেষ্ঠ আপনি দিগন্বর। আপনি 
অন্বরসংস্থিত,। আপনি হিরণ্যবর্ণ, হিরণ্যবাছ, হিরণ্য, হিরণ্যরেতা, 
আপনাকে নমস্কার । 

অতঃপর অগস্ত্যুনি দেব স্বন্দকে তিনবার প্রদক্ষিণ করার পর 


৭৮ 


ষড়ানন কাতিকেয়ের নির্দেশে পত্বীপহ তার সম্মুখে উপবেশন করলেন। 
কি কারণে অগন্ত্য মুনি কাশী পরিতাগ করে এসেছেন, তা সবই 
জানেন সবজ্ঞ ষড়ীনন । জানতে চাইলেন সোংস্থুকে কাশীর সংবাদ । 
আক্ষেপ করে বললেন, ব্রন্মাণ্ডে একমাত্র কাশীই হল মুক্তি ক্ষেত্র। 
দান, তপস্যা, যাগ-যজ্ঞ যা দিতে পারে না, একমাত্র মহাদেবের 
প্রসাদই তা দিতে পারে । বললেন £ 
“অহমেকচরোহপ্যত্র তৎক্ষেত্রপ্রাপ্রয়ে মুনে। 
তপো তপাংসি নাগ্াপি ফলেধুমে মনোরথাঃ ॥ (২৫/২২) 
_-সেই ক্ষেত্র লাভের আশায় আমি এই একস্থানে অবস্থান 
করে দীর্ঘ তপস্তা করে চলেছি; কিন্তু মুনি, আজও আমার সেই 
মনোরথ সফল হল না । 
তুমি ধন্য-_ছুর্লভ কাশীবাসে পবিত্র তোমার দেহ । সাগ্রহে দেব 
কাত্তিকেয় সেই পবিভ্রত। কামনায় অগস্ত্যকে নিবিড় আলিজন দিলেন । 
অগস্ত্য জিজ্ঞেন করলেন ফ্ন্দকে-_হে প্রভূ ষড়ানন! আপনি 
মাতৃক্রোডে বসে মহাদেব কতৃক পাবৰতীর কাছে বারাণশীর যে মহিম। 
কীর্তন শুনেছিলেন। তা বলুন । 
স্কন্দ বললেন, আমার ছয় মুখেও সেই অবিমুক্ত ক্ষেত্রের শ্রুত 
মহিমাকীর্তন শেষ হবার নয়। ত্রহ্মাণ্ডে যত লোক আছে তার মধ্যে 
কাশীক্ষেত্র সবিশেষ একটি লোক যেখানে সবসিদ্ধিদাতা দেবদেব 
মহাদেবের অবস্থান | 
“কুত্বা পাপসহত্রানি পিশাচত্বং বরং তিহ। 
ন তু ত্রতুশতং প্রাপ্য স্বর্গে কাশীপুরীং বিনা ॥” (২৫/৭১) 
-_-সহত্র পাপ করে পিশাচ হওয়া ভাল । কিন্তু শতযজ্ঞের দ্বার! 
প্রাপ্য স্বর্গও কাশীর কাছে কিছুই নয়। 
অস্তিমকালে এই অবিষুক্ত ক্ষেত্রে স্বয়ং বিশ্বেশ্বর জীবের কর্ণে 
তারকক্রন্ধ নাম দান করেন। যাতে জীব ব্রহ্মময়ত! লাভ করে। 


৭৯ 


[ অধ্যায় ২৬--অধ্যায় ৩০ 


অনুসন্গিংস্্ মুনিবর অগস্থ্য গ্রীত দেব স্বন্দকে এবার প্রশ্ন করেন- 
ভূমগ্ুলে কবে এই অবিষুক্ত ক্ষেত্র প্রখ্যাত এবং মোক্ষপ্রদ হল ? মণি- 
কণিকাই বা কেন হল ত্রেলোক্যপুজ্য ? গঙ্গ। যখন ভূমগুলে আগমন 
করেন নি, নই বাকি ছিল? এই পুরী কি কারণেই বা 'ৰারাণসী, 
“কাশী” কিদ্রাবাস? 'মহাশ্মশান? নামে খ্যাত ? 

শুনে ক্বন্দ বললেন, জগন্মাতা। পাবতীও দেবদেব মহাদেবকে এইসব 
প্রশ্নই করেছিলেন । মহাদেব প্রত্যুত্তরে বা বলেছিলেন আর আমি 
মাতৃক্রোড়ে বসে ৷ শুনেছিলাম, বলছি ; শোন। 

মহাপ্রলয়ে যখন বিনষ্ট হল স্থাবর-জঙ্গম ; চন্দ্র-স্-গ্রহ-নক্ষত্র যখন 
অন্ধকারে নিমজ্জিত হল; শব্দ-স্পর্শ-রূপ-বস-গন্ধ যখন হল অব্যক্ত; 
তখন মন ও বাক্যের অশোচর বেদ-স্বীকৃত অদ্বিতীয়ন্বরূপ, মায়।- 
বিজিত, শাশ্বত-সনাতন পরম ব্রহ্ম ইচ্ছাশক্তির দ্বার। কল্পনা করলেন 
এক দ্বিতীয় মৃতি। আমিই ( মহাদেবই ) সেই মুক্তি, পঞ্ডিতগণ যাকে 
নবীন ও প্রাচীন ব্রহ্ম বলে কীর্তন করে থাকেন। অনস্তর অদ্বিতীয় 
স্বরূপ আমি বিহার-অভিলাষ স্বীয় শরীর হতে স্থষ্টি করলাম শক্তিকে-_ 
পণ্ডিতের। যাকে বলেছেন, প্রধান, মায়া, গুণবতী, পরা, বুদ্ধিতত্বের 
জননী ও বিকারবঙ্জিতা” আর নির্মাণ করলাম অবিমুক্ত ক্ষেত্র । সেই 
শক্তি হলেন প্রকৃতি । 

অতঃপর সেই প্রকৃতি ও পুকষ পরমানন্দে পঞ্চক্রোশ-পরিমিত 
কাশীক্ষেত্রে লীলাসহকারে বিহার করেন । এই ক্ষেত্র তাদেরই পদতল 
থেকে নিষ্িত আর প্রলয়কালেও যেহেতু তার। এই ক্ষেত্র পরিত্যাগ 
করেন না" তাই 'অবিমুক্ত' ক্ষেত্র” 

“ন যদা ভূমিবলয়ং ন যদাপাং সমুদ্তৰঃ। 
তদ। বিহ্র্তমীশেন ক্ষেত্রমেতদ্বিনিগ্মিতম ॥ (২৬/২৮) 


৮৩ 


-যখন ছিল না ভূমগ্ুল, জলেরও স্ষ্টি হয়নি, সেই সময় স্বয়ং ঈশই 
বিহারে অভিলাধী হয়ে নির্মাণ করেছিলেন এই অবিমুক্ত ক্ষেত্র 

এই ক্ষেত্র হল মহাদেব ও পার্তীর নিরস্তর সুখাষ্পদ রমণীয় 
পর্য্যহত্মের্প । আনন্দদায়ী বলে মহাদেৰ প্রথমে এর নাম রেখেছিলেন 
“আনন্দকানন' তার পরে “অবিষুক্ত' | একথা নিশ্চিত জানবে; অগস্ত্য। 
আনন্দকানন কাশীক্ষেত্রে দৃষ্ট ইতস্ততঃ প্রতিষ্ঠিত প্রতিটি শিবলিঙ্গই 
আনন্দকন্দবীজসমূহের অস্কুরস্বরূপ | 

এরপর দেব ক্বন্দ অগস্ত্যের কাছে মণিকণিকার মাহাত্ম্যকীর্তনে 
প্রবৃত্ত হলেন । 

সেই পুরাকালে মহেশ্বর ও মহামায়া বিহার করতে করতে একদিন 
স্কপ্ল নিলেন অপর একজন পুরুষ স্থজন করবেন, ধার উপর সৃষ্টি, 
স্থিতি এবং লয়ের দায়িত অর্পণ করে তারা! নিশ্চিন্তে কাশীক্ষেত্রে মৃত 
ও শরণাপন্ন জীবদেরই নিধাণ-দান কার্ষে রত থাকতে পারবেন। 
চৈতন্রূপিনী জগজ্জননীর নঙ্গে জগংপিত। পরমেশ্বর ধূর্জটি সম্কল্পীভূত 
হবার পর স্বকীয় বাম অঙ্গের উপর যে মুহুর্তে নিগ্ধ দৃষ্টি নিক্ষেপ 
করলেন, সেই মুহূর্তেই আবিভূতি হলেন ত্রৈলোক্যস্ুন্দর অমুপমেয় এক 
পুরুষ__পুরুষোত্তম | সত্বগুণাশ্রয়ী শাস্তশ্রী, সমুদ্রবৰিজয়ী গাস্তীর্বসদৃশ 
সেই পুরুষের দেহকাস্তি ছিল ইন্দ্রনীলমণির মত, নুবর্ণবর্ণ নেত্রপল্স, 
চতুভূজি, নাভিদেশে সুগন্ধ শতদল পদ্মশোভিত। 

সেই মহাপুরুষকে অবলোকন করে মহাদেব বললেন £ “মহাবিধু- 
ভবাচ্যুত”-_হে অচ্যুত : তুমি মহাবিষুঃ হও আবর-_ 

“তব নিশ্বসিতং বেদাস্তেভ্যঃ সর্বমবৈষ্যসি | 
বেদদৃষ্টেন মার্গেণ কুরু সর্ববং যথোচিতম্‌ ॥ ” (২৬/৪৯) 

তোমার নিঃশ্বাস থেকেই বেদসকল আবিভূতি হবে, আর ত 
থেকেই তুমি সব জানতে পারবে । বেদপ্রদশিত পথ অবলম্বন করে 
তুমি যথোচিত বিধান কোরো! ।--এই বলে মহেশ্বর মহামায়ার সঙ্গে 
চলে গেলেন আনন্দকাননে | 

মহাদেবের নির্দেশে বিষণ সেখানে প্রথমে নিজের চক্রুদ্বারা এক 


৮১ 


কাশী--৬ 


রমণীয় পুক্ষরিণী খনন করে স্বীয় গাত্র-স্বেদ সলিলে তা পরিপূরিত 
করলেন। অতঃপর তার তীনে বসে নিমীলিত নেত্রে ৰিষুঃ বসলেন 
নিশ্চল তপস্তায়। এইভাবে পঞ্চাশ হাজার বছর অতিক্রাম্ত হলে 
ভবানীর সঙ্গে ভবানীপতি বিজুর সম্মুখে আবিভূর্তি হলেন। বায়ার 
স্বীয় মস্তক আন্দোলন করতে করতে বললেন, “তামার চিত্তের অসীম 
ধৈর্য্য আর মহতী তপস্তায় তুমি নিজেই বহিদীপ্ত হয়ে উঠেছ। হ্থে 
মহাবিষে। ! কী প্রয়োজন আর তোমার এই তপস্তার | তুমি বক্র 
প্রার্থনা কর |, 
বিষণ প্রার্থনা জানালেন-__সর্ধদাই যেন ভবানীর সঙ্গে ভবানীপতির 
চরণ দর্শন হয়। মহাদেব সম্মতি জানালেন বিষ্ণুর প্রার্থনায় । আব 
বললেন,_হে বিষ | তোমার মহতী তপস্তা অবলোকন করে বিস্মরে 
বারবার আমার মস্তক আন্দোলিত হয়েছিল। 
“তদান্দোলনতঃ কর্ণাৎ পপাত মণিকণিকা | 
মনিভিঃ খচিত রম্য! ততোহল্ত্র মণিকণিকা ॥” (২৬/৬৩) 
_-সেই আন্দোলনের ফলে আমার কর্ণ থেকে মণি-খচিত রমদীয় 
মণিকণিকা এই স্থানেই পতিত হয়েছে । এই স্থান তাই “মণিকণ্রিক!: 
নামে প্রসিদ্ধ হবে। 
বিষুর প্রার্থনায় সেইদিন থেকে মণিকিকা হল সর্বতীর্ঘ শ্রেষ্ঠ 
এেবং__ 
“কাশতেহত্র যতো! জ্যোতিস্তদনাখ্যেয়মীশ্বরঃ | 
অতো নামাপরপঞ্ান্ত্ব কাশীতি প্রথিতং বিভো ॥৮ (২৬/৬৭ ) 
আর প্রার্থনা জানালেন, হে বিভে। ! সেই অনাখ্যেন্ন জ্যোতি৫- 
স্বরূপ ঈশ্বর যে কারণে এই ক্ষেত্রে শোভা পেয়ে থাকেন, সেই কারণে 
সংসারে এই স্থান “কাশী' নামে বিখ্যাত হোক। 
আরও প্রার্থনা জানালেন__পঞ্চক্রোশী এই কাশীর নাম গ্রহণে 
যেন সর্ব পাপ বিদূরিত হয়; শশক; মশক; কীট, পতঙ্গ, তুর; ভূজঙ্গ 
প্রভৃতি জীবগণের এখানে দেহাবসানে যেন মুক্তিলাভ দ্ঘটে; চার বেদ 
সম্পূর্ণ অধ্যয়ন. করলে যে পুণ্য হয়, এখানে লক্ষ গায়ত্রী অপে বেন সেই 


৮ 


পুণ্য অজিত হয়। শ্রদ্ধা-সহকারে কাশীর দর্শনই ষেন পুণ্য সঞ্চয়ের 
হেতু হয়। 

জগৎপতি দেবদেব মহাদেব প্রসন্নচিত্তে বিষ্ণুর অভীগ্ন! পূরণ করে 
বললেন--হে মহাবাহো ! তোমার ইচ্ছাই পূরণ হবে। বেদোক্ত বিধানে 
তুমি সৃষ্টি করো, ধর্মান্ুমারে পালন কর আর অধাসিকের নাশকারক 
হও। যারা তপোৰলে গবিত হয়ে তোমার অবমাননা করবে, তাদের 
বিনাশ আমি করব । আর কাশীক্ষেত্রের যাবতীয় শাসনভার আমার | 
যে যেখানে যেভাবেই মৃত্যুর কবলে পতিত হোক না৷ কেন, কাশীর 
স্ম্ণই তাকে প্ুণাফল দেবে । পাপকারীগণের কাশী-প্রবেশ হৰে 
পাপমুক্তির উপায় ; মণিকণিকায় স্নান হবে সবতীর্থ স্লানের শ্রেষ্ঠ 
সান। 

মহাদেব পাবতীকে বলেছিলেন £ 

“অবিমুক্তং মহৎ ক্ষেত্রং পঞ্চক্রোশপরীমিতম্‌। 
জ্যোতিলিঙ্গং তদেকং হি জরে বিশ্বেশ্বরাভিধম্‌॥” (২৬/১৩১) 
_-পঞ্চক্রোশপরিমিত অবিমুক্তক্ষেত্রকে মহৎ ক্ষেত্র এবং বিশ্বেশ্বরকে 
জ্োতিলিঙ্গস্বরূপ জানবে । 

যোগে বিদ্ধ আছে, তপস্তাও ক্লেশসাধ্য। আবার তপস্থা। ও বোগ- 
জষ্ট হলে গর্ডযন্ত্রণা। ভোগ করতে হবে। কিন্তু কাশীতে মৃত্যু হলে 
রুদ্রপিশাচ হয়ে সে মুক্তিলাভ করবে । এখানে যেহেতু একমাত্র আমিই 
শাসক, বনদূতগণের প্রবেশ ক্ষমতা নেই। 

অতঃপর দেব ক্বন্দ পারভী-সমীপে মহাদেব-কর্তৃক কীতিত কাশীর 
বারাণসী প্রভৃতি অপরাপর নামের যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তা 
বললেন অগস্ত্যকে। 

নুর্যবংশে পরম ধাস্সিক এবং মহাতেজন্থী নরপতি ভগীরথ যখন 
শুনলেন কপিলের ক্রোধাগ্সিতে তার পূর্বপুরুষেরা দগ্ধ হয়ে রয়েছেন, 
তখন তাদের উদ্ধার কামনায় রাজ্যন্ভার অমাত্যদের হস্তে অর্পণ করে 
গঙ্গার আর্লাধনায় কৃতনিশ্চয় হয়ে তপক্তায় রত হলেন হিমালয় | 
দেবাদিদেব বিষুকে বলেছিলেন, 


৮৩ 


“মমৈব সা পরা মৃত্তিস্তোযরূপা শিবাত্মিক | 
্রহ্মাণ্ডানামনেকানামাধবঃ প্রকৃতিঃ পর! ॥ 
শুদ্ববিষ্ভান্বরূপ! চ ত্রিশক্তিঃ করুণাত্মিকা | 
আনন্দামূতরূপা চ শুদ্ধধন্মস্বরূপিনী ॥” (২৭/৭-৮) 

-_-সেই মঙ্গলময়ী জলরূপা৷ গঙ্গা আমারই আত্মিক । তিনিই 
সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের আধারভূতা পরমাপ্রকৃতি । শুদ্ববুদ্ধিত্বরূপা, ত্রিশক্তি- 
রূপিনী, করুণাময়ী তিনিই আনন্দামৃতরূপ এবং শুদ্ধধর্মরূপিণী | 

ব্রহ্মশাপাগ্সিতে দগ্ধ জীবনের তিনিই একমাত্র মুক্তিদাত্রী এবং 
সর্হর্গতিনাশিনী | সত্যযুগে সর্বত্রই তীর্থ ভ্রেতাযুগের তীর্থ পুস্কর, 
দ্বাপরের তীর্থ কুরুক্ষেত্র আর কলির তীর্থ হল গঙ্গ৷ । সত্যযুগে ধ্যানই 
ছিল মোক্ষের উপায়; ত্রেতায় ধ্যান এবং তপস্তা। দ্বাপরে ধ্যান আর 
কলিযুগে গঙ্গাসান | 

শ্রদ্ধাবনত এবং ভক্তিগ্রত চিত্তে গঙ্গার শরণ কলিযুগে অনিবার্ষ 
মোক্ষের কারণ | কেননা, সুঙ্ষ্রধর্ম, পরমজ্ঞান, পরম তপস্তা শ্বর্গ সব 
কিছুর মূলেই শ্রদ্ধা । সেই শ্রদ্ধা এবং ভক্তিসহকারে নিত্যঙ্সায়ী সানাস্তে 
শিবলিঙ্গের অর্টনা করলে একজন্মেই মুক্তি লাভ করে থাকে । বন্থুতর 
সিদ্ধি ও সিদ্ধলিঙ্গ, নানাবিধ স্পর্শলিঙ্গ, রত্ুখচিত প্রাসাদনিচয় চিন্তামণি 
মণিসমূহ, কলির ভয়ে ভীত হয়ে গঙ্গাজলমধ্যে আত্মগোপন করে 
থাকেন। তাই স্নানে যেমন পুণ্য ; স্পর্শে এবং দর্শনেও তেমনি পুণ্য । 

“যধাশ্বমেধে বজ্ঞানাং নাগানাং হিমবান্‌ বথা । 

ব্রতানাঞ্চ যথা সত্যং দানানামভয়ং যথ। ॥ 

প্রাণায়ামশ্চ তপসাং মন্ত্রাণাং প্রণবে যথা । 

ধন্মাণাপ্যহিংস! চ কাম্যানাং শ্রীথ! বরা ॥ 

যথাত্মবিদ্তা বিদ্যানাং স্ত্রীণাং গৌরী যথোত্তম। । 

সব্বদেবগণানাঞ্চ যথ। তং পুরুষোত্তম ॥ 

সব্বেষামেব পাত্রাণাং শিবভক্ত! যথ! বর: । 

তথ। সর্ব্বেষু তীর্থেষু গঙ্গ! তীর্ঘং বিশিষ্যাতে ॥” (২৭/৭*-৭৩) 
-_যজ্ঞসমূহমধ্যে যেমন অশ্বমেধ। পর্বতসমূহ মধ্যে যেমন হিমালয় 


৮৪ 


ব্রতসমূহ মধ্যে সত্য, দানসমূহে যেমন অভয়, তপঃদমূহে যেমন 
প্রাণায়াম, মন্ত্রসমূহে যেমন প্রণব ধর্মসমূহ মধ্যে যেমন অহিংসা। কাম্য- 
সমূহে যেমন লঙ্ষ্ী, বিষ্যাসমূহে যেমন আত্মবিদ্া। স্্রীনমূহ মধ্যে যেমন 
গৌরী আর হে পুরুষোত্তম, দেবসমূহ মধ্যে যেমন তুমি, সর্বপ্রকার পাত্র- 
মধ্যে শিবভক্ত যেমন শ্রেষ্ট, সর্বতীর্থ মধ্যে গঙ্গাই তেমনি শ্রেষ্ঠ তীর্থ । 

সেই কলিকলুষনাশ গঙ্গায় শ্রদ্ধা-ভক্তিসহকারে স্নান, সেবা, গঙ্গা- 
তীরে বিশুদ্ধাস্তঃকরণে বাস, পিতগণের উদ্দেশ্যে গঙ্গাজল দান, ব্রতাদি 
কর্ম এবং “ও নমঃ শিবায়ৈ গঙ্গায়ৈ শিবদায়ৈ নমো! নমঃ। নমন্তে 
বিষ্ুররূপিণো। ত্রহ্মমূত্র্যে নমোহম্তব তে।”__হে, গঙ্গে, মঙ্গলদায়িণী 
শিবাব্বরূপিনী; ব্রদ্মমূতি ও বিষ্্ুবূপিণী, তোমাকে নমস্কার ইত্যাদি 
স্তবে যারা! তুষ্ট করে তারা কায়িক, বাচিক ও মানসিক দশবিধ পাপ 
থেকে অবশ্যই মুক্তি লাভ করে। বিশেষতঃ কাশীতে উত্তরবাহিনী 
গঙ্গার ন্যায় পবিত্র ও পাপনাশিনী আর কিছুই নেই কারণ, সেই 
অবিমুক্তক্ষেত্রে আমার সর্ধদা অবস্থান । 

যেকোন অবস্থাতেই মৃত জীবের অস্থি গঙ্গায় পতিত হলে তার 
(কিরকম সদ্গতি হয় বিষ্ণুর নির্বন্ধাতিশয্যে দেবদেব তাকে যে কাহিনী 
বলেছিলেন, দেব স্কন্দ অতঃপর তা শোনালেন অগস্ত্যকে | 

পুরাকালে কলিঙগদেশে স্নান, সন্ধ্যা ও বেদ-বিবঙ্জিত লবণ-বিক্রুয়- 
কারী এক ব্রাহ্মণ ছিল। নাম তার বাহীক। ব্রাহ্মণ বংশজ হলেও 
নামে মাত্র ব্রাহ্মণ সেই বাহীক কৌবিন্দী নামে তন্তবায়-জাতীয়। এক 
নবীনা বিধবাকে বিবাহ করেছিল । কোন এক সময়ে দেশে হুর্ভিক্ষ 
দেখ। দিলে কৌবিন্দী পতির সঙ্গে দেশাস্তরী হল। পথিমধ্যে দণ্ডকারণ্যে 
ক্ষুধাতুর সেই ব্রাহ্মণ বাহীক হল ব্যান্রের শিকার। ত্রাহ্মণ নিহত হলে 
এক শকুন তার বা প নিয়ে ক্ষুন্নিবৃত্তির উদ্দেশ্টে আকাশে উড়ল। তখন 
আর এক ক্ষুধাতুর শকুন আকাশপথে সেই শকুনের কাছ থেকে 
গ্রহণাভিলাষে সংগ্রামে প্রবৃত্ত হল।. ছুই শকুনে যখন চলেছে সংগ্রাম, 
হঠাৎ পাদগুক্ষটি চঞচুচ্যুত হয়ে নিপতিত হল গঙ্গাজলে। 

এদিকে ব্যান কর্তৃক নিহত হবার সঙ্গে সঙ্গেই যমকিস্করেরা এসে 


৮৫ 


তার সুক্ষ্দেহকে দুভাবে রজ্জবদ্ধ করলে এবং ছুরস্ত প্রহার করতে 
কল্পুতে তাকে নিয়ে উপস্থিত হল যমবাজের সামনে । প্রহারের ফলে 
ব্রাহ্মণ তখন রুধির বমন করছে । যমরাজ তখন চিত্রগুগ্তরকে ডেকে 
বাহীকের পাপ-পুণোর হিসাব এবং বিচার করতে বললেন । 

চিত্রগ্ুপ্ত তখন এই ব্রা্গণের জীবন-বৃত্তাস্ত পরীক্ষা করে যমরলাজকে' 
বললেন, এই ছুরাত্মা পাঁচ বছর বয়স থেকেই পরস্বাপহরণ, ছ্যতক্রীড়ায় 
রত হয়েছিল। ব্যাভিচারিণী শুত্রাণীর সঙ্গে সহবাস, দণ্ডাঘাতে গাভী 
হত্যা, জননীকে পদাঘাত, পিতৃবাক্যের অবমাননা করে এসেছে 
জীবনতোর । অকারণ জীবহত্যা; শূদ্রান্নে শরীর পোষণ. পর্যদিনেও 
মৈথুন পরায়ণ, অনৃতভাষী, সর্বদা হিংসাশ্রয়ী এই বাহীক সাধুগণেরও 
অনিষ্ট সাধনে পরাত্মূখ ছিল না। শিক্সোদর-পর্ায়ণ এই পাষও 
কাউকে কোনদিন কিছু-দানও করেনি । এ সাক্ষাৎ মুতিমান পাতক। 
হে রবিজ | একে ঘোর রৌরব, অন্ধতমিত্রা, কুস্তীপাক, অতি রৌরব, 
কালনূত্র, কৃমিভক্ষ। পৃ'যশোণিতকর্দম, অসিপত্রবন, যন্ত্রগীড, নুদ্র-স্টুক 
অধোমুখ, পৃতিগন্ধ, বিষ্টাগ্ত। সুচীভেগ্ঠ, সন্দংশ, লালাপ এবং ক্ষুরধার 
নামক প্রতিটি নরকে এক এক কল্প রাখা উচিত। চিত্রগুপ্তের পত়্ামর্শে 
যমরাজের আদেশে কিস্করেরা বাহীককে ততক্ষণাৎ নিয়ে গেল ঘোর, 
রৌরবে। 

রদ্দিকফে শকুনের মুখ থেকে বাহীকের অস্থি গঙ্গাজলে নিপতিত 
হবার সঙ্গে সঙ্গে স্ুরুলোক থেকে ঘণ্টা নিনাদিত, শত দিব্য্্ী-সন্কুল 
এক দিব্য ব্থ এসে উপস্থিত হল এবং গঙ্গায় অস্থি পতন-জনিত 
পুণ্যকলে বাহীকও দিব্যবেশ ধারণ দিবাগদ্ধান্ুলেপনে অন্ুলিপ্ত হয়ে: 
দিব্য-বিষানে স্বর্গলোকে গমন করলে। 


ত্রিপথগা গঙ্গাই হল শ্রেষ্ঠ তীর্থ এবং শ্রেষ্ঠ নদী । 

অগস্ত্য প্রশ্থ করেন।--শরীয়ের শক্তাশক্ত অনুলারে সকলেরই তা 
গঙ্গান্সান সম্ভব নয়, আত্ম সব দেশেই গঙ্গ। নেই। তাহলে তাদের, 
মুক্তির উপায় কি? 


৮৬৩ 


দেব স্বন্দ বললেন।--সেখানে একটাই মাত্র উপায় পৰিত্রচিত্তে 
স্পষ্টাক্ষরে গঙ্গার সহত্রনাম স্তোত্র পাঠ । শঙ্গাল্লানের প্রতিনিধি এই 
স্তোত্র হল মুক্তিবীজাক্ষর-স্বরূপ। 

এই স্ুথদা-ত্রিপথগ। গঙ্গাকে ব্রদ্মশাপদগ্ধ পিতামহগণের উদ্ধারের 
অভিলাষে তগীরথ মহাদেবের আবাধন! করে গঙ্গাকে ভূতলে নিয়ে 
এলেন পথ দেখিয়ে। নিয়ে এলেন তাকে পুরোগামী হয়ে মণিকণিকায়; 
নিয়ে এলেন মহাদেবের আনন্দ-কাননে হরির চক্রপুফরিণীতে। পূর্ব 
থেকেই মুক্তি এখানে প্রতিষ্ঠিত। এখন স্ুুরধনি গঙ্গার মিলনে 
মণিকগ্রিক! হয়ে উঠল দেবগণেরও ছুলভ | 

সেই সময় এই মুক্ত পুরীর রক্ষণাবিধানে বদ্ধপরিকর হয়ে যম, ইন্ত; 
অগ্নিপ্রযুখ দেবগণ অবিমুক্তক্ষেত্রের দক্ষিণে দুষ্টগণের প্রবেশ প্রতি্নোধিনী 
“সসি' নদী, আর উত্তরদিকে পাগীগণের অনায়াস মোক্ষপ্রান্তি বাসনার 
প্রতিবন্ধক স্বরূপ “বরণ? নদী নির্মাণ করলেন । বরণা ও অসির সঙ্গম 
লাভ করে কাশীর অপর নাম হল “বারাণসী; | 

কেবলমাত্র এই ছুটি নদী নির্মাণ করেই দেষগণ বারাণসীতে যথেচ্ছ 
প্রবেশ পথ রোধ করেন নি, পশ্চিম ভাগ রক্ষ। করার জন্ত আদেশ 
দিলেন দেহলী বিনায়ককে | বিশ্বেশ্বপ যাদের কাশী প্রবেশে অনুমতি 
দেৰেন। অসি, বরণ আর দেহলী বিনায়ক একমাত্র তাদেরই 
বারাশসীতে প্রবেশ করতে দেন । 

এই প্রসঙ্গেই দেব ক্বন্দ অগস্ত্য-সমীপে কীর্ভন করলেন এক পুরা 
কাহিনী । 

দাক্ষিণাতো সেতুবন্ধ সমীপে ধনগ্জয় নামে এক মাতৃভক্ত বণিক 
বাস করত । যেমন ছিল তার রূপ, তেমনি ছিল তার গুণ, উদ্দারতা; 
সম্ধদয়তা, সত্যপ্রয়তার অতুলনীয় আধার কৃষ্ণভক্ত সেই বণিক, স্বধর্ম- 
নিরত থেকেও ছিল সদাচার নিষ্ঠ। কালক্রমে ধনগয়ের জরাতুরা 
পত্ঠী ব্যাধিলীড়িত। হয়ে মৃত্যুমুখে পতিতা হল। যৌবনে ধনঞজয়-জননী 
ছিল দোহাবিষ্টা, ফৌবনমদে মত্তা । মেঘছায়ার স্তায় চঞ্চল ঘৌবনকে 
নিক্গে মিজের পতিকেও বঞ্চনা করতে দ্বিধা! করেনি নে। ম্বভার 


৮৭ 


পর তাই তার উপযুক্ত নরকেই সে গমন করেছিল । 

মাতৃভক্ত ধনঞ্জয় কিন্তু মৃতের সদ্গতির উদ্দেশে জননীর অস্থিসমূহ 
তাত্রাধারে সংগ্রহ করে গঙ্গার অভিমুখে গমন করল। যথাবিধি 
বক্ষকর্দমান্ত্যস্তরস্থ অস্থি চেলবস্ত্রে ব্ধন করে সর্বদাই শুদ্ধাচারে থেকে 
পদত্রজে চলতে চলতে একসময় সে জ্বাক্রাস্ত হয়ে পড়ল । ফলে, 
বাধ্য হয়ে তাকে নিতে হল এক ভারবাহী | 

কোনরকমে কাশীতে উপস্থিত হয়ে ধনঞ্জয় ভারবাহী শবরের 
উপর সব রক্ষণা-বেক্ষণের দায়িত্ব দিয়ে ভোজনদ্রব্য ক্রয় করার জন্য 
বিপণিতে গেলে শবর তাজ্রাধারটি ধনঙ্ঞানে চুরি করে নিজগৃহে 
পালাল। তারপর সেখান থেকে এক নির্জন অরণ্যে গিয়ে তাআধারটি 
খুলে কতকগুলি অস্থি দেখে হতোগ্যম হয়ে গৃহে প্রত্যাগমন করল । 

এদিকে বণিক ফিরে তাম্রাধারটি অপহ্ধত হয়েছে দেখে বিষগ্নচিত্তে 
খুঁজতে খুঁজতে গেল সেই শবরের বাড়ি। বাড়িতে চেল বস্ত্রথণ্ডটি 
দেখে তার স্থির বিশ্বাস হল, শবরই সেটি অপহরণ করেছে। বিনিষয়ে 
প্রভূত অর্থদানের প্রতিশ্র্গত দিলে শবর তাকে নিয়ে চলল সেই বনে । 
কিন্তু এমনি ব্যাপার যে শবর দিকভ্রান্ত হল। চতুদিক ঘুরেও আগের 
ঠিক সেই স্থানটিতে পৌছোতে ন। পেরে, বণিককে বনের মধ্যে রেখেই 
সে ফিরে এল। ধনপ্রয় এরপর সেই বনের মধ্যে ছু'তিন দিন অস্থির 
অন্বেষণ করে ফিরল। অবশেষে ক্ষুধায়, তৃষ্গয় কাতর হয়ে প্রত্যাগমন 
করতে বাধ্য হল কাশীতে। কাশীতে এসেও মাতৃ-অস্থি তার আর 
গঙ্গায় দেওয়া হল না, গয়। আর প্রয়াগে পারলৌকিক কাজ সেয়ে 
তাই বাধ্য হয়েই বণিককে ফিরে যেতে হল স্বদেশে | 

তাই বলছিলাম, বিশ্বেশ্বরের আজ্ঞ। ছাড়া কাশীবাস কারো পক্ষেই 
সম্ভব নয় । 

মহাদেব বলেছিলেন, জলচর, স্থলচর প্রভৃতি যে সকল জীবই 
কাশীতে বাস করুক না কেন দেহাস্তে তারা রুদ্র দেহ ধারণ কয়ে 
আমাতেই লীন হয়। স্বর্গে বর্ষবাণ, অস্তরীক্ষে বাতবান; পৃথিবীতে 
অঙ্গবান নামে খ্যাত যে সমস্ত রুদ্রগণ বিন্বাজিত, পূর্বাদি দিকে দশ দশ 


৮৮ 


সংখ্যক ঘে সকল রুদ্র আছেন, বেদবাদিগণ উধ্বস্থিত যে রুদ্রগণেক্র 
বর্ণনা করেন, ঘষে সকল অসংখ্য রুদ্র পাতালদেশে বিছ্যমান, কাশীতে 
রুদ্ররূাগী যে জীবগণ বান করেন, সকলের চেয়ে তারাই হলেন শ্রেষ্ট। 
সেই কারণে কাশীর অপর এক নাম হল 'রুত্রাবাস।' 

_-আবার প্রলয্নকালে মহাভূতগণ মহাকালমৃত্তি পরমেশ্বর মহাদেব, 
ধার অপর নাম মহাবিমুতে অন্তহিত-আত্মা হয়ে শবরূপে কাশীতে 
শয়ন করে থাকেন, তাই কাশীর অন্ত এক নাম “মহাশ্মশান?। 

দেবদেব শস্তু মহাদেবী এবং মহাবিষুণর কাছে কাশীর নাম পরম্পরা 
যেভাবে বলেছিলেন, দেব স্কন্দ সেইভাবে তা শোনালেন কলসোদ্ব 
সগক্তযকে | 


] অধ্যাক্ম ৩১ ] 


কুস্তসম্ভব অগস্ত্য অতঃপর দেব স্বন্দকে জিজ্ঞাসা করলেন £ 
“কোহসৌ৷ ভৈরবনামাত্র কাশীপুর্ষ্যাং ব্যবস্থিতঃ। 
কিং রূপমন্ত্য কিং কম্ম কানি নামানি চাস্য.বৈ ॥” (৩১/৩) 
_-কাশীতে ভৈরব নামে কে অবস্থিত ? তার রূপ; কর্ম আর নাম- 
সমূহই বা কি? আর ভৈরবের অনুগ্রহই বা কিভাবে লাভ করা বায়? 
দেব স্বন্দ বললেন-_পুরাকালে একবার মুমেরুশুজে মহধিগণ 
সমবেত হয়ে লোক-পিতামহ ব্রহ্মাকে প্রণাম করে জ্ঞানতে চাইলেন, 
একমাত্র কোন্‌ তত্ব অব্যয়! ব্রচ্গা মহেশের মায়ায় মোহিত হয়ে" 
বললেন, “আমিই জগদ্যোনি, আমি বিধাতা, আমি ন্থ্য়ন্ু, আমিই 
এক ঈশ্বর, আমিই অনাদি ব্রহ্মন্বরূপ। আমার অর্চনা না করলে 
কেউই মুক্তি লাভ করতে পারে না। হে স্ুরশ্রেষ্ঠগণ ! আমিই 
জগতের একমাত্র সি ও প্রলয়কর্তা। আমা হাতে আর কেউ শ্রেষ্ঠ 
নেই ।” ব্রহ্মার এই কথা শুনে নারায়ণ-অংশ সম্ভূত ক্রতু (যজ্ঞের 
ধিষ্ঠাত্রী দেবতা) ক্রোধারক্ত লোচনে ব্রচ্মাকে বললেন-“পরমতত্ব 


৮৯ 


না জেনে এ্রসব তুমি কি বলছ ? হে অজ! আমিই লোকসমূহের কর্তাঃ- 
যজ্ঞ ও পরম নারার়ণস্যযূপ | আমাকে অনাদর করলে ছগৎ হবে 
জীবনহীন | আমিই পর্ম জ্যোতি, পরমাগতি | আমা কর্তৃক প্রেরিত 
হয়েই তুমি এই সমস্ত স্যপ্টি করেছ ।” 

পরস্পর-বিবদমান ব্রহ্মা এবং ক্রতু জয়াভিলাষে শব্বণাপন্ন হল 
প্রমাণস্বরূপ চা বেদের | 

খণ্েদ বললেন--“ভূতগণ ঘার অন্তরে অবস্থিত, যা থেকে সমস্ত 
উৎপন্ন এবং মহাত্মাগণ প্লাকে পর" বলে থাকেন, সেই একমাত্র রুদ্রই 
পরম তত্ব । ঘজুর্বেদ বললেন, “যে ঈশ যজ্ঞসমূহ এবং যোগের দ্বারা 
অচিত এবং ধার দ্বারা লোকে আমরা প্রমাণরূপে পরিগৃহীত হয়েছি॥ 
সেই সর্বদরশর্শ শিবই একমাত্র পরম তত্ব।” সামবেদ বললেন, “এই 
বিশ্বকে যিনি ভ্রমণ করাচ্ছেন। যোগিগণ দ্বার! যিনি বিচিস্তিত, ধার 
দীপ্তিতে বিশ্ব প্রকাশিত, সেই ত্র্যস্বকই পরম তত্ব । অথর্ববেদ বললেন; 
“কৃপাপ্রাপ্ত ভক্তগণ যে দেঘেশকে দর্শন করে থাকেন; সেই কৈবল্য- 
রূপী ছুঃখহারী শঙ্করকেই; মহাত্মাগণ একমাত্র পরম তত্বরূপে কীর্তন 
করে থাকেন ।” 

শ্রুতির এই জাতীয় কথ। মনঃপুত হল না ব্রহ্মা এবং ত্রুতুর | ঈষৎ, 
হান্য-সহ্কানে বললেন, যে দেবেশ রুদ্র বা শিবকে তোমরা! পরমতত্ব- 
রূপে প্রমাণ দিতে চাইছ, সে তো বৃষবাহন, অহিভূষণ। জটাধান্নী, 
দিগন্থর। শ্মশীনবাসী, আর শিবা সঙ্গে ক্রীড়ারত। কিভাবে সেই 
প্রমথনাথ পরম ব্রহ্গাত লাভ করতে পানে? 

ঠিক সেই সময়েই তাদের সামনে আবিভূতি হলেন অমূর্ত সনাতর্ন 
স্বয়ং প্রণবাত্ম। । বললেন, “লীলবিগ্রহধাত্নী ভগবান হর আত্মার 
শক্তি ছাড়া আন্ন কারে! সাথে কখনো লীল! করেন না । এ আনম্দ 
রূপা শিবা কোন বহিরাগত! নন; উনি শিবেরই শক্তি ।” 

এতেও ব্রহ্ম! এবং ক্রতুর মোহনাশ এবং অজ্ঞানান্ধকার দৃপ হল 
না। সেই সময় তাদের মাঝে পৃথিবী এবং ব্বর্গের মধ্যস্থল উদ্ভালিত 
কম্মে আবিভূতি হল এক মহৎ জ্যোতি। জ্যোত্তিমগুল মধ্যে দৃষ্ট হল 


৪9৩ 


এক পুরুষাকৃতি। তাই দেখে ব্রহ্মার পঞ্চম মস্তক প্রজ্থলিত হয়ে 
উঠল । কে এই হির্নণ্যগর্ভ ! মনে এই প্রশ্ন উদিত হওয়া মাত্রই তারা 
দেখলেন ত্রিশুলহস্তঃ ভাললোচন, সর্প-বিভূষণ চন্দ্রশেখর মহাদেবকে । 
দেখামাত্র ব্রহ্গার পঞ্চম মুখ মুখর হয়ে উঠে বলল-_“হে চন্রশেখর ! 
আমি তোমাকে জানি, তুমি আমার কপাল হতে উৎপন্ন হয়েছিলে। 
রোদন করেছিলে বলে তোমার নাম রেখেছিলাম করদ্র'। সুতরাং 
তুমি আমারই পুত্র । আমারই শরণাগত হও। আমি তোমাকে 
রক্ষা করব 1” প্রজাপতির এই উদ্ধত বাকা শুনে কোপ-বিশিষ্ট সেই 
পুরুষাকার হতে ভৈরবাকৃতি এক পুরুষের স্থপ্টি হল। চন্দ্রশেখর 
তাকে বললেন, “হে কালভৈরব ! তুমি এই ব্রহ্মাকে শাসন কর। 
তুমি কালের হ্যায় দীপ্ডিমান। তাই তুমি কালরাজ'? নামে বিখ্যাত হবে। 
যেহেতু তুমি বিশ্বকে ভরণ করতে সমর্থ তাই তোমার অপর নাম 
হবে “ভৈরব । কালও তোমাকে ভয় করবে, তার জন্তে আর এক নাম 
হবে কোলউৈরব? ৷ তুমি যখন তুষ্ট হয়ে হুষ্টগণকে দমন করবে, তখন 
তোমার নাম হবে আমর্দক' । আর যেহেতু ভক্তগণের পাপসমূহকে 
তুমি নিমেষে ভক্ষণ করবে, তোমার অন্ত এক নাম হবে 'পাপভক্ষণ' | 
আর-_ 
“ঘা মে মুক্তিপুরী কাশী সব্বাভ্যোহপি গৰীয়সী । 
আধিপত্যঞ্চ তন্যান্তে কালরাজ সদৈব হি ॥” (৩১/৪৬) 

“হে কালবাজ ! সর্বাপেক্ষ। শ্রেষ্ঠ আমার যে মুক্তিপুরী কাশী 
রয়েছে। সেখানে তুমি সর্বদা আধিপত্য করবে |” 

কাল্ৈরব এই বর লাভ করে. তৎক্ষণাৎ বামহস্তের কণিষ্ঠান্কুলির 
নথের অগ্রভাগ দিয়ে যে মুখে ব্রহ্মা শিবের অবমানন! করেছিল, সেই 
পঞ্চম মুখ ছিন্ন করে ফেলল । 

তাই দেখে ক্রতু শক্করের স্তব করতে লাগলেন আর প্রজাপতিও 
শতরুদ্রী জপ করতে লাগলেন । অতঃপর দেব শঙ্কর গ্রীত হলেন, 
আশ্বাস দিলেন আর ন্থীয় অপর মু্তি কপর্দা ভৈরবকে বললেন-_- 
বরক্ষহত্যাজনিত পাপ তোমার উপর অপিত হয়েছে । তুমি শ্রক্মার 


৯১ 


এই কপাল ধারণ করে ভিক্ষান্নে কাপালিক-ব্রত পালন কর। এই 
বলে তেজোময় দেব অস্তহিত হলে শিব রক্তবর্ণা রূক্তবস্ত্রপরি হিতা; 
রক্তগন্ধানুলিপ্তা, রক্তমাল্যশোভিনী, করালবদনা, রুধির-পানরতা৷ 
্রহ্মহত্য। নামে এক কন্তা। উৎপাদন করে সেই ভৈরবনাদিনী ভয়ঙ্করীকে 
আদেশ দিলেন, কালভৈরব যে পর্যস্ত বারাণসীতে গমন না করছেন, 
সে পর্যস্ত তার অনুগমন করতে । ব্রহ্মহত্যার সংসর্গে কৃষ্ণবর্ণ কালরাজ 
মহাদেবের আদেশে কাপালিক-ব্রত ধারণ করে কপালহস্তে ত্রিভুবন 
ভ্রমণ করেও পাপমুক্ত হলেন না । ত্রিভুবন পর্যটন করতে করতে 
এক সময় কালভৈরব এলেন নারায়ণের আলয়ে। নারারণ এবং 
লক্ষ্মী উভয়েই কপর্দীর মায়া-অস্তরালব্তাঁ রূপটি দেখে তার অনেক 
স্তব-স্তুতি করলেন । নারায়ণ নানাভাবে বারবার দেবেশকে অনুরোধ 
করতে লাগলেন। এই মায়া লীল। ত্যাগ করতে । গোবিন্দ যখন 
এইভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন। লক্ষী তখন মহাদেবের পাত্রে 
মনোরথবতী' নামে ভিক্ষা প্রদান করলেন। ভিক্ষা গ্রহণে তৃপ্ত 
কপরদী প্রস্থানোদ্যত হলে ত্রহ্মহত্যাও আবার তার অন্ুগমনে উদ্যত 
হল। গোবিন্দ বারবার অনুরোধ করেও ব্রহ্মহত্যাকে নিরস্ত করতে 
পারলেন না । গোবিন্দ-বচনে প্রীত মহাদেব তাকে বর দিতে চাইলে; 
বিষণ এই বর প্রার্থনা করলেন, পরমেশ্বর শঙ্করের চরণযুগলের সঙ্গে 
তার যেন কখনো বিচ্ছেদ ন! ঘটে | ঈশ্বর, সেই বরই বিষুকে প্রদান 
করে বললেন, “তুমি সমস্ত দেবগণের বরদাতা হবে ।? | 

অতঃপর কপর্দী' ভীষণাকৃতিতে যে মুহুর্তে কাশীতে প্রবেশ করলেন, 
ব্রহ্মহত্যা হাহাকার করে পাতালে প্রস্থান করলেন, ভৈরবের হাত 
থেকে ব্রহ্মার কপালও নিপতিত হল। আর তাই দেখে.কালভৈন্নৰ 
সকলের সামনেই আনন্দে নৃত্য করতে লাগলেন। যেস্থানে ভৈরব 
কপালমুক্ত হয়েছিলেন, সেই স্থান হল কপালমোচন তীর্থ। কালভৈরৰ 
সেই কপালমোচন তীর্থকে সামনে রেখে কাশীর আধিপত্য গ্রহণ 
'করলেন। বমরাজের অগম্য কাশীর অধিবাসীগণের ভাগ্যনিয়স্তারূপে 
“অবস্থিত হলেন কালভৈরৰ | 


৯ 


বারাণসীতে বাস করে যারা! এই কালভৈরবের অর্চন। ন৷ করে? 
শুরুপক্ষের চন্দ্রের ম্যায় তাদের পাপ দিন দিন বাড়তে থাকে | আর--" 
“কালরাজং ন ঘঃ কাণ্ঠাং প্রতিভূতাষ্টমী কুজম্‌। 
তজেত্বস্ত ক্ষয়েৎ পুণ্যং কৃষ্ণপক্ষে যথা শশী ॥” (৩১--১৫৫) 
কাশীতে থেকে যার! চতুর্দশী, অষ্টমী আর মঙ্গলবারে কালরাজের 
পুজ! ন। করে, তাদের পুণা কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্রের ন্যায় দিন দিন ক্ষায়প্রাপ্থ 
হতে থাকে । ্‌ 


| অধ্যায় ৩২ ] 


ঘটোস্ডব অগস্ত্য অতঃপর দেব স্বন্দের কাছ থেকে জানতে চাইলেন 
হরিকেশের বৃত্তান্ত । হরিকেশ কার পুত্র ? কিভাবেই বা তিনি বারাণসীর 
দগ্ডনায়ক হয়েছিলেন এবং “অন্নদত্ব” লাভ করে কাশীক্ষেত্রের শত্রগণের 
সর্বদা ভ্রান্তি উৎপাদনকারী সম্ত্রম এবং বিভ্রম নামক গণদ্বয়ের উপর 
আধিপত্য অর্জন করেছিলেন! 

স্কন্দ বললেন, পুরাকালে গন্ধমাদন পর্বতে রত্বুভদ্র নামে এক পরম 
ধামিক যক্ষ বাস করত। পুর্ণভদ্র নামে এক পুত্র লাভ করে রতুভদ্র 
ধর্মানুসারে বিষয় ভোগের পর বৃদ্ধ বয়সে সংযতেন্দ্রিয় হয়ে শাস্তযোগবলে 
পাধিব দেহ পরিত্যাগ করলে পূর্ণভদ্র উত্তরাধিকারসূত্রে পিতার অতুল 
এঁশ্বর্ষের অধিকারী হল। সুখ-বিহারে সমর্থ্য হল বটে পুর্ণভপ্র কিন্ত 
পুত্রহীন হওয়ায় শাস্তি ছিল না তার মনে, বিশাল প্রাসাদ মনে হতে 
লাগল নিস্তব্ধ শাশানভূমি | 

একদিন একান্তে পড়ীসমূহের মধ্যেও প্রিয়তম পত্বী বক্ষিণী কনক" 
কুগুলাকে নিভৃতে ডেকে নিজের মনের থেদ প্রকাশ করলে তার 
কাছে। বিলাপরত পতিকে কনককুগুলা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বললে; 
হে নাথ! আপনি ত' জানেন, মহাদেবের ভক্তি থাকলে সব মনোরথ 
সিদ্ধ হয়, অপত্যাদি ত' দুরের কথ! মোক্ষও লাভ হয়। মহাদেবের 


৩ 


গনুগ্রছে শালঙ্কাকনের পুত্র শিলাদ নন্দীকেশ্বর নামে অস্নর পুত্র লাভ 
করেছিলেন ; শ্বেতকেতু কালপাশে বদ্ধ হয়েও জীবন লা্ত করেছিলেন ; 
উপমন্থ্ু ক্ষীর সমুদ্রের আধিপত্য লাভে সমর্থ হয়েছিলেন ; অনুরাধিপতি 
অন্ধক গাণপত্য পদে অভিষিক্ত হয়ে ভূজিপদ লাভ করতে 
পেরেছিলেন ; দধীচি যুদ্ধে বান্ুরদেবকে জয় করেছিলেন ; দক্ষ প্রজা- 
পতিত্ব পেয়েছিলেন | 

“বিধাতুঃ শান্তবীং ভক্তিং প্রিয় সব্বে মনোরথাঃ। 

সিদ্ধয়োইষ্টো৷ গৃহদ্বারং সেবস্তে নাত্র সংশয়ঃ॥” (৩২/৩৪ ) 

_হে প্রিয় ! মহাদেবকে যে ভক্তি করে তার সমস্ত মনোরথ 
সত্বরই পরিপূর্ণ হয়। এবং অনিমা প্রভৃতি অষ্টসিদ্ধি তার গৃহদ্বারে 
অবস্থান করে, এতে কোন সংশয় নেই। 

গীতজ্ঞ যক্ষরাজ পূর্ণভদ্র কনককুণ্ডলার পরামর্শ অন্ুপারে কাশীতে 
গীতবাগ্যের দ্বারা নাদেশ্বরকে পরিতুষ্ট করে অভিলষিত পুত্র লাভ 
করলে এবং তার নাম রাখলে 'হরিকেশ” । পুত্রলাভে মন-প্রাণ ভরে 
উঠল পুর্ণভদ্রের । এদিকে কিন্তু আট বছর বয়স থেকেই হরিকেশ 
ক্রমশঃ শিবভাবে ভাবিত হয়ে উঠতে থাকল। এমন কি খেলার 
সময়ও শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে তৃণ দিয়ে তার পৃজা-পুজা খেলা করত। 
মুখে অহরহ শিবনাম। আবার ঘুমঘোরেও স্পষ্ট বলে উঠত--“হে 
ভ্রিলোচন ! একটু অপেক্ষ। করুন, আমি যাচ্ছি। 'এই সব দেখে- 
শুনে পুর্ণভদ্র আপ্রাণ চেষ্ট। নিলে পুত্রকে গুহের এশখর্যাভিমুখী করার 
জন্তে। বললে-_পুত্র এখন অোপার্জন-বিদ্যা শেখার সময় । এখন 
এসব দরিদ্রবৃত্তি তাাগ করে সববিদ্ভা আয়ত্ত করে বুদ্ধ বয়সে 
ভক্তিযোগের উপামনা কোরো! | ইরিকেশ কিন্তু পিতার উপদেশে 
নিধিকার থেকে, যা করছিল, তাতে আরও অভিনিবিষ্ট হয়ে পরল 
দেখে ক্রুদ্ধ হল পিতা পুর্ণভদ্র। একদিন পিতাকে ক্রোধারুণ দেখে 
হর্িকেশ গোপনে গৃহত্যাগ করে সবগতির পরম গতিস্থান বারাণসীতে 
'গিয়ে আনন্দকাননে তপন্তায় রত হল। 

কিছুকাল অতীত হয়েছে । মহাদেব একদিন পার্ততীকে নিয়ে 


৯5 


“আনন্দকাননে প্রবেশ করে সর্বন্তখ ও শাস্তির আকর প্রিদ্ নীলাকানন 
“ুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখাচ্ছেন এমন সময় বনমধ্যে এক অশোক বৃক্ষমূলে 
তপস্তামগ্স দেখলেন হরিকেশকে। স্থানুর ন্যায় নিশ্চল হরিকেশ 
অস্থিচর্মসার, বল্লীকগ্রস্ত। প্রাণবায়ুর ঈষৎ আন্দোলনের ফলেই কেৰল 
প্রতীয়মান হয় বে এখনও সে জীবিত আছে। স্তব্ধ হিংস্র শ্বাপদেরা 
বেষ্টন করে রয়েছে তার চতুর্দিক, ঘেন হিংসা ভুলে । অর্ধোন্মীলিত 
পিঙ্গলনেত্রে যেন তার স্ুধ! ক্ষরণ হচ্ছে | দেখে যেন মনে হয়, স্বয়ং 
তপস্তা৷ নররূপ ধারণ করে তপস্তামগ্ন হয়েছেন । 

পার্বতী বিচলিতা৷ হয়ে উঠলেন হরিকেশের এ নিদারুণ তপস্তা। 
দেখে । অনুরোধ জানালেন মহেশকে কৃপা করার জন্তে। বুষভবাহন 
মহেশ্বর তথন নন্দীর হাত ধরে বৃক্ষ হতে অবতরণ করে সমাধিস্থ 
হ্িকেশকে স্পর্শ করতেই তার নয়নদয় উন্মোচিত হল। সম্মুখে 
সহস্র সুর্ধের তেজসম্পন্ন ত্রিলোচনকে দর্শন করে জয়ধ্বনি সহকারে 
তাকে প্রণাম জানাল হরিকেশ। 

তুষ্ট শশিশেখর তখন তপোনিধি হরিকেশকে এই বলে বসন 
দিলেন 

“তং দণ্ডপাণির্ভব নামতোহধুন! সব্ধান্‌ গণান্‌ শাধি মমাজ্ঞয়োৎকটান। 
গণাবিমে' ত্বামন্থুযায়িনৌ সদ! নায়া যথার্যে। নৃষু সম্রমোদ্ভ্রমৌ ॥ 
(৩২/১৫২)-- 

--আজ থেকে তুমি 'দগ্ুপাণি' হয়ে আমার আজ্ঞায় উৎকট 
গণসমূহকে শাসন করৰে আর সম্ভ্রম এবং উদ্ভ্রম নামে গণছয় সৰ 
সময়ই তোমার অনুগামী থাকবে। 

সেই সঙ্গে তৃমি কাশীবাসী জনগণের হবে অন্নদাতা, প্রাথদাতা 
এবং জ্ঞানদাতা। আমার প্রতিভূরূপে তুমিই তাদের সদ্গতি-বিধান্দ 
করবে । এছাড়াও কাশীতে গণ, দেৰ এবং মানবসমুহের মধ্যে 
তুমিই হবে প্রথম পু্নীয় | আগে হবে তোমার পুজা তার পক্ষে 
আমার | হে দগ্গাণে ! তুমি এই পুরী শাদন করার জন্কে, হুষ্টগণের 
দগুবিধান এবং ভক্তগণকে অভ্র ছানেন্ জন্তে আমা সামনে দক্ষিণ 


৯৫ 


দিকে তুমি অবস্থান কর। 

কাহিনী শেষ করে স্বন্দ আক্ষেপ-যহকারে বললেন, আমি 
কাশীবাস কালে অস্ুয়া-বশে তার মর্যাদা রাখিনি, তাই আজ এখানে 
বাস করতে হচ্ছে । নিজের ভুল বুঝতে পেরে আজ তাই নিত্য 
এখান থেকে আমি তার ভজন! করি । আর হে কলস-সম্ভব ! তোমার 
এই কাশীক্ষেত্র পরিত্যাগ, আমার আশঙ্কায় সেই দণ্ডপাণিরই জ্রকুটি। 


[ অধ্যায় ৩৩--৩৪ ] 


ঘটোন্তব অগস্ত্য অতঃপর জ্ঞানবাগপীর উৎপত্তি ও মাহাত্ম্য জানতে 
সমুতম্ুক হলে দেব স্কন্দ বললেন-_ 

সত্যযুগে এই অনাদিসিদ্ধ সংসারে যখন মেঘসমূহ জলবর্ষন করত 
না, পৃথিবীর কোন কোন স্থানে মনুয্যসঞ্চার শুরু হয়েছে, পান বা 
ন্গানের নিমিত্ত মানুষের মনে যখন জলের কোন অভিলাষই ছিল না; 
তাছাড়। ক্ষীর ও লবণ সমুদ্র ছাড়া যখন আর কোথাও জলও ছিল না; 
সেই সময় একদিন, পুর্ব এবং উত্তর দিকের অধিপতি রুদ্র ঈশান 
ইতস্ততঃ পরিভ্রমণ করতে করতে কাশীক্ষেত্রে এসে উপস্থিত হলেন। 
ত্রিশুলধারী ঈশান প্রথমেই সব্গণ পরিসেবিত সেই ম্হালিঙ্গ দর্শন 
করলেন-_-যিনি আবিভূতি হয়েছিলেন ক্রতু এবং ব্রহ্মার বিবাদ- 
ভগ্জনে | চতুর্দিকে জ্যোতির্ময়ী মাল্যভূষিত সেই মহালিঙ্গকে ঘটপূর্ণ 
শীতল জলে স্সান করাবার প্রবল বাসন। জাগল ঈশানের অন্তরে । 
তৎক্ষণাৎ, রুত্রমূতি ঈশান মহালিঙ্গের দক্ষিণভূমিতে ত্রিশূল দিয়ে 
প্রচগ্ডবেগে এক কুণ্ড খনন করে ফেললেন। আর সেই কুণ্ড থেকে 
সঙ্গে সঙ্গে উঠে এল যেন জলপ্লাবন। স্বচ্ছ সে সলিল যেমনই নির্ল, 
নুম্বাহ, তেমনি শীতল, সুখস্পর্শ। ঈশান হষ্টচিত্তে হাজার কলস সেই 
জল দিয়ে মহালিঙ্গকে স্নান করাতে লিঙ্গাত্মা বিশ্বলোচন আবিষ্কু ত, 
হয়ে ঈশানের কর্মের প্রশংসা করে বললেন £ 


৪৯৬ 


“শিবং জ্ঞানমিতি ব্রয়ুঃ শিবশব্দার্থচিন্তকাঃ। 
তচ্চ জ্ঞানং দ্রবীভূতমিহ মে মহিমোদয়াৎ ॥ 
অতো। জ্ঞানোদনা মৈতত্তীর্থং ভ্রৈলোকাবিশ্রুতম্‌। 
অস্ত দর্শন মাত্রেন সর্ব্বপাপৈ প্রমুচ্যতে ॥ (৩৩/৩২-৩৩) 
_-শিবাশব্দের অর্থচিন্তকেরা শিবা শব্দের অর্থ “জ্ঞান” বলে 
থাকেন। সেই জ্ঞানই আমার মহিমায় এই স্থানে জলরূপে দ্রবীভূত 
হয়েছে। এইজন্যে এই তীর্থ জ্ঞনোদ তীর্থ নামে ত্রিলোকে বিখ্যাত 
হবে আর স্পর্শমাত্রেই সমস্ত পাপ বিদুরিত হবে । 
এই তীর্থে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে পারলৌকিক ক্রিয়া করলে 
পিতৃগণ প্রলয়কাল পর্যন্ত শিবলোকে বাস করবে । এই তীর্থ হবে 
শিবতীর্থ, জ্জানতীর্থ তারকতীর্৭থ, মোক্ষতীর্থ। এই তীর্থজল দর্শন, 
স্পর্শন, স্নান এবং পানে ধর্মাদি চতুবর্গ লাভ হবে ! মহেশ্বর এইভাবে 
জ্ঞানবাপীকে জ্ঞানোদ-তীর্ধে প্রতিষ্ঠিত করে অন্তহিত হলে ঈশান সেই 
সলিল পানে পরমজ্জান লাভ করে নির্বৃতি লাভ করলেন। 
স্কন্দ বললেন, হে কলসোভ্তভব ! পুরাকালে কোন এক সময়ে এই 
_ জ্ঞানবাপীতে অপূর্ব এক ঘটন1 ঘটেছিল, শোন £ 
₹. কাশীতে হরিস্বামী নামে এক সব ব্রাহ্মণ ছিলেন । সুশীল! নামে 
তার এক কন্তা ছিল। এমনি স্ুপ্রী, স্থুগঠিতা, সর্বগুণাধারা ছিল সেই 
কন্যারত্ব যে মানব, দেব, কিন্নর। বিছ্ভাধর, নাগ, গন্ধর্ব। অস্থুরদের মধ্যে 
এমন কেউ ছিল না, যে তাকে লাভ করতে সমুতস্বক ছিল। কিন্ত, 
ন্বশীল। সববিষয়ে নিধিকার থেকে প্রতিদিন জ্ঞানবাপীতে সান করে 
অনম্তচিত্তে শিবমন্দির সন্মার্জন করত। জ্ঞানোদতীর্থের এই সেবার 
ফলে অস্তরে বাহিরে সমস্ত জগংই শিবময় দেখতে শুরু করেছিল। 
এক রাত্রে গৃহাঙ্গনে শয়ান সুশীলা। কোন এক বিচ্ভাধর তার 
রূপ-লাবণ্যে মোহিত হয়ে তাকে হরণ করল। ন্ুশীলাকে নিয়ে মলয় 
পর্বতের উদ্দেশ্যে আকাশপথে -গমনোগ্ভত বিদ্াধর আক্রান্ত হল 
ঘোবাকৃতি ত্রিশ্লধারী বিছ্যান্সালী নামে এক রাক্ষস দ্বারা । বিছ্যন্ালী 
ত্রিশূলাগ্রের দ্বার। বিদীর্ণ করল বিষ্যাধরের বক্ষ। ক্রোধারক্ত-লোচনে 


৯৭ 


কাশী--৭ 


বিদ্াধরও প্রচণ্ড এক মুষ্টাঘাতে নিহত করল বটে বিহ্যন্মালীকে কিন্তু 
ত্রিশুলাঘাতে বক্ষ বিদীর্ণ হওয়ায় নিজেও প্রাণত্যাগ করল। এদিকে 
অপন্ৃতা হলেও সুশীল এই প্রথম পুরুষস্পর্শন্ুখ অন্ুভৰ করে 
বিদ্ভাধরকেই মনে মনে পতিত্বে বরণ করে নিয়েছিল। তাই তার 
প্রীণবিয়োগে স্থুশীলাও বিরহে প্রাণত্যাগ করল । 


জ্তানব্যাপীর জলপানের ফলে শ্ুশীলার দেহাভ্যন্তরে সব-সময়ই 
অবস্থান করত তিনটি শিবলিঙ্গ । তাই তার সামনে প্রাণত্যাগের 
ফলে রাক্ষস দিব্য শরীর ধারণ করে ন্বর্গে গমন করল । মৃত্যুকালে 
যেহেতু সুশীলার প্রতি কামন! নিয়েই প্রাণত্যাগ করেছিল, বিদ্যাধর 
রাজা মলয়কেতুর ওরসে মাল্যকেতু-রূপে জন্মগ্রহণ করল আর স্ুশীলাও 
আসঙ্গাভিলাষী হয়ে প্রাণত্যাগ 'করাত্র ফলে কর্ণাটদেশে কলাবতী 
নামে জন্ম-পরিগ্রহ করল। কালক্রমে মাল্যকেতুর সঙ্গে কলাবতীর 
বিবাহ-ও হল। তিনটি অপত্য লাভও করলে । কিন্তু জন্মাস্তরের 
সংস্কার বলে প্রধান। এবং প্রিয়তম! মহিষী হয়েও রাজরানীর ম্ুখৈশ্ব্ষ 
এবং বিলাস-ব্যসনের পরিবর্তে কলাবতী সব-সময়ই ভম্মলিপ্ত। হয়ে 
থাকতেই ভালবাসত আবু শিবলিঙ্ের অর্চন। করত । 


একদিন উত্তর প্রদেশের এক চিত্রকর রাজ! মাল্যকেতুকে একটি 
মনোরম চিত্রপট প্রদান করল । মাল্যকেতৃও সেটি সমর্পণ করল 
কলাবতীকে | চিত্রপটখানি ছিল বারাণসীর | কলাবতী যতবারই 
দেখে সেই পট ততবারই কী যেন এক অব্যক্ত স্মৃতি তাকে তোলপাড় 
করতে থাকে, বিস্ৃত হয়ে যায় নিজের অস্তিত্ব। একসময় যেন 
হঠাৎ খুলে যায় তার স্মৃতির দ্ধার। সধ-পরিবৃতা কলাবতী আত্ম- 
বিস্ৃতা হয়ে দেখতে থাকে সেই পট আর পন্রিচয় দিতে থাকে প্রতিটি 
স্থানের--যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে পটের প্রতিটি স্থান 
আর স্থান-মাহাত্ম্য। বরণা নদী, উত্তর-বাহিনী গঙ্গ) মণিকণিকা। 
কুলস্তস্ত, কপালমোচন, মস্তোদরী তীর্থ থেকে শুরু করে প্রতিটি 
মোক্ষপ্রদ লিঙ্গ । সর্বজ্ঞার মত কলাবতী আপন মনেই বলতে থাকে £ 


৯১৮ 


“সর্ধেষামপি লিঙ্গানাং মৌলিতং কৃত্তিবাসসঃ | 
ক্কারেশঃ শিখা ভ্র্েয়া লোচনানি ত্রিলোচন: ॥ 
গোকর্ণভারভূতেশো তৎকমৌ পরিকীত্তিতো। | 
বিশ্বেশ্বরাবিমুক্তৌ চ দ্বাবেতৌ দক্ষিণৌ করো ॥ 
ধন্মেশমনিকুর্ণেশৌ ছোৌ করো দাক্ষণেতরৌ । 
কালেশ্বরকপদ্র্গীশৌ চরণাবতিনিম্মুলৌ ॥ 
জোন্ঠেশ্বরো৷ নিতম্বশ্চ নাতিবৈঃ মধ্যমেশ্বরঃ | 
কপর্দোইসৌ মহাদেবঃ শিরোভূষা শ্রুতীশ্বরঃ ॥ 
চন্দেশে৷ হৃদয়ং তস্য আত্মা বীরেশ্বরঃ পরহ | 
লিঙ্গং তন্ত তু কেদারঃ শুক্রুং শুক্রেশ্বরং বিছুঃ ॥ 
অন্যানি যানি লিঙ্গানি পরঃ কোটিশতানি চ। 
জ্রেয়ানি নখলোমানি বপুষো ভূষণান্তপি ॥” (৩৩/১৬৭-১৭২) 
_কৃত্তিবাসেশ্বরই সমস্ত লিঙ্গের মস্তক-ন্বরূপ, ওক্কারেশ্ব্র শিখা, 
ত্রিলোচনেশ্বরই লোচনত্রয়। ছুই কর্ণ হল গোকরেশ্বর আর 
ভারভূতেশ্বর । ছুই দক্ষিণ কর হল বিশ্বেশ্বর আর অবিমুক্তেশ্বর ৷ 
দুই বাম কর হল-_ধর্মেশ্বর ও মণিকণিকেশ্বর ; কালেশ্বর ও কপদরশশ্বর 
হল চরণদয়। জ্ঞোষ্ঠেশ্বর নিতম্ব, মধ্যমেশ্বর নাভি, মহাদেব কর্পদ 
(জট); শ্রুতীশ্বর শিরোভূষা । চন্দ্রেশ্বর হৃদয়, বীরেশ্বর আত্মা, 
কেদারেশ্বর লিঙ্গ, শুক্রেশ্বর শুক্রন্বরূপ । অন্যান্ত যে সমস্ত কোটি কোটি 
লিঙ্গ আছেন, তার নখ, লোম আর শরীরের অলঙ্কার স্বরূপ । 
এইভাবে দেখতে দেখতে আর বলতে-বলতে জ্ঞানবাপী 
নয়নগোচর হতেই বাম্পাকুল হয়ে উঠল কলাবতীর ক) রোমাঞ্চিত 
হয়ে উঠল তনু, মুছিতা হয়ে পড়ল কলাবতী। ব্যস্ত হয়ে উঠল 
সখীরা । সঙ্গ ফিরিয়ে আনার আপ্রাণ চেষ্টা যখন তাদের ফলবতী 
হল না, বুদ্ধিশরীরিনী নামে কলাবতীর এক পরিচারিক। সেই 
চিত্রপট দেখিয়েই তাকে পুনরায় সুস্থ করে তুলল । কলাবতী বারবার 
'পটস্থ সেই জ্ঞানবাপীকে স্পর্শ করতে-করতে জদ্মানস্তরের জ্ঞান লাভ 
-করে সরীদের বললে । 


৪১৯১ 


অতঃপর সব পরিচয় গোপন রেখে কলাবতী মহীপতি মাল্যকেতুকে 
সম্মত করিয়ে পুত্রের হাতে রাজ/ভার অর্পণ করিয়ে শুভদিন দেখে 
কাশী অভিমুখে প্রস্থান করলে । 

কাশীতে এসে কলাবতী জ্ঞানবাপীর সোপান সংস্কার করে স্বামীকে 
নিয়ে কঠোর তপস্যা! এবং কৃচ্ছসাধনে যখন নিজের আয়ুস্কাল প্রায় 
শেষ করে এনেছে, সেই সময় একদিন সকালে তার দেখল এক 
জটাধারীকে তাদের কাছে আমতে। সেই জটাধারী এসে তাদের 
হাতে একটু বিভূতি অর্পন করে বললেন-_ওঠ। উত্তমরূপে বেশভূষা 
কর। এই স্থানে এখনই তোমাদের ব্রহ্মপাক্ষাৎকার-__মুক্তি লাভ 
হবে। জটাধারীর কথা শেষ হতে-না-হতেই শব্দায়মান কিন্কিনীজাল- 
মণ্ডিত এক বিমান উপস্থিত হল তাদের সামনে । বিমান হতে 
অবতরণ করলেন ভূতভাবন ভগবান চন্দ্রশেখর । তাদের কর্ণমূলে 
দিলেন সেই অনিব5নীয় তারকত্রক্ম উপদেশ । অতঃপর চন্দ্রশেখর 
নভোমার্গ উদ্দীপিত করে স্বীয় ধামে গমন করলেন আর কলাবতীও 
স্বামী মাল্যকেতু-সহ সেই অনাখেয় পরমন্রন্মাখ্য অপরিমেয় উখিত 
জ্যোতিতে লীন হয়ে গেল। 


[ অধ্যায় ৩৫--৩৮ ] 


মিত্রাবরুণ-নন্দন মুনি অগস্তা অতঃপর দেব স্বন্দ-র কাছ থেকে 
জানতে চান দেবদেৰ মহাদেব কীতিত সেই সব আচার, য। কাশী 
প্রাপ্তির সহায়ক। কেননা, 
“আচাব: পরমো ধন্ম আচারঃ পরমং তপঃ। 
আচারদর্ধতে হ্ায়ুরাচারাৎ পাপসঙজক্ষয় ॥” (৩৫/১৫) 
আচারই পরম ধর্ম», আচারই পরম তপ এবং আচার হতেই আয়ু 
বৃদ্ধি ও পাপক্ষয় হয়ে থাকে। 
ক্কন্দ বললেন--হে কলপোস্ভব ! প্রাণীগণের মধ্যে মানবগণই 
শ্রেষ্ঠ | কারণ তার! শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিজীবী । মানবগণের মধ্ো ব্রাহ্মণগণই' 


১০০ 


শরেষ্ট। ব্রাহ্মণগণের মধ্যে ধার! বিদ্বান, বিদ্বানগণের মধ্যে ধারা 
কৃতধী, কৃতধীর মধ্যে ধারা ক্রিয়ার অনুষ্ঠাতা, আবার অনুষ্ঠ'তাগণের 
মধো ধারা ব্রহ্মতৎপর, তারাই শ্রেষ্ঠ। বিছজ্জন সদাচারকেই ধর্মমূল 
বলে স্বীকার করে থাকেন। যম; নিয়ম এবং প্রাণায়ামকে আশ্রয় 
করে যে কর্মের অনুষ্ঠান করলে অন্তরাত্ম! প্রসন্ন হন, সেই কর্মই বিধেয়। 
দেহ বিনাশপ্রাপ্ত হলে বন্ধুবান্ধব আত্মীয়-স্বজনের তাকে পরিত্যাগ 
করে প্রস্থান করে, অনুগামী হয় একমাত্র ধর্ম । তাই বিশেষ করে? 
বরাহ্ধণদের সব সময়ই সদাচার অভ্যাস করা! উচিত। উৎসাহ, মেধা, 
সৌভাগা, বূপ-সম্পদের প্রবর্তক এবং মনপ্রসন্নতার হেতু প্রাতঃ্ানের 
পরু সন্ধা! বন্দনা ব্রাক্গণদের অবশ্য করণীয় । কারণ; প্রণবই পরম 
ব্রহ্ম, প্রাণায়ামই পরম তপস্ত, গায়ত্রীর অতিরিক্ত কিছু নেই৷ নির্মল- 
চিন্ত ব্যক্তিই সবতীর্থে সলাত, সবপ্রকার মালবজিত এবং শত-যজ্ঞের 
কলোপভোক্তা ! একমাত্র বিশ্বেশ্বরের কৃপা ছাডা চিত্ত কখনো নির্মল 
হতে পারে না। 

ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য এই তিন বর্ণকে “দ্িজাতি' বল! যায়, তার মধ্যে 
ব্রাহ্মণগণ জন্ম মাত্রেই দ্বিজাতি বলে গণ্য হয়ে থাকে! যথাবিহিত 
উপনয়নের দ্বারা সংস্কৃত হবার পর গুরু-সন্নিধানে বেদাধ্যয়ন এবং 
ব্রন্মচর্য পালন অবশ্য কর্তব্য । গুরুর প্রতি অনন্ত ভক্তি শ্রতির 
নৈঃশ্রেরসী সম্পত্তির অধিকারী হবার যোগ্যতা দেয়। পিতা, মাতা, 
ও আচার্যকে সদা সেবার দ্বার! পরিিতুষ্ট কর! উচিত। এই তিনজন 
প্রসন্ন হলে পুরুষার্থ চতুষ্টয় লাভ হয়ে থাকে । এই তিনজনের সেবাই 
পরম তপস্তা, পরম ধর্ম। মাতৃভক্তিবলে ভূর্লোক, পিতৃভক্তিতে 
ভূবর্লোক, আচার্য ভক্তিতে স্বর্লোকের উপর আধিপত্য অর্জন করা যায়। 

অন্থলিত ত্রহ্গচর্যাশ্রম শেষে সদ্ংশজা, স্ুলক্ষণা সবর্ণা কন্তাকে 
বিবাহ করে গৃহস্থাশ্রম বিধেয়। গৃহস্থাশ্রমেয় তুল্য আশ্রম নেই, বদি 
পত্বী হয় সহধস্িনী। তাই পত্বী নিবাচনকালে, বুধগণ শরীর; গঠন; 
গন্ধ, ছায়া, সত্ব, স্বর, গতি এবং বর্ণ_-এই যে আট প্রকার প্রধান লক্ষণ 
নির্দেশ করেছেন, তার বিচার' এবং বিশ্লেষণ অবশ্যই করণীয় । গৃহ- 


১৯৩৯ 


স্থাশ্রম পঞ্চশুপায় আবৃত | উদ্দুখল-মুষল, পেষণী (ধাতা), চুল্লী 
জলকুস্ত ও সম্মার্জনট এই অত্যাবশ্যকীয় পাঁচটির মাধ্যমে গৃহস্থাশ্রমীর 
জীবহিংসা হয়ে থাকে । সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত নিবন্ধন, পঞ্যযজ্ঞ 
অর্থাৎ ব্রদ্ম, পিতৃ দৈব, ভূত এবং নরযন্ঞ্ করা উচিত। অধ্যাপনাকে 
বলে ব্রহ্মযজ্ঞ। তর্পণ পিতৃযজ্ঞ। হোম দৈবযজ্ঞ, বলি ভূতবজ্ঞ আর 
অতিথি-পৃূজ! হল নরযজ্ঞ। 

“সত্যং ব্রয়াৎ প্রিয়ং ব্রয়ান্নক্রয়াৎ সত্যমপ্রিয়ম্‌। 

প্রিয় নানৃতং জরয়াদেষ ধন্মো ঘটোভ্তব ॥” (৩৮/৮৩) 

“ৰাচ্যে ৰেগং মনোবেগং জিহ্বাবেগঞ্চ বর্জয়েৎ | 

উৎকোচদ্যুতদৌত্যার্তদ্রব্যং দূরাৎ পরিত্যজেৎ।” (৩৮/৮৬) 

--হে ঘটোদ্ভব ! গ্রীতিকর সত্য বাক্য বলবে, অপ্রিয়-সত্য কদাচ 
বলবে না, আবার মিথ্যা প্রিয় বাক্যও ব্যবহার করবে না। বাকা; 
জিহবা ও মনের বেগকে প্রতিরোধ করবে । উৎকোচ, দ্যুত, দৌত্য' 
এবং আর্তজনের দ্রব্য গ্রহণ করবে না । 

বেদ, ব্রাহ্মণ, দেবতা, রাজা, সাধুব্যক্তি, তপস্থী, পতিব্রতা স্ত্রীর 
নিন্দা, মনুস্তের স্তুতি, আত্মাবমাননা, উদ্যোগী পুরুষের উৎসাহে বাধা? 
পরধর্ম-বিদ্বেষ এ সবই অধর্ম | 

“অধন্মাদেধতে পুর্বং বিছেষ্টুনপি স্জয়েৎ | 
সব্বতে। ভদ্রমাপ্যাপি ততো নম্যেচ্চ সান্বয়ঃ ॥% (৩৮/৯৩) 

--অধর্মাচর্ণকারী প্রাণী প্রথমে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, শক্রসমূহকে জয় 
করতে পারে, নানারকম স্ুখভোগও করে, কিন্তু পরে সবংশে পতন; 
তাদের ম্থনিশ্চিত | 

মিথ্যাবাক্যে যজ্ঞজকল, গবিত জনের তপস্তার ফল বিনষ্ট হয়। দান 
করে তা কীর্তন করলে দানের সুফল নষ্ট হয়, ব্রাহ্মণের নিন্দা করলে 
আমু ক্ষয় হয়। 

গৃহস্থাশ্রমে এইভাবে সদাচারের দ্বান! দেব, পিতৃলোক এবং খষি- 
গণের খণ থেকে মুক্তিলাভ করে পুত্রের প্রতি গৃহভার অর্পণ করে: 
ওঁপাসীন্ত-সহকারে জ্ঞানাভযাসে অথবা কাশীকে আশ্রয় করবে। অম্যক- 


৯০ 


প্রকার জ্ঞানলাভে যেমন আছে মুক্তি, তেমনি সাক্ষাৎ মুক্তির আশ্রয়- 
স্থল হল কাশী । 

সদাচার-ব্যতিরেকে যেমন জ্ঞানলা ভও সম্ভব নয়, তেমনি কাশা- 
প্রাপ্তিও অসম্ভব । 

দেব ক্কন্দের সদাচান্স-কথন শেষ হলে কাশী-বিরহে কাশী-প্রাপ্তিতে 
উদ্মুখ-চিত্ত মুনি আগস্ত্য ব্যাকুল অন্তঃকরণে স্বন্দের কাছ থেকে জানতে 
উৎসুক হলেন, কাশীতে কোন্‌ কোন্‌ শিবলিঙ্গ জবান প্রদান করে থাকে। 


[ অধ্যায় ৩৯ ] 


কাশী পরিত্যাগের কারণে সন্তপ্ত্ৃদয় মুনি অগপ্তযকে ষড়ানন 
স্বন্দদেব বললেন__বিনি নিশ্প্রপঞ্চক, নিরাত্মক, নিথিকল্প, নিরাকার, 
অব্যক্ত, স্থল ও সুক্মরূপী পরম ব্রহ্ম বলে কীতিত, সেই সর্বব্যাপী 
পরমাত্মা সংসার হতে জীবগণকে মুক্তি দান করার জন্য অন্যত্র না থেকে 
কেন কাশীতেই অবস্থান করেন। তার কারণ বলছি, শোন 

অন্ত্র অবস্থান করে যদি কেউ মহৎ-যজ্ঞ, নিক্ষাম মহাদান এবং 
স্বকঠোর তপস্তা করে মহাদেব তাকে ভব-বন্ধন হতে মুক্তি দান করেন 
ঠিকই কিন্তু কাশীতে অবস্থানকারীজনের এ সুমহান কচ্ছসাধনের 
প্রয়োজন পড়ে না। কাশীতে বিশ্বেশ্বরের অনুমতি-দাপেক্ষে অবস্থানের 
নামই মহাযোগ। ভক্তিসহকারে নিয়মপূর্বক পত্র-পুষ্প-ফুল-জল 
বিশ্বেশ্বরকে দানই হল মহাদান। কাশীক্ষেত্রে উত্তর-বাহিনী গঙ্গায় 
ক্গান করে মুক্তিমণ্ুপে ক্ষণিকের বিশ্রাম এবং ক্ষুধা-তাপ অগ্রাহ করে, 
ইন্জরিযসসমূহের চাঞ্চল্য নিরোধ করে বাস করার নামই মহতী তপস্তা। 

্কন্দ বললেন, হে মিত্রাবরুণতনয় অগন্ত্য তুমি যেমন দেবগণ কর্তৃক 
পর়োপকারের জন্য প্রাধিত হয়ে কাশী পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছ 
কিন্তু কাশীকে ভুলতে পারনি, ঠিক সেইরকমই স্বয়ং শঙ্করকেও একবার 
কাশী ত্যাগ করে মন্দর পর্বতে অবস্থান করতে হয়েছিল এবং তোমারই 


১০৩ 


মত কাশীর বিরুহানলে দগ্ধ হতে হয়েছিল, সেই কাহিনী বলি, শোন £ 


পুরাকালে স্থায়স্তুব মন্বম্তরে পাদ্মকল্পে একবার ষাট-বৎসরব্যাপী 
অনাবৃষ্টি হল। ফলে নিখিল প্রাণীনিচয় উপদ্রেত হয়ে কেউ সমুদ্রতীরেঃ 
কেউ গিরিগুহায় বাস করতে লাগল। শম্তহীনা ধরিত্রী মরুভূমিতে 
পরিণত হল। প্রানীক্ষয় ব্যাপক আকার ধারণ করল। চতুর্দিকে 
দেখা! দিল ভয়ঙ্কর অরাজকতা | বিধাতা ব্রহ্মার সযত্ব স্থষ্টি বুঝি লয় 
পায়। 

চিন্তাকুল বিধাতা ইতন্ততঃ পরিভ্রমণ করততে-করতে অবিমুক্তক্ষেত্র 
কাশীতে এসে দেখলেন, মনুবংশপ্রভব বীরশ্রেষ্ঠ, ব্বয়ং ক্ষাত্রধর্মস্বরূপ 
তপস্তায় নিশ্চলেন্দ্িয় রাজধি রিপুঞ্য়কে | 

তাকে দেখামাত্রই ব্রহ্মা তার সমীপে উপস্থিত হয়ে সসম্মানে 
অনুরোধ জানালেন-_-হে মহামতে রিপুগ্ীয় ! তুমি এই সসাগর। পৃথিবী 
পালন কর। নাগরাজ বাস্থৃকি অনঙ্গমোহিনী নামী স্থশীল। নাগকন্তা 
তোমায় পান করবেন। তোমার প্রজাপালনে সন্তুষ্ট হয়ে দেবগণ 
তোমাকে স্বর্গ থেকে বহুবিধ বত্বু ও কুস্্রমরাশি দান করবেন, সে কারণে 
তুমি দিবোদাস নামে বিখাত হবে। আর আমার প্রসাদে তুমি 
'দিব্যদেহ লাভ করবে | 

শুনে রাজষি র্িপুপ্তয় জিজ্ঞেস করলেন, ভূমগ্ডলে এত নৃপতি থাকতে 
পিতামহ কেন তাকেই রাজ্য পালনের অনুরোধ জানাচ্ছেন. উত্তরে 
ব্রক্ম/ বললেন; ধর্মপ্রাণ নরপতি না হলে দেবগণ বারিবর্ণ করবেন না, 
তাই এই অনুরোধ | 

দিবোদাস তখন পিতামহের আজ্ঞ! মহাপ্রসাদের মত গ্রহণ করতে 
সম্মত হলেন এই শর্তে যে তিনি বদি পুথিবীনাথ হন; তাহলে দেবগণকে 
পৃথিবী পরিত্যাগ করে স্বর্গে অবস্থান করতে হবে। ব্রহ্মা সম্মতি 
জানিয়ে সেখান থেকে অন্তহিত হলেন আর দিবোদাসও পটহ-নিনাদে 
ঘোষণ! করলেন £ 

“-..দিবং দেবা ত্রজস্তিতি ॥ 


১০৪ 


মা গঙ্ছাস্তিহ বৈ নাগা নরাঃ স্বস্থা ভবস্তিতঃ | 
মরি প্রশাসতি ক্ষৌণীং সুরাঃ স্বস্থা' ভবস্তিতি ॥” (৩৯/৪৮-৪৯) 

_-দেবগণ স্বর্গে গমন করুন। নাগগণ নাগলোকে গমন করুন । 
মনুষ্যগণ আমার রাজ্যে সুখী হোক, দেখগণও ম্ৃহ্গ হোন । 

এদিকে ব্রহ্মা বিশ্বনাথ-সমীপে এসে, প্রণাম করে তাকে সমস্ত 
বৃত্তান্ত নিবেদন করতে যাবেন 'এমন সময় ভগবান বিশ্বেশ্বর তাকে 
বললেন, “হে লোকপতে ! কুশদ্বীপ থেকে মন্দরপর্ধত এখানে এসে 
দুষর তপস্যায় রত হয়েছে, চল আমরা তাকে বর প্রদান করে আমি ।” 
এই বলে নন্দী এবং ভূঙ্গীকে (নিয়ে বুষে আব্বোহণ করলেন পাবৰতীপতি 
বুধধবজ | অন্রগামী হতে হল ব্রক্মাকেণ। সকলে মিলে এলেন 
সেখানে, যেখানে মন্দর তপস্তায় রত। বৃষধ্বজ তাকে সাদর সম্ভাষণ 
অভিলধিত বর প্রার্থনা করতে বললেন । অতঃপর মন্দ দেবদেব 
মহেশ্বরকে ভূমিতে দণ্ডবৎ প্রণাম করে বললে “হে সবগ ! আমার 
মনোভিলাষ কী আপনার অজ্ঞাত ! যদি আমার প্রতি আপনি প্রসন্নই 
হয়ে থাকেন, তবে এই বর দিন, স্বভাবত পাষাণময় আমি যেন 
অবিমুক্তক্ষেত্রের সমান হই । আপনি আজ থেকে সগণে উমার সঙ্গে 
আমার শিখরে কুশদ্বীপে অবস্থান করুন ।” 

মন্দরের প্রার্থন শুনে কিঞ্চিৎ চিন্তান্বিত হলেন শঙ্কর । সেই 
অবকাশে ব্রহ্ম! সবিনয়ে স্থষ্টি-রক্ষার জন্য তার কৃত-কর্মের বৃত্তান্ত 
জানিয়ে দেবদেবকে অনুরোধ জানালেন, তিনি যেন মন্দরের মনোবাঞ্ছা 
পূরণ করে কিম্ৎকালের জন্য সেখানে অবস্থান করে তার বাক্যের 
সত্যতা প্রতিপাদন করেন। ভূতভাবন ভগবান অগত্যা তাই করলেন 
__-কাশী পরিত্যাগ করে মন্দর পরতে কুঁশদ্বীপে আশ্রম্স নিলেন। কিন্তু 
ক্ষেত্র পরিত্যাগের আগে সকলের এমনকি ব্রহ্মারও অগোচরে নিজ 
মৃতিময় একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনা করে গেলেন ক্ষেত্র রক্ষার্থে । 
এইভাৰে ক্ষেত্র থেকে বিষুক্ত হয়েও তিনি বিষুক্ত হলেন ন।। তাই 
আনন্দকানন কাশীক্ষেত্রের নাম হল “অবিমুক্তক্ষেত্র' আৰ প্রতিষ্ঠিত 
এবং স্বয়ং শিব, নন্দী, ভূঙ্গী অচিত সেই লিঙ্গের নাম হুল “অবিমুক্তেশ্বর 1” 


১০৫ 


কাশীতে এটিই হল আদিমতম সর্বকালের মোক্ষপ্রদ। চতুবর্গ-- 
প্রদাতা লিঙ্গ । এর পরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ব্রহ্মা? বিষ্ণু প্রভৃতি দেবগণ 
এবং বশিষ্ঠাদি খধিগণের শিবলিঙ্গ | 

এই অবিমুক্তেশ্বর দর্শনকান্দীকে দেখলে স্বয়ং দণ্ডধর যমও দূর হতে 
করযোড়ে প্রণতি করে থাকেন । 


[ অধ্যায় ৪০--৪১ ] 


অবিষুক্তেশ্ববের মাহাত্ম্য আরও উৎকর্ণ করে তুলল মুনি অগন্ত্যকে । 
তিনি অধীর আগ্রহে ষড়াননের কাছে জানতে চাইলেন, অবিমুক্রেশ্বর- 
লিঙ্গ এবং অবিমুক্ত ক্ষেত্র এই উভয়কেই কি উপায়ে পাওয়া যেতে 
পারে। 
স্কন্দ বললেন £ 
“সমীহিতার্থসংসিদ্ধির্লভ্যতে পুণ্যভারত 2। 
তচ্চ পুণাং ভবেদিপ্র শ্রুতিবত্ম সভাজনাৎ ॥” (৪০/৫) 
_হে বিপ্র! পুণ্যবলেই 'অভীগ্টার্থ সিদ্ধি হয়ে থাকে আর বেদ 
প্রতিপাছ্য পন্থা অর্থাৎ শ্রুতিপথেই পুণ্য লাভ করা যায়। 
নিষিদ্ধ কর্ম পরিহার এবং বিহিত কর্ম না করলে কলি এবং কাল 
ব্রাহ্মণকেও নিষ্কৃতি দেয় না। স্থখাকাজ্জী সকলেই । ধর্মান্ুশীলনই 
সেই স্থখলাভের একমাত্র পথ। চাতুর্বণের এই ধর্মাচরণে প্রযতূশীল 
হওয়া উচিত। সচ্চরিত্র, সদাচারী, দয়ালুঃ ক্ষমাশীল এবং দেব ও 
অতিথিভক্ত গৃহস্থ ধাগিক বলে পরিগণিত । গৃহস্থ প্রতিদিন প্রাতঃস্থান? 
সন্ধ্যা, জপ, হোম, বেদাধ্যয়ন, বৈশ্যদেব, পিতৃতর্পণ এবং অতিথিসেবা 
--এই নটি আবশ্টকীয় কর্ম করে; অভ্যাগত ব্যক্তির প্রতি মধুর 
বাক্যে কুশল প্রশ্ন, সৌমাবাক্য প্রয়োগ, নিজের চোখে, মুখে সৌম্যতা। 
সেবা এবং অনুগমন করে ; বথাশক্তি আসন, পাদশোচ, ভোজন, স্থান 
শখ্যা, তৃণ। জল; তেল ও দীপ অভ্যাগতজনকে দান করে, ভাহলে গৃহস্থ 


১০৬ 


অবশ্খই সুফলভোগী হবে । সংপাত্র, মিত্র, দীন, অনাথ, উপকারীজন, 
মাতা, পিতা ও গুরু--এই নয়জনকে যা কিছুই প্রদান করা ঘায়। 
তা-ই অক্ষয় হয়ে থাকে। 
“সত্যং শৌচমহিংস! চ ক্ষান্তিরদানং দয়। দমঃ| 
অস্তেয়মিন্ড্রিয়াসংকোচঃ সর্ব্বেষাং ধন্মপাধনম্‌ ॥” (৪০1৮৬) 

_-সত্য, শৌচ; অহিংস, ক্ষমা, দান, দয়া, দম, অস্তেয় এবং ইন্জরিয়- 
নিগ্রহ-_এ নটি হল ধর্মের সাধন। 

ক্রুরতা, পরদারসেবা, ক্রোধ দ্রোহ, মিথ্যা, অপ্রিয় বাক্য, দ্বেষ। 
দন্ত) মায়! পরিত্যাগ করে; হিংসা-বিবজিত মংস্ত, মাংস ব্যতিরেকে 
মৌনভাবে অন্নগ্রহণ, এবং পঞ্চম! পাপ থেকে মুক্ত হবার জন্য অন্ত 
নামে জপযজ্ঞ। হুত নামে হোমযজ্জ। ভূতবলি নামে প্রহুত যজ্ঞ, পিতৃগণের 
পরিতৃপ্তির জন্য প্রাশিত যজ্ঞ, ব্রাহ্মণ-সেব৷ নামে ত্রাঙ্গসুত যজ্ঞ প্রভৃতি 
নিষ্ঠা-সহকারে করে কালাতিপাতই হল বেদবিহিত ধর্মামুশীলন । 

্ষন্দ বললেন, যে গৃহস্থ ন্যায়পথে অর্থ উপার্জন করে, তত্বজ্ঞাননিষ্ঠ, 
অতিথিপ্রিয়, নিত্য শ্রাদ্ধকারী, এবং সত্যবাদী-সত্যাশ্রমী কাশীনাথ 
তাদের উপরই প্রসন্ন হন; বিশ্বনাথের প্রসাদে তারাই কাশী বাস 
করতে পানে। 

এই সদাচার-পরায়ণ গৃহস্থ গাত্রচর্ম লোল এবং মস্তক-কেশ 
শুভ্র হলে, পৌত্র দর্শন করে, পুত্রহস্তে সংসার-ভার অর্পণ এবং 
গ্রাম্যাহার পরিত্যাগ করে মুনিজনোচিত অন্নে জীবন-যাত্রা নিবাহের 
জন্য বানপ্রস্থ আশ্রম অবলম্বন করবে । দেবলোক ও পিতৃলোকের 
তৃপ্তিসাধনের জন্য তখন বৈখানস-বৃত্তি অনুসারে শাক বা ফল-মূল 
আহার এবং দীর্ঘ তপস্তার দ্বারা নিজের দেহকে শু করবে। মস্তকে 
জটাভাপ্প, প্রভাতে ও সা্সংকালে সান, নখ-লোম ও শ্মাশ্রু ধারণ করে 
একমাত্র বনবাসী তপস্বীগণের কাছ থেকেই ভিক্ষা! গ্রহণ করে। এবং 
স্থির আবাসে না থেকে জীবনের তৃতীয় ভাগের শেষে চতুর ভাগের, 
প্রারস্ভেই প্রব্রজ্য! গ্রহণ করবে । জীবনের এই অবস্থাকে বল! হয় 
যতি। ধ্যান, শৌচ, ভিক্ষা এবং সর্বদা নির্জনসেবা ছাড়া তির আর: 


১৬৭ 


কোন কর্ম নেই। জীবন বা মৃত্যুর কামনারহিত হয়ে যতি থাকবে 
শুধুমাত্র কালের প্রতীক্ষায় । মুক্তির অভিলাষী হয়ে, সর্বত্র মমতার হিত 
এবং সমদশ্শা হয়ে বৃক্ষমূলে বাসই তাদের প্রশস্ত। যে সমস্ত যতি 
ভিক্ষাপাত্র পরিত্যাগ করে করপাত্রী হন, তাদের দিন-দিন শতগুণ পুণ্য 
অজিত হতে থাকে। 

প্রদ্তটি আশ্রমই আত্মজ্ঞীন লাভের সোপান ; আত্মাই একমাত্র 
জিন্ঞাস্ত, শ্রোতব্য, মন্তব্য, বত্র-সহকারে ভ্টব্য। আত্মজ্ঞানই মুক্তির 
উপায় । যোগ ব্যতিরেকে আত্মজ্ঞান হয় না! আবার নিয়ত অভ্যাসেই 
যোগ সিদ্ধ হয়ে থাকে । আত্মার সঙ্গে মনের সংযোগকে বলে যোগ 
মতান্তরে প্রাণ ব! অপান বায়ুর মিলনকেও যোগ বল৷ হয়ে খাকে। 
মানপিক বৃত্তিসমূহকে রোধ করে মনকে একমাত্র ক্ষেত্রজ্ঞ পরমাত্মায় 
মেলাতে পারেন, তারাই যোশী। চিত্ব-সংঘম ছাড়া এই আয়াস ফলপ্রন্থ 
হতে পারে না। চঞ্চল চিত্তকে স্থির করার জন্তে আসন, প্রাণায়াম, 
প্রত্াহার, ধারণা, ধ্যান এবং সমাধি এই ষড়ঙ্গ যোগের ব্বনিষ্ঠ 
অভ্যাসের দরকার । জগতে যত প্রকার জীবযোনি, আসনও তত 
প্রকার। তার মধ্যে নিদ্ধাদন এবং পদ্মাসন হল আশু সিদ্ধিপ্রদ । 
দেহগত বায়ুর নাম প্রাণ» তার অবরোধের নাম আয়াম?; সেই 
প্রাণঘটিত যে একশ্বাসমরী মাত্রা তাকেই বলে প্রাণায়াম । যথাবিধি 
প্রাণায়াম যাবতীয় ব্যাধি-বিনাশক | চঞ্চল ইন্দ্িয়-সমূহ বিষয় থেকে 
বিষয়াস্তরের সতত সঞ্চরণশীল। তাকে প্রত্যাহনত করে আনার নামই 
হল প্রত্যাহার? | আসনসিদ্ধ, প্রাণারাম-সংযুক্ত ও প্রত্যাহারসম্পন্ন 
হয়ে যোগী এবার অভ্যান করবে ধারণা” । মনকে স্থির রেখে পৃথক- 
পুথকভাবে হৃদয়ে ক্ষিতিতত্ব। কণ্ঠে অন্ৃতত্ তালুতে বহ্ছিতত্ব, জ্রমধ্যে 
বায়ুতত্ব, এব ব্রহ্মরন্ত্রে আকাশতত্ব চিন্তার নামই হল ধারণ! । ভূতগণের 
জন্যে এই পাঁচটি ধারণা-্তস্তনী, প্লাবনী, দহনী, ভ্রামণী আর শমনী । 
পাচ দণ্ড পরিমিত কাল চিত্তের স্থিরতায় ধারণ! জন্মায়। আকাশতত্বে 
প্রাণবাযুকে পাচ ঘণ্টা নিরুদ্ধ রাখলে যে ধারণ। জন্মায়, তাতে মোক্ষলাভ 
ত্বরাধ্িত হয়। ষাট দণ্ড পরিমিত চিত্রের স্থিরতার নাম ধ্যান? । 


১০৩৮ 


স্থিরাসনযোগী একটি ধ্যানে অশ্বমেধ বা রাজশুয় যজ্ঞের ফল লাভ করে। 
স্থথানলে সমাসীন হয়ে চিত্তকে অন্তরে আর চক্ষুকে বাইরে অবস্থাপিত 
করে শরীরের সমতা সম্পাদন, সিদ্ধিপ্রদ ধ্যানমুদ্রা । চিত্তের দ্বাদশ-দিন 
স্থিরতা হল 'সমাধি'। দ্বাদশটি প্রাণায়ামে একটি প্রত্যাহার ; দ্বাদশটি 
'প্রত্যাহারে একটি ধারণ ; দ্বাদশটি ধারণায় একটি ধ্যান আব দ্বাদশশটি 
ধ্যানে হয় সমাধি । সমাধিকালে জীবাত্মা পরমাজ্মায় একীভূত হয়ে 
সঙ্কপ্নরহিত হয়, লুপ্ত হয় বোধশল্তি, দর্শন হয় স্বপ্রকাশ সেই জ্যোতির 
যার দর্শনে জন্মগ্রহণ করতে হম না । যোগী এই ষড়কগযোগের অভ্যাস- 
বলে নিরালম্ব, নিরাতন্ক। নিরাময় জীবন নিয়ে পরমব্রন্দে লীন হয়ে 
থাকেন । এবং মহামুদ্রা নভো বা থেচব্রীমুদ্রা, উডভীয়মান, জলম্বর 
আর মুলবন্ধ মুদ্রা, যে যোগীর আয়ত্বাধীনে, তিনিই যোগসিদ্ধ । 

স্কন্দ বললেন, হে কলসোভ্ভব ! যে পদলাভ করে পুনরায় সংসারে 
আগমন করতে হয় ন। এবং যে পদ লাভ করলে কোন শোক পেতে 
হয় না, তা৷ একমাত্র ষড়ঙ্গযোগ বলেই পাওয়া যায়। কিন্তু কলিতে 
বলায়, মলিন এবং চঞ্চলচিন্ত মানবগণের এতদৃশ নির্ধানপ্রদ যোগসিদ্ধি 
কাথায় ? 

ষড়ঙ্গ যোগ ব্যতিবেকে মুক্তি নেই । মানুষ যাতে অল্প আয়াসেই 
সেই যোগে যোগী হয়ে মুক্তি লাভ করতে পারে, তারই জঙন্চ কাশীক্ষেত্র 
এবং ভূঁতভাবন ভগবান বিশ্বেশ্বরের সেখানে অবস্থান । 

“কাশ্টাং স্বদেহসংযোগঃ সম্যগ যোগ উদাহাতঃ | 
মুচ্যতে নেই যোগেন ক্ষিপ্রমন্টেন কেনচিৎ ॥” (৪১/১৭১) 

__কাশীতে দেহ সংযোগই ঘধার্থ যোগ বলে কধিত। এই যোগবলে 
যেমন সত্বর মুক্তি লাভ হয়, অন্ত যোগে তা হয় না। 

বিশ্বেশ্বর, বিশালাক্ষী, উত্তরবাহিণী গঙ্গী, কালভৈরব, ঢুণ্ডিরাজ; 
দণ্ডুপাণি কাশীতে এই যডঙ্গ ছাড়াও ওক্কারেশ্বর, কৃত্তিবাসেশ্বর, 
কেদারেশ্বর, ত্রিবিষ্টপেশ্বর, বীরেশ্বর এবং বিশ্বেশ্বর অপর যডঙ্গ এবং 
অমি ও বরণাসঙ্গম, জ্ঞানবাপী, মণিকণিকাঁ, ব্রহ্মহদ ও ধর্মকূপ অন্তবিধ 
ষড়ঙ্গ যোগ আর সেবা মোক্ষপ্রদ । যোগটরাস্ত্রের যে মহামুদ্রা সর্বব্যাধি 


৯৩৪৯ 


এবং সর্বপাপবিনাশিনী, কাশীতে গঙ্গান্গানই হল সেই মহামুদ্রা। যে 
খেচনীমুদ্রা দেহমধ্যস্থ বিন্দুকে স্তম্তিত রেখে অম্বত পান করায়, কাশীর 
'পথসমূহে পরিভ্রমণই হল সেই থেচরীমুদ্র! | নানা দেশ হতে বারাণসীতে 
উড্ডীন হয়ে গমনের নামই উড্ডীয়ানবন্ধ। বিশ্বেশবরের সানকালে 
দেবছুলভ স্লানজল মস্তকে ধারণের নামই জলন্ধর-বন্ধ। সবপ্রকার 
বাধাবিদ্বকে অতিক্রম করে কাশী পরিত্যাগ না করার নামই হল মূল- 
নাশক মূলবন্ধ মুদ্রা । 
হে কালসোন্ভব ! ছুই প্রকাবের যোগই অবিমুক্তক্ষেত্র প্রাপ্তির 
সহায়ক সন্দেহ নেই। তার মধ্যে কাশীযোগই শ্রেয় । 
'উভয়োর্যোগয়োম্ধ্যে কাশীযোগোহয়মুত্তমঃ | 
কাশীযোগং সমভ্যন্ত প্রাপ্ধয়াদযোগমুত্তমম্॥” (8১1১৮৪) 
-এই ছুই প্রকার যোগের মধ্যে কাশীযোগই উত্তম, কাশীযোগ 
অভ্যাস করলে পরমযোগ (জীব ও ব্রদ্মের এঁক্য ) লাভ করতে পারা 


যায়। 


[ অধ্যায় ৪২ ] 


অগন্ত্য জিজ্ঞাসা করলেন £ 
“কথং নিকটতঃ কালে! জ্ঞাবতে হরনন্দন ।৮-_-হে হরনন্দন ! কাল 
(মৃত্যু) নিকটবর্তী হয়েছে, তা কিভাবে জান! যাবে ? 
আর সেই কালকে প্রতিরোধের উপায়ই বা কি? 
হ্বন্দ বললেন, হে কালসোভ্ভব ! কাল চিহ্ন বা মৃত্যুর লক্ষণ বহুবিধ 
তার মধ্যে জরাই কালের প্রথম লক্ষণ । 
“ন জরাসদৃশো ব্যাির্ন ছুখেং জরয়া সমম্। 
কারয়িত্র্যপমানস্ত জরৈব মরণং নৃণাম্‌॥” (৪২/৫১) 
_-জরার তুল্য ব্যাধি বা! ছুঃখ আর কিছু নেই। জরা মানবগণের 
অপমানকারী, জর়াই মৃত্যুর অবশ্যন্তাবী কারণ। 


১৯০ 


জরাই কালম্বরূপ ॥। তাই যে পর্যস্ত জরা আক্রমণ না করে, 
'ইক্জিয়গণ বিকল না হয় তার মধ্যেই বুদ্ধিমানের উচিত তুচ্ছ বিষয়সমূহ 
পরিত্যাগ করে কাশীক্ষেত্রে বাস, উত্তরবাহিনী গঙ্গার জলপান এবং 
'বিশ্বেশ্বর লিঙ্গকে স্পর্শ করে কাশীতে অনন্তচিত্ত হওয়া । 
কাশীকে আশ্রয় না করলে কলি বিদ্ব উৎপাদন করে, কাল গ্রাস 
করে, পাপরাশি রেশ প্রদান করে। 
তাই-_ 
“কঃ কলি কোহথব। কালঃ কা জর কিঞ্চ ছুষ্কৃতম্‌। 
কা রুজঃ কেহস্তরায়া বা শ্রিতা বারাণনী যদি ॥” (৪১1৫৫) 
__বারাণসীকে আশ্রয় করলে কলিই বা কে, কালই ব! কে, জরাই 
বা! কে, তুষ্ভৃতই বা কি, রোগই বা' কে, বিদ্বই বা কার! ? 
কাশীতে যথাবিধি বাস স্বর্গবাস অপেক্ষা শ্রেষ্ট, পরম তৃপ্তি 
দায়ক। ভগবান মহেশ্বরও তাই ন্বপতি দিবোদাস-প্রতিপালিত। কাশী 
পরিতাগ করে মন্দর পর্বতের মনোরম গুহাতে অবস্থান করেও শ্রীতি- 
'লাভ করতে পারেন নি। 


[ অধ্যায় ৪৩ ] 


অগন্ত্য অত:পর কৌতৃহলী হয়ে জানতে চাইলেন-_কাশীকে দেব 
ত্িলোচন কিভাবে দিবোদাস মুক্ত করে মন্দর পর্ধত হ'তে কাশীতে 
প্রত্যাগমন করেছিলেন । 

স্কন্দ বললেন, দিবোদাসের প্রতি ব্রহ্মার বরদানকে সার্থক করার 
জন্যে এবং মন্দরের তপব্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবদেব মহাদেব গিরিমুন্দর 
মন্দয় পর্ণতে গমন করলে, হূর্য, বিষ্ণু ষড়ানন, গনেশ প্রভৃতি অন্যান্য 
'দেবতারাও পৃথিবী পরিত্যাগ করে মন্দরে প্রস্থান করলেন। আর 
মহামতি দিবোদাসও বারাণসীতে রাজধানী স্থাপন করে ধর্মানুসারে 
প্রবল প্রতাপে রাজত্ব করতে লাগলেন, যেন ব্বয়ং ধর্মরাজ। ছৃষ্টের 


৯১১ 


দমন, শিষ্টের পালনে সুনিপুণ দিবোদাসের রাজত্ব সবদিক থেকে এমনি 
সমুদ্ধ হয়ে উঠেছিল। যা ছিল ব্বর্গেও হুর্লভ | দেখতে-দেখতে যেন 
একটা দিনের মত যখন কেটে গেল আশীহাজার বছর নিশ্চিন্ত 
নিরুপদ্রবে, তখন দেবতার1। আর স্থির থাকতে না পেরে দিবোদানের 
পতন ঘটানোর জন্য চক্রান্ত শুরু করলেন। দেবগুরু বৃহস্পতির 
সঙ্গে মন্ত্রনা করে দিবোদাসের ছিদ্রান্থেষণে তৎপর হলেন। ঘুরে ঘুরে 
দেখলেন, ব্রন্মচারীরা অঙ্থলিত ব্রন্মচর্ষে, গৃহস্থর! যথাবিপি গাহন্থ্যদমে। 
বানপ্রস্থীরা বেদবিহিত বানপ্রস্থাশ্রমে অনন্ত । এমনকি অনুলোম 
এবং প্রতিলোম জাত ব্যক্তগণও কুলমার্গ অনুসরণে রত | সবত্র 
বেদধবনি, পদে পদে শান্ত্রালাপ, সবত্রই সদালাপ ও মঙ্গল-গীত, বীণ।- 
বেণু সুদঙ্গ প্রভৃতি বাছ্ের সুমধুর শব্দ রাজ্যের সবত্র নিনাদিত হচ্ছে। 
কোথাও এমন কোন অধর্াচার তার! খুঁজে পেলেন না, যার ছিদ্রপথে 
প্রবেশ করে তার! দিবোদীসকে হীনবল এবং বিনষ্ট করতে পারেন । 

অতঃপর দেবগুরু বললেন, সাম-দাম-দণ্ড ও ভেদনীততে 
স্থনিপুণ রাজা । তবুও কার্ধসিদ্ধির উপায় হিসেবে একমাত্র ভেদ-নী তিকেই 
গ্রহণ কর] যেতে পারে, যদিও সাফল্য সংশয়াধীন | সমস্ত দেবগণকে 
পৃথিবী থেকে নির্বাসিত করলেও দেবতাদের পক্ষপাতী অনেকেই 
অন্তশ্চর এবং বহিশ্চর-রূপে সেখানে অবস্থান করছেন । 'সমাগতেষু 
তেথত্র সর্ববং নঃ সেংস্তি প্রিয়ম্‌।৮ তারা! সকলে এখানে আগমন 
করলে তোমাদের মনোভিলাম পূর্ণ হ'জে পারে । বৃহস্পতির পরামর্শে 
দেবরাজ ইন্দ্র অনলকে আহ্বান করে বললেন £ 

হব্যবাহন ঘা মৃত্তিস্তব তত্র প্রতিষ্ঠিত। ৷ 
তামুপাসংহর ক্ষিপ্রং বিষয়াত্তস্ত ভূপতে £॥” (৪৩/৭৪) 

_হে হব্যবাহন ! আপনার যে মুত্তি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত আছে; 
আপনি সত্বর সেই মূত্তি ভূপতির রাজ্য হতে অপস্থত করুন । 

আপনি অপন্যত হলে প্রজাগণ অগ্নিবিহীন হয়ে বিক্ষুব্ধ হবে | 
ফলে মহীপতির অজিত ত্রিবর্গ ক্ষয়প্রাপ্ত হবে এবং আমাদের উদ্দেশ্যও- 
সিদ্ধ হবে| 


৯৯২ 


ইন্দ্রের অনুতোধে অস্মি তৎক্ষণাৎ অহ্বনীয়। গাহৃপত্য এবং 
দক্ষিণাগ্রিরপ ত্রিবিধ মুর্তিকেই শুধু যোগবলে উপসংহার করে ক্ষান্ত 
হলেন ন!, স্বীয়দাহিক! শক্তির সঙ্গে জঠরাগ্িকেও আকর্ষণ করে 
্বলোকে গমন করলেন । 

এদিকে মধ্যহ্নকালীন উপাসনা শেষে ক্ষুপার্ত নৃূপতি দ্রিবোদাস 
যখন ভোজন মণ্ডপে প্রবেশ করলেন, শুরু হয়ে গেল পাচকগণের 
হ্বংকম্প। নৃপতির অভয় নিয়ে তার! জানাল, অনলের অভাবে আজ 
তার। কিছুই বাধতে পারেনি, স্র্যতাপে সামান্য কিছু পাক করতে 
পেরেছে, অনুমতি পেলে সেটুকুই তারা এনে দিতে পারে । 

পাচকদের কথা শুনে মহাসত্ব নরপতি অনায়াসেই বুঝতে পারলেন, 
এ দেবগণের কাজ । তারপর ক্ষণকাল চিন্তা করে তপোবলে 
দেখলেন, অগ্নি কেবল পাকশাল। এবং জঠরগুহাই পরিত্যাগ করেন 
নি, পৃথিবী থেকেই অন্তহিত হয়েছেন । হতোগ্যম হলেন ন। নরপতি। 
ভাবলেন, অগ্রির প্রসাদে নয়। স্বঘং ব্রহ্মার অন্ুরোধেই তার এই 
সাজ্যতার গ্রহণ । 

রাজপ্রাসাদে রাজ! দিবোদাম যখন দেবতাদের পরা ভবকে অস্বীকার 
করে আত্মপ্রত্যয়ে স্থির হচ্ছেন, পুরবাসিগণ এল প্রাসাদদ্বারে । 
দ্বারপাল রাজার অনুমতি নিয়ে তার্দের নিয়ে এল রাজ-সমীপে। 
রাঞ্জাও আসন ত্যাগ করে তাদের সসম্মানে অভ্যর্থনা জানিয়ে আবার 
রাজছত্রতলে উপবেশন করলেন । কোন প্রশ্নের অবকাশ রাখে নি 
পুরবাসিগণের আগমনের কারণ । তিনি তাদের অন্তয় দিয়ে বললেন? 
হে পুরবাসিগণ ! পূর্বেই এসবের একট! বিহিত করা আমার উচিত 
ছিল, কিন্ত আমি উপেক্ষ। করেছিলাম, বহুদিন পর্ন দেবগণ তা৷ স্মরণ 
করিয়ে দিয়ে ভালই করেছেন । অনল গমন করেছেন, ক্ষতি নেই; 
বায়ুও স্থান ত্যাগ করুক; চন্দ্র, সুরের সঙ্গে বরুণও এখান থেকে 
প্রস্তান করুক। আমার রাজ্যে এ সমস্ত জড় পদার্থের কোন প্রয়োজন 
নেই। কেবল থাকবেন এখানে, আমাদের কুলের আদি পুরুষ, 
কুলদেবতা, পরোপকারই ধার একমাত্র ব্রত, সেই জগতাত্মা! ভাস্কর ॥ 


১১৩ 


কাশী--৮ 


আপনার! নিশ্চিন্ত হোন, আমিই তপোষোগবলে নিজেকে বহিরূপে 
ঠিধা বিভক্ত করে পাক, যজ্ঞ ও দাহক্রিয়। নিষ্পন্ন করব। অন্তবহিশ্চর 
বায়ুরূপ ধারণ করে সকলের জীবন রক্ষা করব, জলময়ী মূতি ধারণ 
করে প্রজাগণকে সঙ্লীবিত করব। জনপদসমূহের সুখের জন্য ইচ্জর 
হয়ে আমি শম্ত বৃদ্ধি করব। আমার জগতে এ ক্ষয়ী ও কলঙ্কী 
নিশাচরের কোন প্রয়োজন নেই। আমিই চান্দ্রমসী শোভা ধারণ 
করে প্রজাকুলের মন প্রফুল্ল করে তুলব । 

স্থির বিশ্বাস নিয়েই প্রত্যাবর্তন করল পুরবাসিগণ। দিবোদাসও 
আপগ্তবাক্যে তাদের সন্তুষ্ট করেন নি। তপোনিধি তপোবলে সেই 
সমস্ত মৃত্তি ধারণ করে অধিকতর তেজে পৃথিবীর যাবতীয় অভাৰ 
এমনভাবে মোচন করলেন, যে দেবতার। নিতান্তই নিরুপায় হয়ে 
পড়লেন | 


| অধ্যায় ৪৪--৪৫ ] 


মন্দর পবতের গুহামধ্যস্থ অতুযুজ্জল কান্তিময়ী রতুরাজির অসাধারণ 
রশ্মিনিকরে সমুদ্ভাসিত মন্দিরে অনস্ত সুরগণ-সেবিত মনোহর ক্ষীণ 
শশীকলাভাসিত জগদীশ্বর কাশীবিরহে এবং কাশী বিয়োগ জ্বরে 
অতিমাত্রায় সম্তাপিত হয়ে উঠলেন | সবাঙ্গে চন্দন-লেপন, ম্বণাল- 
বলয় ধারণও তার প্রদাহ প্রশমিত করতে পারুল না । যিনি জগতের 
বিভ্রম-হস্তা) যিনি ত্রিতাপ-ক্ষয়কারী, কাশীবিরহে তিনি নিজেই 
অতিশয় বিভ্রান্ত হয়ে অস্ফুট বিলাপ শুরু করে দিলেন; নিতান্ত 
অন্তামনস্ক হয়ে পড়লেন । 

লক্ষ্য পড়ল হিমাদ্রি-তনয়! পার্বতীর। দেবদেবের সম্তাপের কারণ 
তিনিও অনুধাবন করে সর্ববিধ মাহাস্ঘ্যে প্রতিষ্ঠিত কাশীপুরী লাভে 
নিজেও উৎকষ্ঠিত। হয়ে উঠলেন । তিনি বললেন £ 
“ন কেবল: কাশীবিয়োগজে। জ্বরঃ প্রবাধতে ত্বাং তু যথাত্র মাম্‌। 


১১৪ 


উপায় এযোহত্র নিদঘেশাস্তঘ্নেপপুরী তু সা বা মম জন্মভূর্থঃ1” (581৩৪) 
-হে নাথ! কাশীবিরহ-জাত জ্বর কেবল আপনাকেই গীড়া 
দিচ্ছে না, আমাকেও পীড়িত করছে । আমার এই তাপ-শান্তির 
উপায় সেই পুরী অথবা আমার জন্মভূমি | 
. সর্বসিদ্ধিপ্রদ সেই কাশীপুরীতে যাতে পুনরায় যাওয়! যায়, অপর্ণা 
পিনাকীকে তা৷ বারবার অনুরোধ করলেন । 
মহাদেব বললেন, পারতী তুমি জান আমার সেই মহৎ ত্রতের 
কথ!-_অন্য ব্যক্তি কর্তৃক অভুক্ত ব্স্তই আমি উপভোগ করি। ব্র্গার 
বরে মহীপতি দিবোদীস ধর্মানুসারে সেই পুরীকে পালন করছে। 
ভূমি জান, বার। ধর্সমার্গানুসারী ধামিকশ্রেষ্ট, আমি তাদের রক্ষা করে 
থাকি। যারা! তাদের বিরোধিতা করে, আমি তাদের বিনাশ 
করি। ধরন্সিষ্ঠ এবং প্রজাপালনে তৎপর রাজা দিবোদাস। কাশী 
থেকে কিভাবে তাকে বহিষ্কার করি যদি অধর্মপ্রায়ণতার লেশমাত্র 
তার ন! থাকে ? তার ছিদ্র অন্বেষণ করার জন্ত কাকে পাঠাৰ ? 
এমন সময়ে তিনি তার সামনে দেখতে পেলেন অসাধ্য-সাধনক্ষম 
যোগিনীগণকে । দেবী পার্তীর সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যোমকেশ 
মাহবান জানালেন যোগিনীদের | 
বললেন £ 
“সত্বরং যাত যোগিন্তো মম বারাণসীং পুরীম্‌। 
মত্র রাজা দিবোদাসে। রাজ্যং ধন্মেন শাস্ত্যলম্‌ ॥ 
স্বধশ্্মবিচ্যুতঃ কাশীং যথা তৃর্ণং ত্যজেগৃপঃ। 
তথোপচরত প্রাজ্ঞা যোগমায়াবলান্বিত। ॥৮” (৪১/৬১-৬২) 
-হে যেগিনীগণ ! যেখানে রাজা দিবোদাস ধর্মানুসারে রাজ্য- 
পালন করছে, তোমর! আমার সেই বারাণসী পুরীতে' গিয়ে যাতে 
প্লাজা স্বধর্মবিচ্যুত হয়ে কাশী থেকে বহিষ্কৃত হতে পারে যোগমায়৷ 
অবলম্বন করে তার উপায় কর ! 
আদেশমাত্র যোগিনীগণ মন্দরকুঞজ হতে নিজ্কাস্ত হয়ে সহর্ষে 
শভোমার্গ অবলম্বন করে দেবদেবের উদ্দেশ্য সাধনের জন্য মনোবেগে 


১১৫ 


আনন্দকানন বারাণসী অভিমুখে প্রস্থান করল । 

কাশী সন্গিকট হতেই তার! দেবমূতি পরিহার করে ছদ্মবেশ ধারণ 
করে প্রবেশ করল কাশীতে । এক এক যোগিনীর এক এক বেশ। 
কেউ মালিনী, কেউ সুন্দরী নাপিত পত্বী, কেউ ভেষজশাস্ত্রাজ্ঞ,. কেউ 
বেদেনী, কেউ মদঙ্গবাদনজ্ঞা, কেউ গণকপত্বী, কেউ বশীকব্রণ উচাটনে 
নিপুণ!, কেউ যুবজনের চিত্ত-বিমোহিনী বিলাসিনী। এইভাবে নানা 
বেশ ধারণ করে, নান ভাষায় বাক্য বিস্তার করে তার! কাশীপুরীর 
প্রতি গৃহাঙ্গণে একবৎসর দিবানিশি বিচরণ করেও ভগ্ন-মনোরথ হল। 
বিদ্ব উপযোগী কোন ছিদ্রই তারা খুজে পেল না । 

উদ্দেশ্য সিদ্ধ না হওয়ায় চিন্তান্বিতা হল যোগিনীগণ। প্রভৃর 
কার্ধ সমাধা না করে প্রত্যাগমন করাও বিধেয় নয় । আরও ভাবলে, 
প্রভু ব্যতিরেকে জীবনধারণ সম্ভব কিন্তু কাশী ছাড়া জীবন-ধারণ 
কঠিন। 

“শন্তোঃ শক্তিরিয়ং কাশী কাচিং সব্বরগোচরা | 
শস্ভুরেব হি জানীয়াদেতম্যাঃ পরমং স্ুথম্‌ ॥”- 

কাশী শস্তুরই কোন শক্তি, সকলের অগোচর, কেবল মহেশ্বরই এর 
পরম সুখ জানেন । 

সেই মহেশ্বর অনতিবিলম্বেই কাশী অবশ্যই প্রত্যাগমন করবেন । 
স্থৃতরাং মন্দরে ফিকে না গিয়ে যোগিনীর1 কাশীতে থাকাই মনস্থ 
করে, ত্রিভুবন-সঞ্চারিণী হয়েও সেইদিন থেকে আজ পর্যস্ত কাশীতেই 
অবস্থান করছে । 

অগন্ত্য এই যোগিনীদের পরিচয় প্তে উৎসুক হলে ষড়ার্ন 
বললেন--.“গজাননা সিংহ্মুখী গৃরাস্তা কাকতুপ্তিকা। উ্টরগ্রীবা 
হয়গ্রীবা বারাহী শরভানন। ॥/উল্কিকা শিবারাব! ময়ূরী বিকটানন। | 
অষ্টবক্রা কোটরাক্ষী কুন্জা বিকটলোচন। ॥/শুক্ষোদরী ললজিহব! 
্বদ্রা বানরাননা । খক্ষাক্ষী কেকরাক্ষী চ বৃহভুগ্। সুরাপ্রিয়া ॥/ 
কপালহস্ত। রক্তাক্ষী শুকী শ্যেনী কপোতিকা। পাশহস্তা দগ্ুহস্তা 
প্রচণ্ড চণ্ডবিক্রেম। ॥/শিশুত্বী পাপহম্থী চ কালী রুধিরপায়িনী | বসাধয়! 


৯১৬ 


গর্ভভক্ষ! শবহস্তান্ত্রমালিনী ॥/স্থুলকেশী বৃহৎকুক্ষিঃ সপাস্ত! প্রেতবাহন!। 
দ্দশুককননা ক্রৌঞ্চী মুগশীর্ধা বৃষানন। ॥/ব্যাত্রাস্ত। ধূমনিশ্বাস! 
ব্যোমৈকচরণ উদ্ধদৃক। তাপনী শেষনীদৃষ্টিং কোটরী স্ুলনা সিকা ॥ 
বিছ্যৎপ্রভ। বলাকান্ত। মার্জারী কটপুতনা । অঅট্রাট্রহাসা কামাক্ষী 
মুগাক্ষী মৃগলোচন! ॥” /(৪৫/৩৪-১ ১) 

মণিকণিকাকে সামনে রেখে কাশীতে অবস্থিত এই চৌধ্ট্ 
যোগিনীর নাম ত্রিসন্ধ্যা জপে সর্ববাধা দূর হরে অভীষ্টপিদ্ধি লাভ হয়। 


[ অধ্যায় ৪৬--৫১ ] 


ধোগিনীগণ প্রত্যাগমন করল না! দেখে দেবদেব সুধকে আবাহণ 
করে, তাকে পাঠালেন ধর্মমূতি মহীপতি দিবোদাসকে কোনরূপ 
অবমানন। না করে ভার জন্যে সেই ক্ষেত্র উদ্ধার করতে । বললেন £ 
“তৰ বুদ্ধিবিকাসেন চ্যবতে চেৎ স ধম্মত2 | 
তা স। নগরী ভান ত্য়োদ্বাস্তাসহৈঃ করৈঃ ॥” (৪৬/৫) 
_-তোমার বুদ্ধিবলে তিনি যদি ধর্মছ্যুত হন, তাহলে তোমার 
হুসেহ কিরণজালে নগরীকে মন্তাপিত করে তুলবে ! 
কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্ষ এবং অহঙ্কার-রূপ ষড়রিপু 
বিবজিত সই পুরী জয় যদিও ছুঃসাধ্য তবুও মহাদেবের আদেশে 
উৎফুল্ল হৃদয়ে সূর্য নভোমার্গ অবলম্বন করে চললেন কাশী অভিমুখে । 
অন্তহিশ্চর বলবি কাশীক্ষেত্রে গমন করে এক বতমরকাল বিভিন্ন 
বেশে কাশী পরিভ্রমণ করলেন। অতিথির বেশে কখনো কোন 
তুর্লভ বস্ত প্রার্থনায়, কনো গণকবেশে, কখনো! বা জটাধারী, দিগম্বন্- 
রূপে, কখনে। বা বিপ্রঃ রাজপুত্র, বৈশ্য, ব্রহ্মচারী যতিরূপে ঘুরে ঘরেও 
এমন কোন অধন্াচার দেখতে পেলেন না, যার ছিদ্র পথে দিবোদাসকে 
অবমাননা না করে দেবদেবের কাধ সাধন করা! বেতে পানে । 
ব্যর্থ মনোরথ বিভাবস্থ তখন স্থির করলেন, প্রত্যাগমন করে হবব- 


১১৭ 


কোপানলে অনঙ্গের ন্যায় দগ্ধ হওয়ার চেয়ে ক্ষেত্র সন্গ্যাস গ্রহণ করে, 
বারাণসীতেই অবস্থান করে থাকবেন । মহাদেব রুষ্ট হয়ে আমার 
তেজের হানি করলে পিতামহ ব্রহ্মারও কিছু করায় থাকবে না কিন্ত 
কাশীতে বাস করে আত্মজ্ঞকান জনিত বিমল তেজের আমি অধিকারী 
হয়ে থাকতে পারব। তম-অপনয়নকারী, জগচ্চক্ষু সূর্য এই ভেবে 
নিজেকে বারোটি রূপে বিভক্ত করে, সেই অবাধ কাশীতেই থেকে 
গেলেন । কাশীপুরীতে সেই ক্ষেত্ররক্ষক দ্বাদশ-আদিত্য হলেন-- 
লোলার্ক, উত্তরার্ক, সাহ্বাদিত্য, দ্রুপদাদিতা, খখোক্কা দিত্য, ময়ুখা দিত, 
অরুণাদিত্য, বৃদ্ধাদিতা, কেশবাদিত্য, বিমলাদিতা, গঙ্গাদিত্য আর 
যমাদিত্য | 
“তন্তার্কম্য মনো লোলং যদাশীৎ কাশিদর্শনে | 
অত লোলার্ক ইত্যাখ্যা কাশ্যাং জাত বিবন্বতঃ ॥” (৪৬/৪৮) 
-_কাশী দর্শনে অর্ক (সুর্য) দেবের মন লোল ( লোলুপ ) হয়ে 
উঠেছিল তাই কাশীতে বিবস্বত লোলারক নামে আখ্যাত | 
অসি-সঙ্গমের দক্ষিণে লোলার্কদেব অবস্থান করে কাশীবা সিজনের, 
সর্দাই যোগ মঙ্গল করে চলেছেন । 


বারাণসীর উত্তরদিকে অর্ক-নামে এক কুগ্তসমীপে মহাতেজা' 
উত্তরার্কের অধিষ্ঠান। অগস্ত্য ! এই প্রসঙ্গে যে পুরা কাহিনী আছে, 
বলি শোন। 

কাশীতে সদাঅতিথিপরায়ণ আত্রেয় বংশজ প্রিয়ব্রত নামে এক 
ব্রাহ্মণের গুঁরসে পতিসেবা পরায়ণ। পত্বী শুভব্রতার গর্ভে স্ব-সুলক্ষণ- 
যুক্তা একটি কন্তা জন্মগ্রহণ করে। পিতৃগৃহে সেই গৃহকর্মনিপুণা. 
বিনযব্রতাচারী কন্ঠ। দিনে দিনে চন্দ্রকলার মত যতই বাড়তে থাকে; 
ততই তাকে সংপাত্রস্থ করার চিন্তায় উৎকষ্ঠিত হয়ে উঠতে থাকেন, 
তার পিতা । শেষে নিদারুণ চিন্তাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেহত্যাগ 
করলেন প্রিয়ব্রত। শুভব্রতাও কন্ঠাকে রেখে স্বামীর অন্থুগমন করে 
সহধসিনীর ব্রত পালন করলেন। পিতা-মাতা কন্তার সামনেই 


১১৮ 


বিগতদেহ হলে অদত্তা সেই কণা নানাবিধ অগ্রপশ্চাৎ চিন্তা-ভাবনা 
করে দেহের অনিত্যতা-নিবন্ধন জিতেন্দ্রিয়া এবং জিতন্নদয়া হয়ে 
কঠোর ত্রহ্মচর্য অবলম্বন করে উত্তরার্ক সর্ষের কাছের স্থির মানসে 
উপ্র তপন্তায় নিরতা হল। তপস্তায় প্রবৃত্ত হলে প্রতিদিনই ছোট 
. একটা ছাগী সেখানে এসে তার সামনে দাড়িয়ে থাকত, কিছু তৃণ- 
পর্ণ খেয়ে সন্ধ্/ হলে সেই অর্ককুণ্ড থেকে জল পান করে স্বগৃহে 
প্রস্থাণ করত । 

এইভাবে কেটে গেল পাঁচ-ছ' বসর | 

একদিন ন্বেচ্ছাবিহারে বেড়িয়েছেন পার্বতীকে নিয়ে মহাদেব । 
ঘুরতে ঘুরতে সেখানে এসে তপস্তায় কৃশাঙ্গী, সমাধিযোগে নিমী- 
লিতাক্ষী সেই কন্াকে দেখে পার্বতীর হৃদয়ে অনুকম্পার সঞ্চার হল। 
ভিনি মহাদেবকে অনুরোধ জানালেন কন্যাকে বর দান করতে । 
মহাদেবও গিরিজার অনুরোধ রক্ষা করতে সেই কন্তা সমীপে গিয়ে 
বর প্রার্থনা করতে বললেন । কন্যা নিজের জন্য কোন বয় প্রার্থন। 
নাকরে তার তপস্যার সাক্ষীম্বরূপ ছাগস্তার পশুত্ব মুক্তির জন্যে 
ত্রিলোচনের কাছে অনুরোধ জানাতে দেবদেব তার পরহিতৈষণায় 
চমতকৃত এবং মুগ্ধ হয়ে পাবতীকে বললেন_-এই কন্তা৷ বরগ্রহণের 
ষথার্থ পাত্রী । তুমি বল এই স্ুলক্ষণা আর ছাগমুতাকে কি বর দিলে 
তুমি তৃপ্ত হবে? 

পার্বতী বললেন--এই কন্যা আবাল্য ব্রহ্মচারণী। এই কারণে 
এই শরীরেই দিব্যায়বভূষণী, দিব্যবস্ত্রা, দিব্যগন্ধ1, দিব্যমাল্যা? 
দিবাজ্ঞান-সমন্বিতা এবং চামরধারিণী হয়ে আমার সঙ্গে আমার জয়া) 
বিজয়া, জয়স্তিকা! প্রভৃতি সখীদের সঙ্গে সর্বদা অবস্থান করুক। আর 
এই ছাগী যেহেতু শীততাপ উপেক্ষ! করে নূর্যোদয়ের পূর্বে এই অর্ককুণ্ডে 
প্রত্যহ স্নান করেছে, সেই অঞ্জিত পুণ্যবলে কাশীরাজের শুভলোচন! 
কন্ারূপে জন্মগ্রহণ করে মনুষ্য জন্ম উপভোগ করুক । আর, হে 
প্রভে৷ ! আজ থেকে এই কুণ্ড ভূমগ্ুলে 'বর্করী কুণ্' নামে পরিচিত 
হোক। 


১১৪ 


মহাদেবও পার্বতীর অভিপ্রেত বর প্রদান করে গিরিজাকে নিয়ে 
স্থানান্তরে গমন করেছিলেন । 


স্কন্দ অতঃপর মহামুনি অগস্ত্যকে বললেন সাম্বাদিত্যের কাহিনী'। 

পৃথিবীর ভার হরণ করার জন্য যহ্ুকূলে দেবকীর গর্ভে স্বয়ং 
ভগবান বাসুদেব অবতীর্ণ হয়েছিলেন । সেই ভগবান বাস্ুদেবের 
রূপগুণসম্পন্ন। বলশালী, বনুশান্ত্রতত্গত আশী লক্ষ পুত্র ছিলেন। 
একদিন ব্রহ্মার মানসপুত্র মৌলীমেখলাধারী, গোপীচন্দনচচিত-দেহ 
গগনবিহারী দেবধি নারদ সেই পুত্রদের দর্শনাভিলাষে এলেন দ্বারকা- 
পুরীতে । দেবধিকে দেখে বিনয়াবনত হয়ে তীকে প্রণাম করলেন কিন্ত 
জান্ববতী-তনয় সান্ব আপন রূপযৌবনের গর্বে তাচ্ছিল্য প্রদর্শন করলেন 
নারদকে ' মহামুনি নারদ সান্বের এই উদ্ধত আচরণে এবং আচরণের 
কারণ অনুধাবন করে কুষ্চঘমীপে গিয়ে বললেন--হে কুষ্ণ ! আপনি 
বোধ হয় অবগত নন যে, আপনার আটজন মহিষী ব্যতিরেকে আর 
সব মহিষীই এই বপযৌবন মদমত্ত সাস্বের প্রতি আসক্ত । 

বিভ্রান্তি জাগল বাস্্দেবের মনে ৷ পুবে সাম্বের মধ্যে কোন প্রকার 
কাধ-বিকার তিনি দেখেন নি। এবার দিবারাত্র তিনি পর্যবেক্ষণ করতে 
শুরু করলেন সাম্বকে 

কিছুকাল গত হলে আবার হঠাৎই দেবধি নারদ এমনিই এক 
সময়ে ছ্বারকায় কৃষ্ণ-সন্দর্শনে এলেন, যখন তিনি লীলাবতী গোপিনীদের 
নিয়ে আপন মন্দিরে লীলারত। নারদ এসেই সাম্বকে ডেকে বললেন 
কৃষ্ণ-সমীপে তার আগমন-বাত্া জানাতে । সাম্ব পড়লেন মহা ছন্দের 
মধ্যে। একদিকে, অন্তঃপুরে জননীগণ-বেষ্টিত পিতৃদেবের কাছে 
যাওয়। যেমন এখন শ্লাঘনীয় নয়, অপরদিকে আবার, একবার নারদকে 
প্রণাম না-করার অপরাধ তহছুপরি বর্তমান আজ্ঞা পালন ন। করার 
অপরাধে নিদারুণ ব্রহ্মচর্য কোপানলে পড়তে হতে পারে । পিতৃ- 
কোপ প্রশমিত হতে পারে, কিন্তু ব্রন্ঘ-কোপাগ্নি দাবানল সমান । 

শেষ পর্বস্ত সাম্ব অস্তঃপুরে প্রবেশ করলেন । শ্ত্রীমণ্ডল পরিবেষ্টিত 


৯২২০ 


কৃষ্ণকে প্রণাম করে যে মুহুর্তে নারদের আগমন-বার্তা তার গোচরে 
আনতে যাবেন, ঠিক তখনি স্বীয় কার্ষসিদ্ির অভিলাষে নারদ এসে 
ধাড়ালেন সাম্বের পিছনে । দেবকীনন্দন কৃষ্ণ, পাশ্ব-সহ দেবষিকে 
দেখে পীতকৌশের-বসন স্ুুংঘত করে খুনিকে সসন্ত্রমে নিয়ে গিয়ে 
. বসালেন আপন শয্যার । কৃষ্ণলীলায় শ্লধবাস' দ্রবীভূতাবয়বা! লীলা- 

সঙ্গিনী গোপকন্তারাও সলজ্জে শ্লথ-বসন সামলাতে বাস্ত হয়ে পড়লেন । 
সাম্ব-ও তৎক্ষণাৎ প্রস্থান করলেন সেখান থেকে। 

তদবস্থায় একান্তে কৃষ্ণকে পেয়ে নারদ বললেন £ 

“পশ্ঠ পশ্য মহাবুদ্ধে দৃষ্ট1 জান্ববতীমস্ৃতস্‌। 
ইমাঃ স্বলিতমাপন্নাস্তব্রপক্ষুব্ধচেতসঃ ॥” ( ৪৮/৩৫ ) 

_-হে মহাবুদ্ধে? দেখুন জাম্বর তী-তনয়কে দেখে এদের সকলেরই 
বসন স্মলিত, বদন ও চিত্ত ক্ষোভিত হয়েছে। 

যদিও সাম্ব প্রতি মহি্ষীকেই জান্ববতী সমান শ্রদ্ধা করতেন, 
কৃষ্ণের তা অগোচর ছিল না, তবুও এই মুহূর্তে বিভ্রান্তি তাকে গ্রাস 
করল এবং পুত্র সাম্বকে ডেকে অভিশম্পাত দিলেন £ 

“বন্মাত্বদ্রপমালোকা গোপাল্যঃ স্থলিতা ইমা । 
তম্মাৎ কুষ্ঠী ভব ক্ষিপ্রমকাগ্ডাগমনেন চ॥” ( ৪৮/৩৭ নব 

--তোমার রূপ বিলোকন করে এই গোপিনীর। স্বলিত-ভাব 
প্রাপ্ত হয়েছে, সেই কারণে তুমি অবিলম্বে কুষ্ঠরোগাক্রাস্ত হও | 

মহাব্যাধি ভয়ে কম্পমান সান্ব শাপ-শান্তির আবেদন নিয়ে লুটিয়ে 
পড়লেন পিতৃচবূণে ৷ নিরপরাধ সান্বের প্রতি পিতৃ-হৃদয়ও দ্রবীভূত 
হল। বললেন, হে সাম্ব ! মহাদেবের আনন্দকানন বারাণসীতে গিয়ে 
সর্ষের উপাসন। ছাড়া তোমার পাপশাস্তি এবং ব্যাধিমুক্তি হবে না। 
তুমি সত্বর সেখানে যাও । 

অতঃপর নারদ কৃষ্ণের অনুমতি নিয়ে আকাশমার্গে প্রস্থান করলেন 
আর সান্থও বারাণলীতে গিয়ে বিশ্বেশ্বরের পশ্চিমদিকে কুণ্ড নির্মাণ 

১ করে যে আদিত্যমৃতির উপাসনা করে নীরোগ এবং পূর্বদেহকান্তি লাভ 

করেছিলেন ।, তিনিই হলেন সাম্বাদিত্য। 


৯২৯ 


হে অগন্ত্য ! পুরাকালে জগতের হিত-কামনায় স্বয়ং পান 
পাঁচটি রূপে বিভক্ত হয়ে পার্ডুতনয়রূপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । স্বয়ং 
ভগবান কৃষ্ও সেই সময় তাদের সাহায্যার্থে অবতীর্ণ হয়েছিলেন । 
জগন্ধাত্রী উমাও যজ্ঞশীল দ্রুপদ মহীপতির যজ্ঞকুণ্ড হতে উৎপন্ন হয়ে, 
দ্রোপদীরূপে পঞ্চ-পাণ্ডবের সহধসিণী হয়েছিলেন । জ্ঞাতি ভাতাদের 
বিরূপতায় এই পঞ্চ-পাগ্ডবকে অনেক ক্লেশ পেতে হয়েছিল । একব্বার 
যখন বনবাসে জীবন-যাপন করছিলেন পাগুবগণ, দ্রৌপদী বারাণসীতে 
গিয়ে সূর্যের আরাধনায় রূত। হয়েছিলেন । শিব-বরে বলীয়ান বাবতীয় 
দুঃখ-তিমির-বিদারী সেই আদিত্য দ্রৌপদীর আরাধনায় তৃপ্ত হয়ে 
তাকে একটি হাতা), ঢাকনা আর রদ্ধনপাত্র দিয়ে বলেছিলেন-__ 
ইচ্ছাপ্রক্থত। এই স্থালী সব সময়েই প্রাধিত অন্ন-ব্যঞ্ন দানে 
অতিথিকে তৃপ্ত করবে, যতক্ষণ পর্যস্ত ত্রৌপদী স্বয়ং অন্নগ্রহণ নাঁ 
করছেন। সেই সঙ্গে সেই আদিত্য ভ্রৌপদীকে আরও একটি বর. 
দিয়েছিলেন । 

“বিশ্বেশ্বাদ্দক্ষিণে ভাগে যো মাং তৎপুরতঃ স্থিতিম্‌। 
আরাধযিষ্যতি নরঃ ক্ষুদ্বাধ! তন্য নশ্যাতি ॥” ( ৪৯/১৫ ) 

ভ্ভবিশ্বেশ্বরের দক্ষিণে তোমার সামনে অবস্থিত আমার যে. 
আক্লাধন। করবে, তার ক্ষুধাজনিত অবসাদ দূর হবে। 

সাধুগণের সর্বাভিলাষ-প্রদাতা আদিত্য ত্রৌপদীকে এই বরপ্রদান 
করে শস্তুর আরাধনায় নিযুক্ত হলেন আর ভ্রৌপদীও যুধিষ্টির-সমীপে 
প্রত্যাবর্তন করলেন। দ্রৌপদী-কর্তক আরাধিত এই আদিত্যই 
হলেন দ্রৌপদাদিত্য। 

স্কন্দ বললেন, হে ঘটোস্ভব ! এবার ময়ুখাদিত্যের মাহাত্য শোন । 

পুরাকালে একবার ভগবান সহশ্রমালি ত্রিলোক-বিখ্যাত 
পঞ্চনদতীর্থে একটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে ন্বর্ণকমলকাস্তি গভস্তি' 
মাল্যের দ্বারা তার পুজা এবং মঙ্গলদায়িনী মঙ্গলগৌনী প্রতিষ্ঠা করে 
তার আরাধনায় রত হলেন! দিব্য শতসহত্র বহসর সেই নিশ্চল 
আর্াধনায় অতিক্রান্ত হুল ুর্যদেবের। তপস্তাতেজে অধিকতর 


১২২ 


তেজন্নী হয়ে সূর্যদেব ত্রেলোকাদহনক্ষম ময়ুখ ( কিরণ) মালায় 
পরিব্যাপ্ড হলেন স্বর্গ ও মতের মধ্যভাগে । তার সেই তীব্র 
তেজোরাশিতে চরাচর ত্রিভুবন কম্পিত হয়ে উঠল। বিশ্বাত্রতা 
বিশ্বেশ্বর লোকসমূহের ব্যাকুলতায় তূর্ধকে তপস্তা থেকে নিবৃত্ত করার 
জন্যে বরপ্রদান করতে গেলেন। হূর্ধদেব সমাধিযোগে এমনি মগ্ন যে 
মহাদেবের আহ্বান তার কর্ণগোচর হল না। অতঃপর মহাদেব তাকে 
স্পর্শ করতেই স্থর্যদেবের সমাধি ভঙ্গ হল । তিনি নয়ন উন্মীলন করে 
সামনেই পার্বতীসহ মহাদেবকে দেখে চৌধষ্রিনাম সংযুক্ত অষ্টক-স্তোত্রে 
এবং মঙ্গলাষ্টক স্তোত্রে মঙ্গলাগৌরী পার্ধতীর স্তব করলেন। পরিতুষ্ট 
হলেন মহাদেব । বর দিলেন, তোমার রচিত এই স্তোত্রদ্বর 
সবসিদ্ধিপ্রদাতা হোক, তোমার স্থাপিত গভস্তীশ্বর' লিঙ্গ মোক্ষদাতা! 
হোক) আব 2 

“ময়ুখা এব খে দৃষ্টা ন চ দৃষ্টং কলেবরমূ। 

ময়ুখা দিত্য ইত্যাথ্যা৷ ততস্তেহদিতিনন্দন ॥” ( ৪৯/৯৩) 

হে অদিতিনন্দন ! তপস্যাকালে যেহেতু আকাশমার্গে তোমার 

ময়ুখ ( কিরণ )-সমূহই দৃষ্ট হয়েছে, কলেবর দৃষ্ট হয়নি, সেই হেতু, তুমি 
ময়ুখাদিত্য নামেই পরিচিত হবে । 


হে কলসোঞ্ব ! বারাণদীতে বিশ্রেশ্বরের উত্তরভাগে পৈশঙ্গিল 
( পিলি-পিল। ) তীর্থে খখোক্ক? নামে যে ভগবান আদিত্য বিরাজমান, 
অতঃপর তার কাহিনী বলি শোন । 

পুরাকালে মরীচিতনয় কশ্বাপের ছুই পত্বী, দক্ষ-প্রজাপতির ছুই 
কন্া কদ্ধে আর বিনতার মধ্যে সবিতার রথাশ্ব উচ্চৈঃশ্রবার গাত্রবর্ণ 
বিচিত্র না ধবল, এর ওপর পণক্রীড়া হয়েছিল। সপত্বীর উপর 
বিদ্ি্টমনা কদ্ধে পণ রেখেছিলেন, বার কথা ঠিক না হবে সে অপরের 
দাসী হবে। এই জাতীয় পণক্রীড়ায় অ'নচ্ছুক বিনতা বাধ্য হয়েই 
সম্মতি জানিয়েছিলেন । কদ্র হলেন সপিনী এবং সর্পকুলের জননী 
আর পক্ষিনী বিনতা! হলেন গরুড়-জননী | নির্মলমনা বিনতা! কড্রর 


১২৩ 


শর্তে সম্মতি জানাতেই কুটীলমন। কদ্ধে তার সন্তানদের ডেকে বললেন, 
মন্দর পর্বত দিয়ে দেবাস্থরের দ্বারা মধ্যমান ক্ষীরসমুদ্র হতে উখ্িত 
উচ্চৈঃশ্রবার সন্নিকটে এখনি গিয়ে তোমর! কুষ্ণবর্ণ কৃগুলের মত তার 
পুচ্ছমধ্যে অবস্থান কর আর তোমাদের বিষনিঃশ্বাসে এ অশ্বের সর্বদেহ 
কৃষ্ণবর্ণ করে ফেল। মাতৃ-আজ্ঞা শুনে ক্ষুব্ধ হল নাগগণ। জানাল, 
এমনতন্ কুটাল আদেশ তারা পালন করতে পারবে না। ক্রুদ্ধা 
নাগমাতা কদর শাপ দিলেন তাদের--অবাধ্য সন্তানেরা তার গরুড়ের 
ভক্ষা হবে আর সপিনীরা জাতমাত্র স্বীর সন্তান-সম্ততিকে ভক্ষণ 
করবে । শাপানলে ভীত হয়ে কেউ কেউ পাতালে পলায়ন করল; 
কেউ কেউ শাপমুক্তির আশায় জননীর আদেশ পালনে ব্রতী হল। 
তার! সর্ষের প্রখর কিরণকেও অগ্রাহ্য কৰে উচ্চৈশ্রবার আশ্রয় গ্রহণ 
করে মাতৃ আজ্ঞ। প্রতিপালন করল । 

অনন্তর কনর বিনতার পুষ্ঠে আরোহণ করে গগন-মার্গে যেতে 
যেতে সুর্য কিরণে এতই সন্তাপিত হয়ে উঠলেন যে, বারবার বিহঙ্গী 
বিনতাকে অনুরোধ জানাতে লাগলেন একটু বিশ্রামের জন্যে। এই 
নময়েই কদ্রর মুখ থেকে বেড়িয়েছিল 'খিখোক্কা পড়ছে" ( খ-অর্থে 
আকাশ; আকাশ থেকে উক্কা পড়ছে । ) এই কথা বলতে বলতেই 
কদর মৃচ্ছিতা হয়ে পড়ল দেখে বিনতা কোনরকমে তার পক্ষপুটে তাকে 
সামলে নিয়ে খখোক্ষ আদিত্যের স্তরতি করলেন। বিনতার স্ত্রতিতে 
প্রসন্ন হয়ে দিবাকর ব্বীয় প্রথর কিরণ কিয়ংকালের জন্য সংযত করলে 
তার। উচ্ৈঃশ্রবাকে দেখলেন ধবলের পরিবর্তে বিচিত্র বর্ণ। শর্ত- 
সাপেক্ষে বিনতাকে ক্র দাসী হতে হল। 

গরুড় একদিন অশ্রপূর্ণলোচনা, দীনা? মলিনকান্তি জননী বিনতাকে 
দেখে জানতে চাইলেন, ম!। প্রতিদিন সকাল হতেই আপনি কোথায় 
যান আর সন্ধ্যাকালে মলিনবেশে প্রত্যাগমন করেন ? বিনতা। বাধ্য 
হয়েই পুত্রের কাছে সমুদয় বৃত্তাস্ত বর্ণনা করে বললেন- হে পুত্র ! 
দাসীত-নিবন্ধনা আমি পরাধীন! । তাই তোমার বিমাত। কদ্ধের 
আদেশ মত তাকে আর তার সন্তানদের কখনে। মলয়) কখনো! মন্দর 


১২৪ 


পর্বতে, কখনো সমুদ্রের কখনো কোন অন্তরীপে, পুষ্টে বহন করে 
নিয়ে যেতে হয়। শুনে; গরুড় খুবই মর্মাহত হলেন এই ভেবে থে 
তার মত পরাক্রমশালী পুত্র থাকতে মায়ের এই দশ! ! তিনি মাকে 
বললেন-_-আপনি ওদের ডিজ্ঞাসা করুন মা, দুর্লভ এমন কি বন্ত আছে, 
বা পেলে, ওর! আপনাকে মুক্ত দেবে, আমি তাই এনে দেব । বিনতা 
কদ্ধেকে জিজ্ঞেস করতে, ,কদ্ধে চেয়ে বসলেন অমৃত । বিনতা এসে 
গরুকে বলতে, গরুড় মাকে নিশ্চিস্ত আশ্বান দিয়ে বলজ্ন--সেই 
দেবছুর্পভ অমৃতই আমি ওদের এনে দেব । 
নভোমগ্ল বিক্ষোভিত কনে প্রলরকালীন প্র5ণ্ড বায়ুর ন্যায় 
গরুড় চললেন অমৃত আহরণে। পথিমধ্যে সমুদ্রতীরে মহস্যঘাতী 
নিষাদ আর ছুবৃত্তিদের ভক্ষণ করে ক্ষুন্িবৃত্তি করলেন। না দৈত্য, না 
দানব এমনি এক অজ্ঞাত পরিচয় বস্তকে সবেগে স্বর্গাভিমুখী হয়ে 
আসতে দেখে ত্রস্ত হয়ে উঠলেন দেবগণ | অন্্ ধারণ করে, বমাচ্ছাদিত 
হয়ে স্ব স্ব বাহনে আরোহণ করে তার গতিরোধ করার জন্ত এগিয়ে 
এলেন তারা | কিন্তু পক্ষীরাজের পক্ষকম্পন-সঞ্জাত বাধুবেগে সশস্ত্র 
সবাহন দেবগণ ইতস্তত তণপত্রের শ্তায় বিতাড়িত হয়ে গেলেন । সেই 
স্বযোগে অমৃতাগারে ঢুকলেন গরুড় । সেখানে সশ্রস্থ অমৃতরক্ষকদের 
পরাজিত করে দেখলেন, অমৃত ভাণ্তের উপর একটি চাকা, মন ও 
পবনের তুল্য এমনি বেগে ঘুরছে যে একটি মশকেরও জীবন বিনিময় 
ছাড়া প্রবেশ অসাধ্য । দেবদেব শঙ্করকে স্মরণ করে মাতৃভক্ত গরুড় 
পরুমাণু হতেও সুক্ষ শরীর পরিগ্রহ করে অমৃতভাগ্ড নিয়ে গমনোগ্ত 
হতেই চতুর্দিক হতে দেবগণ তাকে আক্রমণ করলেন । গরুড়ও 
চৌধষটিদণু (সাড়ে পঁচিশ ঘণ্টা ) ধরে তাদের সাথে ঘোর সংগ্রাম করে 
তাদের পরাজিত করলে, বিু বললেন-__হে খগেশ্বরগ! আমি তোমার 
প্রতি প্রসন্ন হয়েছি; তুমি বর প্রার্থনা কর। শুনে গরুও সহাস্তে 
জনার্দনকে বললেন £ | 
“অহমেব প্রসঙ্গোহন্ি স্বং প্রার্থয় বরছয়ম্ত (১০৯) 
--আমিও আপনার প্রতি প্রসন্ন হয়েছি। আপনি ছুটি বর. 


১২৫ 


প্রার্থন। করুন। 
বিষ বললেন-_ বেশ, তাহলে এক বরে তুমি আমার বাহন হও । 
সর দ্বিতীয় বরে এই অম্বত দেখিয়ে তুমি তোমার মায়ের দাসীত্ব 
মোচন কর। কিন্তু সর্পদের অমৃত খাবার স্থযোগ না দিয়ে, তুমি তা 
দেবগণকে প্রত্যার্গণ কর । 
গরুড় সম্মতি জানিয়ে স্বর্গ হতে নির্গত হয়ে অমুতভাগ্ড এনে 
রাখলেন নাগগণের কাছে। বিনতার দাসীত্ব মোচন হুল। নাগগণ 
অম্ৃৃতপানে সমুতসুক হলে গরুড় তাদের আানান্তে অশুচিত্ব পরিত্যাগ 
করে অম্বত গ্রহণের পরামর্শ দিলেন এবং কুশাসনে অমৃতভাগ্ড রেখে 
জননীকে নিয়ে প্রস্থান করলেন । 
গরুড়ের পরামর্শে সর্পগণ নদীতে সান করতে গেলে সেই অবকাশে 
বিষণ অমুতভাণ্ হরণ করে দেবতাদের প্রত্যার্পণ করলেন। নাগের৷ 
ফিরে এসে ভাগ্ড না দেখতে পেয়ে কুশ লেহন করার ফলে তাদের 
জিহ্বা দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেল। 
অতঃপর দাসীত্বনিবন্ধন পাপশাস্তির নিমিত্ত বিনতা পুত্র গরুড়কে 
নিয়ে, গেলেন কাশীধামে | সেখানে গিয়ে জিতেন্দ্রিয় পক্ষীন্দ্র একটি 
শিবলিঙ্গ স্থাপন করে আর বিনত। থখোক্ষ নামক মঙ্গলময় আদিত্য- 
মৃত্তির সামনে বসে কঠোর তপস্যা আরম্ভ করলেন । তপস্তায় তুষ্ট 
উমাপতি গরুড়-প্রতিষ্ঠিত শিবলিঙ্গ হতে আবিভূতি হয়ে বললেন ঃ 
“বেতম্তসি ত্বং রহস্তং মে বন্ন জ্ঞাতং স্থরৈরপি। 
তয়ৈতৎ স্থাপিতং লিঙ্গং গরুড়ে্বরসংজ্ভিতম্‌ ॥ 
পরমজ্ঞানদং পুংসাং দৃষ্টং স্পৃষ্টং সমচ্চিতম্ |” (৫০/১৪২-৪৩) 
-_দেবগণও যা জ্ঞাত নন, হে খগেন্্ তুমি অনায়াসে আমার 
সেই তত্ব অবগত হবে। তোমার প্রতিষ্ঠিত এই "গরুড়েশ্বর” লিঙ্গ 
দর্শনে, স্পর্শনে এবং অনায় মানবগণ পরম জ্ঞান লাভ করবে। 
এছান্ডাও, হে পক্ষীন্দ্র ! আমিই বিষুট। তার আর আমার মধ্যে 
তোমার যেন কোনরূপ ভেদদৃষ্টি না জন্মায়। তুমি বিষন্ন বাহ্‌ন হয়ে 
'সরুলের পুজনীয় হবে। 


৯৭৬ 


আর এদিকে মহাদেবেরই পরামুত্তি খখোক্ষ-নামক ভাক্কর বিনতাকে 
শিবজ্ঞান-সমন্বিত পাপহারী বর প্রদান করে “বিনতাদিতা? নামে 
বিখ্যাত হলেন। সেই বিনতাদিত্যই কাশীতে খখোক্ষাদিত্য নামে 
“বিরাজিত। 
_. অগস্ত্য শিবতনয় ষড়াননের কাছে জানতে চাইলেন, গরুড় জননী 
শাধবী বিনতার দাসীত-প্রাপ্তির গুঢ় কারণ কি? 

্বন্দ বললেন, মহধি কশ্যপের ওরসে কদ্রের হয়েছিল শত পুত্র আব 
বিনতার উলুক, অরুণ আর গরুড় নামে তিনটি তনয় । বিনতার সেই 
তিনপুত্রের মধ্যে জ্যোষ্ঠত্ব-নিবন্ধন কৌশিক হয়েছিল পক্ষীকুলের রাজা। 
কিন্তু ক্রুরাক্ষ, দিবান্ধ এবং বক্রনথ এই কৌশিকের কোন গুণ না 
থাকায় সকলে মিলে তাকে: রাজ্যচ্যুত করে স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠল। 
. তাই দেখে বিনতা পুত্রপর্শন লালসায় হাজার বছর অতিক্রান্ত হতে 
তখনো! হুশো বছর বাকি দ্বিতীয় অগুটি বিদীর্ণ করলেন । অগ্ুমধ্যস্থ 
শিশুটি তখনও সম্পূর্ণ অবয়ব প্রাপ্ত হয়নি। অর্ধনিষ্পন্নদেহ দেই 
তেজোময় শিশু অণ্ড হতে নির্গত হয়েই ক্রোধারুণ লোচনে মাকে 
অভিশাপ দিয়েছিল এ বলে যে, সপত্বী তনয়দের দেখে ঈর্যাবশে তুমি 
অগ্ড ছ্িথগ্ডিত করায় আমার অবয়ব পুর্ণ হতে পেল না। তার জন্তে 
তোমাকে সপত্বী পুত্রগণের দাসী হয়ে থাকতে হবে। শাপভয়ে 
কম্পিতা বিনত৷ পুত্রের কাছে শাপমোচনের উপায় জানতে চাইলে 
অরুণ আকাশমার্গে আনন্দকাননে গমনের পুর্বে জননীকে বলে 
গিয়েছিল £ 

“অগ্তং তৃতীয়ং মা ভিদ্ধি হানিম্পন্নং মমেব হি। 
অস্থিন্নগ্ডে ভবিষ্তো ঘঃ স তে দাস্তং হরিস্যতি॥” (৫১1১৫) 

আমাকে যেমন করেছ, তেমনিভাবে অপুষ্টাবস্থায় তৃতীয় অগ্ডটি 
প্রন্ষুটিত কোরো না। তাহলেই, এতে যে সন্তান হবে, সেই তোমার 
পাসীত্ব মোচন করবে । | 


অতঃপর দেব স্বন্দ অরুণার্দিত্যের উপাখ্যান বললেন মুনি 


১১৭ 


অগস্ত্যকে । 
বিনতার দ্বিতীয় তনয় উরুহীন হয়ে অণ্ড হতে নিক্রান্ত হয়েছিল 
বলে, তার নাম “অনুরু” হয়েছিল আর মাতৃশাপোষ্ঠত হওয়ার সময় 
তার মুখমণ্ডল ক্রোধে অরুণবর্ণ হয়েছিল বলে সে 'অরুণ' নামেও 
প্রখ্যাত হয়েছিল। এই অরুণ কাশীতে হূর্ধদেবের তপন্তা করেছিল 
এবং হ্ুর্যও প্রীত হয়ে তাকে বরদান করে “অরুণাদিতা? নামে প্রসিদ্ধ 
হয়েছিলেন । সেই অরুণাদিত্য অরুণকে এই বলে বর দিষেছিলেন £ 
“তিষ্ঠানূুরে! মম রথে সদৈব বিনতাত্মজ । 
জগতাঞ্চ হিতার্থায় ধ্বাস্তুং বিধ্বংসয়ন্‌ পুর £॥৮ (৫১1১০) 
হে অনুরু! জগতের হিতের জন্য তুমি আমার রথে সতত 
অবস্থান করে সবাগ্রে অন্ধকাররাশি বিধ্বংস কর । 
সেই থেকে অরুণ প্রাতঃকালে সূর্যরথে সমানীন আর বিশ্রেশ্বরের 
উত্তপ্নে প্রতিষ্ঠিত অরুণাদ্দিত্য ছুঃখ, দারিদ্র এবং পাপ-বিমোচনরূপে 
বিষ্ভমান। | 


এবার শোন জর।-ব্যাধি পরিত্রাতা বৃদ্ধাদিত্যের কাহিনী । 
বারাণসী ক্ষেত্রে বৃদ্ধহারীত নামে এক মহা-তপত্বী বিশালাক্ষী- 
দেবীর দক্ষিণে সূর্যের এক শুভদ এবং শুভলক্ষণযুক্ত মুত্তি স্থাপন করে 
আয়াধনায় রত হয়েছিলেন । তুষ্ট আদিত্য বরদানে উদ্ভত হলে 
বৃদ্ধহারীত এই বর চাইলেন £ 
“যদি প্রসন্নো ভগবান্‌ ষুবত্বং দেহি মে পুনঃ ॥ 
তপঃকরণসামর্থ্যং স্থবিরস্ত ন মে যতঃ। 
পুনস্তারুণ্যমান্তোহহং চরিষ্যাম্যুত্তমং তপঃ ॥” (৫১1/৩১-৩২) 
_-হে ভগবন্‌! যদি প্রসম্নই হয়ে থাকেন, তবে আমাকে যুবত 
দিন, আমি ফেন যুবা হই। স্থবিরত্বের কারণে আমার তপঃসামর্থ। 
বিলুপ্ত হয়েছে । তারুণ্য লাভ করে আমি যেন আবার কঠোর তপস্যায় 
ব্রতী হতে পারি। 
অরা-তুর্গতিহরা আদিত্য বৃদ্ধহারীতকে প্রাধিত বর প্রদান করে: 


১২৮ 


বার্ধক্য হরণ করেছিলেন--তাই তিনি 'বুদ্ধাদিত্য' নামে প্রসিদ্ধ । 


জগচ্চক্ষু আদিত্য কিভাবে কেশবাদিত্য হয়েছিলেন, শোন । 

কোন একসময়ে সূর্ধদেব গগনমার্গে গমন করতে করতে দেখতে 
পেলেন ভগবান আদিকেশব শ্রীহরি নারায়ণ মহাদেবের লিঙ্গপূজায় 
নিবিষ্ট। কোৌতৃহলের বশবর্তা হয়ে আকাশমার্গ হতে অবতরণ করে 
অপেক্ষা করতে লাগলেন নিঃশব্দ নিশ্চল শ্রীহরির সামনে । অর্চনা 
শেষ হলে স্ূর্দেব তাকে কৃতাঞ্জলি হয়ে প্রণাম করলেন, শ্রীহরিও 
সসম্মানে তাকে সামনে বসাতে, আদিত্যদেখ জিজ্ঞাসা করলেন £ 

“অন্তরাত্মামি জগতাং বিশ্বস্তরজগৎপতে | 
তবাপি পুজাঃ কোহপ্যস্তি জগংপুজ্যাত্র মাধব ॥” (৫১/৫০) 

হে বিশ্বস্তর, জগৎপতে ! হে মাধব ! আপনিই জগৎপুজ্য এবং 
নিখিল বিশ্বের অস্তরাত্মা। কে এখানে থাকতে পারেন, যিনি আপনারও 
অর্নীয় ! 

শ্রীহরি বললেন-_ত্রিভুবনবিজয়ী, সমস্ত কারণের কারণ মৃত্যুঞ্জয়, ধার 
আরাধনা করে শ্বেতকেতু আর শিলাদতনয় মৃত্যুকে জয় করেছিল ; 
কালেরও কালম্বরূপ স্মরহর, ধার আরাধনা! করে ভূঙ্গী কালকে জয় 
করেছিল; ধার হেলায় নিক্ষিপ্ত একটি বানে ত্রিপুরাস্থর নিহত হয়েছিল; 
ধার পূজা করেই আমি নিজে ত্রিভুবনের এশ্বর্য-সম্পন্তি লাভ করেছি; 
সেই দেবদেব মহাদেবই আমার অর্চনীয়। মহাদেবের লিঙ্গপুজাই 
পরম যোগ, পরম তপক্তা, পরম জ্ঞান আর পুরুষার্থ-চতুষ্টয় লাভের 
একমাত্র সহায়ক | 

তবে সবাই লিঙ্গপুজার অধিকারী হতে পারে না। মহেশ্বর যাদের 
সংসার-বন্ধন ছেদন করতে ইচ্ছা! করেন, তাদেরই একমাত্র বারাণসীতে 
শিবলিঙ্গপুজায় মতি হয়ে থাকে । হে অর্ক! পরম তেজোময় সৌন্দর্থ 
লাভ করার জন্য তুমিও মহেশ্বরের লিঙ্গপুজা কর । 

বিষুণর এইসব কথা শুনে সুর্বদেৰ স্ষটিকময় একটি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা 
করে, আদিকেশবকে গুরুপদে বরণ করে, তার উত্তরে অবস্থিত হয়ে 


১২৯ 
কাশী--৯ 


আজও সেই লিঙ্গের পূজা করে থাকেন। এই আদিত্যই কাশীতে 
সণ্ডজম্মাজিত পাপশাস্তিরূপ “কশবাদিত্য? 


স্বন্দ বললেন, হে মুনে ! অতঃপর বারাণসীতে হরিকেশ বনে 
অবস্থিত বিমলাদিত্যের কাহিনী শোন £ 

পুরাকালে পার্বত্য প্রদেশে বিমল নামে এক ক্ষত্রিয় কুষ্ঠরোগাক্রাস্ত 
হয়ে দারা-পুত্রপরিজন কর্তৃক পরিত্যক্ত হয়ে বারাণসীতে গিয়ে 
অনন্যচিত্তে, করবী, জবা, অশোক, কপ্ূর-মিশ্রিত রক্তচন্দনে সূর্ধদেবের 
নিত্য আরাধনায় রত হল। সূর্য সন্তুষ্ট হয়ে তাকে রোগমুক্ত এৰং 
সবল করে বললেন।_-তুমি আর কি বর চাও বল। তখন বিমল 
প্রার্থন1 জানালে £ 

“যদি প্রসন্নো ভগবন্‌ যদি দেয়! বরো। মম | 

তদা তণ্তক্তিনিষ্ঠ। যে কুষ্ঠং মান্তব তদন্বয়ে ॥ : 

অন্তেহপি রোগা মা সন্ত মানত তেষাং দরিদ্রতা । 

মাস্তু কশ্চন সম্তাপত্তবস্তক্তানাং সহঅ্রগো ॥ (৫১/৯৩-৯৪) 

_-হে ভগবন্! প্রসন্ন হয়ে যদি বরই দেবেন, তাহলে এই বর দিন, 
যারা আপনার ভক্ত তাদের কুলে যেন কুষ্ঠ বা অন্য কোন রোগ না 
হয়। আর আপনার ভক্তগণ যেন দরিদ্র কিংবা সম্তাপযুক্ত না হয়। 

আদিত্য, প্রাধিত বরই প্রদান করে বিমল যে আদিত্যদেবের 
মৃি প্রতিষ্ঠা করেছিল, তারই সান্নিধ্যে থেকে গেলেন । সেই থেকে 
বারাণসীতে বিমলাদিত্যের আবির্ভাব | 


বিশ্বেশ্বরের দক্ষিণভাগে অবস্থিত গঙ্গাভক্তগণের অভয়-প্রদাতা যে 
আদিত্যমৃতি বিরাজিত, ইনিই হলেন 'গঙ্গাদিত্য' ৷ ভগীরথকে অস্ুসরণ 
করে গঙ্গাদেবী যখন আগমন করছিলেন আদিতাদেব তথন এই স্থানে 
গঙ্গার স্তব করেছিলেন । 


হে মহাভাগ ! যমতীর্থে সান করে ধাকে দর্শন এবং প্রণাম কন্ধলে 


১৩৩ 


মার ধমলোক দর্শন করতে হয় না, এবার সেই যমাদিতোর উৎপত্তির 
বিবরণ শোন £ 

পুরাকালে একবার ধর্মরাজ যম; যমতীর্থে বনছুতর তপস্যা করে 
ভক্তগণের সিদ্ধিপ্রদ 'যমেশ্বর' শিবলিঙ্গ আর এক আদিত্যমৃন্তি প্রতিষ্ঠা 
করে। এই আদিত্যমুত্তি যম কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় 'যমাদিত্য 
নামে পরিচিত । 


হে অগন্ত্য ! গুহাকার্ক প্রভৃতি আরও অনেক আদিত্যমূত্তি 
মূর্ধদেবের ভক্তগণ কাশীতে প্রতিষ্টিত করলেও এই দ্বাদশ আদিত্যই 
প্রধান। 


 অধ্যান্ম ৫২ ]] 


যোগিনীর। প্রত্যাবৃস্ত না হওয়ায় দেবদেব কাশীতত্ব সংগ্রহের জঙগ্ঠ 
মুর্দেবকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও প্রত্যাগমন না করায় 
কন্দর্পহারী মহাদেবের চিত্ত অতিশয় চঞ্চল হয়ে উঠল। দিবোদাস 
বর্তমানে কাশী-প্রবেশে পরাজ্খ দেবদেব, কাশীতত্ব সংগ্রহে অধীর 
হয়ে অবশেষে চতুরানন ত্রহ্মাকে ডেকে, সেখানে পাঠাবার মনস্থ 
করলেন, কাশী পরিত্যাগের সমুদায় কারণই ব্রহ্মার জ্ঞাত। সুতরাং 
তিনি সচেষ্ট হলে, দেবদেবের কাশী-প্রবেশের হুর্ঘট বাধা হয়ত 
অপসারিত হতে পারে । এই ভেবে তিনি সমস্ত কার্ষের বিধানকর্তা 
ব্হ্জমাকে ডেকে বললেন £ কাশীবিরহ-জনিত সম্ভাপে আমি এতই 
সম্তাপিত হয়ে উঠেছি যে, আমার মস্তকস্থিত চন্দ্রমার শৈত্য-ও ত! 
বিদুরিত করতে পারছে না । 
“নাবাধিষ্ট তথা মাং স তাপো হলাহলোস্তবঃ | 
কাশী বিরহজন্মাত্র যথা মামতিবাধতে ॥” ( ৫২/১০ ) ধা 
--কাশী-বিরহ জনিত এই তীব্র সম্তাপ পূর্বে হলাহল ভক্ষণ করেও 


১৩১ 


ভোগ করিনি। হে ব্রহ্মা! সত্বর কাশীতে গিয়ে স্বধর্মনিরত 
দিবোদাসকে কাশীচ্যুত আর আমার কাশী-প্রবেশের পথ যথাবিপি 
স্থগম কর। 

হংসারোহণে হংসবাহন কালবিলম্ব না করে বিশ্বেশ্বরের আনন্দ 
নিকেতন, স্থর-তরঙ্গিনী-সেবিত, সর্পাপহর অবিমুক্তক্ষেত্র কাশীধামে 
এসে অবতীর্ণ হলেন । 

কাশীতে এসে ব্রহ্মা বুদ্ধ ব্রাঙ্মণের বেশে উপস্থিত হলেন দিবোদাস 
সকাশে। নুপতিও যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শন সহকারে আহ্বান এবং 
আসন দান করলে ব্রাহ্গণ তাতে উপবেশন করে বললেন।_আমি 
তোমারই রাজ্যে বুকাল বাস করছি। তুমি আমাকে না জানলেও 
আমি তোমাকে সবিশেষ অবগত আছি। তোমার মত জিতেক্জিয়, 
বিজিত-যড়বর্গ, তত্বশালী, রাজনীতি-বিচক্ষণ দয়া-দাক্ষিণো নিপুণ 
সত্যব্রত-পরায়ণ, জিতক্রোধ নৃপতি খুবই বিরল। তাই তোমার 
কাছে, আমি যে প্রস্তাব নিয়ে এসেছি, তা শোন £ 

ভ্রিজগতের মধ্যে শ্রেষ্ঠা, বেদত্রয়ের সারম্বরূপা এই কাশী-পুরী 
যার মাহাত্ম্য সরজ্ঞান-প্রদাতা ব্রহ্মা, বিষু্। ইন্জ, চন্দ্র, সুর্য প্রভৃতি দেব- 
গণেরও নির্মাতা একমাত্র মহেশ্বর ছাড়া আর কেউ অবগত নন, পুর্বজন্মের 
পুণ্যবলে দ্বিতীয় মহেশ্বর-রূপে তুমি সেই কাশীর রক্ষক যেখানে কোন 
কর্মই বিনষ্ট হয় না) স্খোনে আমি যচ্ল করতে অভিলাষী হয়েছি আৰ 
সেই যজ্ঞে তোমার সাহাষা চাই ! 

আরও একটা কথা, রাজাকে যথাসময়ে সদ্িষয় শিক্ষ! প্রদান 
কর্তব্য বোধেই আমি তোমাকে তোমার হিতকর একটি উপদেশ দিই 
-_ব্রিজগদীশ্ব্প মহাদেবকে সাধারণ কোন দেবতা জ্ঞান না করে তার 
প্রসন্নকর অনুষ্ঠান করা; তোমারও কর্তব্য । 

একাগ্রচিত্তে দিবোদাস ব্রাহ্মণের কথা অনুধাবন করে বললেন : 
হে বিপ্রশ্রেষ্ঠ ! আপনার যজ্ঞ কর্মে আপনি আমাকে আপনার দাস- 
কপে গ্রহণ করুন । আমার সপ্তাঙ্গ রাজ্য মধ্যে যা কিছু আছে, সেই 
সমুদয়ই আপনার নিজন্ব-বোধে যজ্ঞ কর্মে নিক্মোগ করুন| আমার 


১৩২ 


কোষাগার আপনার থজ্ঞ কর্মের জন্য উন্মুক্ত থাকবে! হেবিপ্র! 
আমি রাজ্য পালন করলেও এতে আমার কোন স্বার্থ নেই। আমার 
পুত্র কলত্র এমনকি নিজ শরীর পরার্থে উৎসর্গ করতে উন্মুখ । এতদিন 
আমি তেমনি কোন ঘাচকের অপেক্ষায় ছিলাম; আপনি আমাকে আজ 
সেই সুযোগ দান করলেন । 


রাজসিংহাসনে অধিষ্ঠিত যেহেতু আমি রাজা, তাই বিবিধ যজ্ঞান্ু- 
্ান এবং তীর্থসেবা থেকে প্রজাপালনই আমার কাছে পরম ধর্ম। 
প্রজাগণের সম্তাপ-অনল, বজ্রানল হতেও কঠোর । 


ধর্মশীল নৃপতি দিবোদাসের এই আশ্বাসে সন্তষ্ট-চিত্ত ব্রহ্মা যজ্ঞ 
সম্তার আহরণে প্রবৃত্ত হলেন। অতঃপর রাজধির অকৃপণ সাহচর্ষে 
বান্গণ কাশীতে দশটি অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন । সেই হজ্জীয় হোমের 
ধূমরাশি ব্যাপ্ত হয়ে গগনতল সে-সময় যে নীলিমা ধারণ করেছিল, 
আজও তা বিদ্যমান ! বারাণসীতে যে স্থানে ব্রহ্মা এই অশ্বমেধ যজ্ঞ 
করেছিলেন, পৃথিবীতে তা শুভ প্রদ তীর্থ 'দশাশ্বমেধ নামে বিখ্যাত | 
অনন্তর ভগীরথের সঙ্গে সুরধনী সেখানে এসে তীর্থক্ষেত্রটিকে অতীব 
পুণাপ্রদ করে তুলেছে। 


“পুর। রুত্রনরে। নাম তততীর্থ কলশোভ্ভব | 
দশাশ্বমেধিকং পশ্চাজ্জা তং বিধিপরিগ্রহাৎ ॥ (৫২/৬৯) 
_-হে কলপোস্তব ! পুরাকালে এই তীর্থ রুদ্র সরোবর" নামে 
বিখ্যাত ছিল। ব্রক্মার অশ্বমেধ যজ্ঞের পর থেকে 'দশাশ্বমেধ' নামে 
প্রখ্যাত হয়েছে । 


যন্জশেষে ব্রহ্মা বিশ্বসস্তাপহব বিশ্বপতি মহাদেবের কাশীতেই 
থেকে গেলেন ব্রাহ্মণ বেশে, দশাশ্বমেধের কাছে “দশাশ্বমেধেশ্বর' 
শিবলিঙ্গ তছুপরি কাশীর যে স্থানকে অস্তগৃহ বলা যায়, সেখানে 
ব্রহ্ধলোক প্রাপ্তির সহায়ক 'ব্রদ্দেশ্বর? লিঙ্গ স্থাপন করে । মহাদেবের 
কার্ধ সাধনে অপারগ হলেও তিনি কাশীতেই নিয়ে থেকে গেলেন 
এই ভেবে £ 


১৩৩ 


“পরাতন্ুরিয়ং কাশী বিশ্বেশস্তেতি নিশ্চিতম্‌। 
অস্তাঃ সংসেবনাচ্ছত্তর্ণ কুপ্যতি পুরো ময়ি ॥” (৫২/৭৪) 
_-এই কাশী যে বিশ্বেশ্বরের পুরাতন এ-বিষয়ে আমি নিশ্চিত 
সুতরাং এখানে আশ্রম গ্রহণ করলে মহেশ্বর কখনই আমার ওপর 
কুপিত হবেন না। 
নুপতি দ্িবোদাসও বৃদ্ধ ব্রা্গণ বেশধারী ব্রহ্মার জন্যে একটা 
ব্রহ্মশাল! নিমাণ করে দিয়েছিলেন । মহাদেবের আগমন প্রতীক্ষায় 
ব্রহ্মা সেখানেই অবস্থান করে বেদধ্বনিতে গগনতল নিনাদিত করে 
চললেন । 


[ অধ্যায় ৫৩--৫৫ ] 


ব্রহ্মা প্রত্যাবর্তন ন। করলে বিস্মিত এবং অতিশয় উদ্বিগ্রচিত্ত 
মহাদেব অতঃপর নাম করে করে আহ্বান জানালেন তার গণদের | 

শঙ্কুকর্ণ, মহাকাল, ঘণ্টাকর্ণ, মহোদর, সোম, নন্দিন্। নন্দিষেণ। 
কাল, পিঙ্গল, কুকুট, কুণ্ডোদর, ময়ুরাক্ষ, বাণ, গোকর্ণ, তারক; তিলপর্ণ। 
স্থলকর্ণ, দৃূমিচণ্ড, প্রভাময়, স্ুকেশ, বিন্দতে, ছাগ, কপদ্দিন, পিঙ্গলাক্ষ। 
বীরভদ্র, কিরাত, চতুমুখ, নিকুস্ত, পঞ্চাক্ষ, ভারভৃত, ত্র্যক্ষ, ক্ষেমক, 
লাঙ্গলি, বিরাধ, নুমুখ, আষাঢ় প্রভৃতি ছত্রিশ গণ উপস্থিত হল মহাদেবের 
সামনে । মহাদেব তাদের বললেন, স্কন্দ এবং হেরম্বের মত তোমরাও 
আমার সন্তান । নৈগমেয়। শাখ, বিশাখ, নন্দী, ভূঙ্গীর মত তোমরাও 
আমার প্রিয়। তোমরা সকলে বিদ্ভমান থাকতে আমি কাশীর, 
বুপতি দিবোদাসের, যোগিনীগণের, অূর্ষের, ব্রহ্মার কোন সংবাদ" 
জানতে পারব না? ৰ 

এই ৰলে, তিনি প্রথমে কালজয়ী ছুই গণ শঙ্কুকর্ণ এবং মহাকালকে' 
পাঠালেন কাশীতে যেন সংবাদ সংগ্রহ করে তার। সত্তর প্রত্যাগমন: 
করে। € 


১৩৪ 


শঙ্কুকর্ণ এবং মহাকাল কাশীতে প্রবেশ করা মাত্রই পুরীর 
বিমোহিনী মায়ায় আবদ্ধ হয়ে পড়ল। পুণ্যক্ষেত্র কাশীতে এসেই 
তার! তাদের সঙ্কর ভুলে গেল এবং শঙ্কু বিশ্বেশ্বরের নৈর্তে 
শঙ্কুকণেশ্বরঃ এবং মহাকাল “মহাকালেশ্বর' শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে 
তার পুজার্চনায় অভিনিবিষ্ট হল । | 
গণছয়ের প্রত্যাবর্তনে .বিলম্ব দেখে মহেশ্বর এবার ঘণ্টাকর্ণ এবং 
মহোদরকে পাঠালেন । তানাও কাশীতে গিয়ে আর প্রত্যাবর্তন 
করল না। ঘণ্টাকর্ণ “ঘণ্টাকণেশ্বর শিবলিঙ্গ আর একটা কুণ্ড পিভৃ- 
লোকতৃপ্তিকারী ঘণ্টাকর্ণ হদ এবং তার পুবদিকে মহোদর “মহোদরেশ্বর 
লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে সেখানেই থেকে গেল। 
ব্যাপার দেখে বিস্মিত স্মরহর-মনে মনে বললেন £ 
“পুরাবিদঃ প্রশংসন্তি ত্বাং মহামোহ্হারিণীম্‌ 
কাশী ত্বিতি জানত্তি মহামোহনভূরিয়ম্‌॥” (৫৩/৪৪) 
_হে কাশী! পুরাবিদ্গণ তোমাকে মহামোহ-হারিণী বলে 
প্রশংসা করে থাকেন, কিন্তু তাব্া! জানে না) তুমি কতবড় 
মহামোহনভূমি | 
আমি যাকে পাঠাব, তুমি তাকেই মোহিত করে রাখবে, জানি; 
তবু আমি উদ্যম থেকে বিরত হব না। 
এবার তিনি আরও পাঁচজন মহাবেগশালীগণ সোমনন্দী, নন্দিষেণ, 
কাল, পিঙ্গল আর কুকুটকে পাঠালেন কাশীতে একই সঙ্কল্পে। তারাও 
আর প্রত্যাবর্তন করল না। সোমনন্দী আনন্দবনে, তার উত্তরে 
নন্দিষেণ স্ব-স্ব নামে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার অর্চনায় রত হল। গঙ্গার 
পশ্চিম-উত্তরে কাল, তার কিছু উত্তরে পিঙ্গল আর কুকুটও নিজ নিজ 
নামে লিঙ্গ স্থাপন করে তন্ময় হয়ে গেল। 
এই পাঁচজন খন ফিরল না, তখন মহেশ্বর নতুনভাবে ব্যাপারটা 
ভারলেন। 
“কার্্যমস্মাকমেবৈতদ্‌ যদি সম্যগ্িমৃশ্যতে | 
অনেনোপাধিনাপ্যেতে তত্র ভিষ্ঠন্ত মামকাঃ॥ 


১৩৫ 


প্রথমেযু প্রবিষ্টেযু মায়াবীধ্যমহংস্বপি । 

অহমেব প্রবিষ্টোইস্মি বারাণস্তাং ন সংশয়ঃ ॥ 

ক্রমেণ প্রেষয়িষ্যামি যোইস্তি মে স্বপরিচ্ছদঃ । 

তত্র সব্বেষু যাতেষু ততো। যাস্যামহং পুনঃ ॥” (৫৩/৬১-৬৩) 

__সম্যকরূপে বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে, এতে আমারই 

কার্ধসিদ্ধি হচ্ছে। আমার পরিজনসমূহ গিয়ে কাশীতেই অবস্থান 
করুক। এতে সন্দেহ নেই যে মায়া এবং বীর্ষপ্রধান প্রমথদের 
কাশীতে প্রবেশ' আমারই প্রবেশের সমতুল | যেখানে আমার যত 
আত্মীয় আছে, ক্রমে ক্রমে আমি তাদের সকলকেই সেখানে পাঠাৰ। 
তারা গেলে, পরে আমিও যাব। 


এই স্থির করে এবার মহাদেব কুণ্ডোদর, ময়ূর, বাণ আর গোকর্ণ 
নামে আরও চারজন গণকে সেখানে পাঠালেন। তারা কাশীতে গিয়ে 
নান! মায়াজাল স্থটি করে দিবোদাসের কোনরকম ভ্রান্তি উৎপাদনে 
সমর্থ না হয়ে কাশীতেই থেকে গেল এবং হবকোপানল থেকে রক্ষ! 
পাবার আশায় নিশ্চিত হয়ে লোলার্কের কাছে কুণ্ডোদর তার পশ্চিমে 
অসির কাছে ময়ূর, তার পশ্চিমে বাণ আর অস্তগহের পশ্চিমে গোকর্ণ 
স্ব-্বনামে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার পুর্জাচনায় রত হয়ে গেল। 

মহেশ্বর এবার তারক, ভিলপর্ণ, স্থলকর্ণ, দৃমিচণ্ড। গ্রভাময়। স্ুকেশ। 
বিন্দ, ছাগ, কপদি, পিঙ্গলাক্ষ, বীরভদ্র। কিরাত, চুমু, নিকুস্তক, 
পঞ্চাক্ষ, ভারভূত, ত্র্যক্ষ, ক্ষেমক, লাঙগলি, বিরাধ, স্ুমুখ, আধাঢ়-- 
গণদের ডেকে পৃথক-পৃথকভাবে কাশীতে নিজের কার্যসাধনের আদেশ 
দিলেন। অনুজ্ঞামাত্রই কুশলী গণের! গেল কাশীতে । বু রূপ 
ধারণ করে, বহু মায়। বিস্তার করেও একজন কাশীবাসীরও স্থলন 
ঘটাতে পারল না, তৈরী করতে পারল না প্রভুর অনুপ্রবেশের যোগ্য 
কোন ছিদ্রপথ। প্রভুর কার্ষনাধনে বিফল হয়ে তারক মোক্ষ-জ্ঞানপ্রদ 
'তারকেশ্বর” শিবলিঙ্গ) তিলপর্ণ তিলপ্রমাণ “তিলপরেশ্বর, সুলকর্ণ 
স্ুলকর্ণেশ্বর তার পশ্চিমে দুমিচণ্ড 'দৃমিচগ্ডেশ্বর')  প্রভামস়্ 


১৩৬ 


প্রভাময়েশ্বর) হরিকেশ বনে স্থুকেশ মুকেশেশ্বর) ভীমচত্ীর কাছে 
বিন্দ “বিন্দতীশ্বর' আর পিত্রীশ্বরের কাছে ছাগ 'ছাগেশ্বর? লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা 
করে কাশীতেই থেকে গেল। 

গণশ্রেষ্ঠ কপট পিত্রীশ লিঙ্গের উত্তরে কপদর্শশ শিবলিঙ্গ স্থাপন 
এবং চিত্ব-নির্মলকারী “বিমলোদক' নামে এক কুণ্ড খনন করে সেখানেই 
থেকে গিয়েছিল । 

হে মিত্রাবরুণতময় অণস্তয এ সম্বন্ধে ভ্রেতাযুগের এক পাপ- 
বিমোচন কাহিনী শোন £ 

এই কপরীীশ লিঙ্গ কী পরিমান অশেষ মহিমায় মহিমান্বিত, সে 
বিষয়ে একটি পুরাকাহিনী আছে । 

অগ্রহায়ণ মাঁস, হেমস্তকাল। : পাশুপতশ্রেষ্ঠ মুনি বাল্ীকি একদিন 
মধ্যান্ছে মহাতীর্ঘ বিমলোদক কুণ্ডে সান সেরে কপরী্শ লিঙ্গের দক্ষিণে 
মাধ্যাহ্নিক ক্রিয়ার পর আপাদমস্তক ভম্মলেপন -করে ষড়জ প্রভৃতি 
স্বরভেদ সমন্বিত গান আর সেই সঙ্গে মগ্ডলাকারে নৃত্যসহ লিঙ্গের 
অর্চনা শেষে উপবেশন করেছেন সরোবর তীরে । কিছুটা সময় 
অতিবাহিত হয়েছে । দেখলেন মুনি, সামনে হঠাৎ এক বিকট দর্শন 
পিশাচ মুন্তি। শুকনো শাখের মত কপাল, পিঙ্গলবর্ণ নেত্র, বিস্তৃত 
নাসিকাদয়। শুফ ও, প্রলম্বমান নিতত্বদয়। শুষ্ক মুস্ক, ক্ষুদ্র শির । 
অস্থিচর্জসার কিন্তু রোমশবহুল | ভীষণদর্শন সেই পিশাচকে দেখে 
মুনিবর ভীত না হয়ে জিজ্ঞেস করলেন-_কে তুমি? কোথা থেকে 
আসছ ? এ-দশীই বা তোমার কেন ? 

পিশাচ বললে, গোদাবরীর তীরে প্রতিষ্ঠান নগরের ' জনপদে 
পূর্বজন্মে আমি ব্রাহ্মণ ছিলাম । আমার কাজ ছিল তীর্থেতীর্থে ঘুরে 
বেড়ান আন প্রতিগ্রহ ( দানগ্রহণ ) করা । এতে আমার আসক্তিও 
ছিল প্রচুর । তীর্থে প্রতিগ্রহরূপ পাপকর্মের ফলে আমার এই গতি 
লাভ হয়েছে । এই অবস্থাতেই জলহীন, নিষ্পাদপ মরুদেশে শীত, 
গ্রীন ক্ষুধা। তৃষ্তায় কাতর হয়ে অনেক কাল কাটিয়েছি। আমার মাথার 
পর দিয়ে বয়ে গেছে বর্ষার অবিশ্রান্ত বারিধারা; ঝটিকার তাগুবতা । 


৯৩৭ 


এইভাবে বহুকাল অতিবাহিত হবার পর একদিন এক ব্রাহ্মণ তনয়কে' 
দেখলাম। সেই ব্রাহ্মণ তনয়টি ছিল শৌচরহিত। সন্ধ্যাকর্ম বিবঞ্জিত. 
মুক্তকচ্ছ | আমি ভোগ বাপনায় তার শরীরে প্রবিষ্ট হলাম। সেই 
' ব্রাহ্মণ তনয় অর্থলোভে কোন বণিকের সঙ্গে এই বারাণসী পুরীতে 
প্রবেশ করেছে। যে সময়ে সে এই অন্তঃপুরীতে প্রবেশ করল, তার 
সব পাপগুলোকে নিয়ে আমাকেও তার শরীর থেকে বেরিয়ে এসে 
প্রমথগণের ভয়ে বারাণসীর এই প্পররান্তসীমায় তার বহিরাগমণের 
প্রতীক্ষায় থাকতে হল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সে আজও বিনিষ্ষান্ত হল না 
আর আমরাও তার আশ ত্যাগ করতে পারছি ন। | 

আজ কিন্তু এক বিচিত্র ব্যাপার ঘটে গেল। প্রতিদিনই ক্ষুধায় 
কাতর হয়ে আমি প্রয়াগ পর্বস্ত ছুটোছুটি করি উদরপৃতি'র আশায় 
প্রতি দেশেই কানন আছে, আছে ফলভারবনত বৃক্ষ; প্রতি ভূমিতেই 
জলপূর্ণ জলাশয় আছে। নান প্রকার ভক্ষ্য, পেয় ভ্রব্য এই স্থানেও 
, আছে ন্ুপ্রচুর। কিন্তু এমনি ছুরদৃষ্ট আমাদের নয়নগোচর হবামাত্রেই 
তার! দূরে সরে যায়। আজ হঠাৎ এক কার্পটিককে দেখতে পেলাম । 
ক্ষুধ(র জ্বাল! সহা করতে না পেরে তাকেই জোর করে খাব এই ভেবে, 
তাকে যেমন ধরতে যাব, অমনি তার মুখ থেকে শিবনামময়ী বাণী 
নির্গত হল। শোনামাত্রই আমাদের পাপভার এতই লঘু হয়ে গেল 
যে, প্রথমগণের চোখে অদুশ্য থেকেই আমরা বারাণসীপুরীব মধ্যে 
'প্রবেশ করতে পারলাম । এবং তারই সঙ্গে এই অন্তগুষুহের সীমায় 
আসতে পারলাম। কার্পটিক এখন অস্তুঃপুরীর মধ্যে প্রবেশ করেছে।, 
আমি বাইরে ভাগ্যবলে মুনিবর আপনার দর্শন পেলাম। দয়! করে 
আমাকে এই পিশাচযোনি থেকে মুক্ত করন 

শুনে মুনিসত্বম বাল্সিকীর মনে অন্ুকম্পা জাগল। তিনি তাকে 
বিমলোদক তীর্থে স্নান করে কপদর্ণশ লিঙ্গ দর্শন করতে বললেন । 

পিশাচ বজল-হা মুনি! এই জলাশয় থেকে জলপান করাই 
আমাদের পক্ষে ছুরহ, ল্লান তো দূরের কথা । জলদেবতার! আমাকে 
কাছেও থে ষতে দেবে না। তখন বাঙ্গিকী মুনি তাকে ভম্ম দিয়ে 


১৩৮ 


ললাটে বিভূতি ধারণ করতে বললেন--শিবমন্ত্রপুতঃ এই বিভূতি 
ঘাবতীয় অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে। তুমি এই বিভূতি ধারণ করলে 
যমকিস্কররাও দূরে পালাবে । এরপর নিজের ভন্মাধার থেকে বিভূতি 
নিয়ে পিশাচকে দিলেন | পিশাচ নির্দেশমত ললাটে বিভূতি ধারণ করে 
জলাশয়ে গিয়ে অবাধে পান, জান সারল। জলাশয় থেকে ওঠামাত্রই। 
ভীষণ ও কদর্ধাকার দেহ তার, দিব্যকান্তি ধারণ করে স্বর্গে গমন করল । 

পরুমাশ্চর্ষে বাল্মিকী মুনিও তা দেখলেন এবং বাকি জীবন কপরদশ 
লিঙ্গের অ্নায় থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এই জন্তে এই তীর্থকে 
“পিশাচমোচন? তীর্ঘও বলে । | 

এই কপর্দীশ্বরের উত্তরে পিল “পঙ্গলেশ্বর' ; বীরেশ্বর বীরসিদ্ধি- 
দাতা “বীরভদ্রেশ্বর কেদারেশ্বরের দক্ষিণে কিরাত “কিরাতেশ্বর?ঃ 
বৃদ্ধকালেশ্বরের কাছে চতুফুখ "চতুমূখেশ্বর? কুবেরেশ্বরের কাছে নিকুস্তক 
নিকুস্তকেশ্বর? বিশ্বনাথের দক্ষিণে জাতিম্মর শক্তিপ্রদাতা পঞ্চাখ্যের 
“পঞ্চাক্ষেশ', অস্তগহের উত্তরে ভারভূত "ভারভূতেশ্বর॥ ত্রিলোচনেশ্বরের 
পুরোভাগে ত্রাক্ষ 'ত্র্যক্ষেশ্বর', “ক্ষেমক' স্বয়ং মৃতাঁধর হয়ে? লাঙ্গল 
'লাঙগলীশ্বর/ ুমুখ পশ্চিমমুখ 'নুমুখেশ্বরা মহালিঙ্গ আর আষাঢ় 
“আধাটীশ্বর' শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠ। করে আজও সেখানে অবস্থিত । 


স্কন্দ বললেন, অগন্ত্য, গণসমূহও আর ফিরল না দেখে একদিকে 
কাশীবিরহ্সন্তাপ যেমন মহেশের আরও প্রজ্বলিত হয়ে উঠল তেমনি 
আবার নিজের মূর্তভ্তরদের সেখানে অবস্থান করার ফলে বার/ণসী 
প্রবেশও যে তার পক্ষে আরও ছুরূহ হবে না? সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে 
অতঃপর গণেশকে ডেকে বললেন ঃ 
“প্রাহিণোৎ কথয়িত্বেতি গচ্ছ কাশীমিতঃ সুত ॥ 
তত্র স্থিতোহপি সংসিদ্ধৌ৷ ঘতম্ব সহিতো গণৈঃ। 
নিিদ্বং কুরু চান্মাকং হৃপে বিদ্বং সমাচর ॥” (৫৫/৫৯-৬০) 
_"হে পুত্র! তুমি কাশীতে যাও। সেখানে আর গণসমূহের সঙ্গে থেকে 
রাজার বিশ্ব আচরণ করে নিধিদ্বে আমার কার্ধসিদ্ধির জন্ত ষড় নাও । 


১৩৯ 


[ অধ্যায় ৫৬--৫৮ ] 


গণপতি গণেশ মহাদেবের আদেশে অতঃপর দ্রতগামী যানে 
আরোহণ করে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বেশে প্রবিষ্ট হলেন বারাণসীপুরীতে। 
সেখানে তিনি পরিচিত হলেন গুণবৃদ্ধ নামে গণকরপে। 

বিদ্বুহর কিভাবে বিদ্বু সৃষ্টি কর! যায়, তার উপায় চিন্তা করে বৃদ্ধ 
গণকের বেশে বাড়ি-বাঁড়ি ঘুরে মানুষের ভাগ্যগণন। করে প্রথমে বিশ্বাস 
উৎপাদন করলেন । তারপর দিবোদাসের আগে বারাণসীতে যেখানে 
মহাদেবস্থত গণপতির আবাস ছিল, সেইখানে ব্রাহ্মণবেশী গণপতি 
আপন আবাসে থেকে রাতে পুরজনদের স্বপ্ধ দেখিয়ে সকালে গিয়ে 
তার ব্যাখ্য। আর গ্রহসঞ্চারজনিত ফলাফল বলতে সুর করলেন । 

কাউকে ডেকে বললেন, গতকাল বাত শেষে তুমি স্বপ্ধ দেখেছ ষে, 
তৃমি একটা বিশাল গভীর হ্দে হঠাৎ পড়ে গিয়ে ডুবে মরার ভয়ে 
তীরে এসে পিছলে গেলে, আবার যেখানে এসে উঠলে সেখানে এত 
কাদা যে কিছুতেই উঠে আসতে পারছ না । এট বড়ই দুঃস্বপ্ন । 
সামনে তোমার কোন বিপদ আসছে । অন্য কাউকে ভেকে বললেন, 
রাতে তুমি স্বপ্নে মুণ্ডিত-মস্তক কাধষায়-বসনধারী কোন পুরুষকে 
দেখেছ । এ দর্শন শুভ নয়। আবার অন্ত কাউকে ডেকে বললেন, 
তুকি কাল বপ্নে সূর্যগ্রহণ দেখেছ, তারপর দেখেছ ছুই ইন্দ্রধন্থ। তাই 
না? তোমার পক্ষে এই দর্শন খুবই ক্ষতিকর) আরও যাদের যাদের 
স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তাদের এক-একজনকে ডেকে বলতে লাগলেন-_তুমি 
তো স্ব দেখেছ পশ্চিমদিকে সূর্য উঠে নতুন টাদকে আকাশ থেকে 
টেনে মাটিতে ফেলে দিল। তোমার এই স্বপ্ন রাজ্যের পক্ষে ভীতি- 
স্ুচক। অপরজনকে ডেকে বললেন-তুমি স্বপ্ন দেখেছ, ছুই কেতু 
পরস্পর ভীষণ যুদ্ধ করছে! এন্ধ অর্থ প্লাজ্যে ভাঙন অবস্ঠন্ভাবী | 


৯৪৩ 


ওহে! তুমি তো স্বপ্নে দেখেছ যে হবিণ-দম্পতি রাতে নগরের চারদিকে 
কেঁদে বেড়াচ্ছে । ফল এর খুবই খারাপ। একমাসের মধ্যে তোমাদের 
এই রাজ্য পরিত্যাগ করতে হবে । 

এইভাবে ন্বপ্রত্রষ্টী প্রতিজনকে ডেকে ডেকে যখন তাদের দেখা 
স্বপ্রবৃত্তাস্ত বলতে লাগলেন, তার! সকলেই বিস্মিত হতে লাগল আর 
সর্বজ্ঞ ভেবে তার প্রতিটি কথা বিশ্বাস করতে সরু করল। 

নগরমধ্যে উপবেশন করে কাউকে ডেকে গ্রহসঞ্চার দেখাতে 
দেখাতে বললেন--এঁ যে দেখছ, একই রাশিতে সূর্য, শুক্র আর 
মঙ্গলের অবস্থান । এট। তোমার ক্ষেত্রে ভাল নয়! আবার কাউকে 
ডেকে দেখালেন-__-এঁ যে দেখছ ধূমকেতু সপ্তধিমণ্ডল ভেদ করে পশ্চিম- 
দিকে প্রস্থান করছে, জানবে রাজা-বিনাশের লক্ষণ। দেখতে দেখতে 
আর শুনতে শুনতে বেশ কিছু পুরবাসী এমনি ভীত হয়ে পড়ল যে 
তার৷ কাশী ছেড়ে পালাতে সুরু করল। 

জনারণ্যে এইভাবে আতঙ্ক স্থষ্টি করে দ্বিজরূগী গণেশ এইবার 
মায়াবলে ঢুকলেন নুপতির অস্তঃপুরে | তাদের দিকে এক পলক 
তাকিয়েই তাদের সম্বন্ধে এমন সব কথা বলতে সুরু করলেন, যে 
মুহূর্তমধ্যে বিশ্বাস এবং আস্থ! অর্জন করে ফেললেন। কোন রমণীকে 
দেখ! মাত্রই বললেন--তোমার তো! তিরানববইটি পুত্র। তাদের 
মধ্যে একজন আজ ঘোড়ায় চেপে আসতে গিয়ে বাইরে সেতু থেকে 
পড়ে মারা গেল। কাউকে দেখেই বললেন-_-এই কন্ত। তো গর্ভবতী । 
একটি মেয়ে হবে। আগে এই কন্যার ভাগ্য ভাল ছিল না, এখন 
ভাল হয়েছে । আবার হয়ত বিশেষ কোন এক রাজ্ৰীকে দেখেই বলে 
বসলেন--ইনিই এখন পাটরানী। রাজা নিজের গলার মুক্তামালা 
প্রকে দিয়েছেন। আর বড় জোর পাঁচ-সাতদিন হল, রাজ। এঁকে 
ছখান। গ্রাম দেবার আদেশ দিয়েছেন । 

কোনটাই মিথা। নয়। ফলে তার! এমন গ্র্ণগ্রাহী হয়ে পড়ল 
যে মহারাজকে অসঙ্কোচে সেই গণকের অসীম শক্তির কথ। বিনা-দ্বিধায় 
বলতে শুরু করল। 


অবলর বুঝে একদিন মহিষী লীলাবতী ব্রাহ্মণ গুণবৃদ্ধের প্রসঙ্গ 
উত্থাপন করে রাজা দিবোদাসকে বললেন- -সর্বশান্ত্রবিদ্‌ গণকশ্রেষ্ঠ এই 
গুণবৃদ্ধ ব্রাহ্মণের সঙ্গে রাজারও পরিচিত হওয়। বাঞ্ছনীয় । 
রাজ্ভীর ইচ্ছানুঘায়ী রাজাও তাকে একদিন অস্তঃপুরে আনার 
আদেশ দিলেন । রাজ্ঞীও তৎক্ষণাৎ তার দাসী বিচক্ষণাকে ডেকে 
্রাক্মণকে অস্তঃপুরে আনালেন। 
আগত প্রায় ব্রাহ্মণরূপী গণপতিকে দূর থেকে দেখেই সসম্রমে 
উঠে ছড়ালেন রাজা! দিবোদাস । দেখলেন, যেন জাজ্ল্যমান স্বয়ং 
ব্রহ্মতেজ। যথারীতি অভিবাদন, আশীবাদ গ্রহণ এবং কুশলাদি 
বিনিময় শেষে সসম্মানে ত্রাঙ্গণকে বিদায় দিলেন সেদিন | 
পরদিন রাত্রি প্রভাত হতেই ব্রা্গণের উদ্দেশ্যে ভেট পাঠিয়ে 
তাকে নিজ গৃহে আনালেন । পাছ্া-অর্থ দিয়ে তার মতকার শেষে 
নিভৃতে রাজা দিবোদাস নিজের বর্তমান মানপিকতা৷ নিয়ে আলোচন। 
শেষে ত্রাহ্গণের পরামর্শ চাইতে বসলেন । 
দিবোদাস বললেন, এতাবৎকাল সবরকম প্রযত্বেই রাজ্যপালন 
করে আসছি । আমি নিজ যুখে আমার কীতির কথ! প্রকাশ করতে 
চাই নাঁ। কিন্তু? 
“নিধিবস্মমিব মে চেতঃ সাম্প্রতং সবকল্মনু | 
বিচার্ধ্যাধ্য শুভোদর্কমত আধথ্যাহি সত্তম ॥” (৫৬/৬২) 
হে মহাপ্রাজ্ঞ ! কিছুদিন হতে আমার মন সবরকম কাজেই 
বিরুক্তভাব ধারণ করছে। হে আর্ধ! ভাবষ্যতে কিসে আমার মঙ্গল 
হবে, তা বিবেচনা করে বলুন । 
ব্রাহ্মণরূপী গণপতি শুনে বললেন--হে দিবোদাস ! আপনি কে, 
কী এবং কতখানি শক্তিধর তা আমি জানি। ভবিষ্যতে আপনার 
কিসে শুভ হবে, তাও আমি জানি! তবে আমি নিজমুখে তা 
আপনাকে বলব না । 
“আরভ্যাগ্ভদিনাডুপ ব্রাহ্মণোহষ্টাদশেহহনি । 
উদীচ্যঃ কশ্চিদাগত্য ঞ্রবং ত্বামুপদেক্ষ্যতি ॥ 


১৪৭২ 


তশ্য বাকং তয় রাজন্‌ কর্তব্যমবিচারিতম্‌ । 
ততস্তে হৎস্থিতিং সব্ধং সেতস্তত্যেৰ মহামতে ॥” (৫৬/৭৬-৭৭) 
হে ভূপ ! আজ থেকে আগামী অষ্টাদশ দিবসে উত্তরদেশ থেকে 
কোন ত্রাহ্ণ এসে আপনাকে তত্ব উপদেশ করবেন। সেই ব্রাহ্মণ 
আপনাকে যা উপদেশ করবেন নিধিচারে তা প্রতিপালন করবেন, 
তাহলেই আপনার অভীষ্ট সিদ্ধ হবে সন্দেহ নেই। 
এই বলে জ্ঞানবৃদ্ধ নিজের আশ্রমে প্রত্যাবর্তন করলেন। আর 
'দিবোদাসও প্রতীক্ষান্তে অষ্টাদশ দিবসে ব্রাহ্মণের দর্শন এবং উপদেশ 
গ্রহণ করে কাশী পরিত্যাগ এবং কাশীতে মহাদেবের প্রত্যাগমনের পথ 
প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন । 
মহাদেব সপরিবারে মন্দর-পর্বত থেকে কাশীতে এসেই সর্বপ্রথম 
গণপতিকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ স্তৰে তুষ্ট করেছিলেন । 


কাশীতে এই গণনায়ক কোন কোন নামে কীভাবে ক্ষেত্র রক্ষা 
করছেন, অগন্ত্য তা জানতে চাইলে ক্বন্দদেব বললেন £ কাশী ক্ষেত্রের 
প্রথম আবরণ রক্ষার জন্য ঢুণ্রাজ যে যে স্থানে অবস্থান করেছেন, 
আগে তা বলি শোন। গঙ্গা ও অসিসঙ্গমের কাছে “অর্কবিনায়ক? 
দক্ষিণে 'ছুর্গ, ক্ষেত্রের নৈর্ধতে ভীমচণ্তীর কাছে “ভীমচণ্ড বিনায়ক" 
পশ্চিমে 'দেহলি বিনায়ক” বায়ুদিকে উউদ্দপ্তাখ্য । কাশীর উত্তরে 
গণপতি “পাশুপাণি” গঙ্গা-বরণার সঙ্গমন্থলে খববিনায়ক' আর পুৰে 
যমতীর্থের পশ্চিমে “িদ্ধিবিনায়ক' অবস্থিত ছিলেন । 

দ্বিতীয় আবরণে অর্কবিনায়কের উত্তরে গণপতি 'লম্বোদর? 
ছর্গবিনায়কের উত্তরে গণাধিপ “কুটদস্তা) ভীমচণ্ড-বিনায়কের 
ঈশানকোণে গণপতি 'শালকটগ্কট' দেহলি বিনায়কের পূবে কুম্াগাখ্যঃ 
উদ্দগাখ্যের অগ্নিকোণে পাতালব্যাপী 'মুগ্তবিনায়ক” পাশপাণির দক্ষিণে 
“বিকটছিঙ্গ” খর্বাখ্য বিনায়কের নৈষ্তে রাজপুত্র” এবং রাজপুত্রের 
দক্ষিণে গণপতি (প্রণব | বারাণপীর দ্বিতীয় আবরণে এই আটটি 
বিনায়ক কাশীবাসিগণের' বিদ্বরাশি অপহরণ করে থাকেন । 


১৪৩ 


তৃতীয় আবরণে লম্বোদরের উত্তরে গণপতি 'বক্রতুণ্ড, কুটদস্তুকের 
উত্তরে গণপতি “একদস্তক” শালকটক্কের ঈশানে গণপতি “ত্রিমুখ'__ 
মুখ তার বানর, সিংহ আর হাতীর মত; কুম্মাণ্ডের উত্তরে সিংহযোজিত 
রথে 'পঞ্চাস্ত)? মুণ্ডবিনায়কের অগ্রিকোণে কাশীর জননীম্বরূপা “হেরম্ব 
বিকটদস্তের দক্ষিণে গণপতি “বিদ্বরাজ', রাজপুত্রের নৈষ্কতে গণপতি 
“বরদ? আর প্রণব-বিনায়কের দক্ষিণে গণপতি “মাদকপ্রিয়' অবস্থিত। 

বারাণলীর চতুথ আবরণে রয়েছেন আরও আটজন বিনায়ক। 

বন্রতুণ্ড গণপতির উওরে গঙ্গার পশ্চিমে বিনায়ক “অভয়াদ? 
একদশন বিনায়কের উত্তরে গণপতি “সিংহতুণ্ড” ত্রিতৃণ্ড বিনায়কের 
ঈশানে “কৃণিতাক্ষা। পঞ্চাস্ত বিনায়কের পূর্বে ক্ষিপ্রপ্রসাদন” হেরম্ব 
বিনায়কের বহিকোণে “চিন্তামনি বিনায়ক” বিনায়ক বিদ্বরাজের দক্ষিণে 
দস্তহস্ত, গণেশ বরদ-র নৈষ্তে “পিচিগ্িল', আর পিলপিলা তীর্থে 
বিনায়ক মোদকপ্রিয়র দক্ষিণে অবস্থান করছেন গণপতি 'উদ্দগুমুণ্ড? | 

বারাণসীর পঞ্চম আবরণেও রয়েছেন আটজন বিনায়ক | 

বিনায়ক অভয়প্রদর উত্তরে গণপতি “স্থুলদস্ত সিংহতুণ্ডের উত্তরে 
কলিপ্রিয়” কৃণিতাক্ষের ঈশানে “চতুর্দস্ত) আর গণনায়ক “দিতুণ্ড” 
চিন্তামনি-বিনায়কের অগ্নিকোণে গণাধ্যক্ষ জোন্ঠ, দস্তহস্তের দক্ষিণে 
গজবিনায়ক» পিচিগ্ডিল গণপতির দক্ষিণে কালবিনারক” আর 
উদ্দগ্মুণ্ড-র দক্ষিণে নাগলোক প্রাপ্তির সহায়ক বিনায়ক 'নাগেশ' 
অবস্থিত। 

এবার ষষ্ট-আবরণের বিশ্ব-বিনায়কগণ হলেন £ পূর্বে গণপতি 
“মণিকর্ণণ বহ্িকোণে আশা বিনায়ক” দক্ষিণে স্ষ্টি-সংহারক রূপে 
শ্যপ্রিগণেশ?, নৈষ্ধতে 'যজ্ঞবিদ্বেশচ পশ্চিমে গজকর্ণ, বায়ুকোণে 
“চিত্রঘণ্ট” উত্তরে 'স্থুলজজ্ঘ' ঈশানে টননিনিক আর যমতীর্থের 
উত্তরে “মিত্রবিনায়ক? | 

আর সপ্তম আবরণে মোদ প্রভৃতি পাঁচটি গণপতি, যষ্ঠ 
জ্ঞানবিনায়ক। সপ্তম দ্বারবিদ্বেশ-এরা মহাদ্বধারের পুরোভাগে 
পরিভ্রমণ করে থাকেন। আর অষ্টম আবরণে সবব্যাপি “অবিমুক্ত- 


১৪৪ 


বিনায়ক? | 


এইভাবে বিদ্বরাজ গণপতি মূলত পয়ফট্টি মূর্তি পর্রিগ্রহ করে 
ভক্তের কামন। পূরণ করে কাশীতে অবস্থান করছেন । 


এদিকে কাশী হতে গণেশের প্রত্যাগমনে বিলম্ব হচ্ছে দেখে 
মন্দর পর্বতে মহাদেব বিষুরর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাকেই অনুরোধ 
জানালেন কাশী যেতে। সেই সঙ্গে বললেন,_হে বিণ ! “তথা 
ত্বমপি মাকাধীর্ষথ। প্রাকপ্রস্থিতৈঃ কৃতম্"_-দেখো, আগে-আগে যারা 
গিয়ে যে আচরণ করেছে, তুমিও যেন সেরকম কোরো না । 
শুনে সনন্ত্রমে বিষুঃ বললেন £ | 
“শুনা প্রেষিতেনাস্ স্ুগ্মঃ ক্রিয়তে ময়] | 
তন্তক্তিসম্পত্তিমতাং সম্পন্ন প্রায় এব নঃ॥” (৫৮/১০ ) 
_হে ভগবন্। আপনি আমায় পাঠাচ্ছেন। আপনার প্রেরণ 
বলে আজ থেকেই আমি সবিশেষ উদ্ভমশীল হব। আপনার প্রতি 
ভক্তিই আমার পরম সম্্ল। স্মতরাং জানবেন, তারই প্রভাবে 
সিদ্ধি লব্বপ্রায় | 
“অতীব যদসাধ্যং স্তাৎ নুবুদ্ধিবলপৌরুষৈঃ। 
তৎকার্ধ্যং হি সুসিদ্ধং স্াত্বদনুধানতঃ শিব ॥৮ ( ৫৮/১১ ) 
_ বুদ্ধি এবং পৌরুষবলেও, হে শিব ! বদি তা নিতান্ত অসাধ্য 
হয়; আপনার অনুধ্যানে, স্মর্রণে-মননে তা অবশ্যই সিদ্ধ হবে। 
বিষু এইভাবে মহাদেবকে আশ্বাস দিয়ে লক্ষ্মী-সহ্‌ তাকে প্রদক্ষিণ 
ওবারবার প্রণাম করে মন্দর পর্বত থেকে এলেন বারাণসীতে । এখানে 
এসেই তিনি কাশীর উত্তরে গরুড় বাহন থেকে অবতরণ করে গঙ্গা 
এবং বরণার সঙ্গমস্থলে স্বচ্ছ সজিলে পাদ-প্রক্ষালন ললানাদি সারলেন । 
সেই থেকে এই স্থানটি সর্বপাপ-তাপহর “াদোদক' তীর্থ নামে 
বিখ্যাত হয়ে আছে। 
লক্ষ্মী ও গরুড়ের সঙ্গে ভগবান গরুড়ধ্বজ সেই তীরে নিত্যক্রিয়া 
সমাপন করে নিজের সর্বব্যাপিনী মৃতি সংহার করে এবং প্রস্তরময় 


১৪৫ 
কাশী--১০ 


আদিকেশব নায়ী ভাগবতী মুত্তি প্রতিষ্ঠ। করে সর্বপ্রথমে নিজে তার 
পুজা করলেন। 

তীথ-সমৃদ্ধ এই কাশী ক্ষেত্রের প্রসঙ্গত কয়েকটি তীর্ধের নাম 
শোন, অগস্ত্য । ষড়ানন বললেন £ ক্ষীরারি, শঙ্খ, গদ! পল্প, মহালক্ষ্লীঃ 
গ্রুড়; নারদ, প্রহলাদ, আন্বরীষ দত্তাত্রেয়েশ্বর, ভার্গব, বামন। যজ্ঞবারাহ; 
বিদারনারপিংহ, শেষতীর্থ, শঙ্ঘমাধব আর হয়গ্রীব তীধ-_প্রতিটি 
তী্ই স্ব-ন্য মহিমায় প্রতিষ্ঠিত। 

এখন শঙ্খ-চক্র গদাধর বৈকুষ্ঠনাথ কাশীতে স্বীয় কৈশবী মৃত্তিমধ্যে 
সমাবিষ্ট হয়ে, মহেশ্বরের কার্ষসাধনের জন্য অংশাংশেরও অংশ হয়ে 
সেখান থেকে বের হলেন । কারণ) কাশীর মাহাত্মা যার জ্ঞাত, তিনি 
কখনই পুরোপুরি কাশী থেকে নির্গত হবেন না । তাই কেশব স্বীয় 
প্রতিকৃতির মধ্যে নিজের অস্তিত্বের বেশীর ভাগট। রেখে স্বল্লাংশ 
নিয়েই বাইরে বের হলেন । 

কাশীর কিছু উত্তরে গিয়ে নারায়ণ অতঃপর নিজের অবস্থিতির 
জন্য ধর্মক্ষেত্র নামে একটা মনোরম স্থান নির্মাণ করলেন । নিজে 
ধারণ করলেন সৌম্যদর্শন সৌগত-রূপ, লক্ষ্মী গ্রহণ করলেন অপরূপ 
সৌন্দর্যসম্পন্ন। পরিব্রাজিকা | পুস্তকে ন্স্ত-হস্তা, জগজ্জননী লক্ষ্মী 
দেবীর পশ্চাতে বিনয়কীতি-নরদেহধারী শি্যরূপী গরুড়। তারও 
হাতে পুস্তক। লসৌগত পুণ্যকীতি, (ছদ্মবেশী নারায়ণ ) ব্বভাব-মাধুর্ষ্য 
নিয়ে পরিব্রাজিক। এবং শিষ্যু-সহ বেড়িয়েছেন নগর ভ্রমণে | পথিমধ্যেই 
চলেছেন তারা ধর্মগ্রসঙ্গ আলোচন। করতে করতে । বে শোনে 
সে-ই তার বচন মাধুর্য আকৃষ্ট হয়ে অনুগামী হয় তার। সৌগত 
তার শিষ্যকে উদ্দেশ্য করে বলে চলেন--এই সংসার অনাদি । এর 
কোন কর্তা নেই। আপনা হতেই এ প্রাছুভূতি হয়েছে, আপনা! হতেই 
এ বিলীন হয়ে বাবে। আত্মাই এক এবং অদ্বিতীয় । তিনিই ঈশ্বর । 
তিনিই দেহকে আশ্রয় করে বিভিন্ন নাম সংজ্ঞায় এই পৃথিবীতে 
বিরাজ করছেন । আমি যেমন পুণাকীতি, ব্রহ্াঃ বিধু% রুদ্র-ও তেমনি 
দেহ-পরিগৃহীত আত্মার এক-একটি সংজ্ঞা। আমাদের যেমন মৃত্যু 


১৪৬ 


"মাছে, তেমনি ব্রন্ম। থেকে কীট পর্যস্ত সকল দেহধারীরই হৃত্যু আছে। 
আহার, নিদ্রা) ভয়, মৈথুন সকলের মধ্যে সমানভাবেই বিষ্মান। 
স্থিরচিত্তে ভেবে দেখলে, সব প্রানীই সমান । সুতরাং কারে। প্রতি 
যেমন হিংস। কর] উচিত নয়, তেমনি সকলের প্রতি দয়। কর উচিত, 
দান কর! উচিত। নানা শাস্ত্র বিচার করে খধিশ্রেষ্গণ ইহকাল ও 
পরকালের কল্যাণবিধায়ক চারু রকম দানের কথা বলেছেন £ 
“ভীতেভ্যশাভয়ং'দেয়ং ব্যাধিতেভান্তঘৌষধম্‌। 
দেয়! বিদ্যার্থানাং বিদ্যা! দেয়মননং ক্ষধাতুরে ॥” (৫৮/১০১) 
_-ভীত ব্যক্তিকে অভয়, গীড়িতকে ওষধ, বিদ্যার্ধাকে বিভা! আর 
ক্ষধাতুরকে অন্ন দান। এগুলির মধ্যে আবার অভয় দানই সবশ্রেষ্ঠ 
এবং অতুলনীয় । 
বৌদ্ধশান্ত্রে আছে দ্বাদশ ইন্দ্রিয়--পাঁচ কমেক্দ্রিয়। পাচ জ্ঞানেক্ডিয়। 
মন ও বুদ্ধি। প্রভূত অর্থ উপার্জন করে এই দ্বাদশ ইন্দ্রিয়ের নিরন্তর 
পুজ। কর। উচিত। ইন্দ্রাদি দেবের উপাসনা করে কোন ফল নেই। 
স্বর্গ আর নরক বলে অস্ত কোন অস্তিত্ব নেই। স্বর্গ হল স্তথ 
আর, ছুঃখ হল নরক | স্থভোগ করতে করতে দেহবিসর্জনের নামই 
মোক্ষ | এছাড়া অন্য কোন প্রকারে মোক্ষ লাভ হয় না। বারা ন্বর্গ- 
লাভের আশায় বৃক্ষচ্ছেদ করে, পশুহত্য! করে মাটি রুধিরাক্ত করে, 
অনলে ঘি আর তিল পোড়ায় তাদের দেখে আমার অবাক লাগে । 
পরম্পরায় এই ধর্মকথায় আকৃষ্ট হয়ে উঠল পুরবাসিগণ, পুর- 
স্রীগণও সমাকুষ্টা হল। তারাও বিজ্ঞানকৌমুদী দৌগতের কাছে 
সমাগতা হতে সুরু করল। 
তাদের উদ্দেশ্যে সৌগত বলতে লাগলেন-_শ্রুতিতে বলেছে, 
আনন্দই ব্রন্গের রূপ । ঘধার্থ কথা । যে পর্যন্ত শরীর নিরুদিগ্র থাকে, 
যে পর্যস্ত ইন্দ্রিয়সমূহ বিকল না হয়ে যায়, যে পর্যস্ত জর! গ্রাস না 
'ক্ুরে, সে পর্যন্ত প্রত্যেকেরই সুখ ও আনন্দলাভের চেষ্টা করা উচিত 
“সত্বরো গত্বরো। দেহঃ সঞ্চয়াঃ সপরিক্ষয়াঃ | 
ইতি বিজ্ঞায় বিজ্ঞাতা! দেহে সৌধ্যং প্রসাধয়েং ॥॥ (৫৮/১১৮) 


১৪৭ 


_“এই দেহ অল্পদিনেই বিনষ্ট হয়ে যাবে, সঞ্চিত অর্থও ক্ষয় প্রাণ 
হবে। এই সমস্ত বিবেচনা করে বিবেচক পুরুষ দেহে সুখসাধন 
করবে। 

অস্তিমে তো এই দেহ কৃমি, কীট, কাকের ভোজ্য হবে নতুবা 
ভন্মে পরিণত হবে । 

তাছাড়া, সকলেই যখন মানুষ, তখনই কেনই ব। অধম-উত্তমের 
বিচার আর কেনই বা জাতিভেদের কল্পনা ! 

“মুখবাহুরূপজ্জাত: চাতুর্বর্নমিহোদিতম্‌। 

কল্পনেয়ং কৃত পুরৈরর্ন ঘটেত বিচারতঃ ॥ 

একন্যাঞ্চ তনৌ জাতা৷ একম্মাদ্‌ যদি বা কচিৎ! 

চত্বারস্তনয়াস্তং কিং ভিন্নবর্ণত্বমা প্রুয়ুঃ ॥ 

বর্ণাবর্ণবিবেকোহয়ং তন্মান্ন প্রতিভাসতে। 

অতো ভেদে ন মন্তব্যে মন্তুষ্কে কেনচিৎ কচিৎ ॥” (৫৮/১২৪-২১৬) 

--পুবে কল্পনা কর। হয়েছে যে চাতুধর্ণ বথাক্রমে ব্রহ্মার মুখ. 
বাহু, উরু ও পাদ হতে উৎপন্ন হয়েছে । বিচার করে দেখলে? কেমন- 
ভাবে তা সম্ভব হতে পারে? কারণ? এক বাক্তির একই শরীর থেকে 
যদি সকলেই উৎপন্ন হয়ে থাকে, তবে তাদের মধো পরস্পর কেন 
জাতিভেদ থাকবে! অতএব বর্ণাবর্ণের বিচার কখনই যুক্তিযুক্ত নর 
সুতরাং সকল মানুষকেই তুলাজ্ঞান করবে, ইতর-বিশেষ জ্ঞান করবে না । 

এই সকল উপদেশ শুনে প্রত্যেকেই ধর্মবিষয়ে মোহগ্রস্ত হয়ে 
পড়ল। রাজকুমার থেকে স্ুুক করে পুরবাসীসহ অন্তুপুরচারিনীরাও 
আর নতুন কিছু ভাবতে পারল ন।। পরিব্রাজক লক্গ্মীও নারীভেদে 
অনেক ওলউ-পালট করে দিলেন। অনেক নারী সৌগতের শিষ্ুতও 
গ্রহণ করল। পতিশুশ্রীধার মত পরম ধর্নও তারা ভুলে গেল। এদিকে 
পুরুষেরাও নানারকম আকর্ষণী, বশ্শীকরণ বিদ্যা শিখে পরস্ত্রীতে প্রয়োগ 
করে অনাচারে মন্ত হয়ে উঠল। এইভাবে ধর্ম খন পরাজ্ম,খ হল; 
অধর্মের প্রাবল্য দেখা দিল অবশ্যন্তাবীরূপে | ক্রমে ক্রমে রাজা 
দিবোদাসেরও সামর্থা লোপ পেতে সুরু করল। তার ওপর আবার, 


১৪৮ 


ঢুন্চিরাজ গণেশ দূর থেকে দিবোদাসের চিত্তকে রাজাব্যাপারে ক্রমশঃই 
এমন বিরক্ত করে তুলতে লাগলেন, যে অষ্টাদশ দিবসটির জন্যে তিনি 
অধীর হয়ে উঠলেন । 
অধীর অপেক্ষার শেষে একদিন উপস্থিত হল অষ্টাদশ দিবস । 
সূর্ধ তখন মধ্যগগনে | বাজছ্বারে উপস্থিত হলেন ছু-তিনটি পবিভ্রাত্মার 
সঙ্গে এক তেজপুঞ্জদেহী ত্রাহ্মণ। বিষ্ুই সেই ব্রাহ্মণের বেশ ধরে 
গিয়েছিলেন রাজসমীপে । তাকে দর্শনমাত্রেই রাজা দিবোদাস স্থির 
প্রতার হলেন, এই সেই প্রত্যাশিত ব্রান্গণ। রাজ তাকে যথাবিধি 
পৎকার করে সুখামনে বসিয়ে জিজ্ঞেস করলেন £ 
“খিনোহস্মি বিপ্রবর্ষাহং রাজাভারং সমুদ্বহন্‌। 
খেদে। নাস্ত্যেব হি পরং বৈরাগ্যমিব জায়তে ॥ 
কিং করোমি ক গচ্ছামি কথং মে নিবৃতিভবেত ॥” (৫৮/১৪৪-৪৫) 
_-হে বিপ্র! আমি রাজ্যভার বহন করে এখন বিষাদগ্রস্ত হয়েছি । 
কেবল বিষাদগ্রস্ত নয়, সব বিষয়েই আমার বৈরাগা আসছে । আপনি 
বলুন, আমি কি কঞ্চব, কোথায় যাব, কিভাবেই বা নির্বতি লাভ করব। 
যদিও আমার রাজ্যশাসন এবং পালনে কোথাও কোন ব্রটি নেই। 
আমি স্বার্থহীন চিত্ত নিয়েই প্রজাসাধারণের জন্তে নিজেকে নিযুক্ত 
রেখেছি তবুও, আমার বিশ্বাস, আমার এই বিষাদের কারণ, দেবতাদের 
সঙ্গে অসহযোগিত! | আমি জানি, দেবতাদের সঙ্গে বিরোধ করে 
কেউই বেঁচে থাকতে পারেনি, শান্ত পায়নি। ত্রিপুর। বলি সকলকেই 
পরাজয় স্বীকার -করতে হয়েছিল। মহাদেবভক্ত বানাস্থরের সহত্র- 
বাহু বিষণ ছেদন করেছিলেন কেবলমাত্র তার দেব-বিদ্বেষের কারণে । 
অনেকেই বহুতর যজ্ঞ করে ইন্দ্রত্ব লাভ করে তাদের সঙ্গে শত্রুতা 
করেছেন। আমার এসবের কোন প্রয়োজনও হয়নি। তাই 
দেবতার যে আমার কোন অনিষ্ট সাধন করবেন, সে বিশ্বামও আমি 
করি না। তবুও; এসব আর ভাল লাগছে না। আমি আপনাকে 
গুরুপদে বরণ করলাম । আপনি উপদেশ করুন--কি করলে আমাকে 
আর গর্ভবাস বন্ত্রণা ভোগ করতে না হয়। 


১৪৯ 


দিবোদাসের আকুতি শুনে অন্তর্যামী ব্রাঙ্মণবেশী জনার্দনের বুঝতে 
অস্থবিধা হল না যে এসবই কৃতবিদ্য গণেশের আবেশ । 

ব্রাহ্মণবেশী বিষু। তখন উপদেশছলে দিবোদাসকে বললেন + 
তুমি রাজ। হলেও জ্ঞানী, তপন্বী--তুমি রাজধি। তোমার মত রাজ। 
এই পৃথিবীতে কখনো আসে নি, আসবেও না । দেবগণের সঙ্গে 
বিরোধ করে তুমি তাদের কোন অপকারই করনি। তবুও তুমি 
বিষাদগ্রস্ত এবং মোক্ষার্ধা । কারণ আত্মার মনে হয় 

“এক এব হি তে দোষে! হৃদি মে প্রতিভাসতে | 
কাশ্ঠা বিশ্বেশ্বরে। দৃরং যৎ কৃতো। ভবতা৷ কিল ॥” (৫৮ ১৭৮) 

_হে নুপ! তুমি কাশী থেকে বিশ্বনাথকে যে বহিষ্কৃত করেছ. 
আমার বিশ্বাস এটাই তোমার একমাত্র অপরাধ । 

সেই অপরাধ-বোধজনিত মহাপাপ ক্রমশঃ তোমাকে গ্রাস করছে। 
এর থেকে মুক্তি পাবার একটাই মাত্র উপায় । তুমি সর্পপ্রযত্ণে এখানে 
একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার অর্চনা কর। আমি দিব্যচক্ষে দেখতে 
পাচ্ছি, তোমার মত পৃতাত্মাকে মহাদেবও প্রতিনিয়ত স্মরণ করে 
চলেছেন । দেখবে, লিঙ্গ-প্রতিষ্ঠার পর আজ থেকে সপ্তম দিবসে 
দিবা শাস্তব বিমান এসে তোমাকে তোমার সশরীরেই নিয়ে যাবে। 

এই বলে ব্রাহ্ধণ জনার্দন রাজসভ থেকে নির্গত হয়ে স্বর্গাদপি 
গরিয়সী কাশীকে দেখে মনস্থ করলেন সেখানেই থেকে যাবেন। কাছেই 
পঞ্চনদ হৃদ দেখে, সেখানে সান সেরে অবস্থান করলেন আর সবকিছু 
সংবাদ দিয়ে গরুড়কে পাঠিয়ে দিলেন মহাদেবের কাছে মন্দর পর্বতে । 

এদিকে ত্রান্গণের উপদেশে প্রসন্নাত্মা দিবোদানও রাজকুমার 
সমরপ্রয়কে রাজভবনে অভিষেক করে গঙ্গার পশ্চিমে এক প্রাসাদ 
নির্াণ করালেন! তার নাম হল 'ভূপালশ্রী' আর সেখানেই রাজা 
রিপুষ্ধায় “দিবোদাসেশ্বর” লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে নিজের অশান্ত চিত্তুকে শাস্ত 
করলেন । 

একদিন দিবোদাস সবেমাত্র লিঙ্গের পুজা শেষে স্তবপাঠ সমাপ্ত 
করেছেন, গগণাঙ্গন থেকে বেগে নেমে এল এক দিব্য যান। ললাটস্থ 


৮৫৩ 


নেত্রজ্যোতি, সর্প-বিভূষিত অঙ্গ, শত-শত রুদ্র-কম্ঠার চামর-ব্যাজন-সহ 
সেই যান সেখানে অবতরণ করতেই শিব-পার্দরা' এসে দিব্য মালা, 
গন্ধ, অলঙ্কারে ভূষিত করলেন তাকে । নুপতির কপাল তৃতীয় লোচনের 
দ্বারা বিভৃষিত হল। তিনি ভূজচতুষ্ট়্-সমাযুক্ত এবং সর্পনিচয়ের ছার! 
অলঙ্কৃত ; জটাজুট-সমন্বিত হয়ে সেই যানে আরোহণ করে সশরীরেই 
স্বর্গে গমন করলেন । 


কাশী এইভাবে দিবোদাসমুক্ত হলে বিশ্বেশ্বর বিশ্বেশ্বরী উমাকে 
সঙ্গে নিয়ে নন্দী, ভূঙ্গীকে আগে রেখে মন্দর পরত পরিত্যাগ করে 
কাশীর উদ্দেশ্যে পুনরায় গমন করলেন । মহাশাখ, বিশাখ, একাদশ 
রুদ্র, নৈগমেয় আর দেবষির। তার অনুগামী হলেন । সনকাদি খষর! 
স্তব করতে লাগলেন । বিষণ মহালক্ষমী। ব্রন্ধা॥ বিশ্বকর্মা, গণেশ্বর তার 
আগমনে মহোৎসব করতে লাগলেন! 
বারাণসী পুরীতে প্রবিষ্ট হয়ে বৃষবাহন মহাদেব বৃষ হতে অবতরণ 
করে দেবগণের সামনেই গণেশকে আলিঙ্গন করে বললেন ঃ 
“যদহং প্রাপ্তবানস্মি পুরাং বারাণসীং শুভাম্‌। 
ময়াপ্যতীব ছশ্প্রাপ্যং স প্রসাদোইস্ত ৰৈ শিশোঃ ॥ 
বদ্দ,স্রসাধ্যং হি পিতুরপি ব্রিজগতীতলে । 
তৎ সৃমুন। সুসাধ্যং স্তাদত্র দৃষ্টাস্ততা ময়ি ॥৮ (৫৭/১২-১৩) 
--যে বারাণসী আমার অতীব ছুপ্প্রাপ্য ছিল, সেই বারাঁণসীকে 
'আমি যে পুনরায় পেলাম; তা! এই বালকের জন্যে । ভ্রিজগতে যে 
কাজ পিতার অসাধ্য, পুত্র যে তা অনায়াসে সিদ্ধ করতে পারে এটিই 
তার একমাত্র প্রমাণ । 
দেবদেবের মনোরথ সিদ্ধ হওয়ায় তাই তিনি প্রথমেই গজাননের 
স্তব করেছিলেন কাশীতে অবতরণ করেই । 
তবে যে কাশীতে দেবদেব এলেন, এটি দিবোদাসভূক্ত কাশী নয়। 
দিবোদাস বহিষ্কিত হলে বিশ্বকর্মী এসে এই কাশীকে আবার নতুনভাবে 
স্থাপন করেছিলেন । 


১৫১ 


[ অধ্যায় ৫৯-৬২ ] 


মিত্রাবরুণ-তনয় অগস্তা অতঃপর দেব ষড়াননকে জিজ্ঞে করলেন 
_বিশ্বাত্মা ভগবান বিষ্ণু যিনি লীলাচ্ছলে সমস্ত জগতের কতা, পাতা, 
হর্তা কেন তিনি নিজের স্বরূপ সংবরণ করে পঞ্চনদতীর্ধে থেকে 
গেলেন ? 

ষড়ানন বললেন, দেবাদিদেব মহাদেবের কাছ থেকে এই পঞ্চনদ- 
তীরের উৎপত্তি, মাহাত্া আর কিভাবে কেনই বা মাধব সেখানে 
থেকে গেলেন, যা শুনেছি। তা বলি শোন £ 

পুরাকালে ভূগুবংশে মৃতিমান দ্বিতীয় বেদের ন্যায় সবজ্ঞানের আধার 
বেদশির! নামে এক মহধির আবির্ভাব ঘটেছিল । একদিন, তপস্থাকালে 
হঠাৎ তার নয়নগোচর হল রূপলাবণ্যবতী অপ্সরা শুচি। তাকে দেখা 
মাত্রই মুনির মন এতই চঞ্চল হয়ে উঠল যে তিনি আর বীর্ষ ধারণ 
করতে পারলেন ন। ; অতফ্িতে রেতঃ শ্থলিত হয়ে গেল। তাই দেখে 
শুচি ভয়াতুরা হয়ে দূর থেকেই তাকে প্রণাম করে বললেন-_'জ্ঞানত 
আমি কোন অপরাধ করিনি । অজ্ঞাতসারেও যাঁদ কোন অপরাধ 
করে থাকি, হে তপোনিধি, আমায় ক্ষমা করুন। শুনে বেদশির! 
বললেন--“এখানে আমার বা তোমার কিছুমাত্র অপরাধ ঘটেনি । তুমিও 
অতকিতে এখানে এসেছ আব আমারও হ্খলন ঘটেছে অতকিত- 
ভাবেই । কাম্প্রযুক্ত নয়। তবুও এক্ষেত্রে তোমার স্বাভাবিকভাবেই 
একটা কর্তব্য এবং দায়িত্ব এসে গেছে । আমাদের বীর্য অমোঘ । 
তোমার দর্শনে যেহেতু এই বীর্য শ্বলিত হয়েছে । এটিকে তুমি তোমার 
জঠক্সে ধারণ কর। যথাসময়ে তোমার একটি মহাপবিত্র কন্যারত্র লাভ 
হবে । খধির বাক্য, অন্যথা! করার উপায় নেই, শুচি সেই বীর্য আপন 
জঠরে ধারণ করলেন । বধাসময়ে দিব্যাঙ্গনা-সদৃশ একটি কন্ঠারত্ণ 
প্রসব করেঃ তাকে বেদশিরার আশ্রমে রেখে শুচি চলে গেলেন তার 


৯৫২২ 


গন্তব্য স্থানে । 
বেদশির! সেই কন্যার নাম রাখলেন 'ধৃতপাপা” | হুরিণীর স্তনছঞ্ধে 
তাকে লালন-পালন করতে লাগলেন । দিনে-দিনে বর্ধমান চন্দ্রের 
দ্যুতি নিয়ে বাড়তে লাগল ধূতপাপাঁ। দেখতে-দেখতে আট বছর 
বয়স হলে বেদশির! তাকে যোগা পাত্রে সমর্পণ করার জন্যে উদ্গ্রীব 
হয়ে উঠলেন। 
অনেক ভেবে-চিন্তেও বেদশিরা যখন কন্ঠার যোগ্যপাত্রের সন্ধান 
করতে পারলেন না, তখন কম্থাকে ডেকে জানতে চাইলেন তার 
অভিলধিত স্বামীর নাম, যার সঙ্গে তিনি নিশ্চিন্তে তার বিবাহ দিতে 
পারেন । 
কন্তা ধূতপাপা কিছুকাল চিন্তা করে বললে--ঘদি কোন সংপাত্রের 
সাথে আমার বিয়ে দিতে ইচ্ছে করেন, তবে আমার অভিলফিত 
সেই পাত্রের গুণাবলী হবে এইরকম £ যিনি হবেন সকল পদার্থ থেকে 
পবিত্র, সকলে ধাকে নমস্কার করেন, যিনি সকলের কাছেই প্রার্থনীয়। 
সকল সুখের উৎপত্তিস্থলঃ অবিনাশী, সবলোকের পরিত্রাতা, ধার 
কুপাকণায় সকলের মনোরথ সিদ্ধ হয়, আমাকে এমন কোন এক পাত্রে 
সমর্পণ করুন । পিতা 
যন্গামগ্রহণার্দেব কেইপি বাধাং ন কুব্বতে । 
. যদাধারেণ তিষটস্তি ভূবনামি চতুর্দশ ॥ 
এবমাগ্যা গুণ! যস্ত বরস্ত বরচেষ্টিতম্‌। 
তন্মৈ প্রযচ্ছ মাং তাত মম তেহগীহ শম্মণে ॥৮ (৫৯/৫৩-৫৪) 
বীর নাম গ্রহণ করলে কেউ কোন বাধ! হ্ষ্টি করতে পারে না, 
ধাকে অবলম্বন করে চতুর্দশ ভুবন বিরাজিত; এমন গুণরাজি যার 
মধ্যে আছে, আমাকে সেইরকম পাত্রে সমর্পণ করে আপনান্ন এবং 
আমার কল্যাণ বিধান করুন |? 
কন্তান্র প্রার্থনায় অতীব গ্রীত হলেন পিতা! বেদশির। | এমন 
কন্তার জনক হিসেবে নিজেকে ধন্ট মনে করে চিন্তা করতে বসলেন? 
কে হতে পারে এমন সংপাত্র! ধ্যানমগ্র হয়ে কন্থার প্রাধিত গুথাবলী- 


১?৩ 


সমন্বিত একজন পাত্রকেই তিনি অবলোকন করে কম্ঠাকে বললেন £ 
কন্যা ধূতপাপা ! একজনই মাত্র এমন গুণরাজিসমদ্বত আছেন কিন্তু 
তিনি ত' সহজলভ্য নন। তাকে পতিরূপে লাভ করতে গেলে চাই 
মহাতপস্থ।, দান) দম, দয়া | 

“তপঃপণেন স ক্রয্যঃ নুতীর্থবিপণৌ কচিং? (৬০)-_সুতীর্থরূপ 
কোন বিপণিতে গিয়ে স্ুতপোরপ পণ দিয়েই মাত্র সেই বররূপ পণ্য- 
দ্রব্যটিকে ক্রয় করা যেতে পারে |, 

ধৃতপাপ। তা শুনে পিতাকে ভক্তিভরে প্রণাম করে অবিষুক্তক্ষেত্র 
বারাণসীতে গিয়ে তপত্বিনীর বেশে কঠোর শরীর-সাধ্য দুশ্চর তপস্তা 
সুরু করল। নিদাঘের দাহ, বর্ষার অবিরাম বারিধারার সঙ্গে গুরুগম্ভীর 
অশনি-নিঘোষ, শরতের কলহংসকুলের গুঞ্জন, হেমন্তের শিশির; শীতের 
তীব্র কম্পন, বসস্তের কোকিলালাপ--কোন কিছুই তাকে তপন্যার 
একাগ্রতা থেকে বিন্দুমাত্র সরাতে পারল না| ক্রমে-ক্রমে কন্যা 
ক্ষুধা-তৃষ্ত পরিহার করে কেবলমাত্র সর্পগণের বৃত্তি ( বাযু-আহার ) 
করে থাকল । ফলে, কোমলাঙ্গীর কোমল অঙ্গ বিশুদ্ধ হলেও যেন 
মণিপ্রভায় উজ্জ্বল হয়ে উঠল। 

ধৃতপাপার সেই নিশ্চল! তপন্তায় স্থির থাকতে না পেরে হংসবাহন 
চতুরানন আবিভূ্তি হলেন তার দামনে বরপ্রদানের জন্যে । ধৃতপাপা 
তার কাছে কেবলমাত্র একটি অভিলাষই জানালে ? 

“পিতামহ বরো মহাং যদি দেয়ো বরপ্রদ | 
সর্ধেভ্যঃ পাবনেভ্যোহপি কুরু মামতিপাবনীম্‌॥” (৫৯/৮১) 

--হে বরপ্রদদ পিতামহ ! আপনার যদি আমাকে বরপ্রদানের 
অভিলাষই হয়ে থাকে, তাহলে আমাকে সেই বর দিন, যাতে 
পৃথিবীতে যত পাবনী ( পবিভ্র-সম্পাদক ) আছে, আমি যেন তাদের 
চেয়েও অধিকতর পাবনী হুই। 

ব্রহ্মা কন্ঠা় অভিলধিত বর প্রদান করে অন্তহিত হলেন? 
ধৃতপাপাও প্রত্যাগমন করল পিতা! বেদশিরার আশ্রমে । 

একদিন ধূৃতপাপ! আশ্রম-প্রাঙ্গণে ক্রীড়ারতা। বিগতকল্াধা! 


১৫৪ 


সেই কন্ঠাকে দেখে স্বয়ং ধর্স কামাতুর হয়ে অঞ্ভাত পরিচয় ব্রাহ্মণের 
বেশে এসে নিভৃতে তার পানি প্রার্থনা করল। ধৃতপাপা প্রথমে 
উপেক্ষা করলেও ব্রাহ্মণের বারংবার কামনায় ক্ষুপ্র হয়ে বললে £ 
আপনার এ-রকম ছর্মতি কেন? আপনি আমার পিতার কাছে গিয়ে 
আমাকে প্রার্থনা জানান, সেটাই তো নিয়ম | কিন্তু ধর্ম ধূতপাপার 
কথ। উপেক্ষা করে প্রস্তাব দিলে গান্র্-বিবাহ করে তার মনোরথ 
সফল করতে । শুনে, খুবই বিরক্ত হল ধৃতপাপা । বললে; "তুমি 
এখনই এ স্থান ত্যাগ কর।' কিন্তু ব্রান্মণবেশী ধর্ম এতই কামাতুর 
হয়ে উঠেছিলেন ধেঁ স্থান পরিত্যাগ তো৷ দূরের কথা, অত্যন্ত গীড়ালীডি 
সরু করে দিলেন। তখন ধৃতপাপা আর স্থির থাকতে না পেরে 
তাকে অভিশাপ দিলে ঃ 'জড়োইমি নিতরাং যম্মাজ্জলাধারো। নদে 
ভব? ॥ (৯৫)-_জড়ম্বভাব তুমি আজ থেকে জলাধার নদে পরিণত হও। 
ধর্মও ক্রুদ্ধ হয়ে প্রতি অভিশম্পাত দিলে  কিঠোরহৃদয়ে ত্বং তু 
শিল! ভব স্ুদুম্মতে ॥ (৯৬)-_-কঠোরহ্ৃদয়ে ছুর্মতে ! তুমিও আজ থেকে 
শিলায় পরিণত হও । 

সেই অভিশম্পাতে ধর্ম নদরূপে ধর্মনদ নামে থেকে গেছেন 
অবিষুক্তক্ষেত্রে। এদিকে শাপগ্রস্তা ত্রস্তা ধূতপাপা ছুটে এল পিতার 
কাছে, নিবেদন করলে সব কিছু । পিতা বেদশিরাও ধ্যাননেত্রে 
সবকিছু প্রত্যক্ষ করে বললেন-_-“কন্যা। এ নদরূপী ধর্মই হলেন তোমার 
অভিলধিত সর্বগুণসম্পন্ন স্বামী । কিন্তু শাপ যেহেতু বিফলে যাবে না৷ 
তুমি অন্য কোন শিল1 ন1 হয়ে চন্দ্রকান্ত শিলায় পরিণত হবে। চন্দরের 
উদয়ে দ্রবীভূত তোমার শরীর নদীরূপ ধারণ করে সর্বপাপধোৌতকান্দী 
'ধুতপাপ।” নামে পরিচিত হবে । আমার তপোবলে তোমরা ছুজনেই 
প্রাকৃত এবং দ্রেবময় রূপ ধারণ করবে । এইভাবে ধর্মনদের সঙ্গে 
মিলন ঘটল ধৃতপাপা নদীর । এই পবিত্র তীর্থেই ময়ুখাদিত্য যখন 
মঙ্গলাগৌরীর ধ্যানে তন্ময় তখন তার কিরণময় অঙ্গ থেকে এত স্বেদরাশি 
বিনির্গত হয়েছিল যে, তা একট! নদীতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল । সেই 
শ্রোতব্বিনী হল “কিরণা' । এই কিরণাও এসে মিলিত হল ধৃতপাপ। 


১৫৫ 


আর ধর্মনদের সঙ্গে। তারপর ভগীরথ আনলেন ভাগীরথীকে ; 
ভাগীরীর সঙ্গে এসে মিলিত হল যমুনা আর সরস্বতী । এইভাবে, 
ধৃতপাপা, কিরণা, সরন্বতী, গঙ্গা আর বধুনা_এই পাঁচটি নদীর 
সঙ্গমের ফলে এই তীর্থ ত্রিভুবনে “পঞ্চনদ? তীর্থ নামে বিখ্যাত হল। 
ধর্ম-অর্থকাম ও মোক্ষের মঙ্গলময় আবাপভূত এই তীর্থ অশেষ 
মহিমান্বিত। 
“কৃতে ধন্মনদং নাম ত্রেতায়াং ধৃতপাপকম্‌ । 
দ্বাপরে বিন্দৃতীর্ঘঞ্চ কলো পঞ্চনদং স্মৃতম্‌ ॥” (৫৯/১৩৭) 
-_সত্যযুগে ধর্মনদ তীর্থ, ভ্রেতাধুগে ধৃতপাপক, দ্বাপরধুগে বিন্দু 
আর কলিষুগে তীর্থ হল পঞ্চনদ । 
এই কথা বলে ষড়ানন এবার বিন্দূমাধবের আবির্ভাব কাহিনী 
বললেন মু'ন মিত্রাবরুণনন্দন অগস্ত্যকে | 
রাজ| দিবোদাসকে কাশীধামচাুত করার সফল প্রয়ান-সংবাদ দিয়ে 
গরুড়কে মন্দর পৰতে মহাদেবের কাছে পাঠিয়ে বিষ্ণু যখন এই 
পঞ্চনদতীর্থে বসে তপন্তায় মগ্র। তখন এক খষিঃ নাম অগ্নিবিন্দু, 
দেখতে পেলেন তাকে । গলায় বনমালা? চারি হাতে শঙ্খ-চক্র-গদা- 
পদ্ম, বক্ষস্থলে কৌস্তভমণি, পরিধানে গীতবাস-_দেখেই উদ্বেল হয়ে 
উঠল অগ্রিকিন্লুর মন। সেই হৃধিকেশকে স্তবে তুষ্ট করলে অচ্যুত 
তাকে বর প্রার্থনা করতে বললেন। অগ্নিবিন্তু জানাল তার প্রার্থনা । 
“ভগবন্‌ সর্বগোষগীহ্‌ ভি পঞ্চনদে হুদে। 
হিতায় সব্ধজন্তনাং মুযুক্ষাণাং বিশেষতঃ ॥ 
লক্ষীশেন বরো মহামেষ দেয়োইবিচারতঃ | 
শান্ং বরং সমীহেহহং ভক্তিং চ তবংপদান্জে ॥” (৬০/৪৮-৪৯) 
হে ভগবন ! আপনি সবব্যাপী হলেও সমস্ত জীবগণের, বিশেষ 
করে, মোক্ষাভিলাষী ব্যক্তির হিতের জন্তে এই পঞ্চনদ তীর্থে ই অবস্থান 
করুন। আপনার চরণ কমলে আমার অচলা ভক্তি লাভ হক। 
লক্ষ্মীপতি, আপনি অবিচারে আমাকে এই বর দিন, অন্য কোন বর 
চাই না। 


১৫৬ 


লক্ষমীপতি অচ্যুতত আত্মকেন্দ্রিকতাহীন খষির এই প্রার্থনায় প্রসন্ন 
হয়ে সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানিয়ে আরও বর প্রার্থনা করতে বললে খষি 
প্রার্থনা জানালেন-_-হে রমাপতে ! এই স্থানে আপর্নি আমার নামে 
অবস্থান করে সবসময় ভক্ত এবং অভক্ত প্রত্যেককে মুক্তি উপদেশ 
করুন |; 
আরো প্রসন্ন হয়ে বিষুত বললেন--বিন্দমাপব ইত্যাখা মম 
ত্রেলোক্যবিশ্রুতা | কাশ্যাং ভবিষ্তুতি মুনে মহাপাপৌথঘাতিনী_ 
মহাপাপসমূহ বিনাশকারী আমার ত্রিলোকাবিশ্রুত “বিন্ুমাধব' এই 
নামে কাশীতে আমি পরিচিত হৰ। আর এই তীর্থ পাতক-বিনাশন 
“বিন্দুতীর্থ' নামে বিখ্যাত হবে । 
অতঃপর শ্রীহরি অগ্নিবিন্ধ্ুকে আত্মতত্ব জ্ঞান দিয়ে বললেন__ 
কলিতে মানুষ আমারই মায়া প্রভাবে ভেদবুদ্ধি-সমাচ্ছন্ন আর মোহগ্রস্ত 
হয়ে পন্পস্পরে বিদ্বেষভাব পোষণ করে অশেষ হুঃখ-সাগরে নিমগ্ন । এর 
থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হুল ব্রত-পরায়ণ হওয়া । পাশুপাত-ভূমি 
এই বারাণসীতে মহাদেবে আর আমাতে যারা বিভেদ দেখবে, তাদের 
মুক্তি নেই । 
“আদিমাধবনামাহ: পুজ্যঃ সতঃযুগে মুনে ॥ 
অনস্তমাধবো জেয়ন্ত্রেতায়াং সব্বসিদ্ধিদঃ | 
প্রীমাধবদংজ্ঞোহহং দ্বাপরে পরমার্থকুৎ ॥ 
কলৌ কলিমলধবংসী জ্ঞেয়োইহ বিন্দুমাধবঃ |” (৬০/১১৪-২৬) 
__হে মুনে ! সত্যযুগে আমি ছিলাম “আদিমাধব+, ভ্রেতায় “অনন্ত 
মাধব? দ্বাপরে আ্রীমাধব» আর কলিতে কলিমলনাশন আমিই 
“বিন্দুমাধব। | 
অনস্তর খষি অগ্নিবিন্দু জানতে চাইলে, ভগবান জনার্দন কী কা 
রূপে আছেন কাশীতে আর ভবিষ্যতে কি কি মুতিতেই বা অবস্থান 
করে মানুষের অশেষ কল্যাণ সাধন করবেন । 
মাধব এই প্রসঙ্গে অগ্নিবিন্দুকে যা বলেছিলেন, দেব ষড়ানন তা 
শোনালেন অগস্তাকে। 


১৯৫৭ 


বিষ বললেন-_প্রথমত, পাদোদক-তীর্থে 'সঙ্গমেশ্বর' মহা শিবলিঙ্গ 
প্রতিষ্ঠা করে সেখানে আমি আছি আদিকেশব-রূপে। এর দক্ষিণে 
শ্বেতদ্বীপ মহাতীর্থে আমি জ্ঞানকেশব। তাক্ষ্যতীর্থে আমি 
তাক্ষ্যকেশব। নারদতীর্থে আমি নারদকেশব। প্রহ্লাদতীথে আমি 
প্রহলাদকেশব | অশ্বরীষতীর্ে আমি আদিত্যকেশব ! দত্বাত্রয়েশ্বর 
মহাদেবের দক্ষিণে আমি গদাধর | ভার্গবতীর্থে আমি ভূগুকেশব | 
বামন মহাতীর্থে আমি বামনকেশব | নরনারায়ণ-তীর্থে আমিই আছি 
নর-নারায়ণরূপে | যজ্ঞবরাহতীর্ঘে বজ্ঞকবারাহ। বিদারনরসিংহতীর্থে 
কাশীর বিদ্ব-বিদারণ আমি বিদারনরসিংহ | গোপীগোবিন্দতীথে আমি 
গোগীগোবিন্দ। লক্ষ্মী-নুসিংহতীর্থে আমি লক্ষ্মীনুসিংহ । শেষতীর্ধে 
আমিই হলাম শেষমাধব | এছাড়াও শঙ্খমাধব তীর্থে শঙ্খমাধব ॥ 
হরগ্রীব তীর্ঘে হয়গ্রীবকেশব, বৃদ্ধকালেশ্বর মহাদেবের পশ্চিমে ভীম্ম- 
কেশব; লোলার্কের উত্তরে নিবাণকেশব নামে অবস্থিত। কাশীতে 
ত্রিপুরানুন্দরী দেবীর দক্ষিণে ব্রিভুবনকেশব ; জ্ঞানবাগীর সামনে 
জ্ঞানমাধব ; বিশালাক্ষী দেবীর কাছে শ্বেতমাধব ; দশাশ্বমেধের উত্তরে 
প্রয়াগমাধব নামেও আমি মুমুক্ষুজনের জন্তে অবস্থিত। সর্বতীর্ধ সার 
একমাত্র মণিকণিকায় প্রত্যহ স্নানবলেই আমি আমার নামগ্রহণ- 
কারীদের পাপসমূহ হরণ করেই আমি হয়েছি 'হরি'। হেমুনে ! 
অগন্তয-তীর্থের দক্ষিণে গঙ্গাকেশুব তীথথে আমিই গঙ্গাকেশব | মণি- 
কণিকার উত্তরে সীমা-বিনা্কের দক্ষিণে এবং বৈরোচনেশ্বরের পূর্বে 
আমি “বৈকুগ্ঠমাধব? | বীরেখরের পশ্চিমে আর কালভৈরবের কাছে 
আমি আছি বীরমাধব আর কালমাধব নামে । 

পুলস্তীশ্বর মহাদেবের দক্ষিণে আমি নিধাণদায়ী নিধাণ-নরসিংহ- 
রূপে অবস্থান করছি) ম্ৃহাবলনৃসিংহরূপে আমি আছি ওস্কারেশখর 
মহাদেবের পুবে ॥ প্রচণ্ডনরসিংহরূপে আছি চণ্ডতৈরব মহাদেবের পুৰে | 
দেহলি বিনায়কের পুবে আমি গিরিনবসিংহ । পিতামহেশ্বর শিবের 
পিছনে আমি মহাভয়হর নরিংহ। কলসেশ্বর মহাদেবের পশ্চিমে 
আমি অত্যুগ্র নরসিংহ। কন্কাল ভৈরবের কাছে আমি কোলাহল 


৯৬1৮ 


সুসিহ। আবার নীলকণ্ঠেশ্বর মহাদেবের পিছনে আমিই বিটঙ্ক নরদিংহ 
নামে অবস্থিত। অনস্তেশ্বর মহাদেবের কাছে আমি অনস্ত বামন 
আর দধিমাধব | ত্রিলোচনের উত্তরে আমি ভ্রিবিক্রম | কলি- 
তদ্রেখর মহাদেবের পুৰে আমিই হলাম বলিবামন। 
তাত্রদ্ধীপ থেকে কাশীতে এসে ভবতীর্থের দক্ষিণে আমিই অবস্থান 
করছি তাত্বরাহ-রূপে | প্রয়াগেশ্বর মহাদেবের কাছে ধরণীবরাহ- 
রূপে ; বরাহেশ্বর মহাদেবের কাছে আমি কোকাবরাহ-রূপে অবস্থান 
করছি 
“নারায়ণাঃ শতং পঞ্চ শতঞ্চ জলশায়িনঃ | 
ত্রিংশৎ কমঠরূপাঁণি মতন্যরূপাণি বিংশতিঃ ॥ 
গোপালাশ্চ শতং সাষ্ট বুদ্ধাঃ সম্তি সহত্রশঃ। 
ত্রিংশৎ পরশুরামাশ্চ রাম! একোত্তরং শতম্‌ ॥ 
বিষুরূপোইস্ম্যহং চৈকো মুক্তিমণ্পমধ্যতঃ 
মুনে কৃত প্রসাদেন বিশ্বেশেন শ্রিতঃ স্বয়ম্‌॥ 
নারায়ণ স্বরূপেণ গণাশ্ক্রগর্দোগ্যতাঃ 
কুর্বস্তি রক্ষাং ক্ষেত্রম্ পরিতো নিযুতানি ষট্‌॥” (৬০/২০৭-২১০) 
_হে অগ্নিবিন্দু! আমার পাঁচশ? নারারণ মৃত্তি, একশো জলশারি . 
সুতি, একশো! আট গোপাল মৃতি, একহাজার প্রায় বুদ্ধমুতি, তিরিশ 
পরশুরাম মুক্তি, একোত্তরশো রামমূত্তি বিরাজমান । হে মুনে! স্বক়ং 
বিশ্বনাথের প্রনাদে এই মুক্তিমগ্ুপে আমি বিষুরূপে অবস্থিত আর 
আমার ছয় নিযুত গণ নারায়ণরূপে চক্র ও গদ1 ধারণ করে চতুর্দিকে 
এই ক্ষেত্র রক্ষা করছে। ূ 
এরপর অগ্নিবিন্দু জিজ্ঞেস করলে £ 
“হিতায় নিজভক্তানাং মম সন্দেহশাস্তয়ে | 
কতি তে মূর্তয়োইনম্ত কথং জ্রেয়াস্তথা বদ ॥” (৬০/২১২) 
_হে প্রভে ! অনস্তমুত্তি আপনার রূপভেদ কয়রকমের আৰ্ন 
কিভাবেই বা জানা যাবে, ভক্তদের হিতের জন্ সেই সঙ্গে আমার 
সন্দেহ নিরসনের জন্য বলুন । 


১৫৯ 


তখন চতুভূজ বিষু অগ্নিবিন্দুকে নিদর্শন-সহ নিজের রূপভেদ বর্ণন। 
করলেন £ প্রথমে ডানদিকের উরধ্বহস্ত হতে পর্যায়ক্রমে যে মৃতিতে 
আমি শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-পাণি সেটি হল আমার কৈশবীমূতি ; যে 
মুন্তিতি আমি শঙ্খ-পদ্ম-গদা-চক্র-পাণি। সেটি আমার মধুন্দন মৃতি ; 
যে মুঠিতে আমি শঙ্খ-পল্ম-চক্র-গদা-পাণি সেটি আমার সন্কর্ষণ মুত্তি ; 
যে মৃত্তিতে আমি শঙ্খ-গদা-চক্র-পদ্ম-পাণি' সেটি আমার দামোদর মুতি; 
যে মৃতিতে আমি শঙ্খ-চক্র পন্প-গদা-পাঁণি সেটি আমার বামন মৃতি; 
যে যুতিতে আমি শঙ্খ-গদা-পদ্ম-চক্র-পাণি সেটি আমার প্রদ্থাম্নমৃতি । 

বাঁদিকের উ্ধ্বহস্ত থেকে যেখানে আমি শঙ্খ-চক্র-গদা-পন্মপাপি 
সেখানে আমার বিষুমৃতি ; যেখানে আমি শঙ্খ-পন্ম-গদা-চক্রপাণি, 
সেখানে আমার মাধব মূতি ; যেখানে আমি শঙ্খ-পদ্ম-চক্রগদাপাণি 
সেখানে আমার অনিরুদ্ধ মৃত্তি; যেখানে আমি শঙ্খ-গদা-চক্র-পদ্মপাণি, 
সেখানে আমার পুরুষোত্তম মৃত ; যেখানে আমি শঙ্খ-চক্র-পন্ম-গদা- 
পাণি, সেখানে আমার অধোক্ষজ মৃতি ; আর যেখানে আমি শঙ্খ-গদা- 
পল্প-চক্রপাণিং সেখানে আমার জনার্দন মৃতি। 

সেইরকমই আবার বাঁদিকের নীচের হাত যেখানে আমি শঙ্খ-চক্র- 
গদা-পন্নধূত, সেখানে আমি গোবিন্দ মুতি ; যেখানে আমি শঙ্খ-পদ্ম- 
গদা-চক্রধূত, সেখানে আমি ত্রিবিক্রম মুত্ি ; যেখানে আমি শঙ্খ-পদ্ম- 
চক্র-গদাধৃত, সেখানে আমি শ্রীধর ; যেখানে আমি শঙ্খ-গদা-চক্র- 
পদ্মধুত; সেখানে আমি হৃধিকেশ; যেখানে আমি শঙ্খ-চক্র-পদ্ম-গদাধৃত, 
সেখানে আমি নৃসিংহ; আন খেখানে আমি শঙ্খ-গদা-চক্র-পন্মধূত, 
সেখানে আমি অচুযুত। 

আবার ভানদিকের নীচের হাত থেকে যেখানে আমি শঙ্খ-চক্র 
গদা-পদ্মপাণি। - সেখানে আমার বাস্থদেব মুতি ; যেখানে আমি 
শঙ্খ-পদ্প-গদা-চক্রপাণি। সেখানে আমার নারায়ণ মতি ; যেখানে আমি 
শঙ্খ-পল্প-চত্রুগদাপাণি, সেখানে আমার পদ্মনাভ যুতি; যেখানে আমি 
শঙ্ঘ-গদা-চত্র-পন্নপাণি। সেখানে আমার উপেক্দ্র মুত্ি; যেখানে আমি 
শঙ্খ-চত্র-পন্ম-গদাপাণি। সেখানে আমার শ্রীহরি মৃত্তি; আর যেখানে 


১৬৪ 


আমি শঙ্ঘ-গদা-পদ্ম-চক্রপানি, সেখানে আমার কৃষ্ণমূত্তি ! 

ভগবান বিষণ যখন এইভাবে পঞ্চনদ তীর্থে বসে অগ্নিবিন্বুর কাছে 
স্বীয় স্বরূপ বিশ্লেষণ করে চলেছেন, তখন প্রত্যাগ্মণ হল গরুড়ের। 
জানাল দেবাদিদেবের আগমন-বার্তী। ভগবান পুগুরীকাক্ষ গগনপথে 
বিমানচারিগণের দিব্য যানসর্ৃহে পরিবেষ্টিত ত্রিলোচনের বৃষভধ্বজ 
রথ দেখে, তার উদ্দেন্টে প্রণতি জানিয়ে উঠে দাড়ালেন । অগ্রিবিন্তুকে 
বললেন-তুমি ডান হাত দিয়ে আমার এই সুদর্শন চক্র স্পর্শ কর। 
খধি নির্দেশ মত স্পর্শ করামাত্রই শোভন জ্ঞান লাভ করে নারায়ণের 
শ্রীঙ্গে একীভূত হয়ে গেলেন । 


নারায়ণ আর কালবিলম্ব না করে ব্রহ্মাকে সামনে নিযে এবং 
বিষণ সুর্য গণসমূহ এবং গণপতিকে পিছনে নিয়ে সহর্ধে দেবাদিদেবকে 
আহ্বান জানাবার জন্যে এগিয়ে এলেন বারাণমী সীমা পধস্ত। 
দেবেশের আদেশ প্রতিপালন করে ফিরে না-যাওয়ার জন্টে ব্রন্গা 
থেকে সুর করে প্রত্যেকের মনেই ছিল একটা অপরাধ-বোধ | দেবেশ 
এলে তাকে যথোচিত সম্বর্ধন। জানিয়ে ব্রহ্ম! এবং আদিত্য নিজেদের 
অপরাধ-মনক্কত। স্বালন কন্পতে এলে মহাদেব তাদের প্রসন্ন করলেন, 
যোগিনী আর গণলমূহকেও সহাম্তে আশ্বস্ত করলেন। গরুড়ের কাছ 
থেকে গণপতি আর গদাধরের অসামান্ত কার্ধাবলীর কথা তো 
শুনেইছিলেন। তাদেরও দিকে নিক্ষেপ করলেন প্রসন্ন দৃষ্টি। ঠিক 
সেই সময়েই গোলকধাম থেকে সেঁধানে এসে হাজির হল পাঁচটি খেস্ু 
- ন্সুনন্দা, সুুশীলা, সুমনা) সুরভি আর কপিল। তাদের নাম । তাদের 
পয়োধর থেকে অযাচিত দুধ নিঃস্যত হয়ে সেখানে যেন এক দ্বিতীয় 
ছুগ্ধসমুদ্র হয়ে গেল। মহাদেব সেই ন্ুবিশাল হুদের নাম রাখলেন 
“কোপিল তীর্থ । মহেশ্বরের আদেশে দেবগণ সেই তীর্থে সান 
করামাত্রই আবিভূত হলেন অগ্রিজ্ঞাত্বাঃ আজ্যপ, বহিষদ, সোমপাদি 
পিতৃগণ | তাদের আবেদনে, এই তীর্কে মহাদেব করলেন 
পিতৃপুরুষগণের মোক্ষপ্রদ তীথ | দশ-নামে মহাদেব এই তীর্ঘকে 


১৬১ 
কাশী--১১ 


মোক্ষপ্রদ করলেন-_মধুঅবা, ঘৃতকুল্যা, ক্ষীরনিরধি, বৃষভধ্বজ তীখ, 
পৈতামহ, গদাধর, পিতৃ, কাপিল, সুধাথনি আর শিবগয়! তীর্ঘ। তিনি 
তীর্ধোন্ভুত পিতামহগণকে উদ্দেশ করে বললেন । 
“কুতে ক্ষীরময়ং তীথং ত্রেতায়াং মধুমৎ পুনঃ। 
ছাপরে সপিষা পূর্ণণ কলৌ জলময়ং ভবেৎ ॥” (৬২/৮৩) 

_-সত্যযুগে এই তীর্ঘ হবে ক্ষীরময়, ত্রেতায় মধুময়, দ্বাপরে দ্বৃতময় 
আর কলিতে হবে জলমর় | 

যদিও এই তীথ' বারাণপীর সীমার বাইরে তবুও যেহেতু এখানেই 
সকলে প্রথমে আমার বৃষধ্বজ দেখেছে, সেহেতু এখানেই আমি 
্রহ্মা-বিষু-আদিত্য আর আমার পার্দদের নিয়ে বৃষভধ্বজরূপে 
অবস্থান করব । 

ইতিমধ্যে নন্দীকেশ্বর আটটি সিংহ, আটটি বৃষভ, আটটি হস্তী, 
আর আটটি অশ্ব-যোজিত বিশালকায় পরম রমনীয় এক রখ নিয়ে 
পেলেন মহাদেবের কাশীতে প্রবেশের জন্য । চারণদের মঙগলগীত, 
দেববাদ্ধ নিনাদে পরিপূরিত আকাশ-মাটি। বিষুর হাত ধরে 
পিনাকপাঁণি উঠলেন। তেত্রিশ কোটি দেবতা, বিশহাজার কোটি 
গণ, ন'কোটি চামুণ্ডা; এককোটি ভৈরবী, আটকোটি অনুচর-সহ মহাবল 
ময়ুরবাহন, গজানন, সাতকোটি পিচগ্ডিল গণ, ষাট হাজার ব্রচ্গবাদী 
সুনি গৃহমেধি খধি, তিনকোটি নাগ, ছু'কোটি করে দানব আর দৈত্য, 
আট নিষুত গন্ধর্ব, আধকোটি যক্ষ-রাক্ষস, ষাট হাজার অপ্সরা, আট লক্ষ 
গো-মাতৃকাঃ ছ' অযুত গরুড় বংশীয় পাখি, বিশলক্ষ দশহাজার বিদযাধক, 
সপ্ত সাগর, তিপান্ন হাজার নদী, আট হাজার পাহাড়, তিনশ" বনম্পতি 
আর আট দিগহস্তী নিয়ে সুবিপুল আনন্দে পাৰতীপসহ মহাদেব আবার 
ফিরে এলেন স্বীয় পুরী কাশীতে । 


১৬২ 


[ অধ্যায় ৬৩--৬৪ 7 


ভক্তবৎসল সবজ্ঞ দেব মহেশ্বর বারাণ্সীতে প্রবেশ করে প্রথমেই 
দৃষ্টিনিক্ষেপ করলেন একটি গুহার দিকে, যাব অভাস্তরে জৈগীষব্য 
নামে এক খষি ছিলেন গভীর তগপন্তামগ্ন । বুষভবাহন * মহেশ্বর 
ভগবতী গিরিজার সঙ্গে সেই গুহামুখে এসে দাড়ালেন । তারুপর নন্দীকে 
ডেকে দেবগণের সামনেই বললেন- নন্দী, যেদিন' আমি কাশী তাযাগ 
করে মন্দর পৰতে প্রস্থান করি, সেইদিন থেকেই সম-নিয়ম-প্রাণায়াম 
অবলম্বন করে খাদ্য €তো দূরের কথা, জলকণা পর্যস্ত গ্রহণ না করে 
আমার পাদপদ্ম বিলোকনের আশায় জৈগীষবা এই গুহামধ্যে কঠোর 
যোগ সাধনায় রূত রয়েছে । তুমি আমার এই লীলাকমল নিযে, 
গুহামধ্যে গিয়ে তার সবাঙ্গে স্পর্শ করিয়ে, চৈতন্যোদয় ঘটিয়ে তাকে 
এখানে নিয়ে এস। 

জৈগীষব্যের এই যোগ সাধনার কাহিনী একমাত্র মহাদেব ছাড়া 
আর কেউ জানতেন না, তাই দেবগণ-সহ সকলেই বিস্মিত হলেন । 

সেই মুহূর্তটি ছিল--সোমবার, জ্যেষ্টমাস, অনুরাধা নক্ষত্রযুক্ত 
শুক্লু চতুর্দশী । যেহেতু প্রমথনাথ কাশী প্রবেশের প্রথমেই এখানে এই 
সময় এসেছিলেন, তাই এই স্থানটি 'জ্যোষ্ঠ' নামে পর্রিচিত আর ছুই 
স্বয়স্তু লিঙ্গ 'জ্ো্ঠেশ্বর? এবং “জ্যেষ্টাগৌরী? নারী-পুরুষ নিধিশেষে 
মঙ্গলদায়ী। আবার এখানে মহাদেবের কিছুকাল অবস্থান করার 
ফলে, পরে এখানে গনবাসেশ'? নামে এক পরম পবিত্র লিঙ্গ খ্যতিলাভ 
করেছিল । 

নন্দী অতঃপর সেই লীলাকমল নিয়ে প্রমথনাথকে প্রণাম কক্ষে 
প্রবেশ করলেন গুহামধ্যে । খধিবরের গায়ে লীলাকমল স্পর্শ করাতেই 
আনন্দাপ্ুত খধির ধ্যানমগ্জ ভাব অপসারিত হল। চোখ মেলে 
তাকাতেই বাঞ্চিত শশিশেখরকে দেখেই পরমানন্দের হেতুডৃত শিবকে 


১৬৩ 


স্তবার্চন! করে প্রার্থনা জানালেন--হে দেবেশ ! আমি যেন কথনে! 
আপনার চরণান্জ ছাড়! না থাকি আর প্রতিষ্ঠিত শিবলিল্গে আপনি 
সর্বদা অধিষ্ঠান করুন । 
ভবানীপতি তার অভীগ্দ। পূরণ করেও বললেন £ 
“যোগশান্ত্রং ময়! দত্তং তব নিব্বাণসাধকম্‌। 
সব্বেষাং যোগিনাং মধো যোগাচার্যোহস্ত বৈ ভবান্‌ ॥ 
রহস্যং যোগবিদ্যায়! বথাবত্বং তপোধন । 
সৎবেতস্যসে প্রসাদান্মে যেন নির্বাণমাগ্স্যসি ॥৮ ( ৬৩/৭১-৭২) 
_-হে মহাভাগ জৈশীষব্য! আমি তোমাকে পরম নিবাণসাধক 
যোগশান্ত্র প্রদান করলাম | তুমি যোগিগণের মধ্যে যোগাচার্য পদবী 
লাভ করবে । হে তপোধন ! তুমি আমার অনুকম্পায় নিখিল 
যোগশাস্ত্রের রহস্য অবগত হবে আর তার ফলে পরম নিবাণ লাভে 
সমর্থ হবে। 
জ্যেষ্টেশ্বর ক্ষেত্রে জৈগীষব্য প্রতিষ্ঠিত কলিতে গুপ্ত জৈগীষবোশ্বর 
লিঙ্গ যোগসিদ্ধি প্রদাতা! | 
“করিষ্যাম্যত্র সানিধামস্মিল্লিঙ্গে তপোধন | 
যোগসিদ্ধি প্রদ্ানায় সাধকেভ্যঃ সদৈব হি ॥” (৬৩/৮৬) 
--হে তপোধন! তোমার প্রতিষ্ঠিত এই শিবলিঙ্গে আমি সবদা 
থেকে সাধকদের সম্যক যোগসিদ্ধি প্রদান করব । 
এইভাবে তিনি খধি জৈগীষব্কে জরামরণরহিত, নন্দী-ভূঙ্গী- 
সোমনন্দীর পর্যায়ে উন্নীত করে চোখ তুলতেই দেখলেন সামনে 
ক্ষেত্রবাসী সমবেত ব্রাহ্মণ । 
মহাদেব সপরিবারে মন্দরে গমন করলে, ক্ষেত্রসন্ন্যাস গ্রহণ করে 
থেকে গিয়েছিল। তার। দানাদি-গ্রহণ পরিহার করে দণ্ডের দ্বার! 
মাটি খুঁড়ে যেসব মূল আহরণ করত তাই খেয়ে জীবন-যাপন করতেন । 
বন্ছবার এইভাবে খোঁড়ার ফলে সেখানে হয়ে গিয়েছিল এক পুরিণী। 
তাই; তার নাম হয়েছিল দগুখাত'। এই দগুখাতেররই চারদিকে 
গমপংখ্য শিবলিঙ্গ স্থাপন করে মহাদেবের প্রত্যাবর্তন কাল পর্ষস্ত তার) 


১৬১৪ 


কাটিয়েছিলেন কঠোর তপস্ায় । উমাপতির পুনরাগমণ-বার্তা শুনে 
সেই দণ্ডখাত-তীর্থ থেকে এলেন পাঁচ হাজার ব্রাহ্মণ! এছাড়াও, 
মন্দাকিনী তীর্থ থেকে পাশুপাত-ব্রতাবলম্বী ব্রাহ্মণ এলেন অধৃত-সংখ্যক | 
হংসতীর্থ থেকে এলেন তিনশ? অযুত, ছ্ধাস।-তীর্থ থেকে এলেন ছুশ' 
হাজারেরও বেশী। মংসোদরী তীর্থ থেকে ছ' হাজার । কপাল- 
মোচন থেকে সাতশ" ; খণমোচন থেকে ছু হাজারেরও বেশী ; বৈতরণী 
থেকে পাঁচ হাজার ; পৃথুরাজের পৃথোদক তীর্থ থেকে তিনশ” মেনকা 
কুণ্ড থেকে ছুশ'; উর্বশী কুণ্ড থেকে ছুশ' হাজারেরও বেশী; এরাবত 
কুণ্ড থেকে তিনশ? ; গন্ধব কুণ্ড থেকে সাতশ?; অপ্লর! কৃণ্ড থেকে 
ছুশ? ; বুষেশ তীর্থ থেকে তিনশ" নববই ; বক্ষিনী কুণ্ড থেকে তিনশ'র 
বেশী; লক্ষ্মী তীর্থ থেকে ফোলশ'র ও বেশী; পিশাচ-মোচন তীর্থ থেকে 
সাত হাজার ; পিতৃ-কুণ্ড থেকে একশ'র কিছু বেশী, ঞ্ুব-তীর্থ থেকে 
ছ'শ; মানস সরোবর থেকে পাঁচশ? ; ৰান্ুকি হৃদ থেকে দশ হাজার; 
জানকী কুণ্ড থেকে আউশ"; গৌতম কুণ্ড থেকে ন'শ-র বেশী; ছূর্গতি 
লংহরণ তীর্থ থেকে এগারোশ' ব্রাহ্মণ ; অসি-সঙ্গম থেকে আরম্ভ করে 
'সঙ্গমেশ্বর পর্ষস্ত গঙ্গাতীরের আট হাজার পাঁচশে। পঞ্চান্ন জন ব্রাহ্মণ 
শরন্ধার্থ নিয়ে এলেন মহাদেবের কাছে। গন্ধ-পুষ্প-মাল্য-আতপ তগুল 
প্রভৃতি দিয়ে তর গিরিজাপতির পূর্জী-অর্চনা! করে বলল £ 
“ক্ষেমমুণ্তিরিয়ং কাশী ক্ষেমমুক্তির্ভবান্‌ ভব | 
ক্ষেমমুত্তিন্ীপথগানান/ৎ ক্ষেমত্রয়ং কচিৎ॥” ( ৬৪/৩৯ ) 

_-এই কাশী ক্ষেমমৃতি, হে ভব! আপনিও ক্ষেমমূৃতি এবং 
বরপথগা-ও ক্ষেমমৃতি-_-এই তিনের অধিক ক্ষেম-মৃতি আর কোথাও 
নেই। 

সমাগত ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রভক্তিতে অতীব প্রীত হলেন মহেশ্বর এবং 
তাদের অভিলাষ পূরণ করে বললেন-তিনি আর কখনো কাশী 
পর্সিত্যাগ করে অন্থাত্র যাবেন না! এখানে ব্রাহ্মণের কোন অভিশাপই 
মোক্ষ প্রতিবন্ধক হবে না আর দেহাস্ত পর্যস্ত তারা অথণ্ড কাশীবাস 
করবে । অতঃপর দেবদেব তাদের লিঙ্গ-স্থাপন, সংজীবন যাপন এবং 


১৬৫ 


কখনো যেন তারাও এই যোগ-জ্ঞান-মুক্তির ত্রিসঙ্গম অবিমুক্তক্ষেত্র 
পরিত্যাগ করে ন। ঘায়, তার উপদেশ দিয়ে তাদের সামনেই অন্তহিত 


হলেন। 


[ অধ্যায় ৬৫--৬৮ ] 


দেব ফড়ানন অতঃপর কুম্তজ অগন্তাকে লিজ-সন্বন্ধীয় আরো! ধারণ! 
দিতে গিয়ে বললেন” _জোন্েশ্বরের চারদিকে পরাশরেশ্বর, মাগুব্োশ্বর, 
শহ্করেশ্বর জাবালীশ্বর। কথেশ্বর। কাত্যায়নেশ্বর প্রভৃতি সর্বসিদ্ধি প্রদ 
পাচ হাজার শিবলিঙ্গ আছে। 

একবার এখানেই এক অপুৰ ব্যাপার ঘটেছিল। কোন একসময় 
এই জ্ঞোষ্টস্থানে পার্বতীর সঙ্গে মহাদেব বিহার করছিলেন । করতে- 
করতে 'শিবা শুরু করলেন কন্টুক (ভাটা ) খেলা, নিজের মনেই 
ভাটা লোফালুফির নেশায় এমনি মশগুল হয়ে পড়েছিলেন যে, স্বৃবিস্স্ত 
কেশদাম আলুথালু হয়ে কখন যে তা থেকে পুষ্পমাল্য স্থানত্রষ্ট হয়ে 
মাটিতে পড়েছে, গণ্ুদ্য় থেকে স্বেদ-নির্গমন হতে শুরু হয়েছে, উৎক্ষিপ্ 
কন্দুকের পুনঃপুন পতনে কখন যে তার করপন্কজ রক্তরাগে রঞ্জিত হয়ে 
উঠেছে, বক্ষাবৃত বসন স্মলিত হয়ে অঙ্গপ্রভ। বিচ্ছুরিত হতে শুরু 
করেছে? সে-সব দিকে কোন খেয়ালই ছিল ন! পার্বতীর | সেই অবস্থায় 
তাকে দেখল দেব-বরে বলীয়ান গগণ-বিহারী ছুই দৈত্য--বিদল আর 
উৎপল । কাম-প্রপঞ্চে জর্জরিত হয়ে তাকে হরণ-অভিলাষে সেই দুই 
' দৈত্য শাম্বরীমায়া অবলম্বন করে শিবপার্দ রূপে আকাশপথ থেকে, 
অবতরণ করে চঞ্চলচিন্তে এগিয়ে আসতে লাগল পার্ধতীর দিকে। 
সবজ্ঞ মহাদেবের কিন্তু তাদের এই অভিসন্ধি অনুধাবন করতে বিলম্ব হল 
না। ইশার। করলেন শিবাকে। শিবা-ও খেলাচ্ছলে এমনভাবে ছুই কন্টুক' 
ছু'ড়লেন ছুই দৈত্যের দিকে, ষে তার! ভড়িতাহত গাছের সত নিস্প্রাণ 
দেহে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে । আর কন্দুক-ছটি যেখানে গিয়ে পড়ল, 


১৬৬ 


সেখানে প্রাহুভ ত হল এক লিঙ্গ__নাম 'কন্দুকেশ্বর লিল । 

এখানে আরও এক আশ্চর্য ঘটনা! ঘটেছিল, অগস্ত্য, তা-ও শোন । 

দগ্ডখাত-তীর্থে ব্রাহ্মণের ঘখন নিফাম তপন্ঠায় রত, সে-সময় 
প্রহ্নাদের মাম ছুন্দুভি-নিহ্ণাদ, কিভাবে দেবতাদের পরাজিত কর! 
যায়, তার উপায়-চিস্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল। 

অনেক ভেবে ঠিক করল; দেবগণ তো। যজজ্ুভোজী মাত্র । যা কিছু 
যজ্ঞ সবই বেদাধীন, এই বেদ হল ব্রাহ্মণদের অধীন; তাহলে ত্রাহ্মণরাই 
হল দেবতাদের বল। ব্রাহ্মণদের দেওয়া আহার্ষ গ্রহণ করেই দেবগণের 
সাস্থ্য । ইন্দ্রাদি দেবগণ এই ব্রাঙ্গণদের দেওয়া ক্ষমতা বলেই 
বলীয়ান । সুতরাং যদি ব্রাহ্মণদের বিনষ্ট কর। যায়, তাহলে বেদ 
আপনিই নষ্ট হয়ে যাবে । বেদ নষ্ট হলে আর বেদবিহিত যজ্ঞ হবে 
না। ঘজ্ঞ যদি আর ন] হয়, দেবতারা আর আহার্্য পাবে না; আহার 
না! পেলে দেবতারা ভুধল হয়ে পড়বে । তখন তাদের জয় করা, এখর্য 
আত্মসাৎ করে ত্রিভুবনের আধিপত্য কর। কিছুমাত্র কষ্টসাধ্য হবে ন1। 
ছুন্দুভি-নিহাদ এ-ব্যাপারে স্থির-শিশ্চিত হয়ে এবার ভাবতে বসল? 
কোথায় ব্রহ্মাতিজসম্পন্ন বেদণাঠী ব্রাহ্মণরা আছে। ভাবতে-ভাবতে 
দেখলে, বারাণসীতেই এর সংখ্য! বেশী। তাই ঠিক করল, মাগে 
সেখানে গিয়ে সেখানকার ব্রাহ্মণদের নিঃশেষ করবে । তারপর তীর্থ 
থেকে তীর্থান্ত্ন গমন করে যেখানে যত ব্রাহ্মণ পাবে, সকলেরই প্রাণ 
কন্পণ করবে। 

ছন্দুভি-নিহূ্ণাদ কাশীতে এসে উপস্থিত হল এবং মায়া অবলম্বন 
করে নিজ কৃত্য শুরু করে দিল। ব্রাহ্মণেরা সমিধ আহরণে অরণ্যে 
গ্রেলে সেখানে, জলাশয়ে স্নানে গেলে সেখানেও বনচর, জলচর-রূপে 
তাদের প্রাণহ্রণ এমনভাবে করতে আরস্ত করে দিলে যে তার অস্তিত 
সম্বন্ধে কেউ টেরও পেত না। দিনের বেলায় ব্রাহ্মণদের মধ্যে ধ্যান 
নিষ্ঠার ভা করে তাদের কুটির প্রবেশ আর নির্গমদ্বার লক্ষ্য করে 
রাখত | আল্র রাতে বাঘের রূপে এসে তাদের নিঃশেষে ভক্ষণ করত। 
এমনিভাবে অনেক ব্রাক্ষণ নিহত হুল 


১৬৭ 


একদিন শিবরাত্রিতে এক ত্রাহ্ষণ নিজ কুটিরে দেবদেবের পুজা 
শেষে ধ্যানমগ্ন। ছুন্ভুভি-নিহ্াদ ব্যান্রূপে এল তাকে ভক্ষণ করতে । 
তখন আক্রান্ত শরণাগত ভক্তকে রক্ষা এবং দানবকে নিধনের জন্য স্বয়ং 
মহাদেব ভক্ত-পুজিত লিঙ্গ থেকে রূদ্ররূপে আবিভূঁতি হলেন দেখে 
দৈত্যও নিজ মূতি ভূধর প্রমাণ করে তাকে অবজ্ঞা করল। তিনিও 
চকিতে তাকে কুক্ষিগত করে প্রচণ্ড মুষ্টি প্রহার আরম্ভ করলেন। 
ব্যাশ্ররূপী হছুন্্রভি-নিহ্াদ সেই প্রহার এবং নিম্পেণে এতই নিপীড়িত 
হয়ে পড়ল যে তীব্র আর্তনাদ শুরু করে দিলে । সেই আর্তনাদ হঠাৎ 
শুনে সচকিত ব্রাহ্মণগণ সেখানে ছুটে এসে মহাদেবের কুক্ষিমধ্যে 
মুগেশ্বর হুন্দুভিকে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাম ফেলে তার স্তব করলেন। 

সেই থেকে জ্যেষ্টেশ্বরের উত্তরে মহাদেব ব্রাহ্ষণগণের প্রার্থনা 
অনুসারে বিপদত্রাতা 'ব্যান্রেশ্বর শিবলিঙ্গরূপে সেখানে অবস্থান 
করছেন | এর পশ্চিমে অভয়দাত। “উউজেশ্বর লিঙ্গ । 

জ্যেষ্টেশ্বরের চারিদিকে পঞ্চাশ হাজার লিঙ্গ ছাড়াও আবে! অনেক 
শুভদ বাগী, কুণ্ড এবং লিঙ্গ বিদ্যমান । প্রতিটি স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্টিত, 
তার মধ্যে শৈলেশ্বর-লিঙ্গ-র কাহিনী বড়ই চমকপ্রদ । 

পূর্কালে কোন একদিন গিরিরাজ হিমালয়কে প্রসন্ন দেখে, পত্বী 
মেনকা স্বামীকে বললেন, “গিরিজ। উমার বিবাহ দেবার পর থেকে তার 
আর কোন সংবাদ না! পেয়ে মন উৎকণ্ঠায় ভরে উঠেছে । ন! 
জানি উমাপতি বৃষভবাহন, সর্প-বিভূষণ জামাতা মহেশ্বরই বা 
কোথায় ? আমার আশঙ্কা, ব্রাহ্মী প্রভৃতি অষ্টমাতৃকার নিগীড়নে 
নিগীড়িতা হচ্ছে কন্তা উমা । আপনি একটু উদ্যম নিয়ে তাদের সংবাদ 
সংগ্রহ করে আমার উৎকঞ্ঠ। দূর করুন ।' 

অপত্য-ন্লেহাভিষিক্ত গিরিরাজের অন্তুঃকরণ উমার নামে উদ্বেল 
হয়ে উঠল। গিরিরাজ আর কালক্ষেপ না করে; জানি না কন্তা কী 
অবস্থায় আছে এই ভেবে ছুকোটি মুক্তা, ওজন যার চারশ? তোলা, 
একশে। তোলার শুভ্রবর্ণ হীরে, একশো! তোল! ওজনের ছু-লাখ ছন্্র- 
কোণ-বিশিষ্ট অতি তেজোময় বৈছুধমণি, একশে। পল পাঁচকোটি পঞ্মরাগ, 


১৬৮ 


ন'লক্ষ পল পরিমাণ পুষ্পরাগমণি, একলক্ষ গুণ শতপল গোমেদ, আধ- 
কোটি গুণ শতপল ইন্দ্রনীলমণি, নিযুত সংখ্যক শতপল মরকত, 
নকোটি গুণ শতপল বিদ্রেমরত্ব অসংখ্য বিচিত্রৰিচিত্র মন্থণ বন্তর, বনু 
চামর, সদগন্ধ-বিশিষ্ট দ্রবা, অসংখ্য দাস-দাসী আর দ্রব্যসস্ভার নিয়ে 
গিরিজার অন্বেষণে বেরিয়ে বরণাতীরে উপস্থিত নয়ন-মনোহর বারাণসী 
দেখে সেখানে এলেন । অষ্ট মহানিদ্ধির বিচিত্র ভূমিতে পদার্পণ করেই 
মণি-মাণিক্য আর রত্বনিচয় খোচিত প্রাসাদ, রাজপথ, প্রাকার, গুহ, 
গো-পুর প্রভৃতি দেখে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন গিরিরাজ । ভাবলেন, ব্বর্গ- 
মত্য তো দূরের কথা, এই রাশিপ্রমাণ এশ্বর্ধ না আছে বৈকুষ্ঠে, এমন 
কি কুবেরেরও নেই। এই পুরী কোন ভাগ্যবানের হতে পারে ? 
যখন এইরকম চিন্তা পেয়ে রসেছে। গিরিরাজ এমন সময় দেখতে 
পেলেন এক কার্পটিককে ৷ ডাকলেন তাকে, জিজ্ছেস করলেন, এই 
পুরী কার ? কে এর অধিষ্ঠাতা ? এখানে অপূর্ব বস্তু বলতে কি আছে ? 
কাপু্টিক বিক্ষারিত নেত্রে তাকালেন তার দিকে, তারপর 
-বললেন £ 
“অহানি পঞ্চষাণ্যেব ব্যতিক্রাস্তানি মানদ ॥ 
সমায়াতে জগন্নাথে পর্ববতেন্দ্রন্থতাপতো । 
সুন্দরান্মন্দরাদপ্রেদিবোদাসে গতি দিবি ॥ 
যো বৈ জগদধিষ্ঠাতা সোহধিষ্ঠাতাত্র সর্বগঃ। 
স্ব্বদৃকৃ সবর্ধগঃ শবর্বঃ কথং ন জ্ঞায়তে বিভো ॥” (৬৬/৬৬ ৬৮) 
_ “হে মানদ ! পাঁচ ছ'দিন হুল নুপতি দিবোদাস ব্বর্গে গমন করলে 
মুন্দর মন্দর পর্বত থেকে গিরিরাজ সুতাপতি জগন্নাথ ( মহাদেব ) 
এখানে প্রত্যাগমন করেছেন । যিনি জগতের অধিষ্ঠাতা, ধার গতি 
সর্বত্র, যিনি সর্বদ্ষ্টা, সর্বজ্ঞ, সেই গিরিজা-পতি মহেশ্বরই বর্তমানে এই 
পুরীর অধিষ্ঠাতা ; আপনি যে তা জানেন না এটাই বড় বিস্ময়ের | 
সেই গিরিজা-পতি মহেশ্বর. এখন উমার সঙ্গে পরমানন্দ-চিত্তে 
জ্যেচেশ্বর তীর্থে অবস্থান করছেন । 
কন্তা গিরিজার নাম কার্পটিকের কাছে শুনে হর্ধযাহ্নিত হয়ে উঠল 


১৬৯ 


পর্বতরাজের পিতৃহ্ৃদয় । রোমাঞ্চিত হল তমু। আরো! শোনার জন্য' 
উৎকর্ণ হয়ে উঠলেন তিনি । 

তাছাড়া, বিশ্বকর্মা-নিসিত দেবেশের আবাস-প্রাসাদের মত এমন 
সবাঙ্গ-ুন্দর আবাস-প্রাসাদের সংবাদ-ও যে আপনি জানেন না, এটাও 
বড় আশ্চর্ষের ! সূর্ধপ্রভা হতেও অধিক উজ্জ্বল মণিমাণিক্যাদি বনু-বন্ছ 
রত্বময় শলাক! দিয়ে নিম্িত সেই প্রাসাদ-প্রাকার। চতুর্দশ -ভুবনকে 
ধরে রাখার জন্যে বুঝিব। পুরীমধ্যে বিশ্বকর্মী যেখানকার যাবতীক়্ 
লৌন্দর্য এনে স্থাপন করেছেন একশো বারোটা স্তম্ত। প্রতিটি স্তস্ত 
নিমিত চন্দ্রকাস্ত মণি দিয়ে। তাতে শোভা পাচ্ছে ইন্দ্রনীল আর 
পদ্মরাগনিগিত নান! নারীমৃতি_-আরত্রিরতা। তলপেশে পল্মাকারে 
স্চ্ছন্ফটিক প্রস্তরে নিগ়িত। তার ওপর অপরূপ-ভাবে সজ্জিত নীল- 
লোহিত, গীতমন্তিষ্ঠা প্রভৃতি বিচিত্র বর্ণের রত্বময় মৃত্তি। সপ্ত-সমুদ্রের 
যাবতীয় রত্ব যেমন মহাদেবের গণেরা আহরণ করে এনে সেখানে 
ভুগীকৃত করেছে, তেমনি পুঞ্জীকৃত করেছে নাগ'গণের কোষাগার থেকে 
আহত মণি। শিবভক্ত রাবণ নিজে অন্ুচরদের দিয়ে স্ুমের শৃঙ্গ 
থেকে অপর্রিমিত সোনা আনিয়ে প্রাসাদের অভ্যন্তরে তা শিখরাকারে' 
সাজিয়ে রেখেছেন । মহাদেবের প্রাসাদ নিমিত হচ্ছে শুনে, যার যা 
সামর্থ্য, সে তাই নিয়ে এসেছে এখানে | অনেক ভক্ত দিয়েছেন বিচিত্র- 
বর্ণের পতাকা | স্বগাঁয় কামধেন্ু প্রতিদিন এসে তাদের মধুময় ভুধ 
দিয়ে লিঙ্গরূগী বিশ্বেশ্বরকে স্নান করায় | দই, ক্ষীর, আখের রস, ঘ্বুত- 
সমুদ্র প্রতিদিন পঞ্চমুতের কলস দিষে তার অভিষেক হচ্ছে। মলয়াচল 
নিজে মহেশ্বরের অঙ্গ চন্দনলিপ্ত করে তার সেবা করে চলেছে।_আপনি 
এসব কিছুই জানেন না, বড়ই বিস্ময়ের । তবে একথাও ঠিক, তিনি 
স্বেচ্ছায় ন জানালে, তার মর্ম জানতে পারে, সাধ্য কাব ? 

পুলকে-পুলকে রোমাঞ্চিত তন গিরিরাজ জামাতা ঈশ্বরের পরই: 
অতুল বৈভবের কথা শুনে । যখন গিন্সিজাকে তার হাতে তুলে দিয়ে 
ছিলেন, তখন বৃষত্তবাহন তাকে তিনি ঈশ্বর? নামে-মাত্রই জেনেছিজেন,, 
গার কোন পরিচয়ই তিনি তার জানতেন না। জানতেন “শুধু, তার 


১৭৬ 


জামাতা চিশ্বরঃ নিক্ষর্মা, এছাড়া আর কোন আচরণও তার জান। ছিল 
না। এতদিনের এই পরিচয় আজ ষে কার্পটিকের কৃপায় তার কাছে 
পরিক্ষার হয়ে গেল, এতে তার আনন্দ আর ধরে না; 
মনে-মনে এই ভেবে উৎফুল্লিত হলেন গিব্রিরাজ যে তিনি নামে- 
মাত্র ঈশ্বর নন, তিনি পরমেশ্বর $ গুণহীন নি্র্মা নন। সবগুণাধার 
হয়েও ত্রিগুণাতীত, পর ও অপরু । 
“ভূধরাণামহং নাথে। বিশ্বনাথ উমাপতিঃ। 
অহং প্রমিতসম্পত্তির প্রমেয়ধমো হ্াসৌ | 
তুচ্ছপ্রাভৃূতকস্ত্মান্নেদানীমস্ত্য দর্শনম্‌ ॥ 
করিষ্যেছথ করিষ্যামি ব্যাবৃত্তাগত্য কহিচিৎ। 
সম্প্রধার্যেতি মনসি সায়ং স চ গিরীশ্বরঃ ॥৮ (৬৬/১১৩-১১৫) 
--আমি কেবল পবৰতগণের রাজ।, আর আমার উমাপতত বিশ্বনাথ । 
আমার সম্পত্তির পরিমাণ আছে, কিন্তু আমার জামাতার অপ্রমেয় 
সম্পত্তি আমার আনীত এই মকল ধন আঁতি তুচ্ছ; এখন এর সাথে 
দর্শন না করে অন্ত একদিন এসে দেখা করব। 
তখন সন্ধ্যা । মনে-মনে স্থির করেই তিনি তার অন্ুচরদের ডেকে 
বললেন-- শোন; তোমরা সকলেই কমতৎপর । আমার আদেশ, রাত 
শেষ হয়ে স্ধোদয়ের আগেই এখানে একট। শিবালয় তোমরা নির্মাণ 
কর।? 
গিরিরাজের আদেশ-_রজনী প্রভাত হবার আগেই তৈরী হয়ে গেল 
শিবালয় । উজ্জ্বল চন্দ্রকাস্ত মণির এক শিবলিঙ্গ গিব্রিরাজ সেই মন্দিরে 
প্রতিষ্ঠা করে; লিখে রাখলেন বিচিত্র অক্ষরে এক প্রশস্তি। তারপর 
পঞ্চনদ-তুদে স্নান সেরে কালরাজের অর্চনা করে, সেখানেই রত্ুরাজি 
রেখে যেমন নিংশবে এসেছিলেন, তেমনি নিঃশব্দেই নিজাললয়ে প্রস্থান 
করলেন। 
সকালে হুগুন, মুণ্ডন নামে ছুই গণ বরণার তটে অনৃষ্টপূর্ব রূমণীয় 
শিবান্পয় দেখে যেমন বিস্মিত, তেমনি আনন্দিত হয়ে খবর দিতে ছুটল: 
মহাদেবেল্স কাছে। 


১৭১ 


সর্বজ্ঞ দেবাদিদেব সব শুনে, যেন কিছুই জানেন না, এমনি ভান 
করে, পার্তীকে বললেন-__“চল গিরিজা, আমরা এই শিবালয় দর্শন 
করে আমি ।, 

পার্বতীকে সঙ্গে নিয়ে মহাদেব এলেন বরণার তীরে | দেখলেন; 
এককাতের মধ্যে নিমিত সেই অপূর্ব প্রাসাদ, অভ্যন্তরে? চন্দ্রকান্ত- 
শিলাময় অপূর্ব লিঙ্গ এবং প্রশস্তি পাঠ করে পাবতীকে ডেকে বললেন 
--“তোমার পিতার কী অলোকসামান্ট কাজ দেখ |? 

শোনামাত্রই পাবতী হলেন রোমাঞ্চিতা। তিনি মহাদেবকে প্রণাম 
করে পিতৃদেবের প্রতিষিত এই লিঙ্গের মধ্যে সর্বদা অবস্থান করে, 
সকলের মোক্ষ বিধানের প্রার্থনা জানালে দেবদেব সম্মত হলেন। 

পাবতীও প্রসন্নচিত্তে প্রতিশ্রুতি দিলেন-_“শৈলেশ্বরস্ত যে ভক্তাস্তে 
মে পুত্রা ন সংশয়ঃ ;_-এই শৈলেশ্বর লিঙ্গের বার। ভক্ত; তারা শিঃদন্দেহে 
হবে আমার পুত্রস্বরূপ | 


শৈলেশ্বর লিঙ্গ দর্শন শেষে মহাদেব আর পার্ধতীর দৃষ্টিপাত ঘটল 
ইন্দ্রধন্ুর প্রভার আকাশমগ্ডল প্রদীপ করা অদুরবততাঁ এক রত্বময় 
(লেঙগের দিকে । সেখানে এসে বিন্মিতা পার্বতী জিজ্ঞেস করলেন 
মহেশ্বরকে 2 
“দেবদেব জগন্নাথ স্ববভক্তাভয়প্রদ | 
কুতস্ত্যমেতশ্লিঙ্গং হি সপ্তপাতালমূলবৎ ॥ 
জ্বালাজটিলিতাকাশং প্রভাভা সিতদিজ্ম,খম্‌। 
কিমাখ্যং কিং স্বরূপং চ কিম্প্রভাবং ভবাস্তক ॥৮ (৬৭/১০-১১) 
হে সর্বভক্তের অভয়প্রদ দেবদেব জগৎপতি, এই সপ্তপাতাল- 
গামী মূল-সমস্বিত রত্ময় লিঙ্গটি কোথা হতে আবিভূতি হল? জ্যোতি- 
শিখায় আকাশ ও দিজ্মগুল প্রভাদিত এই লিঙ্গের কি নাম? এক 
স্বরূপ কি? প্রভাবই বাকি? 
সর্বজ্ঞ দেবদেব মহেশ্বর বললেন; “তামার পিত। তার পুশ্যাজিত 
কিছু রত্ব সঙ্গে এনেছিলেন তোমার জন্তে। কিন্তু রত্বশালিনী, শেষ 


১৭২ 


পর্যস্ত তিনি তোমায় তা না দিতে পেরে এইখানে রেখে চলে গিয়ে-: 
ছিলেন। তুমি তে। জানো, তোমার বা আমার জন্যে শ্রন্ধার সঙ্গে যে 
ব৷ কিছুই এখানে আম্নুক না কেন, তা! শুভ-পরিণামই লাভ করে। 
তোমার পিতার সেই পরিতাক্ত রত্বরাজিই লিঙ্গরূপ ধারণ করে নিবাণ- 
রূপ রত্ব দানকারী 'রত্বেশ্বর' লিঙ্গ নামে অভিহিত হবে। পার্বতী, 
তোমার পিত। যে রাশীকৃত সোন। এখানে ফেলে রেখে গেছেন, তা 
দিয়ে তুমি এই লিঙ্গের জন্কে একট! প্রাসাদ তৈরী করে দাও ।? 

দেবদেবের আজ্ঞামাত্রেই ভগবতী তার সোমনন্দী-প্রমুখ গণদের 
ডেকে আদেশ দিলে মুহুর্তমধো অতি বিচিত্র চিত্রিত এক প্রাসাদ 
নিমিত হয়ে গেল। 

তখন মহাদেব পাৰতীকে সেই সবসিদ্ধিপ্রদাতা গুহ্াতম রত্বেশবর 
লিঙ্গের প্রসঙ্গে বললেন £ 

“লিঙ্গং ত্বমাদিসংসিদ্ধমেতদ্দেবি শুভপ্রদমূ। 
আবিভূতমিদানীঞ্চ তৎপিতুঃ পুণ্যগৌরবাৎ ॥” (৬৭/২৫) 

-পরম শুভপ্রদ অনাদিসিদ্ধ এই রত্বেশ্বর লিঙ্গ, হে দেবি; 
তোমার পিতার অশেষ পুণ্যবলে এখানে আবিভূত হয়েছেন। 

অনাদিসংসিদ্ধ এই লিঙ্গ সম্বন্ধে মহাশ্র্কর এক ইতিহাস আছে। 
শোন £ 

বহুকাল আগে এইখানে নৃত্য গীত বাদ্যে স্থুনিপুনা কলাবতী নামে 
এক নর্তকী বাস করত । ফাল্তুন মাস। সেদিন শিবরাত্রি । সারারাত 
বিনিদ্র থেকে নৃত্য গীত বাদ্যে কলাবতী অর্চন! করেছিল রত্বেশ্বর 
লিঙ্গের । ফলে, দেহান্তে একই গুণ এবং অসামান্য রূপলাবণা নিয়ে 
সে জন্মগ্রহণ করল গন্ধর্বরাজ বন্ভূতির কন্ঠারপে। কন্যাকে সর্ববিষয়ে 
গুণান্বিতা দেখে পিতার আনন্দের সীমা নেই। ভার নাম হল 
রদ়াবলী। তার ছিল তিন সথী--শশিলেখা, অনঙ্গলেখা আন 
চিত্রলেখা । সবরকম কলাবিদ্যায় এই তিনজনও রত্বাবলীর তুলনায় 
কিছুমাত্র কম ছিল না। 

জন্মাস্তরের সংস্কারবলে সেই গন্বর্বরাজকন্যা রতবাবলী সেবা- 


? 


১৭৩ 


পরায়ণ! হল এই রত্েশ্বর লিঙ্গের । প্রতিদিনই সে তার সেই তিন 
সখীকে নিয়ে গন্ধবলোক থেকে এসে গীতে-গীতে অর্চনা করে যেত। 
একদিন রত্বাবলীর অর্চনা শেষ হয়েছে ; তিন সথী গেছে লিঙ্গ প্রদক্ষিণ 
করতে; সেই অবকাশে আমি লিঙ্গমধ্য হতে তার সামনে একান্তে 
আবিভূতি হয়ে তাকে এই বর দিয়েছিলাম যেআজ রাতে তুমি 
যার সঙ্গে রতিপরায়ণ! হবে, সে-ই হবে তোমার স্বামী । তার নামের 
সঙ্গে থাকবে তোমার নামের সাদৃশ্য ! শুনে, যেমন লজ্জা অন্নুভব 
করেছিল রত্বাবলী, তেমনি মনে মনে অপার আনন্দও লাভ করেছিল। 

আকাশপথে পিতৃগুহে ফেরার সময় সখীদের কাছে নিজের 
সৌভাগ্যের কথা আর গোপন রাখতে না পেরে, বলে ফেলল সবকিছু । 
শুনে, সখীদের আনন্দ আর ধরে না । বললে-_দ্যাখ, একই সঙ্গে আমর! 
যাই; অর্চনা করি। কিন্তু আমাদের ভাগ্যে আর দর্শন হল না। আর 
তুমি কত না ভাগ্যবতী ! দর্শন পেলে বরও লাভ করলে । যাই হোক, 
ঘিনি আসবেন তোমার কাছে গোপনে রাতের অভিসারে, তুমি ভাই। 
ভাকে তোমার বাহুলতায় বেঁধে রেখো। যাতে সকালে এসে আমরা 
দেখতে পাই । --এই বলে যে যার ভবনে চলে গেল। 

পরদিন সুকালে আবার মিলিত হল সযীরা । দেখেই মনে হল 
উপভুক্তা। কিন্তু সেই হর্ষ নেই; নেই সেই উচ্ভ্বাস। নিবাক 
রুতাবলী। সেইভাবেই তার৷ প্রতিদিনের মত এল এই বানাণসীতে | 
গঙ্গায় সান করে রত্বেশ্বর লিঙ্গের দর্শন এবং স্তবাদি শেষে উৎসুক 
সখীদের কাক্ষেস্্ভ়াবলী বললে তার পুধরাত্রির বৃত্তাস্ত। | 

অঙ্গ-সংস্কার এবং মনোরম বেশ-ভূষায় সঙ্জিতা। হয়ে শয়নমন্দিরে 
প্রবেশ করে প্রিয় দর্শনাভিলাষে অতন্দ্র ছিল রত্বাবলী। অপেক্ষমানার 
ছুচোখ-জুড়ে যখন একসময় নেমে এল তন্দ্রা) তখনই সে অনুভৰ 
করলে এক অপবরূপ অঙ্গস্পর্শ । একে তন্দ্রাবেশ। তার ওপর মদির 
তার দেহ-সংগমে এমনি অভিভূত হয়ে পড়েছিল রত্বাবলী, যে লোপ 
পেয়ে .গেল বাহ্াজ্ঞান। এমন সংজ্ঞা তখন তার আর ছিল ন| ষে 
চোখ মেলে দেখে তার প্রিয়তমকে । তারপর) যখন প্রিয়তম তার 


১৭৪ 


গলে যেতে উদ্যত হুল, ঠিক সেই সম্নয়েই সে প্রসারিত কর্পলে তাপ্র 
পু'বাহু। বেজে উঠল এভ জোরে তার হাতের বলয় কিন্কিনী যে, সেই 
স্বপ্লাবেশ গেল টুটে । চোখ মেলে শুধু বিরহানলই দেখল । 
“কিংকুলীয়ঃ সনে বেদ্মি কিংদেশীয় কিমাখ্যকঃ | 
ছনোতি নিতরাং সখ্যস্তদিশ্লেষানলো মহান ॥% ( ৬৭/৭০ ) 

- কোন কুলে তিনি, জাত, কোথায় তার বাস, কী-ই বা তার 
নাম_-কিছুই আমি জানতে পারিনি। এখন আমার হৃদয় জুড়ে 
কেবলমাত্র প্রিয়-বিরহের সম্তাপানল। 

একমাত্র তোমরাই পার আমার এই বিরহজ্বাল৷ জুড়াতে; আমার 
প্রির-মিলনে আমায় সাহাব্য করতে । রত্বাবলীর এই আকুল আবেদন, 
তার ওপর তার মানসিক অবস্থা দেখে উৎকন্টিতা হরে উঠল সখীর!। 
জানা নেই ধার কুল, ধার বাসস্থান, রত্বাবলীর কাছেও যিনি থেকে 
গেছেন অপরিচিত, কিভাবে তার নেবে তার সন্ধান-_সখীর সঙ্গে 
মিলন ঘটাবে তার? 

সখীদের সংশয়াকুল দেখে রত্বাবলীর উৎকণ্ঠা গেল এতই বেড়ে যে 
সে হঠাৎ মূচ্ছা গেল। আতঙ্কিতা সখীরা যখন অনেক চেষ্টা করেও 
তার মুচ্ছ। ভাঙ্গাতে পারলে ন।; তখন নিয়ে এল রত্বেশ্বরের সানজল। 
আর সেই জল তার সর্ধাঙ্গে ছিটিয়ে দেবার সঙ্গে-সঙ্গেই সংজ্ঞ। ফিরে 
পেল রত্বাবলী । আবার সেই বিরহজ্বাল! ৷ 

শেষে রত্বাবলী নিজেই তার প্রিয়তমকে খুঁজে বের করার এক 
উপায় উদ্ভাবন করলে। ডাকলে তার কলানিপুণা সখীপ্নে। 

শশিলেখাকে বললে, স্বর্গবাসী তরুণ যুবকদের ছবি অশাকতে। 
অনঙ্গলেখাকে বললে, পৃথিবীতে ঘত তরুণ যুবক আছে, তাদের ছৰি 
অশকতে | আর চিত্রলেখাকে বললে, পাতাল-তলবাসী যত নবোপগত 
যুবক আছে, সে ষেন তাদের ছবি আঁকে । 

বুদ্ধিচতুর! রদ্বাবলীর অভিপ্রায় অনুসারে তিন সখীই স্থুনিপুণ 
তুলির টানে আাকল ত্রিলোকের যত সুন্দর যুবক ছিল, তাদের 
প্রতিচ্ছবি । রত্বাবলী অভিনিবিষ্টা হল ছবিগুলির দিকে। স্বর্গ-মত্যের 


১৯৭৫ 


যাবতীয় ছবি নিরীক্ষণ করল রত্বাবলী। কিন্তু কোন প্রতিক্রিয়াই 
জাগল না তার মনে । দৈত্য দানব-গন্ধর্ব কুমার, যেখানে যত যুবক 
ছিল; কেউ-ই তার মনে কোন সাড়া জাগাতে পারল না। অতঃপর 
রত্বাবলী নিরীক্ষণ করতে লাগল পাতাল-তলবাসী নাগ-যুবকদের 
চিত্রপট | শেষ, তক্ষক, বাসুকিগোত্র, অনস্ত, কর্কট, ভগ্র প্রভৃতি নাগ- 
বংশজ যুবকদের ওৎমুক্য-সহকারে অবলোকন করতে করতে শঙ্খচুড়- 
বংশজ এক নাগযুবকের ছবি অবলোকন করা মাত্রই; তার প্রতি তার 
দৃষ্টি গেল নিবদ্ধ হয়ে। সার! অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জুড়ে বিছ্যৎং-লতার মত 
খেলতে শুরু করল আবেশ-বিহ্বল লজ্জা । মহাচতুরা চিত্রলেখার তখন 
বুঝতে বাকি রইল না। পরিহাস-ছলে সে সঙ্গে-সঙ্গেই বন্ত্রাঞ্চল দিয়ে 
ঢেকে দিল সেই পটলেখা | নির্বাক রত্বাবলী অন্ফুট অধরে কুটীল কটাক্ষ 
করল চিত্রলেখার দিকে । শশিলেখার ইঙ্গিতে অনঙ্গলেখা সেই চিত্রপট 
থেকে বন্ত্রাঞ্চল অপসারিত করলে রত্বাবলীর দৃষ্টি আবার নিবদ্ধ হল 
সেই যুবকের দিকে । কুম্থুমশরে তাকে ক্রমশই পীড়িতা হয়ে উঠতে 
দেখে চিত্রলেখ। তাকে আশ্বাস দিয়ে বললে £ 
“এতম্তাবগতং সর্ববং দেশনামান্বয়াদিকম্‌। 
মা বিষীদালি সুলভত্তবেষ রত্বেশ্বরাপিত ॥৮ (৬৭/১১০ ) 

_এ'র নাম, ধাম, কুল। সবই আমি জানি, সখী । বিষ হোয়ো। 
না। রত্বেখ্বর-অপিত তোমার এই পতি অনায়াসলভ্য | 

এই বলে প্রার অবশতন্ু রত্বাবলীকে নিয়ে সখীর৷ আকাশমার্গে 
হল গৃহাভিমুখী। পধিমধ্যে পাতালবাসী দানব স্থুবাহু তাদের দেখতে 
পেয়ে, সিংহ যেমন হরিণীকে ধরে নিয়ে যায়, সেইভাবে তাদের 
সকলকেই ধরে নিয়ে গেল নিজেব্প 'মাবাসে | দানবের এই অতকিত 
আক্রমণ আর বলপূর্বক অপহরণে ভীত! হয়ে পরল অসহায়! রত্বাবলী 
আর তার তিন সখী। এখানে এই অবস্থায় তাদের আরাধ্য দেব 
রত্বেশ্বর ছাড়। আব কে রক্ষা করতে পারে। তাই তারা চোখের জলে 
আকুল আবেদন জানাতে লাগল রত্বেশ্বরকে | পাতালোদ্কুত দেবতার 
নাম করে এই বিলাপ অলক্ষ্যে বিচলিত করে তুলল নাগরাজ রত্বচুড়কে। 


১৭৬ 


উৎকর্ণ হলেন রুত্বচ্ড়। কানে এল বালাকণ্ঠের বিলাপ । কালবিলম্ব 
না করে অস্ত্রশস্তে স্জিত হয়ে বাইরে বেরিয়েই ক্রন্দনধ্বনি অনুসরণ 
করে গিয়ে দেখতে পেল রসাসবপানে মত্ত দানবাধম স্থুবাহুকে। 
শিষ্টাচার বিমুখ দানবকে লক্ষ্য করে নাগরাজ ন্ুৃতীক্ষ শর নিক্ষেপ 
করলেন আর স্বাহ্ুও ঘোর বিক্রমে চন্্চুডকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ 
করল গদা ৷ কিন্তু রত্বেশ্বর যার সহায়, এ জগতে কে তার ক্ষাত 
করতে পারে ? নিক্ষিপ্ত মুষল ছিন্ন হল বানে। বানে বিদ্ধ হয়ে 
বিকটাকার দানব প্রাণহীন দেহ নিয়ে লুটিয়ে পরল । নিক্ষিপ্ত বান 
সুবানুর বক্ষ বিদীর্ণ করে আবার ফিরে গেল রত্ুচুড়ের তৃণীরে । 

দানবের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বান ফেলল বটে 
রত্বাবলী আর সথীরা, কিন্তু তাদেরু চিত্ত ছিল এমনি ভয়বিহবল যে, 
কোনমতেই তার! নাগরাজকে স্মরণপথে আনতে পারল না । অপরূপ 
হৃদয়-হরণকারী দেহকান্তি নিয়ে নাগরাজ রতুচুড় তাদের সামনে 
দাড়িয়ে জানতে চাইছে তাদের পরিচয় | মনে হচ্ছে তাদের অতি চেনা 
তবু কিছুতেই চিনতে ন! পেরে নিজেদের পরিচয় থেকে শুরু করে 
রত্বেশ্বরের প্রসাদে রত্বাবলীর সৌভাগ্য এবং হুর্ভাগ্যের সব কাহিনা বলে, 
জানতে চাইল তাব্া মেই যুবকের পরিচয় । 

রত্মচুড নিজ পরিচয় সেই মুহূর্তে গোপন রেখে জানতে চাইল 
তার! রত্বেশ্বর দর্শনে যাবে কিনা । সম্মতি জানালে রতুচুড় তাদের; 
নিয়ে এল এক ক্রীড়া বাগীতটে । বলল, এতে অবতরণ কর । মণ- 
নিঞ্িত বিচিত্র সোপান, হংস-চক্রবাক-জলচর-বিহঙ্গম সমাকুল-সেই 
বালপীজলে নাগরাজের আদেশমত বস্ত্রাচ্ছাদন, গাত্রালংকার-সহ নিমজ্জিত 
হল তারা । তারপর উঠেই যা দেখল তাতে তাদের বিস্ময়ের সীমা- 
পরিসীমা নেই । দেখল, কাশীতে কালরাজের কাছে রত্বেখবর মন্দিরে 
তারা । কেমন করে এই অসম্ভব সম্ভব হল? যাছু নয় তো? সজাগ 
দৃষ্টি নিক্ষেপ করল তারা৷ চারদিকে । এ তো! সামনেই উত্তর-বাহিনা 
গঙ্গা, শঙ্ঘচূড়বাগী আর আললয়, পঞ্চনদ তীর্থ বাগীশ্বরীর মন্বির, 
শঙ্খচূড়েশ্বর শিবলিঙ্গ | এ তো সিদ্ধযষ্টকেশ্বর, সিদ্ধযষ্টক কুণ্ড, মধ্যমেশ্বনর 


১৭৭ 
কাশী---১২ 


লিঙ্গ, বৃদ্ধকালেশ্বরের প্রাসাদ | 

দেখতে-দেখতে যখন তারা অত্যন্ত বিহ্বল হয়ে পরল সেই সময়ে 
সেখানে সহসা ক্ষিপ্রগতিতে এসে উপস্থিত হলেন গন্রবরাজ বন্ুৃভৃতি। 
দেবধি নারদের কাছ থেকে সংবাদ পেয়েই তিনি ছুটে এসেছিলেন 
খানে । নারদ তাকে সব কিছুই বলেছিলেন | তিনি এসেই কণ্ঠাকে 
সন্মেহে আদর করে তার কাছ থেকে আবার সবকিছু জানতে চাইলে 
রত্বাবলী শুধু তাকে দানব-অপহরণের আত্ম এই যুবকের ভদ্ধার্প কাহিনীই 
বললে; বাকি যা! কিছু সব গোপন করে গেল। কিন্তু শশীলেখ৷ 
গন্ধবরাজকে সমুদায় বৃত্তাস্তই শুনিয়ে দিলে। 

গন্ধরবরাজের সঙ্গে যখন সখী-সহ কন্ঠার আলাপ হচ্ছিল, তথন 
কিন্তু রত্ুচুড় সেখানে ছিল না। সে গিয়েছিল দেবালয়ে রত্ষেশ্বরের 
অর্চনা করতে । রত্মচুড প্রতিদিনই তাত্ন নাগলোক থেকে এই 
বাগীমার্গ, যে-পথে ত্বাবলী আর সখীদের নিয়ে এসেছে, এই পঞ্চ 
অবলম্বন করে আমত রত্বেখবরের মন্দিরে ; মন্দাকিনীর জলে স্নান 
করত । আট অঞ্জলি রত দিয়ে পুজা করত, তারপন্ন. আটটি সোনার 
পদ্ম প্রদান করে লিঙ্গ প্রদক্ষিণ করত। তার এই পুজায় সন্তষ্ট হয়ে 
মহাদেব একদিন তাকে স্বপ্লাবেশে দর্শন দিয়ে বর দিয়েছিলেন, তুমি 
নিজবীর্ধে এক দানবকে নিধন করে একটি কন্যারত্ব লাভ করবে । সে-ই 
হবে তোমার পত্বী। হঠাৎ সেই বরের কথা স্মরণে এল রতুচুড়ের। 

লিঙ্গের অর্চনা, প্রদক্ষিণ সেরে মন্দির হতে রতুচুড় নিঙ্ান্ত হতেই 
সখীরা গন্বরাজকে অঙ্গুলী নির্দেশে দেখিয়ে দিল তাদের উদ্বাক্স- 
কর্তাকে। দেখলেন গন্ধবরাজ। বিমোহিত হলেন যুবককে দেখে। 
তারপর তার বংশ পরিচয়াদি নিয়ে নিজেকে ধন্য মনে করে বত্বেশ্বরের 
সামনেই নিজ ছুহিতাকে সম্প্রদান করলেন তার হাতে। অতঃপর 
তাকে নিয়ে গেলেন গন্ধরলোকে | আর সেখানে নিয়ে গিয়ে বিধি 
অনুযায়ী মাঙগলিক কাজ সমাপ্ত করলেন! ব্ত্বাবলীর তিন 'সখী-- 
শশিলেখা। অনঙ্গলেখা। চিত্রলেখা-ও পিতাদের অনুমতি নিযে ঝতুুড়কে 
স্পতিত্বে বরণ করল। রক্ুচুড়-ও একসঙ্গে চারটি গন্বর্বকন্তাকে নিয়ে 


৯৭৮ 


নিজালয়ে ফিরে সুখে জীবন অতিরাহিত রুরেেছিল। 


রত্রীবলীর এই কাহিনী বিশ্বেশ্বর গিরিজাকে শুনিয়ে 
বললেন £ 
“গুপ্তমাসীদিদং লিঙ্গমছ্য যাবৎ সুমধ্যমে ॥ 
তব পিত্রা হিমবতা মম ভক্তেন সব্বথ। | 
পুণ্যাঞ্জিতৈর্মহারতবৈ রত্েশঃ প্রকটীকৃতহ ॥7 (৬৭/২১২-১৩) 
__অফ়ি সুমধ্যমে ! এ বাব এই লিঙ্গ ছিল গুপ্ত । আমার সর- 
সময়ের ভক্ত তোমার পিত। হিমবান: পুণ্যার্জিত অনস্ত রৃত্ে দ্বারা 
একে প্রকাশ করেছেন । 
এই লিঙ্গেরই পুর্বে, পাৰতী, তুমি 'দাক্ষায়নীশ্বর নামে এক লিঙ্গ 
প্রতিষ্ঠা করেছিলে । সেখানে তুমি হলে “অস্থিক! গৌরী? আর আমি 
অন্বিকেশ্বরা । তারই কাছে বিমান তোমার পুত্র ষডানন। 


স্কন্দ বললেন মুনি অগন্ত্যকে_“দেব মহেশ্বর যখন পাবতী নমীপে 
রত্বেশ্বর-লিঙ্গের পুরাকাহিনী নিয়ে আলাপরত, হঠাৎ চতুর্দিক থেকে 
উত্থিত হল আর্তরব “রক্ষা করুন, রক্ষা করুন ! সচকিত হয়ে দেবদেৰ 
দেখলেন, প্রমধগণকে মধিত করে বীর্যমদে মত্ত মৃহ্যামুর-পুত্র গজানুর 
উন্মন্তের মত এগিয়ে আসছে । নহাজার যোজন লম্বা আরু চওড়াতে 
প্রায় তদন্ুরূপ গজান্ুর গতিপথে পর্বতসমূহ চুর্ণ-বিচুর্ণ করে, দিজ্মগুল 
ধুলিজালে আবৃত করে, মেদিনীর বুকে কম্পন তুলে পিঙ্গলনেত্রে প্রায় 
স্থষ্টি-বিধ্বংসী ৷ মহেশ্বর জানতেন, ব্রহ্মার বরে বলীয়ান সে, কাম- 
পরায়ণ কোন পুরুষ বা স্ত্রীর হাতেই সে বধ্য নয়। তখন তিনি নিজেই 
তাকে তান ত্রিশূলাগ্রে বিদ্ধ করলেন । 

বিদ্ধ গজান্ুর এই বরণীয় মৃত্যুকে বরণ করে নিযে বললে--“হে 
ভ্রিশূলপাণি ! আমার এই মৃত্যুকে বর্ধণ করে নিয়েও বলি,-আপনি 
আমার কাছে পরাজিত। কেননা, আপনার ত্রিশুলাগ্রে আপনারই 
মাথার ওপর আমি ছত্রধান্ী হয়ে অবস্থান করছি ।' 


১৭৯ 


গজান্ুরের কথা শুনে ঈষং হাসলেন দেবদেব । তারপর বললেন 
_-তোমার মনোগত অভিলাষ প্রার্থনা কর । আমি তা পূরণ করব ।” 
গজান্ুর তখন প্রার্থনা জানাল--হে দিগ্বাস! আপনি অনুগ্রহ করে 
আমার এই কৃত্তি ( গাত্রচর্ম ) পরিধান করুন। আপনার ত্রিশূলাগ্রিতে 
এখন এটি পবিত্র হয়েছে । এখন আপনার কৃপায় রণাঙ্গণের পণস্বরূপ 
আমার এই কৃত্তি ইষ্টগন্ধী, কোমল এবং শোভনকারক হ'ক। আৰু 
“নামান্তর কৃত্তিবাসান্তে প্রারভ্যান্ততনং দিনম--আর আজ থেকে 
আপনার নাম হক 'কৃত্তিবাস?।? 
স্বন্দে বললেন, দেবদেব মহাদেব গজান্থরের প্রার্থনায় সঙ্গে-সঙ্গে 
সম্মতি জানালেন আর অবিমুক্তক্ষেত্রে রণে ত্যক্ত-দেহ গজাম্ুরুকে 
সেই লিঙ্গে পরিণত করে নাম রাখলেন 'কৃত্তিবাসেশ্বর' | আর বললেন £ 
“রুদ্রাঃ পাশুপতাঃ সিদ্ধ খষয়স্তত্চিন্তকাঃ | 
শান্ত! দাস্তা জিতক্রোধা নিন্দা নিম্পরিগ্রহাঃ ॥ 
অবিমুক্তে স্থিতা যে তু মম ভক্তা মুমুক্ষবঃ | 
মানাপমানযোস্তল্যাঃ সমলোস্ট্রাশ্মকাঞ্চনা2 ॥ 
কৃত্তিবাসেশ্বরে লিঙ্গে স্থান্তেহহং তদনুগ্রহে 1” (৬৮/৩১-৩৪) 
-_অবিমুক্তক্ষেত্রে যাবতীয় রুদ্র, পাশুপত, সিদ্ধ, তত্চিন্তক খাফি 
আছে, যারা শাস্ত, দাস্ত, জিতক্রোধ, নিন্দ, নিষ্পরিগ্রহ, মুমুক্ষু, মান- 
অপমান যাদের কাছে তুলা ; লোষ্ট্র প্রস্তর কাঞ্চন-এ যার। সমদশ, 
আমি এই কৃত্তিবাসেশ্বর লিঙ্গে অবস্থান করব, তাদের অনুগ্রহ করার 
জন্য | 
দেবাদিদেক আরো! বললেন, কলি ও দ্বাপরযুগে মানবকুল হবে 
অতীব নীচাশয়। সদাচারহীন, সত্য ও শৌচে পরাত্ম,খ হয়ে, মায়া, দত্ত, 
লোভ, মোহ আর অহঙ্কারে তারা হবে সমাচ্ছন্ন । ব্রাহ্মণের! লোলুপ 
আর লালসাসক্ত হয়ে শূদ্রান্নসেবী হবে ; সন্ধা) আন, জপ, যজ্ঞ তাদের 
মন থেকে দূরীভূত হবে। তবুও তার! যদি কৃত্তিবাসেশ্বরের শরণাপন্ন 
হয়, তবে অবশ্যই সর্বপাপ বিবজিত হবে । 
দেবদেব দিগম্বর মহেশ্বর এই বলে গজাস্ুরের বিশাল চর্ম মহা- 


৯৮৩ 


উৎসব-সহকারে পরিধান করলেন। সে স্থানে শূলে আক্বোহিত হয়ে 
গজাস্ুর ছত্রীকৃত হয়েছিল, সেখান থেকে শৃল উৎপাটন করতেই, উৎপন্ন 
হল এক বিশাল কুণ্ড। আশ্্য সেই কুণ্ডে একদিন এক ঘটন। 
ঘটেছিল। | 
সেদিন চৈত্র-পূণিমা | কুত্তিবাসেশ্বরের মহোৎসব । সমাগত 
ভক্তবৃন্দ | রাশীকৃত অন্নের উপহার । অনু দেখে নানা পাখি সেখানে এনে 
উপস্থিত হল । স্থুরু হল অন্ন-সংগ্রহের প্রতিযোগিতা । সুরু হল কাকেদের 
মধ্যে লড়াই। হুষ্টপুষ্ট বলবান কাকদের চঞ্চুর আঘাতে প্রায় বিগত- 
প্রাণ হয়ে শুণ্য থেকে অপেক্ষাকৃত ছুবল কাকের। পড়তে লাগল নীচে, 
সেই কুণগডজলে | সকলেই দেখল, পড়া-মাত্রই তারা হংসরূপ ধারণ কনে 
জলে সাতব্নাতে লাগল । সেই থেকে এই তীর্থ হল 'হংসতীর্থ; । 

স্্নদেব অতঃপর মহামুনি অগন্ত্কে বললেন; হে কলসসম্ভব ! এই 
তীর্থ অনাদিসিদ্ধ। মহেশ্বরের সানিধ্যেই আবার এই তীর্থ প্রকটিত 
হয়েছে। শুধু তাই নয়-__ 

“এতানি সিদ্ধলিঙ্গানিচ্ছন্নানি স্থ্যযুগে যুগে । 
অবাপা শস্তুসান্লিব্যং পুনরাবির্ভবন্তি হি॥” (৬৮/৬৪) 

--এইরকম আরও সিদ্ধলিঙ্গ আছে, ষ! যুগে যুগে তিরোহিত হয় ! 
আবার শস্তুর সানিপ্যে পুনরায় আবিভূতি হয়ে থাকে। 

এই হংসতীর্থের চতুর্দিকে হুশো অধুতের বেশী শিবলিঙ্গ আছে। 
সবকটিই মুনিশ্রেষ্ঠদের ছ্বার। প্রতিষ্ঠিত। কাত্যায়নেশ্বর থেকে চ্যবনেশ্বর 
প্রতিটি লিঙ্গই দিদ্ধিপ্রদ | কুত্তিবাসেশ্বরের পশ্চিমে লোমশেশ্বর, উত্তরে 
মালতীশ্বর, ঈশানদিকে অন্তকেখর। তার পাশে জনকেশ্বর । এই 
জনকেশ্বরের উত্তরে “অসিতাঙ্গ' ভৈরব । | 

কৃত্তিবাসেশ্বরের উত্তরে বিকটলোচন। দেবী শুক্ষোদরী ; দেবীর 
নৈষ্তে 'অগ্নিজিহব' বেতাল । এখানেই সেই বেতাল-কুণ্ড; যার জল 
ব্রণ আর বিক্ষোটক জ্বালা নিবারণ করে। এইখানেই পাপবুদ্ধিদের 
বিনাশ এবং ধর্মবুদ্ধিদের রক্ষার জন্য বৃষাকার চতুঃশৃঙ্গ, দিশীর্, ত্রিপাদ, 
সপ্তহস্ত ভয়ঙ্কর রুদ্রমূত্তি অবস্থান করছেন । এই রুদ্রের উত্তরে আছেন 


১৮০ 


'ণি-প্রর্দীপ' নাগ আর বিষব্যাধিহর মণিকুণ্ 


[ অধ্যায় ৬৯--৭০ ] 


অতঃপর দেব ষড়ানন মহামুনি অগস্ত্যকে কাশীর মোক্ষপ্রদ 
শিবলিল-সন্বন্ধে বলতে শুরু করলেন, যা তিনি শুনেছিলেন মাতৃ-পিতৃ 
সকাশে অবস্থান কালে । 

যেখানে দেবাদিদেব গজান্ুরের কৃত্তি বা চর্স-আবরণ পরিধান 
করেছিলেন, সেই স্থানটির নাম হল “কুদ্রাবাস? ॥ 

একদিন মহেশ্বর উমার সঙ্গে অবস্থান করছেন সেই রুদ্রাবাসে, নন্দী, 
এসে সপ্রণত নিবেদন রাখল দেবদেবের কাছে £ 

“তূভূ বন্থেস্তলে যানি শুভান্তায়তনানি হি। 
মুক্তিদান্তপি তানীহ ময়! নীতানি সর্ববতঃ ॥ 
যতো ঘচ্চ সমানীতং যত্র বচ্চ কৃতাম্পদম্‌ । 
কথত্রিষ্যামাহং নাথ ক্ষণং তদবধাধ্যতাম্‌ ॥” (৬৯1৫-৬) 

_-হে দেবদেবেশ ! স্বর্গ, মত্য, পাতালে যেখানে বত আয়তন 
(তীর্থ), আছে সবই আমি এখামে এনেছি । যেখান থেকে যা এনেছি। 
হে নাথ, আমি বলছি, ক্ষণকাল অবধান করুন । 

কুরুক্ষেত্র হতে এখানে এসে আবিভূতি হয়েছেন দেবদেবের স্থান 
নামে মহালিঙ্গ আর তারই সামনে, লোলার্কের পশ্চিমে কুরুক্ষেত্র 
অপেক্ষা কোটিগখণ বেশী ফলদায়ী 'সন্মিহতি' মহাপুক্ষরিণী। বর্তমানে 
এটিই কুরুক্ষেত্র তীর্থ । নৈমিষক্ষেত্র হতে এসেছেন 'ব্রহ্ধাবর্ত কুপ-সহ 
“দেবদেবাখ্য? লিঙ্গ | এটি অবস্থান করছেন ঢুণ্টিরাজের উত্তরে । গোকর্ণ 
হতে এসে কপালমোচনের সামনে সানম্বাদিত্যের কাছে স্বয়ং আবিভূ'তি 
হয়েছেন “মহাবল' লিঙ্গ । প্রভাস-তীর্থ থেকে এসে এখানে খণমোচন 
তীর্থের পুৰে অবস্থান করছেন 'শশিভূষণ? লিঙ্গ । ও স্কারেশ্বর লিঙ্গের 
পুবে অবস্থান করছেন পাপনাশন “মহাকাঁল। পুর তীর্ঘে হতে এসেছেন 


১৮২ 


পুক্ষরের সঙ্গে 'অয়োগন্ধেশ্বর' লিঙ্গ । অবস্থান করছেন মতস্ঠোদরীর 
উত্তরে । অষ্টহাস থেকে “মহানাদেশ্বর' লিঙ্গ এখানে এসে অবস্থান 
করছেন, ভ্রিলোচনের উত্তরদিকে । কামেশ্বরের উত্তরে এসে অবস্থান 
করছেন মরুৎকোট থেকে “মহংকোটেশ্বর? লিঙ্গ । 
বিশ্বস্থান থেকে “বিমলেশ্বর লিঙ্গ এখানে ম্বলীনের পশ্চিমে 
অবস্থান করছেন । মহেন্দ্র-পর্বত থেকে ক্বন্দেশ্বরের সন্গিকটে এসে 
অবস্থান করছেন “মহাব্রত' মহালিঙ্গ ৷ 
“বৃন্দারকবিবুন্দানাং স্তবতাং প্রথমে যুগে | 
উৎপন্নং যন্মহালিঙ্গং ভূমিং ভিত্বা সুছভিদাম্‌॥ 
যহাদেবেতি তৈরুক্তং বন্সনোরথপুরণাৎ | 
মারাণস্াং মহাদেবস্তদারতভ্যাভভবচ্চ যত ॥» (৬৯/২৬-২৭) 
--সত্যযুগে দেবধিগণের স্তুতিকালে স্ুকঠিন মৃত্তিক! ভেদ করে যে 
মহািঙ্গ উৎপন্ন হয়েছিলেন, যেহেতু তিনি মনোরথ পূর্ণ করেছিলেন, 
তাই “মহাদেবনামে আখ্যাত হয়েছিলেন। সেই মহাদেব-লিঙ্গ তদবধি 
বারাণসীতেই অবস্থান করছেন । 
হিরণ্গর্ভ-তীথের পশ্চিমে সর্বরত্বময় প্রামাদস্থিত মহাদেবই হলেন 
এই ক্ষেত্রের অধিষ্ঠাতা ও রক্ষক। গয়াতীর্থ থেকে ফন্তু পর্যস্ত যে 
সাড়ে আট কোটি তীর্থ আছে, সেই তীর গুলির সঙ্গে 'পিতামহেশ্বর? 
লিঙ্গ এখানে আগমন করেছেন | এবং ধর্ম যে ধর্মেশ্বর লিঙ্গকে সাক্ষী 
রেখে এ্রকশ অযুত যুগ তপন্তা করেছিলেন; সেই স্থানে অবস্থান 
করুছেন। প্রয়াগ-তীর্ঘ থেকে নির্বাণ-মণ্ডপের দক্ষিণে এসে অবস্থান 
করছেন 'শৃলটগ্ক" মহেশ্বর। বিনায়কেশ্বরের পূর্বদিকে অবস্থা করছেন 
মহাক্ষেত্র শঙ্কুকর্ণ থেকে এসে 'মহাতেজ' লিঙ্গ । রুদ্রকোটি নামক তীথ 
থেকে করানোর লিঙ্গ এখানে এসে আবিভূতি হয়েছেন পার্বতীশ্বর 
জিঙ্গেব সন্নিকটে । এরই চতুর্দিকে রুদ্রগণের টি যাকে বল! 
হক থাকে 'রদ্রস্থলী | ভুবনেশ্বর ক্ষেত্র থেকে স্বয়ং কৃত্তিবাস এসে 
এখানে কৃত্তিবাস-লিলের মধ্যে অবস্থান করছেন। পাশপাণি গণপতির 
সঙ্গিকটে এসে অবস্থান করছেন মরুজাঙ্গল থেকে “চণ্তীস্বর? লিঙ্। 


১৮৩ 


কালগ্রর তীর্থ থেকে ভগবান 'নীলকণ্ঠ, এসে অবস্থান করছেন দণ্ডকূট 
গণপতির সামনে | 

কাশ্মীর থেকে এসেছেন “বিজয়েশ্বর' লিঙ্গ । ইনি অবস্থান করছেন 
শালটহ্কটের পূবে। ভগবান উদ্ধরেতা” কুম্মাগুক গণপতির সামনে 
এসে অবস্থান করছেন ত্রিদগ্ডাপুরী থেকে । মগ্ুলেশ্বর ক্ষেত্র থেকে 
'ভ্রীকথ লিঙ্গ আগমন করে রয়েছেন মণ্ড-নামক বিনায়কের উত্তরে । 
পিশাচমোচন-তীর্থে ছাগলাণ্ড তীর্থ থেকে এসেছেন “কপদীশ্বর? 
বিকটদস্ত-গণপতির মমীপে এসে অবস্থান করছেন আতম্রাতকেশ্বর থেকে 
স্বরং স্ক্েশ্বর? লিঙ্গ । মধুকেশ্বর থেকে 'জয়ন্ত, নামক মহালিঙ্গ এসে 
রয়েছেন লঙ্বোদর গণপতির সামনে । বিশ্বেশ্বরের পশ্চিমে এসে অবস্থান 
করছেন শ্রীশৈল থেকে দেবদেব “ত্রপুরাস্তক। সৌমাস্থান থেকে 
'কুকটেশ্বর এসে রয়েছেন বক্রতুণ্ড গণপতির কাছে। কুটদস্ত গণপতির 
সামনে জালেশ্বর থেকে 'ত্রশুলী” একদস্ত গণপতির উত্তরে রামেশ্বর 
থেকে 'জটিদেব” ত্রিমুখের পুবে ত্রিসন্ধ্যক্ষেত্র থেকে 'ত্রযম্থক” হরিম্চন্দ্ে- 
শ্বরের সামনে হরিশ্ন্দ্র ক্ষেত্র থেকে 'হরেশ্বর”, চতুবেদেশ্বরের সামনে 
মধামেশ্বর থেকে ভগবান শব এখানে এসে অবস্থান করছেন! আর 
এসেছেন স্থলেশ্বর থেকে “যজ্ঞেশ্বর” মহালিঙ্গ | 
_. জ্ঞানচক্ষুদাতা 'সহত্রাক্ষা লিঙ্গ এখানে এসে অবস্থান করছেন 
শৈলেশ্বরের দক্ষিণে । হ্ধিতক্ষেত্র থেকে এসেছেন হ্যিতেশ্বর! 
মন্ত্রেশ্বরের সন্নিকটে । রুদ্রমহালয় ক্ষেত্র থেকে এসেছেন ভগবান রুদ্র 
অবস্থান করছেন ত্রিপুরেশ্বরের সন্নিকটে । বাণেশ্বর লিঙ্গের কাছে বুষধ্বজ 
ক্ষেত্র থেকে এসেছেন ভগবান “বৃষেশ্বর” | প্রহ্লাদ-কেশবের পশ্চিমে 
অবস্থান করছেন কেদারক্ষেত্র থেকে এসে ঈশোনেশ্বর”। খর্-বিনায়কের 
পূবে ভৈরব-তীর্ঘ থেকে মনোহর 'সংহার ভৈরব? এসেছেন। অর্ধ- 
বিনায়কের পুবে এসেছেন কনখল-তীর্থ থেকে উগ্র1 বস্ত্রাপথ 
মহাক্ষেত্র থেকে ভীমচণ্তীর সন্নিকটে এসেছেন “ভব | দেবদারু বন 
থেকে ভগবান দণ্ী বারাণলীতে এসে দেহলি-বিনায়কের পুৰে লিরূপে 
অবস্থান করছেন । ভদ্রকর্ণ হদ থেকে “ভদ্রকেশ্বর শিবলিজ হুদ-সহ 


১৮৪ 


এখানে এসেছেন। উদ্দগ্ু-গণপতির পৃবে সেই শ্রেষ্ঠতীথ | 
হরিশ্চন্দ্রপুর থেকে "শঙ্কর, যমলিঙ্গ নামক মহাতীর্ঘ থেকে 
কলসেশ্বর॥ নেপাল থেকে 'পশুপতি" করবীরক-তীর্৫থ থেকে কপালীশ্বর' 
দেৰিকাপুর থেকে উমাপতি” মহেশ্বর ক্ষেত্র থেকে দদীপ্তেখবরা,, 
. কায়ারোহণ-ক্ষেত্র থেকে পাশুপত-ব্রতাবলম্বী স্বীয় শিষ্পগণ-সহ আচার্য 
নকুলীশ্বর? গঙ্গাসাগর থেকে 'অমরেশ্বর' লিঙ্গ, সপ্ত-গোদাবরী তীর্থ থেকে 
ভগবান “ভীমেশ্বর" ভূতেশ্বর-ক্ষেত্র থেকে ভগবান “ভন্মগাত্র) নকুলীশ্বর 
থেকে ভগবান স্বয়স্তু' এসে অবস্থান করছেন যথাক্রমে আপনার 
সামনে, চগ্ডেশ্বরের পশ্চিমে, কপালমোচন-তীর্থে, পশুপতীশ্বরের পুৰে, 
উমাপতির সন্গিকটে, নকুলীশ্বরের পুবে আর মহালক্দ্রীশ্বরের 
সামনে । ৃ 
হে দেবাদিদেব ! মন্দর-পবত থেকে খষি ও দেবগণ-সহ আপনি 
কাশীতে এসেছেন শুনে বিন্ধ্য পৰ্ত থেকে “ধরণিবারাহ” এসে অবস্থান 
করছেন প্রয়াগতীর্থের কাছে । এই ধরুণীবারাহের পশ্চিমে কণিকার 
ক্ষেত্র থেকে গদাপাণি শ্রীমান গণপতি। গাণপত্য পদ লাভ করে 
অবস্থান করছেন । মহেশ্বরের দক্ষিণে এসে অবস্থান করছেন হেমকৃট 
পর্বত থেকে ভগবান 'বিরূপাক্ষ । গঙ্গদ্ধার থেকে ত্রহ্গন্ালের পশ্চিমে 
এসে স্থিতি নিয়েছেন “হিমাত্রীশ্বর? লিঙ্গ | 
কৈলাস পর্বত থেকে এখানে আগমন করেছেন গণাধিপ সাত কোটি 
.অন্যান্তা মহাবল গণনিচয়কে সঙ্গে নিয়ে । 
“ছুর্গাণি তৈঃ কৃতানীহ সপ্তব্্গসমানি চ। 
সদ্ধারাণি সযন্ত্রাণি কপাটবিকটানি চ॥ 
কোটিকোটিভটাঢ্যানি সর্বদ্ধিসহিতান্যপি | 
স্ববর্ণরূপ্যতাসত্ৈশ্চ কাংসরীতিকসীসকৈঃ ॥ 
অয়স্কান্তেন কান্তানি দৃঢ়ান্তত্রংলিহান্তপি | 
ততঃ শৈলং মহাতুর্গং তৈঃ কাশীপরিতঃ কৃতম্‌ ॥ 
পরিথাপি কৃতা নিয়! মৎন্োদর্য্যা জলাবিল| | 
মতন্তোদরী ছিধা জাত। বহিরস্তশ্চর] পুনঃ ॥ 


১৮৫ 


তচ্চ তীর্ঘং মহতখ্যাতং মিলিতং গাঙ্গবারিভিঃ | 

যদ] সংহারমার্গেণ গঙ্গাস্তঃ প্রসরেদিহ ॥ 

তদা মস্তোদীতীর্থং লভ্যতে পুণ্যগৌরবাৎ। 

সূর্ধ্যাচন্দ্রমসোঃ পর্ব তদা কোটিগুণং শতম্।1” (৬৯/১৩৩-১৩৮ 

-হে প্রভো ! তারা (গণানিচয়) এখানে এসে স্বর্গ সমান সাতটি 
দুর্গ নির্মাণ করেছেম। সেই সমস্ত ছুর্গে ব্ুতর বিকটাকার কপাট- 
সমূহে আবদ্ধ দ্বার এবং অস্ত্রনক্ষেপের যন্ত্রসমূহও নিমিত হয়েছে । 
সোনা রূপা-তামা-কাসা-পিতল-সীস। দিয়ে ছুর্গগুলি নিসিত | অযস্থাস্ত 
মণির সমান প্রতিটি দুর্গের প্রভা, ছূর্গ গুলি যেমন অতি দৃঢ়, তেমনি 
অতি উদ্চু। তারপরে কাশীর চতুর্দিকে তার। এক শৈল-দুর্গও নির্মাণ 
করেছেন। একটি গভীর পরিখাও খনন করে তারা তা মস্তোদতীর 
জলে পুর্ণ করেছেন । বহিশ্চর এবং অস্তশ্চর-রূপে মক্যোদরীও সেখানে: 
দ্বিধাবিভক্ত হয়েছেন । গঙ্গার সঙ্গে মিলিত হয়ে মৎস্যোদরী তীর্থ অতি 
শ্রেষ্ঠ বলে খ্যাত। বখন গঙ্গাজল দক্ষিণে সঞ্চারিত হয়ে এই তীর্থে 
এসে মেলে, তখন এই তীর্থলাভ অতিশয় পুণ্যবলেই হয়ে থাকে । 
সেখানে সে-সময়ে শতকোটি হৃর্য ও চন্দ্রগ্রহণের পবিত্রতা এসে 
বিন্বাজিত হয় । 
গন্ধমাদন পর্বত থেকে 'ভূভূবঃ-নামে লিঙ্গ এখানে এসে এই 

গণপতির পুবে অবস্থান করছেন । ভোগবতীর সঙ্গে ভগবান 
'হাটকেস্বর? সপ্ত-পাতাল ভেদ করে এখানে আবিভূত হয়েছেন তার 
রত্ুসমূহে অলঙ্কৃত স্ববর্ণময় অবয়ব নিয়ে। শেষ ও বাস্থকি প্রভৃতি 
নাগেরা মণি-মাণিক্য দিয়ে এখানে তার প্রাসাদ নিমাণ করে দিয়েছেন। 
তারালোক থেকে এসেছেন তারকজ্ঞান-দাতা জ্যোতির্ময় লিঙ্গ 
“তারকেশ্বর' । তিনি অবস্থান করছেন জ্ঞানবাগীর সামনে । থে 
স্থানে আপনি কিরাত-রূপ ধারণ করেছিলেন সেই কিরাত-ক্ষেত্র থেকে 
ভগবান “কিরাতেশ্বর' এখানে এসে অবস্থান করছেন তারভূতেশ্বরের 
পিছনে । লক্কাপুরী থেকে “মরুকেশ্বর' লিঙ্গ এখানে এসে নৈষ্কতিদিকে, 
পৌলস্ত্য-রাঘবের পিছনে “নৈষ্ধতেশ্বর' নামে অবস্থিত হয়েছেন। 


১৮৬ 


“পুণ্যং জলপ্রয়ং লিঙ্গং জললিঙ্গং স্থলাদপি । 
আয়াতং তচ্চ গঙ্গায়া জলমধ্যে বাবস্থিতম্‌ ॥” ( ৬৯/১৬১ ) 
স্থল লিঙ্গ হতে পবিত্র জললিঙ্গ ; 'জলপ্রিয়' লিঙ্গ এেখানে এনে 
গঙ্গাজলমধ্যে অবস্থান করছেন । গঙ্গামপো তার প্রাসাদ সবধাতু ও 
সর্বরত্মময়। কোটীশ্বর তীর্থ থেকেও এসেছেন শ্রেষ্ঠ লিঙ্গ অবস্থান 
করছেন জ্যোষ্ঠেশ্বরের পিছনে । নলেশ্বরের সামনে এসে অবস্থান করছেন 
জ্বালামুখী থেকে “অনলেশ্বর লিঙ্গ । বিরূজতীর্থ থেকে দেবদেৰ 
ত্রিলোচন এখানে এসে অনাদিসিদ্ধ “ত্রবিষ্টপ' লিঙ্গে'অবস্থান করছেন । 
অমরকণ্টক থেকে 'প্রণবেশ্বর' এখানে পিলিপিল। তীর্ঘে অবিভূ ত 
হয়েছেন । 
“তদাস্ভাং তারকক্ষেত্রং যদা গঙ্গা ন চাগতা ৷ 
যদৈবাবিরভূৎ কাশী ভ্রেলোক্যাদ্ধরণায় বৈ ॥ 
তদাকৃতি মহল্লিঙ্গং ্বয়মাবিরভূত্ততঃ | 
মহিমানং ন তত্তান্কঃ পরিবেত্তি বিভোক্ধতে 1” (৬৯/১৬৮-১৬৯) 
-_হে প্রভে। ! যখন গঙ্গাও এখানে আসেন নি, কেবল ত্রৈেলোক্য 
উদ্ধারের জন্য কাশী আবিভূতি হয়েছিলেন সেই থেকেই এই লিঙ্গের 
( প্রণবেশ্বর ) আবির্ভাবের কারণে এই ক্ষেত্র “তারকক্ষেত্র' নামে 
বিখ্যাত হয়েছেন। প্রণবাকৃতি সেই মহালিঙ্গ যা স্বয়ং আবিভূতি 
হয়েছেন, হে বিভে।! আপনি ছাড়া আর কেউ-ই তার মহিমা 
অধগত নন। 
সবদিক থেকেই এই সব পুণ্য আয়তন স্বক্ষেত্রে একভাগ রেখে 
সমুদায় অংশ নিয়েই এখানে আপনার অনুজ্ঞায় এসে অবস্থান করছেন। 
বললেন নন্দী । অতঃপর জিজ্ঞাসা করলেন, তার আর কি করণীয় আছে । 
দেবদেব তখন তাকে বললেন £ 
“সবকোট্যস্ত চামুণ্ডা ঘা যত্র নিবসম্তি হি। 
স্বদৈবতাভিঃ সহিতা৷ ভূতবেতালভৈরবৈঃ ॥ 
তাঃ পুৰ্বীরক্ষণার্থায় সবাহনবলায়ুধাঃ | 
প্রতিহ্গং ঘুর্গরূপাঃ পর্রিতঃ পরিবাসয় ॥” ( ৬৯/১৭৭-৭৮ ) 


১৮৭ 


_-নন্দী, ন'কোটি চামুণ্ডার মধ্যে যিনি যেখানে অবস্থান করছেন, 
তাদের সকলকেই নিজ নিজ আয়ুধ, বাহন, দেবতা, ভূত, বেতাল, 
ভৈরব-সহ এখানে এনে প্রতি হছুর্গের চারদিকে অবস্থান করিয়ে এই 
পুরী বুক্ষা করাও । 

স্কন্দ বললেন? অগস্তা ! নন্দীও প্রভুর আদেশ শিরোধার্য করে যে-সব 
দেবীদের অবিমুক্তক্ষেত্রে পুরী রক্ষায় নিযুক্ত করেছিলেন, এবার তার 
ইতিবৃত্ত বলছি। শোন | 

অবিষুক্তক্ষেত্র বারাণনীর পরম ইষ্টদাত্রী দেবী হলেন “বিশালাক্ষী?। 
স্্রপুরুষ নিবিশেষে সবাভীষ্ট-প্রদায়িনী অবস্থান করছেন পিছনে 
গঙ্গায় “বিশাল-তীর্থ? ক্ষেত্রে । গঙ্গা-কেশবের সন্নিকটে ললিতা -তীর্ঘ । 
এখানে ক্ষেত্ররক্ষাকারিণী-রূপে রয়েছেন 'ললিতা' দেবী । বিশালাক্ষী 
দেবীর পুরোভাগে ক্ষেত্রনিবাসী ভক্তগণের বিদ্বনিচয় সংহার করছেন 
'বিশ্বভূজা নামে গৌরী দেবী অবস্থান করে। কাশীতে ক্রুতুবারাহের 
সন্নিকটে অবস্থান করছেন আপদনাশিনী “শবদূতী'__ইনি উ্বহস্ত; 
ত্রিশুলপারিণী | ইন্দ্রেখরের দক্ষিণে অবস্থান করছেন গজরাজোপরি 
স্থিতা বস্রহস্তা "ইন্দ্রাণী? । ক্কন্দেশ্বরের সন্নিকটে মযুরবাহন! “কৌমারী | 
মৃহেশ্বরের দক্ষিণে বুষভবাহিনী 'মাহেশ্বরী? । নিবাণ-নরসিংহের 
সন্নিকটে সুদর্শন চক্রহস্তা 'নারসিংহী' | ত্রন্দেশ্বরের পশ্চিমে 
আত্মজ্ঞানাভিলাষী ব্রাহ্মণ ও যতিদের ব্রহ্মবিষ্ঠা-দায়িনী হংসবাহনা 
'্রাহ্মী?। তৎপরে গেপিগোধিন্দের পশ্চিমে 'নারায়ণী । ইনি ভধ্ৰে 
হস্ত উত্তোলন করে তঞজনী দিয়ে চক্র ঘোব্াচ্ছেন আর শাঙ্গধনু হতে 
শরনিক্ষেপ কবে কাশীর বিদ্বসমূহ দূর করছেন। 

দেবযানীর উত্তরে “বরূপাক্ষী' গৌরী, শৈলেশ্বরের সন্গিকটে তর্জনী 
উত্তোলনকারিণী দেবী 'শৈলেশ্বরী”! অতঃপর আছেন চিত্রঘণ্টা: 
দেবী। ধর্মচাতি এবং পাতকি হলেও কাশীতে চিত্রকুপে স্নান; 
চিত্রগুপ্তেশ্বরের দর্শন অতঃপর চিত্রঘণ্ট। দেবীর পুজা করলে সে ভক্ত 
কখনই চিত্রগুপ্তের দৃষ্টিপথে পতিত হয় না। চিত্রাঙ্গদেশ্বরের পূবে 
যম-যাতনা নিবারণকারিণীদেবী “চিত্রগ্রীবা? । ভদ্রনাগের পুরোভাগে 


৯ উট 


আছেন 'ভদ্রকালী'। সিদ্ধিবিনায়কের পৃৰে 'হরসিদ্ধি' এবং বিধিশ্বরের 
সন্নিকটে অবস্থান করছেন দেবী “বিধি'। প্রয়াগ-তীর্থের পাশে 
শিগড়-মোচনা দেবী নিগড়-ভগ্জনী'। পশুপতীশ্বরের পিছনে 
অমৃতেশ্বরের নিকটে দেবী “অমৃতেশ্বরী'__দক্ষিণহস্তে অমুত-কমগ্ডলু 
আর বামহস্ত অভয়দায়িনী। অমুতেশ্বরের পশ্চিমে প্রপিতামহেশ্বরের 
পুরোভাগে জগৎপালিকা, “সিদ্ধলক্ষ্মী'। প্রপিতামহেশ্বরের পশ্চিমে 
নলকুবর-লিঙ্গের পুরোভাগে জগন্মাতা 'কুজাদেবী । এইখানেই অপর 
এক দেবী অবস্থান করছেন তিনি হলেন “ত্রলোকন্ুন্দরী' গৌরী । 
সাম্বাদিত্যের সমীপে রয়েছেন মহাশক্তি “দীন্তা ৷ 

শ্রীকষ্ঠের সন্নিকটে জগজ্জননী 'মহালক্্রী'। তার উত্তরে দেবী 
'হয়কণ্ঠী, দক্ষিণে পাশহস্ত1 “কৌন্মা? তার বায়ুকোণে দেবী 'শিখীচণ্তী 
অবস্থান করছেন। পাশ এবং মুদগর্হস্তে কাশীর উত্তরদ্ধার রক্ষা 
করছেন ভামেশ্বরের পুরোভাগে অবস্থান করে দেবী ভীমচণ্ডী?। 
বৃষভধবজের দক্ষিণে ক্ষেত্রের বিদ্বনিচয়রূপ তরুপল্লবসমূহ ভক্ষণকারীণী 
দেবী “ছাগবক্তেশ্বরী' । তালরুক্ষের অস্ত্র ধারণ করে সঙ্গমেশ্বরের 
দক্ষিণে অবস্থান করছেন “তালজজ্ঞেশ্বরী' । ইনি আনন্দ-ভবনের 
ভিতরের বিদ্বরাশি দূর করছেন। উদ্দালকেশ্বরের দক্ষিণে উদ্দালক- 
তীর্থে অবস্থান করছেন দেবী “যমদস্ট্রা? । 

পুর্বদিক থেকে ক্ষেত্রের বিদ্বলমূহকে সতত রক্ষা কর্নছেন দারুকেশ্বর- 
এর কাছে দারুকেশ্বর তীর্থে অবস্থান করে দেবী “চর্মমুণ্ডা' | শুফোোদরা 
স্নাহুবদ্ধা, কুটিলোজ্জল-নয়ন।, অনন্ত-বাহু এই দেবীর একহাতে কপাল 
অপর হাতে ছুরি; পাতালে তার তালু ও বদন, আকাশে তার ও, 
পৃথিবীতে তার অধর। পরিধানে হস্তিচ্ আননে সতত বিকট 
হান্ত । মুণাল-নালের মত পাপিদের অস্থিনিচর তিনি অনবরত চর্বন 
করে চলেছেন। কপালমালাই তার আভরণ। লোলাকের উত্তরে 
হয়গ্রীবেশ্বর তীর্ঘে অনুরূপ আর. এক দেখী আছেন। তার নাম 
মহারুণ্ডা' | ইনিও প্রচণ্ডবদনা! কিন্তু কবন্ধমালী। এই ছুই দেবার: 
মধ্যস্থলে মুণ্ডরূপিনী “চামুণ্ড' দেবী অবস্থান করছেন । 


১৮৯ 


মহারুণ্ড দেবীর পশ্চিমে দেবী “্বপ্নেশ্বরী' আর এই শুভ! দেবীর 
পশ্চিমে অবস্থান করে ক্ষেত্রের দক্ষিণভাগ সতত রক্ষা করছেন 
দেবী ছুর্গা। 


[ অধ্যায় ৭১--৭২ ] 


মিত্রাবরুণ-তনয় অগন্ত্য অতঃপর প্রশ্ন রাখেন ফড়াননের কাছে 
দেবীর “হূর্গী' নাম কিভাবেই বা! হল আর কিভাবেই বা! তিনি কাশীতে 
পুজণীয়। হলেন ? 

ষড়ানন বললেন, পুর্লাকালে রুরু-নামে এক দৈত্য ছিল। তার 
পুত্রের নাম ছিল দুর্গ ।. সেই অন্থুর ছর্গ কঠোর তপস্তাবলে পুরুষ- 
মাত্রেরই অজেয় হয়ে একসময় স্বর্গমত্য-পাতালের অধীশ্বর হয়ে 
বসল। মদগর্বে সে এমনি উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল যে, সে নিজেই 
একাধারে ইন্দ্র, বায়ু, চন্দ্র' যম, অগ্ি, বরুণ, কুবের, ঈশান, রুদ্র) সুর্য, 
বস্থুগণের পদ গ্রহণ করে সবময় হয়ে উঠেছিল। তার ভয়ে যতিগণ 
তপস্তা পরিত্যাগ করেছিলেন; ব্রাহ্মণ বেদাধ্যয়ণ থেকে বিরত 
থাকতেন । তার অনুচরেরা যাবতীয় যজ্ঞশাল! বিনষ্ট করে দিয়েছিল। 
সেই ছাতা স্বর্গবাসী দেবগণকে বনবাপী করেছিল। দেব আন 
ঝষিপতীদের নিজ কারাগারে নিক্ষেপ করেছিল। তার অনুচরেরা 
কত সতী-সাধ্বীর সতীত্ব ষে নাশ করেছিল তার ইয়ত্তা নেই। ভয়ে 
দিগাঙ্গনারাও বেশভূষা পরিত্যাগ করে নিজেদের মলিন আচ্ছাদনে 
ঢেকে বাখত। যেমন পরত্বাপহরণে তাদের দৌরাত্ম্য ছিল অপরিসীম, 
তেমনি, তাদের দৌরাত্মোে নদীসমূহ গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য 
হয়েছিল । তারাই মায়াবলে মেঘ হয়ে বারিবর্ণ করত। বীজ 
ন্বোপিত না হলেও বনুন্ধরা তার ভয়ে শস্ত প্রসব করতে বাধ্য 'হুতেন। 
'নুক্ষলমূহও কলভারে 'অবনত থাকতে বাধ্য হত। 
রাজ্যভ্রষ্ট দেবগণ এই অবস্থায় শরণাপন্ন হলেন সাক্ষাৎ মহেশ্বর়ের | 


১৯০ 


“মহেশ্বর ভাকে বিনাশ করার জগ্য পাঠালেন দেবী ভবানীকে। ভবানী 
দেরতাদের অভয় দিয়ে কালবাত্রিনায়ী ভ্রেলোকাসুন্দক্্রী রুদ্রান্িক 
আহ্বান করে ডাকতে পাঠালেন সেই অনুর হুর্গকে। 

কালরাত্রি দৈত্যান্থুরের কাছে গিয়ে বললেন-_দৈত্যরাজ্জ, এই 
অদগবিত ভোগলিগ্সা পরিত্যাগ করে, ইন্দ্রকে এই ত্রিভূবনের অধিপত্য 
দিয়ে নিজের আবাস রসাতলে গমন কর। আর যদি তা না করে 
গরোদ্ধত হও, তাহলে আমার স্বামিনী মহাদেবীর সঙ্গে যুদ্ধার্থে প্রস্তুত 
শুও | দেবীর এই বার্তাই নিয়ে এসেছি তোমার কাছে । 

শুনে একদিকে ক্রোধারুণ-লোচন আর একদিকে কালরাত্রির রূপ- 
'লাবণ্যে লোলুপ হয়ে উঠল দৈত্যরাজ। অস্তঃপুরচাী দাসীদেক্স ডেকে 
প্রমত্তম্বরে বললে--আমার সৌভাগ্যবলেই এমন এক নারীরতু 
স্বেচ্ছায় আমার গৃহে এসেছে! তোমরা একে ধরে অস্তঃপুরে 
নিয়ে বাও |? 

বাধা দিলেন কালরাত্রি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে। বললেন, 
“দৈত্যরাজ ; তুমি রাজনীতিজ্ঞ। আমি সামান্তা একজন -দৃঁভী। 
তোমার মত অধিপতির কী দূতের প্রতি এই আচরণ শোতনীয়? 
আমার মত সামান্া৷ এক দৃতীর প্রতি তোমার মত অধিপতির কী 
এমন অনুরাগ সাজে? আমার স্বামিনীকে রণে পরাঙ্জিত করতে 
পারুলে আমার মত হাজার রমণীকে তুমি স্বেচ্ছাধীন ভোগ করতে 
পারবে । তাকে দেখলে অন্তরে তুমি যেমন স্থুখ লাভ করবে, তোমার 
'চিন্রবাঞ্চিত মনোভিলাষও সফল হবে । অবলা আমাদের কত্রা সুন্দরী- 
শ্রেষ্ঠ | তার সমকক্ষও কেউ নেই । আমি তোমার সঙ্গে থেকেই 
(তোমাকে নিয়ে গিয়ে তাকে দেখিয়ে দেব। তুমি অধীর ন। হয়ে 
তোমার এই অস্তঃপুর-্রক্ষীদের আমায় ধরতে বারণ কল্প ।' 

কালরাত্রির এত কথা শুনেও কাম-ক্রোধে দৈত্যপতি ছুর্গ এতই 
আত্মহারা হয়েছিল যে, তখন অন্য কোন মান্সীর চিন্তাই তার মধ্যে 
আর ছি না| তাই নিবান্ণ করল না অন্তঃপু-রক্ষীদের | নিরুপায় 
/দবী ভখন একটি -মাত্র হঙ্কাদ-ধ্বনি ভুললেন । সেই ধ্বনি অনল হয়ে 


২৯১ 


বাবতীয় রক্ষীদের ভন্মীভূত করে ফেলল। দৈত্যপতি তখন তাক 
দুর্ঘর, দুমূখ, খর-প্রমুখ অধুত অন্ুরকে ডেকে বললে,“ নারীকে 
উন্মুক্ত-কবরী, বিবন্ত্র। করে পাশে বেঁধে নিয়ে এসো | আদেশ-মাত্রেই 
সেই অস্থরের! উদ্ধত হলে, দেবী এক দীর্ঘ নিঃশ্বাস পরিত্যাগ করলেন। 
সেই নিংশ্বাস-বায়ু প্রবল বাত্যার বেগে উড়িয়ে নিয়ে গেল গিরিপ্রমাণ 
সশন্ত্র অনুরদের । তারপর দেবী সে স্থান থেকে নির্গত হবার জন্যে 
নভোমার্গ অবলম্বন করলেন। অস্ত্ররগণও গগণমার্গ সমাচ্ছন্ন করে 
সশস্ত্রে তার পশ্চান্ধাবন করলে । দৈত্যাধিপ ছুর্গঈ-ও শতকোটি রথ, 
হুশে। অরু'দ পরিমিত হস্তী, বায়ুবেশী কোটি অরু্দ পরিমিত অশ্ব আর 
সব ছুরম্ত শক্তিশালী এবং ছূর্দান্ত পদাতি-সমূহ নিয়ে সরোষে যুদ্ধ 
যাত্রা করল । | 
অনস্তর প্রত্যক্ষীভূতা হলেন মহাদেবী বিন্ধ্যাচলবাসিনী | কালরাত্রিও 
উপনীতা৷ হলেন তার সামনে, নিবেদন করলেন দৈত্যের অভিসন্ধি। 
দৈত্যাধিপ ছুর্গ দেখলে মহাদেবীকে । দেখলে, ভূজ-সহস্র-সমান্বিতা 
মহামায়া ভীষণ অস্ত্রশস্ত্রে স্জিতা, রণোল্লাসে উল্লসিতা । অনস্ত 
স্থধাকিরণে যেন পরিপ্লাবিত তার কমণীয় মুখমণ্ডল । অপরূপ লাবণ্যের 
কিরণজালে বেষ্টিত তার জ্যোতন্না-ধবল অনুপম কাস্তি। তার অঙ্গভূষণ 
থেকে বিচ্ছুরিত হচ্ছে মণি-মাণিক্যের ছ্যতি। মহাদেবের নয়নীনলে 
ভন্মীভূত কন্দর্পের পক্ষে তিনি যেন মুত্তিমতী জীবনৌষধি-লতা | 
জগতের যাবতীয় মোহ্সঞ্চারিণী সৌন্দর্যের এমন সমাহার আর নেই। 
দেখা মাত্রই কামশরে জর্জরিত হয়ে উঠল দুর্গ । জন্ত, মহাজন্ত, কুজস্ত, 
বিকটানন, লন্বোদর প্রভৃতি তার অন্থুরশ্রেষ্ঠদের ডেকে আদেশ 
দিল সেঃ 
“ভবতস্বেতেষু চান্তেষু য এতাং বিদ্ধ্যবাসিনীম্‌। 
ধৃত্যা নেষ্যতি বুদ্ধ বা বলেনাপি ছলেন বা ॥ 
তন্তাহমিজ্্পদবীমদ্য দাস্তাম্যসংশরম্‌। 
দৃষ্টে তাং সুন্দরীমগ্য মনে! মে ব্যাকুলং ভবেৎ ॥” (৭১/৭8-৭৫) 
-তোমাদেন্র মধ্যে যে ধুতি ঝ] বুদ্ধি বা বল বা ছল, যে কোন: 


১৯৭ 


উপায়ে বিশ্ধ্যবাসিনীকে ধরে এনে দিতে পারবে, তাকেই আজ আমি 
নিশ্চয়ই ইন্দ্রত্ব প্রদান করব । এই ুন্দীকে দেখে আমার চিত্ত 
সাতিশয় ব্যাকুল হয়েছে । 

কন্দর্পশরজর্জরিত প্রায় বিহ্বল দৈত্যাধিপ হুর্গের আদেশ শুনে 
«এবং অবস্থা দেখে দৈত্যগণ বললে-_-হে মহারাজ ! সামাম্তা এই এক 
বলমণীর জন্যে আপনার এত আকুতির কোন প্রয়োজন আছে কি? 
্বর্গ-মত্য-পাতাল আপনার অধীন । উধর্ব চার-লোক মহ-জন-তপ 
সত্য--তা-ও আপনার অধিকারে । ত্রিভুবনজয়ী আমরা আপনার 
আদেশে স্বয়ং ইন্দ্রকে তার অস্তুঃপুরচারিণীসহ আপনার পায়ের তলান্প 
এনে ফেলে দিতে পারি। স্বয়ং বৈকুষ্ঠটনাথ নিয়ত আপনার আদেশ 
মেনে চলেছেন । তার যে-সমস্ত রমণীয় রড ছিল, তিনি হাসিমুখে তা। 
সবই পাঠিয়ে দিয়েছেন আপনার কাছে । আমর! স্বেচ্ছায় কৈলাস- 
অধিপতিকে ছেড়ে দিয়েছি । তিনি পান করেন বিষ। এতই গরীব 
যে ছাই-ভন্ম। গজচর্ম আর সাপ-ছাড়া তার অন্য কোন ভূষণ নেই। 
একটিমাত্র স্ত্রী। তাকেও আবার আমাদের ভয়ে নিজের অর্ধাঙ্গে 
মিশিয়ে রেখেছেন। তার আবাসভূমিতে একটির বেশী ছুটি চতুষ্পদ 
জন্ত নেই। যে একটা আছে সেটা-ও আবার বুড়ো ষাড়। তার যার! 
অনুগত সঙ্গী তাদেরও পরণে কৌপীন, বিভূতিমাথা দেহ, জটাধারী, 
শ্মশানবাসী | তাদের নিয়ে এসেই বা আমাদের কি লাভ হবে । তাই 
একমাত্র তাদেরই আমর পরিত্যাগ করে রেখেছি। সমুদ্রগণ প্রত্যেক 
দিনই আপনার জন্টে রত্বরাশি পাঠাচ্ছে ; নাগেরা প্রতি সন্ধ্যায় তাদের 
কণার রত্বে প্রদীপ জবালছে। কল্পবৃক্ষ। কামধেন্ু, চিন্তামণিসমূহ আপনার 
অনুগ্রহের অপেক্ষায় এখানেই রয়েছে । বায়ুবরুণ-অগ্নি প্রত্যেকেই 
আপনার সেবা করে চলেছে । আপনার প্রসাদলাভের অপেক্ষায় এ 
বিশ্ব চরাচরে কে নেই? আর এই নারী তো! সামান্তা । একটু ধৈর্য্য 
ধরুন। আমরা জোর করে ওকে ধরে আনছি ।, 

এই বলে সেই মহাবল অন্ভুরেরা গগনবিদাতী রণভেরীধ্বনিতে 


চতুর্দিক এমনি আকুল করে তুলল যে, সমুদ্র সংক্ষুব্ধ হল, গগনচ্যুত হল 


১৯৩ 
কাশী-১৩ 


তার্কারাশি, বসুন্ধর1 কাপতে লাগল, ভীতত-ত্রস্ত হলেন দেবগণ। তখন 
দেবী ভগবতী নিজ শরীর থেকে শয়ে-শায়ে হাজারে-হাজারে ব্রেলোক্য- 
বিজয়া, তারা, ক্ষমা ত্রিপুরা প্রভৃতি ন'কোটি শক্তি উৎপন্ন করলেন। 
তার! দোর্দগ্ড অস্থরদের প্রতিটি অস্ত্র হেলায় প্রতিরোধ করে 
চললেন দেখে জন্ত-প্রমুখ দৈত্যের! সক্রোধে দেবীদের ওপর বর্যাকালীন 
মেঘের ন্যায় অসি, চক্র, তুস্তত্তী, গদা, মুদগর, তোমর, ভিন্দিপাল, কু্ত; 
শল্য, শক্তি প্রভৃতি মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র থেকে সুর করে গাছ, পাথর 
পর্যস্ত নিক্ষেপ করতে লাগপ। বিদ্ধ্যবাসিনী দেবী মহামায়! প্রচণ্ড 
কোদণ্ড গ্রহণ করে বায়ব্যান্ত্রের দ্বারা অক্লেশে অস্তুরদের অক্ত্রহীন করে 
দিলে, স্বয়ং দৈত্যরাজ দূর্গ প্রজ্বলিত এক দুরন্ত শক্তি নিক্ষেপ করলে 
দেবীকে লক্ষ্য করে। কার্ুকে বাণ-সংযোজন করে দেবী তা! হেলাক় 
চুণ করে দিলেন। ছুূর্গাস্থবর তখন তার অন্যতম মহা অস্ত্র চক্র নিক্ষেপ 
করলে, দেবীও তা মাঝপথেই চূর্ণ-বিচুণ করে দিলেন । তখন দৈত্যরাজ 
ইন্দ্রধনুতুল্য স্বীয় সাঙ্গধন্থু তুলে দেবীর হৃদয় লক্ষ্য করে এক শর 
নিক্ষেপ করলে । প্রতিরোধ-প্রয়াস সত্বেও সেই শর দেবীর দিকে 
অপ্রতিহত গতিতে এগিয়ে আসছে দেখে দেবী তখন কোদগুদণ্ডে 
অপর এক বাণ যোজনা করে কালদণ্-সৃশ সেই বাণকে রোধ 
করলেন | অনিবার্ধ সেই বাণকেও প্রতিহত হতে দেখে তখন জ্বালানল- 
সদৃশ এক শুল নিক্ষেপ করলে দেবীর দিকে । দেবী সেটিও মাঝপথে 
বিচুর্ণ করে দিলে; দৈত্যরাজ সক্রোধে নিজের বিশাল গদা নিয়ে সবেগে 
এসে আঘ।ত হানলে দেবীর খাছমুলে। সেই গদাও বাহুমূল স্পর্শ 
করার সঙ্গে-সঙ্গে চুর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেলে, দেবী তাকে নিজের বা-পা 
দিয়ে এত জোরে তার বুকে আঘাত হানলেন যে দৈত্যরাজ 
ভূমিতে নিপতিত হল। আর দেবীর শক্তির মৃত্যুসেনার মত দানৰ- 
সৈম্ত মথিত করে চলল । এদিকে ছুর্গ তখনি উঠে সহস। অদৃশ্য হয়ে 
গেল। 

দৈত্যরাজ ছুর্গ এবার ভূমিতল ত্যাগ করে আশ্রন্প নিল উপরে 
মেঘের আড়ালে । পেখান থেকে শুরু করে দিল ভীব্রবেগে শিলাবৃ্টি 


১৯৪ 


দেবী তা! নিবারণ করলেন শোষণাস্ত্র প্রয়োগ করে। দৈত্যপতি শ্রই 
আক্রমণও প্রতিহত হল দেখে শৈলশিখর-সমূহ উৎপাটন করে আকাশ 
থেকে সজোরে নিক্ষেপ করতে শুরু করলে, দেবী বজ্াস্্র দিয়ে তা-ও 
খণ্ড-খণ্ড করে প্রতিহত করলেন। বারবার সুদারুণ আঘাত-সমূহ 
ব্যর্থ হতে দেখে ছূর্গীস্থর আর স্থির থাকতে না পেরে তার কুগুলদ্বয়- 
শোভিত মস্তক সরৌোষে আন্দোলন করতে-করতে শৈলাকৃতি এক 
গজরূপ নিল দেবীর সামনে । তারপর উন্মন্তের মত প্রধাবিত হল 
দেবীর দিকে । দেবীও কালবিলম্ব না করে পাশাস্থ দিয়ে তাকে বেঁধে 
শুগড ছেদন করে দিলেন। তখন ছর্গীম্ুর ধরলে ক্ষিপ্ত মহিষরপ। 
এই রূপে সে তখন খুরের আঘাতে পর্বতকে যেন সচল করে তুলতে 
লাগল। শিঙ. দিয়ে বিশাল-বিশাল শিলাখণ্ড নিক্ষেপ করতে লাগল 
চতুর্দিকে । সঘন নিঃশ্বাসে তার উৎপাটিত হয়ে পড়তে লাগল মহীরুহের 
দল। সাগর-জল উদ্বেল হয়ে উঠল । তার তীব্র পদ সঞ্চালনে কম্পমানা 
হল ত্রিলাক। ভীত-ত্রস্ত নিখিলকে দেবী আশ্বস্ত করলেন মহিষরূপী 
দুগীন্থরকে ত্রিশূলের আঘাতে । প্রচণ্ড সেই আঘাতে ভূপাতিত 
দর্গান্ুর মুহুর্তে মহিষরূপ পরিত্যাগ করে দেবীর সামনে আবিভূতি 
হল সহর্জৰাহুতে সহস্র আয়ুধ নিয়ে অতি ভীষণাকৃতি মৃত্তিতে । 
আবিভূতি হয়েই নিমেষমধ্যে দেবীকে কুক্ষিগত করে উঠে পড়ল শৃণ্যে। 
তারপর সেখান থেকে সজোরে দেবীকে নীচে নিক্ষেপ করে শরজালে 
তাকে এমনভাবে ঢেকে ফেলল যে, দেবীকে তখন দেখে মনে হচ্ছিল 
ষেন মেধমধ্যে সুপ্ত বিছুম্মালা | তারই মধ্যে দেবী নিজের শরনিকর 
দিয়ে ছুর্গাস্থরের শরসমূহকে বিচ্ছিন্ন করে এমন এক দিব্য মহান্ত 
নিক্ষেপ করলেন যে তা দৈত্যরাজের হৃদয় বিদীর্ণ করে দিলে। সেই 
ভীম আঘাতে বিদীরনহ্ৃদয়। যাতনা-বিকল, ঘৃণিত-লোচন দানব হর্গ 
রক্তের নদী প্রবাহিত করতে-করতে নিষ্পন্দ দেহে লুটিয়ে পড়ল 
মাটিতে । স্বস্তির নিঃশ্বান ফেলল নিখিল জগং। নূর্য, চন্দ্র, "অগ্নি 
নির্ভয়ে আপন-আপন জ্যোতিতে উদ্ভাপিত হয়ে উঠল | হল পুষ্পবৃষ্টি । 
ঝষিগণের সঙ্গে দেবগণও সেই সর্বশক্তিময়ী, সর্বশক্তিন্বরূপিনী মহামায়া, 


১৯৫ 


জগদ্ধাত্রীর মহান্ত্রতি করলেন। এই স্ততি দেবীর প্রসাদে সর্ববিপদ. 
নাশন 'বজপঞ্জর' নামে প্রসিদ্ধ হয়েছিল | 

খষি-গন্ধব চারণগণের সঙ্গে ইন্্রাদি দেবতারাও দেবীর স্তব সমাপ্ত 
করলে, দেবী তাদের নিজ-নিজ অধিকারে প্রতিষ্ঠিত করে বললেন £ 

“অগ্প্রভূতি মে নাম হুর্গেতি খ্যাতিমেষ্যুতি | 
ছর্গ দৈত্যস্ত সমরে পাতনাদতি ছুর্গমাৎ ॥” ( ৭২/৭১) 

দারুণ সংগ্রামে হুর্নামক এই দৈত্যকে পরাভূত করার ফলে 
আজ থেকে জগতে 'ছুর্গা' নামে আখ্যাত হব । 

সেই দেবী দুর্গা তার শক্তিদের নিয়ে কাশীক্ষেত্রের রক্ষাবিধান 
করছেন এবং পুজিতা হচ্ছেন । ছুর্গাকুণ্ডে দান করে বিধান-অনুসারে 
তুর্গতিহারিণী দুর্গার অর্চনা করলে মানব ন'জন্মাজিত পাপ থেকে 
মুক্তিলাভ করে থাকে । 

কাশীক্ষেত্রের মাঝে অবস্থান করে পূধদিক সংরক্ষণ করছেন আরও 
নান দেবী--শতনেত্রা, সহস্রান্তা, অযুতভুজা, অশ্বারূঢা, গজান্া। 
ত্বরিতা, শব-বাহিনী, বিশ্বা আর সৌভাগ্যগৌরী | 

এই নির্বাণক্ষেত্র সবদ1 রক্ষার জন্ত আছেন আটজন ভৈরব-_-রুরু, 
চণ্ড, অসিতাঙ্গ, কপালী, ক্রোধন, উন্মত্তভৈরব, সংহার-ভৈরৰব আর 
ভীষণভৈরব। এদের সঙ্গে আছেন মুণ্ড-কবদ্ধমাল! পরিহিত, কুঠার, 
খর্পর প্রভৃতি বিবিধ অস্ত্রশস্ত্র হস্তে, বিশাল দস্ত, প্রকাণ্ড বাহুষুক্ত, 
রুধিরান্ত। বিষুক্তকেশ, দিখ্বসন, শোনিতাসব পানে প্রমন্ত স্থান্ুরূপ 
কোটি-কোটি অনুচর-বেষ্টিত নানা আকৃতির মহাভীষণমূতি কুব্ধুর-বাহন 
চৌধট্রি বেতাল। অগস্ত্য, এদের মধ্যে কয়েকটা নাম বলছি শোন । 
বিছ্যজ্জিহব, লোলজিহব, ক্রুরান্ত, জ্কুরলোচন, উগ্র, বিকটদংস্ট বক্রান্য, 
বক্রনাসিকা জস্তক, জ্বালানেত্র' বুকোদর, ধ্বগ্রীব, মহাহনু প্রভৃতি । 

ব্রেলোক্যবিজয়! থেকে শুরু করে জ্বালামুখী পর্যন্ত যে শক্তিরা 
আয়ুধ হস্তে ছুর্গানুরের সঙ্গে সংগ্রাম করেছিলেন, তারা নিজ নিজ অস্ত্র 
সহ সব-সময়ই কাশীর চতুদিক পরিভ্রমণ করে এই ঘবিষুক্তক্ষেত্রের 
যাবতীয় বিদ্ব নাশ করছেন । 


১৪৯৬ 


| অধ্যায় ৭৩ ] 


: ষড়ানন স্বন্দ বললেন; কাশীক্ষেত্র জুড়ে যখন লিঙ্গলমূহের অবস্থান 
+ববৃত হবার পর দেবী জিড্ডেস, করেছিলেন-_হে দেবদেব, মোক্ষলক্্ীর 
গৃহস্বরূপ এই কাশী আপনার যেমন প্রিয় আমার কাছেও তেমনি 
গ্রীতিপ্রদ। এখানে যে সমুদায় লিঙ্গ আছেন সকলেই মুক্তির কারণ, 
্বয়স্তু-_সংশয় নেই, তবুও “কাশ্যামনাদিলিদ্ধানি কানি লিঙ্গানি শঙ্কর ॥ 
যত্র দেবঃ সদ তিষ্ঠেং সংবর্তেহপি সবল্পভঃ। যৈরিয়ং প্রথিতিং প্রাপ্ত 
কাশী মুক্তিপুরীতি চ ॥৮ ( ১২-১৩)--হে শঙ্কর ! কাশীতে কোন কোন 
'লিঙ্গ অনাদিসিদ্ধ ? সেই সমুদায় লিঙ্গে আপনার সঙ্গে আমার নিত্য 
অধিষ্ঠানের ফলে এই কাশী 'মুক্তিপুরী' হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছে, 
তাদের কথা বিশেষরূপে বলুন | 

দেবদেব বললেন- ব্রহ্মা, নারায়ণ প্রভৃতি দেবগণও যা জানেন না, 
সেই অতি গুহ্য কথা তোমায় বলছি শোন । সিদ্ধ, গন্ধ, বক্ষ, চারণ, 
রাক্ষস, মানব, দানব, উরগ, অগ্সর] প্রভৃতি প্রত্যেকেই নিজ নিজ 
নামে এখানে লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্থল এবং স্ঙ্ষ্মরূপে সংখ্যাতীত 
সেই সৰ লিঙ্গের মধ্যে কতকগুলি রত্বময়, কতকগুলি ধাতুময়। বেশীর 
ভাগই প্রস্তরময়। অনেক গুলিই স্বয়স্তু। এক সময় আমি গণনা করে 
দেখেছিলাম ভাদের সংখ্যা ছিল পরার্ধশত (এক কোটির একশে। গু৭)। 
তার পরেও আমার ভক্কেরা এখানে এত লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন যে 
তা গুণে শেষ করা যায় না। এদের মধ্যে প্রণবেশ্বর। ভ্রিলোচন। 
মহাদেব, কৃত্তিবাস, রত্বেশ্বর। চক্রেশ্বর। কেদারেশ্বর। ধর্মেশ্বর, বীরেশ্বর, 
কামেশ্বর, বিশ্বকর্েশ্বর, মণিকণিকেশ্বর, অবিমুক্তেশ্বর এবং বিশ্বেখবর-_ 
আমার এই চোদ্দটি মহালিঙ্গ এবং সবকটিই নিঃশ্রেরস। “এতেষাং 
সমবায়োহং মুক্তিক্ষেত্রমিহেরিতম্ণ_-এদের সমবায়ের কারণেই এই 
ক্ষেত্র-মুক্তিক্ষেত্র। 


১৯৭ 


শোনার পর অগন্ত্য কাশীতে আরে! মুক্তিপ্রদ লিঙ্গের পরিচয়: 
জানতে আগ্রহ -প্রকাশ করলে দেবদেব মহেশ্বকন দেবী পার্বতীকে যা 
বলেছিলেন, তা শোনাতে লাগলেন। দেবদেব বলেছিলেন, হে 
পার্বতী ! এক একটি ভূবনের সার গ্রহণ করে অবিষুক্তক্ষেত্রের হৃদয়- 
স্বরূপ আরও চোদ্দটি মুক্তিপ্রদ লিঙ্গ আমি রক্ষা করছি। সেঞ্চলি 
হলেন-_অম্বতেশ্বর। তারকেশ্বরঃ জ্হানেশ্বর। করুণেশ্বর। মোক্ষদ্বারেশ্বর। 
ত্ব্গদ্ারেশ্বর, ব্রন্দেশ্বর, লাঙ্গলেশ্বর, বৃদ্ধকালেশ্বর, বৃষেশ্বর, চ্তীশ্বর। 
নন্দিকেশ্বর? মহেশ্বর আর জ্যোতীরূপেশ্বর । এগুলি ছাড়াও মুক্তিপ্রদ 
আরে! চোদ্দটি লিঙ্গের সন্ধান দিয়েছিলেন দেবদেব, দেবী পার্বতীকে। 
সেুলি হল-_-শৈলেশ্বর, সঙ্গমেশ্বর) স্বলর্শনেশ্বর। মধ্যমেশ্বর, হিরণা- 
গর্ভেশ্বর, ঈশানেশ্বর, গোপ্রেক্ষেশ্বর, বৃষভধবজ, উপশান্তশিব, জ্যে্েশ্বর। 
নিবাসেশ্বর, শুক্রেশ্বর, বাভরেশ্বর, আর জন্বুকেশ্বর | 
বলে, দেব বলেছিলেন ঃ 
“ক্ষেত্রস্তোপনিষচ্চৈষ! মুক্তিবীজমিদং পরম্‌। 
কম্মকাননাদাবাগ্সিরেষা লিঙ্গাবলিঃ প্রিয়ে ॥৮--( ৭৩/৬৭ ) 
_হে প্রিয়ে এই ক্ষেত্রের এই হল উপনিষদ ও মুক্তির পরম বীজ । 
এই লিঙ্গগুলিই কর্মরূপ কাননের পক্ষে দাবানল-স্বরূপ । 
সোৎম্্রকে দেবী এবার ক্রমানুসারে প্রতিটি লিঙ্গের ইতিবৃত্ত জানতে 
চাইলে, প্রথমে প্রণবেশ্বর সম্পর্কে মহাদেব বললেন £ 
“কথামাকর্ণয়াপণে বর্ণয়ামি তবাগ্রতঃ | 
বথোক্কারস্য লিঙ্গস্থ প্রাহুর্ভাব ইহাভবৎ ॥” ( ৭৩/৭৬ ) 
-হে অপর্ণে! যেভাবে এই ক্ষেত্রে ওস্কারেশ্বর লিঙ্গের আবির্ভাব 
হয়েছে; তা বলছি, শোন । ৰ 
কোন এক সময় ব্রহ্মা এই আনন্দ-কাননে কঠোর তপস্তায় রত 
হলেন! এই নিশ্চল তপস্তায় যখন তাবু হাজার যুগ অতিক্রান্ত তখন 
একদিন ভার সামনে আবিরভূতি হল সপ্তপাতাল ভেদ করে এক 
মহাজ্যোতি। প্রকাশমান সেই তেজের শব্দে ধীরে ধীরে নিমীলিত- 
নেত্র ব্রহ্ম! সমাধি থেকে উঠে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই দেখলেন আছ্চক্ষরর 


১৯৮ 


“আ'-কার-__সত্বগুণসম্পন্ন, খকৃক্ষেত্র তমঃপারে প্রতিষ্ঠিত স্প্টিপালক 
সাক্ষাৎ নারায়ণাত্মক। তারই সামনে দেখলেন অন্ধ তমসানুভূতির 
সদন-ন্যরূপ এবং সাক্ষাৎ বিধাতৃম্বরূপ রজোরূপ যজুঃক্ষেত্র। তার 
সামলে দেখলেন; তমোরূপ সামক্ষেত্র “ম'কাবু-কে। লয়ের কারণ 
বন্দ্রূপে । তার পুরোভাগে দেখলেন £ 
“বিশ্বরূপময়াকারং সগুণং বাপি নিগুপম্‌। 
অনাখ্যনাদসদনং পরমানন্দবিগ্রহম্‌। 
শব্দব্রন্মেতি যত খ্যাতং সব্ববাজ্ময়কারণম্‌। 
অধোপরিষ্টান্নাদস্ত বিন্দুরূপং পরাৎপরম্‌ ॥ ( ৭৩/৮৬-৮৭ ) 
-_বিশ্ব ব্রহ্গাপ্তরূপ সগুণ অথচ নিগুণ অনাখ্য নাদ-সদন, পরুমানন্দ 
বিগ্রহ, বাত্মর়তনু ধিনি শব্রব্রন্ষরূপে খ্যাত; তার উপরে নাদের 
পরাৎপর বিন্দুরূপ । 
কারণসমূহেরও আদিকারণ এবং জগতের উৎপত্তিস্থল; রক্ষক সেই 
পরমার্থ 'প্রণব-রূপে নিদিষ্ট হলেন। 
ব্রহ্মা দেখলেন-্যার অনুশীলনে ভক্তগণ উন্নত হয় “গম্-কেঃ 
দেখলেন_-জাপকগণের সংসার-সমুদ্র হতে তারণকারী 'তার'কে ; 
দেখলেন- _নিবাণাভিলাষী ব্যক্তির দ্বারা যিনি সবাপেক্ষা বিশেষরূপে 
সতত হন, সেই 'প্রণবাকে; দেখলেন--পরমপদে আনয়নকারী 
পরাৎপরুকে । 
“ত্রয়ীময়স্ত্রীয়ো যন্তর্ধযাতীভোহখিলাত্মকঃ | 
নাদবিন্দুস্বরূপো! যঃ স প্রৈক্ষি ছিজগামিনা ॥” ( ৭৩/৯৩ ) 
_ ঘিনি ত্রয়ীময়, তুরীয়, তুর্যযাতীত, অখিলাত্মক, নাদবিন্দুষ্বরূপ, 
ব্রহ্মা তাকেই দর্শন করলেন । 
দর্শন করলেন ব্রহ্মা বেদেরও আদিপুরুষকে। পরমাজ্মাকে তেজোময় 
বৃষভরূপে ধিনি মন্ত্র ব্রাহ্মণ এবং কল্প-_এই ভ্রিবিধ বন্ধনে বারবার 
রোদন করেছিলেন । দর্শন করলেন সেই দেবকে ধার চারটি শৃঙ্গ 
সাতটি হাত, ছুটি মাথা, তিনটি পা। দেখলেন বীজরহিত সেই বীঙ্গকে 
ধার মধ্যে ভূত, ভবিষ্যৎ বর্তমান লীন। আব্রক্ষস্তস্ব ধার মধ্যে বিলীন 


১৯৯) 


এবং অন্বেষিত হয়| ব্রহ্া সেই লিঙ্গকে দর্শন করলেন। 
“পঞ্চার্থা যত্র ভাসম্তে পঞ্চব্রহ্ধময়ং হি বৎ। 
আদি পঞ্চন্বরূপং যন্িরৈক্ষি ব্রহ্মণ। হি তৎ॥” ( ৭৩/৯৯) 

- পঞ্চ অর্থ (সৎ চিৎ, আনন্দ, নাম ও রূপ ) ধার মধ্যে প্রকাশিত, 
ধিনি নিজে পঞ্তব্রন্মময় (চারিবেদ আর পুরাণ ), যিনি আদি পঞ্চস্বরূপ 
( অ-কারাদি পঞ্চাক্ষর ধার নাম এবং রূপ ), ব্রহ্ম! তাকে দেখলেন । 

ব্রহ্মা সেই আদিপুরুষ শঙ্করকে দেখে আবেগাপ্তুত স্বরচিত স্তবের 
দ্বার তার অর্চনা করলে, দেবদেব সেই লিঙ্গমধ্য হতে শাঙ্করী মৃতিতে 
চতুরাননের সামনে আবির্ভূত হলে ব্রহ্মা গদগদন্বরে তার জয় দিলেন 
আর প্রার্থন জানালেন-__হে শঙ্কর ! এই লিঙ্গ আপনার সতত 
সানিধ্যে মুক্তিপ্রদ 'প্রণবেশ্বর? নামে আখ্যাত হক। 

ব্রহ্মার এই আকুতিভর প্রার্থনায় সম্মতি জানিয়ে ভগবান শঙ্কর 
বলেছিলেন-_-তোমার তপস্তার ফলে প্রণব-স্বরূপ অ-কার, উ-কার; 
ম-কার, নাদ ও বিন্ুসংজ্ঞক এবং পঞ্চায়তন শবব্রহ্মময় মুক্তিপ্রদ এই 
লিঙ্গ আনন্দ-কাননে উ্িত হয়ে অবস্থান করছেন জীবের মুক্তির জন্ত | 
মৎন্যোদরী তীর্থে সান করে এই লিঙ্গ-দর্শনে আর পুণর্জন্ম হয় না । 

“যদেতৎ কাপিলং জ্যোতিরেতল্লিঙ্গে বিলোক্যতে । 
অতন্তব কপিলেশাখ্যমেতল্লিলং স্থৃহুলভম্‌ ॥৮ ( ৭৩|১৫৭ ) 

- পার্বতী, যেহেতু কপিল অর্থাৎ নারায়ণ-সন্বন্ধীয় জ্যোতি এই 
স্তুর্লভ লিঙ্গে পরিদৃষ্ট হয়, সেহেতু এই লিঙ্গ 'কপিলেশ?। 

মতক্যোদক্নী যখন গঙ্গা এবং এই কপিলেশের সন্পিকটবর্তাঁ হন, 
গঙ্গা ও বরণার সঙ্গে যখন এই তীর্থের মিলন ঘটে, বিশেষ করে 
অষ্টমী এবং চতুর্দশী তিথিতে যখন যাটকোটি হাজার তীর্থ নিয়ে 
মতস্যোদরী পুণ্যময়ী হয়ে ওঠেন, তখন এই তীর্থে ্সান এবং 
প্রণবেশ্বর দর্শন নিশ্চিত মুক্তির কারণ | এই প্রণবেশ্বরের পশ্চিমে 
হরগতি-নাশন শ্রেষ্ঠ 'তারতীর্ঘ?। 

মহাদেব এইভাবে ব্রহ্মার তপস্তায় উদ্ভুত লিঙ্গের প্রতিষ্ঠা করিয়ে 
ব্রদ্মাকে বললেন 2 


২০০ 


“সুরুশ্রেষ্ঠ তপঃশ্রেষ্ঠ সব্ববায়ায়নিধির্ভব | 
স্থষ্টেঃ করণসামর্থ্যং তবাস্ত মদনুগ্রহাৎ ॥ 
পিতামহস্বং সর্ধ্রেষং সব্ব্বেষাং মাস্তভূর্ভবান্‌।” (৭৩/১৫০-৫১) 
__হে স্থুরশ্রেষ্ঠ, তাপমশ্রেষ্ঠ ! তুমি অখিল বেদের আশ্রয় হও 
আর আমার অনুগ্রহবলে তোমার লোকন্গি করবার সামর্থা হক। 
তুমি সকলেরই পিতামহ এরং সকলেরই মান্ত হবে। 
এই বলে বিশ্বচরাচর স্থজনের আদেশ দিয়ে শঙ্কর সেই লিঙ্গ মধো 
লীন হলেন । 
আজও ব্রহ্মা স্বরচিত স্তোত্র-পাঠ এবং লিঙ্গের অর্চনা করে 
চলেছেন । 


] অধ্যায় ৭৪ ] 


দেব ক্ষন্দ অতঃপর মহামুনি অগন্ত্যের কাছে প্রণবেশ্বরের মাহাত্ম্য 
কীর্তন শুরু করলেন। 

পদ্মকল্পে খধি-ভারদ্বাজের সবগুণসম্পন্ন, সর্বশান্ত্রবিশারদ, তপোনিষ্ঠ 
এক পুত্র ছিলেন । তার নাম দমন ॥ অতি অল্প বয়সেই 'সংসারং 
হঃখবছলং জীবিতং চাপি চঞ্চলম্ঠ__ছুঃখবহ এই সংসার এবং জীবন-ও 
চঞ্চল--এই সত্য অনুধাবন করে শাস্তিলাভের আশায় সংসার 
পরিত্যাগ করে বাণপ্রস্থ নিযে যেখানে যত তীর্থস্থান, তপোবন 
দেবায়তন আছে সর্বত্র পরিভ্রমণ করলেন। বেদাধ্যায়ী ত্রাহ্মণতনয় 
এই পরিভ্রমণ কালেই তীর্থে তীর্থে স্নান; কোটি-কোটি মন্ত্র 
গিরিগহ্বরে, মহাশ্শাণে যম নিয়ম সহকারে তপস্তা, বহুবিধ আচার্ষের 
সেবা করে বেড়ালেন দীর্ঘদিন ধরে । কিন্তু, এমন কোন আকাঙ্ঙ্ষিত 
তত্বোপদেষ্টার সন্ধান পেলেন না, যিনি তাকে সেই পরমতম শাস্তি 
পথের সন্ধান দিতে পারলেন । 

তাই বিক্ষুব্ধ চিত্তে খধিভনয় দমন তবুও নিরাশ না হয়ে ঘুঝে 


" ২৬৯ 


বেডাতে-বেড়াতে একদিন দৈবযোগে উপস্থিত হলেন রেবা-তীকে 
অমরকণ্টক তীর্থে। তান্ই. কাছে পরম পবিত্র প্রণবেশ্বরের বৃহৎ 
আয়তন । দেখলেন, সেই আয়তনে বিভূতিভূষিত বপু; শিবলিঙ্গাচ 
নারত, বেদাস্তবিচার-পরায়ণ পাশুপাত তপস্বিগণ বসে আছেন অতি 
বুদ্ধ তপঃকৃশ এক আচাধেত সামনে | দর্শন মাত্রেই দমনের অস্তপ্- 
চাঞ্চল্যের তীব্রতা যেন অনেকখানি হাস পেয়ে গেল; অশান্ত মনে, 
যেন শান্তির প্রবাহ প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠল। আর স্থির থাকতে না 
পেরে কৃতাঞ্জলিপুটে উপবেশন করল দমন সেই আচার্ষের সামনে 
নতমস্তকে | আচার্য হলেন মহামুনি গর্গ । 
এক বীতরাগ তরুণকে তার সামনে উপবেশন করতে দেখে গর্গ 
জানতে চাইলেন_কে তুমি? কোথা থেকে আসছ ? দেখে মনে, 
হচ্ছে সংসার-বন্ধনে বীতস্পৃহ__কারণ কি! 
দমন আনুপুধিক তার কাহিনী বিবৃত করে বললেন £ 
“মনসঃ হর্যযমাপন্নমিব সন্প্রাপ্তসিদ্ধিন। | 
অবশ্যং ত্ন্ুখাস্তোজাদ্‌ যদ্ধচো৷ নিঃসরিষ্যুতি ॥৮ 
“তেনৈৰ মহতী সিদ্ধির্ভবিত্রী মম নান্তথা | 
তদ্ব্রহি সুপদেশঞ্চ কথং সিদ্ধির্ভবেন্মম ॥? ( ৭8/২৪-২৫ )' 
মনের দিক থেকে আমার স্থির বিশ্বান, আপনার শ্রীমুখ নিঃস্কত 
উপদেশ থেকে আমার পরম সিদ্ধি লাভ হবে; এছাঙ1 আর অন্য" 
কোন উপায়ে হবে না। সুতরাং আপনি আমাকে সেই উপদেশ 
করুন, যাতে আমার সিদ্ধি লাভ হয়।--যাতে এই পাধিব শরীবেই 
আমার সেই সিদ্ধি লাভ হয়। 
তপঃশ্রেষ্ঠ মহামুনি গর্গ অতীব গ্রীত হলেন দমনের অভীদ্দায়। 
বললেন,-“অনেনৈবেহ দেহেন যদি তং সিদ্ধিকামুক?--এই স্থুল 
শরীরেই যদি তোমার সিদ্ধিলাভের বাসনা জেগে থাকে তাহলে 
তোমায় যেতে হবে, ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষরূপ চতুবর্গের একমাত্র আধার 
সেই অবিমুক্তক্ষেত্র বারাণনীতে । ব্রহ্মাণ্ডে এই একটিই মাত্র ক্ষেত্র 
যা কর্মবৃক্ষের দাবাগ্রি-ন্বরূপ, সংসার-সাগরের- বাড়বানল'স্বরূপ, নিরবাণ- 


১৩ 


লক্ষ্মীর, ক্ষীরসমুদ্রস্বরূপ এবং নিত্যন্থখের চিরস্থায়ী নিকেতন | বিশ্ব- 
্র্মাণ্ডে, এই একটিই মাত্র ক্ষেত্র আছে, যেখানে আসক্কিরূপ বীজ হতে 
উৎপন্ন সংসার-রূপ মহাবৃক্ষ মৃত্যুন্বরূপ কুষ্ঠারাঘাতে একবার ছিন্ন হলে 
আর কখনও অস্কুরিত হয় না। সত্য প্রভৃতি সপ্তলোকে এস্বর্য ক্ষয় 
হয়ে থাকে, কিন্তু কাশীতেই একমাত্র তার কোনকালে ক্ষয় হয় না, 
যদি মহেশ্বর বিমুখ না হন্‌। মহেশ্বরের এই ক্ষেত্র তার অট্রহাস থেকে 
বক্র নামক গণশ্রেষ্ঠদের দ্বার! সুরক্ষিত । পূর্বে মণিকপিকেশ্বর, দক্ষিণে 
্রন্ষেশ্বরঃ পশ্চিমে গোকর্েশ্বর, আর উত্তরে ভারভূতেশ্বর--এই সীমার 
মধ্যবতি স্থান কাশী-মধ্যে সর্বোত্তম ফলদায়ক বলে কীতিত। 

এই ক্ষেত্রেই আছেন মহাপবিত্র 'প্রণবেশ্বর" লিঙ্গ, ধার উপাসনা 
করে অনেক মহাত্মাই পাধিব শরীরে সিদ্ধিলাভ করেছেন। সিদ্ধি 
লাভ করেছেন কপিল, সাবগ্ি, শরীক পিঙ্গল, অংশুমান প্রভৃতি 
পাশুপাতগণ। প্রণবেশ্বরের পুজা এবং উদ্দণ্ড নৃত্য করতে-করতে 
কপিল প্রভৃতি পাশুপাতেরা সশঙ্গীরেই এই লিঙ্গ মধ্যে বিলীন হয়ে 
যান। 

হে দমন) আমার আচার্-শ্রেষ্ঠদের সামনেই এই স্থানে যে বিশ্ময়- 
কর ঘটন! ঘটেছিল, তা বলছি শোন £ 

প্রণবেশ্বর এই লিঙ্গের কাছে এক ভেকী বাস করত। প্রতিদিনই 
সে লিঙ্গের চতুদিক ঘুরে-ঘুরে ভক্তদের নিবেদিত অক্ষত (আ'তপ চাল) 
আর শিব-নির্জাল্য ভক্ষণ করত। সে তে! আর জানে ন। যে-_ 

“বরং বিষমপি প্রাশ্ঠং শিবস্বং নৈব ভক্ষয়েৎ। 
বিষমেকাকিনং হস্তি শিবন্বং পুত্রপৌত্রকম্‌॥”  (৭8/৬৪ ) 

--বরং বিষভক্ষণ ভাল কিন্তু শিব-নির্মাল্য কখনও ভক্ষণ করা 
উচিত নয় । বিষ একমাত্র ভক্ষণকান্নীরই প্রাণনাশ করে। কিন্তু 
শিব-নির্মাল্য ভক্ষণকারী পুত্রপৌত্রাদির সঙ্গে বিনষ্ঠ হয় । 

একদিন প্রণবেশ্বরের চারদিকে ভেকী যখন এইভাবে পরিভ্রমণ 
করছিল, তাকে দেখতে পেল এক কাক। সে ঠোঁটে ভেকীকে তুলে 
নিয়ে ফেলে. দিয়ে এল কাশীর বাইরে । 


১০৩) 


কালক্রমে সেই ভেকী জন্ম নিল কাশীতে পুষ্পবটু নামে এক ব্যক্তির 

শ্যরে কম্ঠারপে | সর্বস্থুলক্ষণা এবং সবাঙ্গমুন্দরী হলেও সেই কন্ঠার 
মুখটি হয়েছিল গৃথের (শকুনের ) মত। কারণ আর কিছুই নয় 
প্রত্যহ প্রণবেশ্বর লিঙ্গ প্রদর্শনের পুণ্যবলে মুক্তি তার সান্গিধ্যে এলেও 
শিব-নির্মাল্য আর অক্ষত ভক্ষণের পাপে তার মুখটি হয়েছে এরকম । 
স্মধুর-ক্ঠী সেই কন্যা! মাধবী অল্প-বয়সেই যাবতীয় রাগ-রাগিনী, 
সঙ্গীতে যেমন ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিল, তেমনি পূর্ব-সস্কার বশেই 
প্রণবেশ্বরের ভক্তাধীন। হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিনই সে যেত 
প্রণবেশ্বরের কাছে। নুত্যেগীতে অচঞ্চল ভক্তিতে অর্চনা করত 
প্রণবেশ্বরের । লিঙ্গ-প্রাসাদ নির্মলিন করত, পুজাপাত্র ধুয়ে-মুছে 
পরিফার-পরিচ্ছন্ন করত। ক্রমে ক্রমে তার এমনি অবস্থা .হল যে 
যৌবন-চাঞ্চল্য তার দূর হয়ে সে-যোগিজনচিত হয়ে উঠল । লিঙ্গ দরশনি, 
লিঙ্গ নামামৃত পান, লিঙ্গার্চনার জন্ক মাল্য নির্মাণ ছাড়া, আন্র সবই 
ভূলে গেল। এমন কি ক্ষুধা-তৃষ্/-নিদ্রাও তার তিরোহিত হয়ে গেল। 
শেষ পধস্ত লিঙ্গ-প্রাঙণ সে জার পরিত্যাগ করতে পারল না। আর 
সবদাই তার মুখ হতে নিঃল্ত হতে লাগল £ 

“ওঙ্কারং প্রণবং সারং পরং ব্রহ্মপ্রকাশকম্‌। 

শবদক্রন্ধা্রী রূপং নাদবিন্বু কলালয়ম্‌ ॥ 

সদক্ষরং চাদিরূপং বিশ্বরূপং পরাবরম্‌ | 

বরং বরেণ্যং বরদং শাশ্বতং শাস্তমীশ্বরম্‌ ॥ 

সর্বলোকৈকজনকং সব্বলোকৈকরক্ষকম্‌ । 

সবর্ধলোকৈকসংহর্ত সবর্বলোকৈ কবন্দিতম্‌ ॥ 

আছ্ন্তরহিতং নিত্যং শিবম্‌ শঙ্করমব্যয়ম্‌। 

একং গুণত্রয়াতীতং ভক্তস্বাস্তকৃতাস্পদম্‌ ॥ 

নিরুপাধি নিরাকারং নিধিবকারং নিরঞ্রনম্‌। 

নিশ্মলং নিরহঙ্কারং নিশ্রপঞ্চম নিজোদয়ম্‌ ॥ 

স্বাত্মারাম-মনম্তঞ্চ সব্্বগং সর্বদশিনম্ । 

সবর্বদং সর্ব্বভোক্তারং সর্ববং সর্বস্থখাম্পদম্‌॥” (৭৪/৮৩-৮৮ ) 


২০৪ 


--ওকীর, প্রণব, সার, পর, ব্রহ্ম প্রকাশক, শবত্রক্ষ, ত্রয়ীরূপ।, 
নাদবিন্দুকলালয়, সদক্ষর, আদিরূপ, বিশ্বরূপ, পরাবর, ৰর, বরেণ্য, 
বরদ? শাশ্বত, শান্ত, ঈশ্বর, সবলোকজনক, সর্বলোকরক্ষক, সর্বলোক- 
₹হারক, সবলোক-বন্দিত, আদি-অন্তহীন, নিতা, শিব, শঙ্কর, অব্যয়, 
এক, গুণত্রয়াতীত, ভক্তহ্ৃদয়বিহারী, নিরুপাধি, নিরাকার, নিষিকার, 
নিরঞ্জন, নির্মল, নিরহঙ্কার। নিশ্প্রপঞ্চ, নিজোদয়, স্থাত্মারাম, অনন্ত 
সর্বগ, সর্দর্শা, সর্বদ, সর্বভোক্তা, সব, সর্বনুখাস্পদ,_-এই নামরপ 
স্ততি। এই নামাক্ষর-স্তৃতি তার ছিল বিরামহীন । 

একদিন বৈশাখ মাসের চতুর্দশী তিথি। দিনে উপবাস-ত্রত 
পালন করে লিঙ্গ-সমীপে রাত জাগল। সকালে পূজাচনাদি সেরে 
ভক্তর। চলে গেলে প্রাসাদ-অঙ্গন পরিক্ষার করে নিতাদিনের মত 
নূত্যে-গীতে সে শুরু করল; লিঙ্গাচন! । আমার আচার্ষ-শ্রেষ্টরা তখন 
সেখানে উপস্থিত। তাদের সামনেই ঘটে গেল সেই অতান্ভূত কাণ্ড। 
হঠাৎ এক-সময় সকালে দেখলেন, নুতা করতে-করতে মাধবী লিঙ্গ 
মধ্যে লীন হয়ে গেল, __লিঙ্গ-মধ্য হতে উঠল বিশাল তেজংপুজজ আর 
তার মধ্যে মিলিয়ে গেল মাধবী । 

গর্গমুনি এই কাহিনী বিবৃত করে বললেন, কাশীবাসিগণ এখনও 
এই তিথিটি প্রণবেশ্বরের সামনে ভক্তি-সহকারে পালন করে চলেছে। 

হে দমন ! বললেন গর্গমুনি, এই লিঙ্গের সামনেই শ্রীমুখ নামে 
এক গুহ! আছে। সেই গুহটি হল পাতালের ছ্বার-_সিদ্ধগণের 
বাসস্থান । এই গুহার উত্তরে রসোদক কূপ, আর তারই পাশে 
'নাদেশ্বর'--যণর প্রসাদে যাবতীয় শব্দের মর্ম-গ্রহণে মানুষ সমর্থ 
হয়। এই স্থানেই বরণার জলপ্লাবিত মতন্যোদরী নদী--মহ। 
তীর্থক্ষেত্র। 

এই সব কথা বলতে-বলতে পূর্বম্মৃতির সুতীব্র আকর্ষণ অনুতব 
করলেন স্বয়ং গর্গ। বললেন দয়নকে-_-চল, আমিও যাব কাশীতে । 
আমারও সেখানে যেতে বুদিন থেকেই ইচ্ছ। জাগছিল। 

যদিও বার্ধক্য গ্রাস করেছিল গর্গকে, তবুও দমনের সঙ্গে তিনি 


২০৫ 


চলে গেলেন কাশীতে । শুরু করলেন প্রণবেশ্বরের অর্চনা । তারপর 
মাধবীর মতই একদিন লিঙ্গোভুত তেজোনাশিতে বিলীন হয়ে গেল 
'স্টারা, লীন হয়ে গেলেন প্রণবেশ্বর লিঙ্গ-মধ্যে | 


[ অধ্যায় ৭৫--৭৬ ] 


দেব ষড়ানন মহামুনি অগন্ত্যকে প্রণবেশ্বর-এর কাহিনী বলে, 
-পরুম-পবিত্র ত্রিবিষ্টপ লিঙ্গের আবির্ভাব কাহিনী বলতে শুরু করলেন । 
বারাণসীতে সবসিদ্ধিপ্রদ বিরজা নামে যে লীএস্থান আছে, যার 
দর্শনে মানব বিরজা (নিষ্পাপ ) হয়ে থাকে, যেখানকার গঙ্গাজলেই 
পিলিপিল। তীর্থ; সেই গীঠস্থানেই আছেন মহালিঙ্গ “ত্রিলোচন? | 
“বিষ্টপত্রিতয়াস্তর্ষে দেবধিমন্ুজোরগাঃ 
সসরিৎপর্বভারণযাঃ সম্তি তে তত্র যম্মুনে ॥ 
তদারভ্য চ তত্তীর্থং তচ্চ লিঙ্গং ত্রিলোচনম্‌। 
ত্রিবিষ্টপমিতি খ্যাতমতো! হেতোম্মহত্বরম্‌॥” ( ৭৩/৫-৬ ) 
_ত্রিভুবন মধ্যে যাবতীয় দেব, খষি, মনুষ্য, উদ্মগ, সরিৎ। পর্বত; 
অরণ্য আছে, ত। সবই বিগ্কমান এই তীর্থে; তাই ত্রিলোচন এই 
লিঙ্গ 'ত্রিবিষ্টপ' নামে খ্যাত হয়েছেন। 
এখানে গঙ্গা সঙ্গে এসে মিলিত হয়েছে যমুনা, সরস্বতী, নর্মদ। ; 
প্রতিষ্ঠা করেছে স্ব-ন্য-নামে নামাঙ্কিত লিঙ্গ । ক্ষেত্র করেছে উর আর 
িঙ্গকে করেছে শ্রেষ্ঠতম | : 
“তত্রাপি সব্বতীর্ঘানি ততোহপ্যোক্কারভূমিকা | 
ওক্কারাদপি সঙ্লিঙ্গান্মোক্ষবর্ম প্রকাশকাৎ ॥ 
অতিশ্রেষ্ঠতরং লিঙ্গং শ্রেয়োরূপং ত্রিলোচনম্‌॥৮ (৭৫/২৪-২৫) 
কাশীতে সবই শ্রেষ্ঠতীর্ঘ তার মধ্যে ওক্কারক্ষেত্রে প্রণবেশ্বর 
মোক্ষপথের প্রকাশক। শ্রেয়োরপ ব্রিলোচন-লিঙ্গ অতিশ্রেষ্ঠতর ৷ 
কেন এই লিঙ্গ অতিশ্রেষ্ঠতর, আর কেনই বা এ'র নাম ভ্রিলোচন। 


২০৬ 


“সেই প্রলঙ্গে মহাদের পার্ধতীকে যা বলেছিলেন এবং স্বন্দীদেব 
আাতৃক্রোড়ে বসে যা শুনেছিলেন, তা বললেন অশস্তাকে | মহাদেব 
“বলেছিলেন £ 
“পুরা মে যোগযুক্তম্ত লিঙ্গমেতডুবস্তলাৎ । 
উদ্ভি্ সপ্তপাতালাং নিরগাৎ পুতে মহৎ ॥ 
অন্সিললি্গে পুরা গৌরি নুগ্প্তং ভিষ্ঠতা ময়! । 
তুভ্যং নেত্রত্রয়ং দত্তং নিরৈক্ষিষ্াস্তখোত্বমম্‌ ॥ 
তদ। প্রভৃতি দেবেশি লিঙ্গমেতভ্রিলোচনম্‌। 
বিষ্টপত্রিতয়াত্তস্থিগয়তে জ্ঞানদৃষ্টিদম্‌ ॥% . ( ৭৫/৬১-৬৪ ) 
-পুরাকালে যখন আমি সমাধিতে মগ্ন ছিলাম, সেই সময় আমার 
সামনে সপ্তপাতাল এবং পৃথিবী ভেদ করে এই লিঙ্গ স্বয়ং প্রাদুর্ভূত 
হুন। এই লিঙ্গের মধ্যে প্রচ্ছন্নভাবে অবস্থান করে আমিই তোমাকে 
নেত্রত্রর প্রদান করেছিলাম, তারই প্রভাবে তোমার এই উত্তম দর্শন 
শত্তি। দেবি! সেইদিন থেকেই ব্রিলোকবাসী জীব এই লিঙ্গকে 
“ভ্রিলোচন' নামে অভিহিত করেছে! এই লিঙ্গের প্রসাদেই লোকে 
জ্ানদৃষ্টি লাভ করতে সমর্থ হয় । 
প্রতিমাসের অষ্টমী এবং চতুর্দশী তিধিতে এই ত্রিবিষ্টপ লিঙ্গকে 
'দর্শন করার জন্য সকলে তীর্থে আসেন। 

. এই ত্রিলোচনের কাছেই গঙ্গাতীরে সংসার-তাপহারী শাস্তনব? 
লিঙ্গ । এবং এর দক্ষিণে কলি, কাল ও কামভয় পরিত্রাতা “ভীমেশ্বর? 
মহালিঙ্গ, তার পশ্চিমে জ্যোতির্ময় রূপ-প্রদায়ী “দ্রোণেশ্বর। এর 
সামনেই 'অশ্বখামেশ্বর? | প্রোণেশ্বরের বারুকোণে সর্ববজ্ঞকলদাতা। 
'বালখিল্যেশ্বর' আর ভার বীাদিকে শোকাপহরণকারী 'বাল্দীকেশ্বর? 
লিঙ্গ। 

পুরাকল্পে এই বিরজ! পীঠস্থানে ত্রিলোচনের সুব্ণময় প্রাসাদের 
গবাক্ষে বাস করত এক কপোত-দম্পতি | চারিদিকে তথন শুরু 
হয়েছে প্রলয়, জেগে আছে শুধু এই প্রাসাদ। ত্রিলোচন, ব্রিবিষ্টপের 
গক্কেরা যে তুল দিত লিঙ্গদেবকে। ত! প্রারই ছড়িয়ে পড়ে থাকত 


২০৭ 


লিঙ্গের চারদিকে । কপোত-দম্পতি একমাত্র সেই তগুলকণ! আর 
মন্দির দক্ষিণে গঙ্গা-যমুনা-নর্মদা-সরন্বতীর মিলিত মহাপবিত্র জল 
ছাড়া, আর কিছুই আহার্য হিসেবে গ্রহণ করত না, বা করার জন্টে 
অস্ত কোথাও যেত না। এইভাবেই তাদের সেখানে কেটে গেল 
বন্ছকাল নিশ্চিন্তে । 

একদিন এক শ্যেন-পাখির নজরে পড়ল তারা। প্রলুব্ধ হল 
শ্তেন পাখি। অপর এক শিবালয়ে বসে বসে সে কপোত-দম্পতির 
প্রবেশ আব নির্গম পথ লক্ষ্য করতে লাগল । চিন্তা করতে লাগল 
কিভাবে শিকারকে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু দম্পতি ছূর্গ মধ্যে 
এমনভাবে রয়েছে যে সেখান থেকে তাদের ধরা আদৌ সম্ভব নয়। 
লক্ষ্য পড়ল কপোতীর | সে উদ্দিগ্ন হয়ে কপোতকে সাবধান করে, 
দিয়ে বলল--“এ দেখ, আমাদের শক্র শ্যেন উড়ছে । শুনে কপোত 
তাকে আশ্বস্ত করল--“কোন ভয় নেই। পরদিন আবার এল শ্যেন। 
কিছুক্ষণ তাদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থেকে প্রাসাদের চূড়ায় 
কয়েকট। পাক খেয়ে চলে গেল । কপোতি এবারেও সাবধান করল 
স্বামীকে । কিন্তু কপোত তাকে ওড়ার ব্যাপারে তার থেকেও হীন- 
বোধে কপোতিকে নিভয়ে থাকতে বলল। পরদিন আবার এল. 
শ্যেন। বনুক্ষণ অবস্থান করল তাদের সামনে | আবার উড়ে গেল। 
এবারে তার চোখ দেখে খুবই ভয় পেয়ে গেল কপোতি। স্বামীকে 
বলে শুধু তিরস্কৃতাই হল। পরদিন সকাল হতেই আবার শ্যেন এসে 
হাজির । বসে রইল তাদের বাসার সামনে সন্ধ্যে পর্বস্ত; তারপর 
উড়ে গেল। এবারে খুবই ভীতা কপোতি স্বামীকে অনুরোধ জানাল, 
এখান থেকে এই বেলা পালাতে । কিন্তু, কিছুতেই রাজি হল না 
কপোত। পরদিন আবার সকাল হতেই এেল শ্যেন! সঙ্গে নিয়ে 
এল কিছু খাবার । দম্পতির নির্গমন পথ রুদ্ধ করে আহ্বান জানাল, 
দুর্গ থেকে বেরিয়ে এসে যুদ্ধ করতে । বেরিয়ে এল দম্পতি ; কিছুক্ষণ 
যুদ্ধও করল । ক্ষুধায় তৃষ্ণায় ক্লান্ত পারবে কেন বেশীক্ষণ ? অবিলম্কে 
শেন কপোতকে ঠোটে আর কপোতিকে পায়ে বেঁধে মনের আনন্দে 


৮ 


উড়ে পড়ল আকাশে; ভক্ষণযোগ্য নির্জন স্থানের কথা চিন্তা করতে- 
করতে | অসহায় কপোতকে তখন কপোতি বলঙ--'নাথ ! 
স্ত্রীলোকের কথা না শোনার জন্যেই এই পরিণাম । এখন বদি অবলার 
একটা পরামর্শ শোনেন, তাহলে হয়ত আমরা আমাদের জীবন ফিরে 
পেতে পাবি।? 

কপোত এবার কপোতির পরামর্শমত শ্যেনের পা সজোরে 
কামড়াতে শুরু করল। শ্যেন বারবার সেই কামড়ের জ্বাল! সহা 
করতে ন! পেরে যেই চীৎকার করে উঠল, অমনি উন্মুক্ত চঞ্চুপুট থেকে 
কপোতি আর শ্লথ পা থেকে কপোত মুক্ত হয়ে আশ্রয় নিল অযোধ্যার 
সরু তীরে। 

কালক্রমে গতায়ু হয়ে কাশীবাসজনোচিত পুণ্য সেই কপোত জন্ম 
নিল বিদ্যাধর মন্দরদামের পুত্র পরিমলালয় নামে । শৈশব থেকে 
সংস্কার বশে পর্িমলালয় ছিল শিবভক্তি-পরায়ণ। মনে-মনে প্রতিজ্ঞ 
করল, কাশীতে ভগবান ত্রিলোচনের আরাধনা না করে আহার গ্রহণ 
কত্রবে না আর একপত্বী ছাড়! দ্বিতীয় কোন নারীতে আসক্ত হবে না। 
এ্রেই প্রতিজ্ঞা করে পরিমলালয় ত্রিবিষ্টপ লিঙ্গ দর্শন করার জন্য কাশীতে 
তল এল । 

এদিকে দেই কপোতি-ও গতায়ু হয়ে পাতালে নাগরা্জ রত্বদীপের 
কন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেছিল! নাম হয়েছিল রত্বাবলী । রূপে-গুণে- 
শীলে শৈশবেই সে সকলের প্রিয়পাত্রী, হয়ে উঠেছিল । তার সঙ্গে- 
সঙ্গে ছায়ার মত থাকত তার ছুই সাথী প্রভাবতী আর কলাবতী । 
রতুদীপ নিজে ছিলেন শিবভক্ত । রত্ববলীগ শিবভক্তিপরায়ণ। হয়ে 
প্রতিজ্ঞা নিল, প্রতিদিন সে সখীদের নিয়ে কাশীতে ভগবান 
ত্রিলোচনের কাছে তাকে দর্শন করে তারপর কথা বলবে । বতক্ষণ 
তা না করতে পারবে ততক্ষণ মৌনী থাকবে । রত্ুদীপ কন্যার প্রতিজ্ঞা 
শুনে সম্মতি জানালে রত্বাবলী রোজই সথীদের নিয়ে ভগবান 
ত্রিলাচন লিঙ্গ সমীপে এসে সুগন্ধি-কুন্বমের মাল। রচনা করে দিছে 
লাগল, গান্ধার-রাগে সঙ্গীত আর মগুলাকার নৃত্যে পরিতৃষ্ট করত 


২৩০৯ 


কানী-_-১৪ 


দেবকে তারপর আবার ফিরে যেত নিজ আবাসে। 

একদিন বৈশাখী তৃতীয়া । তিনজনেই উপবাস করে ন্বত্যে-গীতে 
ত্রিলাচনের অর্চনা করে যাপন করল বিনিদ্ধ রজনী । পরদিন সকালে 
পিলিপিল! তীর্থে স্নান করে ত্রিলোচনের পুজা করে মগ্ডপেই ঘুমিয়ে 
পড়ল। নিদ্রতাবস্থায় তারা দেখল-_ত্রিনেত্র, শশিভৃষণ জটামুকুট- 
মগ্ডিত, ফণিভূষিত ভগবান ত্রিলোচন যেন তাদের ডেকে বলছেন__- 
ওঠো। ঘুম ভেঙ্গে চোখ মেলতেই তার। ব্বচক্ষেই ভগবানকে দেখে 
উৎফুল্লিত হৃদয়ে হাব স্তব করল । তারপর সাষ্টাঙ্গে প্রণত হলে দেৰ 
ত্রিলাচন তাদের সেহভরে তুলে বললেন-_ শোন, মন্দরদাশেন্স পুত্র 
বিদ্ভাধর পরিমলালয় তোমাদের পতি হবে । বিদ্যাধরলোকে তোরা 
স্থথে কালাভিপাত করে কাশীতে এসে মুক্তিলাভ করবে । জন্মাস্তরে 
তোমর!। সকলেই ছিলে আমার ভক্ত; তারই ফলে তোমর। এই ছর্লভ 
জন্ম লাভ করেছ । 

নাগকন্তার। সবস্ময়ে মহেশ্বরের কাছে জানতে চাইল পুধজন্মের 
কথা, জানতে চাইল সক তর কথা । 

ঈশ্বর বললেন, এই রত্বাবলী পুর্জন্মে ছিল কপোতি আর এর 
পতি বঙমান বিদ্যাপর পরিমলালয় ছিল কপোত। থাকতো আমারই 
প্রাদাদ-ছূর্গে । পক্ষ বিধুননে পরিফষার করত প্রাসাদ-ধূলি, আকাশে 
উড়ে-উড়ে আমাকেহ প্রদক্ষিণ করত । চতুর্নদ-তীর্থে স্নান আর 
জলপান করত। কিন্ত তিধগ-যোনির জন্য কাশীতে এদের দেহাস্ত 
না হয়ে, এদের দেহান্ত হয়েছিল কাশীপ্রাপ্তকর অযোধ্যাপুরীতে | 

এই প্রভাবতী এ-জন্মে নাগরাজ পদ্দীর আর এই কলাবতী 
উরগেন্দ্র ত্রিশখের কন্টারূপে জন্মগ্রহণ করেছে। এই জন্মের তৃতীয় 
জন্মে এরা ছুজনেই ছুঞ্জনের প্রতি "অনুরাগিনী মহযি চারায়ণের 
কন্ঠাৰূপে জন্মগ্রহণ করেছিল। এদেরই অনুরোধে এদের পিত৷ 
হুজনকেই দান করেছিল আমুধ্যায়ণের পুত্র খধিকুমার নারায়ণকে। 
অপ্রাপ্তযৌবন নারায়ণ সমিদ আহরণে বনে গেলে সর্পাঘাতে মৃত্যু হয় । 
তখন এই ছুই কন্যা! ভবানী আর গৌতমী বৈধব্য অবলম্বন করে 


২৯০ 


'পিতৃ-আশ্রমেই ছিল । একদিন লোভের বশে চুরি করে এরা খেল 
কলা। চুরি করে খাওয়ার অপরাধে এরা পরে বানরী-রূপে জন্ম 
নিয়েছিল এই কাশীতেই, কেননা চরিত্রকে অক্ষত রেখেছিল। 
ব্রাহ্মণতনয় নারায়ণও পিতৃসেবারূপ পুণ্যবলে পারাবত-রূপে কাশীতে 
জন্ম-পরিগ্রহ করেছিল। বানরী হয়ে এরা থাকত এই প্রাসাদের 
পাশেই বটবৃক্ষে। খেলার ছলে প্রদক্ষিণ করত প্রাসাদ, চতুর্নদে গান 
জলপান করত । একদিন একজন এদের ছুজনকেই ধরে নিয়ে গেল 
বৃত্তির খাতিরে । এদের শেখাল নৃত্যাদি। কিছুকাল তার বাড়িতে 
থেকে এদের দেহাস্ত হল। কিন্তু পূরাজিত পুণ্যবলে বর্তমানে এরা 
নাগকন্তার্ূপে জন্মগ্রহণ করেছে। এরা তিনজনেই জন্মান্তর স্মত্রে 
বিষ্ভাধরের পত্বী। এখন মিলিত হয়ে সুখী হ'ক। 

মহেশ্বর এই সব বলে অন্তলাঁন হলে, নাগকন্তারা ফিরে সমস্ত 
বৃত্বাস্ত জানাল নিজ-নিজ জননীর কাছে। 

বৈশাখ মাসের মহাযাত্রা | বিরজা ক্ষেত্রে সমবেত হয়েছেন 
নাগকুল, বিদ্যাধর কুল। তারপর পরস্পর আলোচন। আর মহাদেবের 
প্রসাদে তিনকন্ঠাকেই পতীরূপে গ্রহণ করল বিদ্যাধর পরিমলালয় । 

তারপর পরিমলালয় নাগকন্ঠাদের নিয়ে বিদ্যাধরলোকে বেশ 
কিছুকাল অতিবাহিত করে কাশীতে এসে ত্রিলোচনের সেবা করে লিঙ্গ 
মধ্যেই অস্তহিত হয়ে গিয়েছিল । 


[ অধ্যায় ৭৭ ] 


পার্বতী অতঃপর কেদারেশ্বর লিঙ্গ সম্বন্ধে কৌতৃহলী হলে দেবদেৰ 
যা বলেছিলেন, দেব ক্কন্দ তা বললেন মহামুনি অগস্তযকে। 
মহাদেব বলেছিলেন,-কেদারেশ্বর লিঙ্গ দর্শন এবং পূজা তো৷ দুরের 
কথা দর্শনের মানলিক সন্কল্পই মানুষকে ত্রিতাপ-জ্বালা আৰ সপ্ত- 
'জন্মাঞজিত পাপ থেকে মুক্তি দেয় । 
২১১ 


পূর্বে রথন্তর-কল্পে যে ঘটনা ঘটেছিল, অপর্ণে শোন. £ 

উজ্জয়িনীর এক ব্রাহ্ণ-তনয় উপনয়নের পরই ব্রহ্মচর্ষ অবস্থাতেই: 
বাড়ি থেকে বেরিয়ে ঘুরতে-ঘুরতে কাশীতে এসে অবস্থান করেছিল। 
বিভূতি-ভূষিত দেহ; ভিক্ষান্সে সন্তষ্ট। জটামুকুট-শোভিত, পাশুপাত 
তাপসদের সেখানে দেখে সে-ও হষ্টাত্তঃকরণে সেখানে গুরু হিরণ্যগর্ভের 
কাছে পাশুপত ব্রত গ্রহণ করেছিল। সেই ব্রাহ্ষণ-তনয়ের নাম ছিল 
ৰশিষ্ঠ। তখন কেদারেশ্বর লিঙ্গ-রূপে আমি অবস্থান করতাম হিমালয়ে। 
কাশীতে তাপসের আমার লিঙ্গ নির্মাণ করে পুজা করত; বশিষ্ঠও 
তাই করতে শুরু করে দিল। প্রতিদিন ত্রিসন্ধ্যা হবপাপ-হৃদে সান 
আর এমনভাবে লিঙ্গাচনা করত যে গুরু এবং লিঙ্গের মধ্যে কোন 
পার্থক্যই সে অনুভব করত ন!। 

তখন বারো বৎসর বয়স বশিষ্ঠের ; গুরুর সঙ্গে চলল হিমালয়ে 
কেদারেশ্বর দর্শনাভিলাষে । পথিমপ্যে অসিধার পৰতে গুরু হিরণাগর্ভ 
দেহ রাখলেন । আমার পারিষদের! শিষ্যদের সামনেই গতায়ু 
হিরণাগর্ভকে ন্বগ্গঁয় বিমানে তুলে নিয়ে গেল আমার আবাস কৈলাসে। 
আশ্চর্য এই ঘটনাটি দেখার পর থেকেই তাপস বশিষ্ঠ কেদারেশ্বরকেই 
লিঙ্গমধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ লিঙ্গ বোধে যাত্রাশেষে কাশীতে ফিরে এই 
লিঙ্গার£নাতেই অধিকতর স্বনিষ্ঠ হল। আর স্থির নিয়ম করল-_- 
'প্রতিচৈত্র্যং সদ। চৈত্র্যাং থাবজ্জীবমহং গ্রুবম্। বিলোকয়িষ্যে কেদারং 
বসন্‌ বারাণসীং পুতরীম্‌॥' (৭৭/২৬)--ষতদিন বাঁচব, ততদিন প্রতি 
চেত্রমাসে আমি কেদারেশ্বর দর্শনে যাব আর বারাণসীতে বাস করব। 
এই প্রতিজ্ঞ রক্ষা করে সে একষট্রিবার কেদারেশ্বর যাত্র। করেছিল্‌। 
আবার যখন চৈত্র এল, যাত্রার তোড়জোড় শুরু করল বশিষ্ঠ। 
পধিমধ্যে পাছে প্রাণবিয়োগ ঘটে এই আশঙ্কায় সহচরের1 তাকে বারবার 
|নযেধ করল। কিন্তু বশিষ্ঠ অটল। 

তার এই মানদিক দৃঢ়তা আমার হৃদয় জয় করেছিল। আমি 
তার স্বপ্লাবস্থায় তাকে দর্শন এবং আমার পরিচয় দিয়ে অভিল(িত বর. 
প্রার্থনা করতে বলেছিলাম, কিন্তু স্বপ্ন-দর্শনকে সে বিশ্বাস করল ন! 


২৯২ 


দেখে তাকে বলেছিলাম, অশুচি অবস্থায় দৃষ্ট স্বপ্প মিথ্যা হয় কিন্ত 
শুচিশুদ্ধ এবং জিতেক্জরিয়ের দৃষ্ট স্বপ্ন কথনও মিথা! হয় না । তাই সন্দিগ্চ 
হবার কোন কারণ নেই । তুমি য! দেখেছ তা৷ সত্য। তুমি বর প্রার্থন। 
কর। তখন বশিষ্ঠ প্রার্থনা জানিয়েছিল £ “যদি প্রসম্পো দেবেশ তদা 
মে সাম্ুগা ইমে। সর্ব শুলিবমুগ্রাহ্থা এষ এব বরে! মম ॥” (৭৭/৩৭) 
_হে দেবেশ ! আমার ওপর যদি প্রসন্নই হয়ে থাকেন, তবে এখানে 
আমার যার। অনুচর রয়েছে আপনি তাদের সকলকে অনুগ্রহ করুন । 
অপর্ণে, বশিষ্টের স্থার্থবুদ্ধিহীন এই প্রার্থনায় আমি অতান্ত গ্রীত হয়ে 
সম্মতি জানিয়েছিলাম এবং পরোপকার-জনিত পুণ্যার্জনের জন্য তাকে 
আরে। বর দিতে চাইলে, সে প্রার্থনা জানিয়েছিল হিমশৈল থেকে এসে 
আমি যেন কাশীতেই অবস্থান করি। তারই প্রার্থনায়, হিমশৈলে 
আমার কণামাত্র রেখে চলে এলাম এখানে এবং বশিষ্ঠকে সামনে 
রেখে তার উপর কৃপা করে হরপাপ হদে অবস্থান করলাম । 
হিমালয় পর্বতে কেদারেশ্বর দর্শন, গৌরীকুণ্ডে হংসতীর্ঘ মধুত্রবায় 

স্নান" করে যে পুণ্য অর্জন হয়, তারও অধিক ফললাভ হয় এখানে 
কেদারেশ্বর দর্শনে আর হ্রপাপ-হ্দে স্নানে । গৌরী, পুরাকালে তুমিও 
এই হৃদে স্লান করেছিলে বলে, এর নামও গৌরীকুণ্ড। ছুটি ককোল 
( ধ্রাড়কাক) শুন্যে যুদ্ধ করতে-করতে এই হ্দে পড়ে হংসরূপ ধারণ 
করেছিল, তাই হংসতীর্ঘ। আবার মানস-সরোবর এই স্থানে এসে 
বস্কাল তপস্তা করেছিল-_-তাই এটি আবার মানস-তীর্ঘও। আগে 
যে ব্যক্তিই এই কেদারকুণ্ডে স্নান করত সেই মুক্তিলাভ করত দেখে 
দেবগণ একদিন এসে আমাকে বললেন-__ 

“সবের মুক্তিং গমিত্তান্তি বদি দেবেহ মানবাঃ | 

কেদারকুণ্ডেষু ্বাতান্তদোচ্ছিত্তির্ভবিষ্যাত ॥ 

সব্রেষামেৰ বর্ণানামাশ্রমাণাং চ ধম্মিণাম্‌। 

তস্মাত্তন্ুবিসর্গেইত্র মোক্ষং দাস্যতি নান্থা ॥” (৭৭1৫8-৫৫) 

_কেদারকুণ্ডে স্নান করে যদি সব মানুষই মুক্ত হয়ে যায়ঃ তাহলে 

বর্ণ, আশ্রম, ধর্ম সব কিছুই উচ্ছেদ হয়ে ষাবে। সুতরাং দেবেশ, 


২১৩ 


এখানে যে ব্যক্তি দেহত্যাগ করবে, একমাত্র তাকেই মুক্তি দিন। 

সেই থেকে যার! ভক্তিসহকারে কেদারকুণ্ডে জান, কেদারেশ্বরের 
পুজা, নাম-জপ করে একমাত্র তাদেরই আমি মুক্তি প্রদান করে আসছি। 

কেদারেশ্বরের উত্তরে আছেন স্বর্গভোগস্থথদায়ী “চিত্রাঙ্গদেশ্বর” লিঙ্গ, 
দক্ষিণে সর্পবিষহারী 'নীলকণ্ঠেশ্বর ; বায়ুকোণে ছুঃখতাপহারী 
“অন্বরীষেশ্বর ; তার সমীপে ইন্দ্রছ্যন্নেশ্বর আর এই লিঙ্গেরই দক্ষিণে 
জর] ও কালজয়ী “কালপ্ররেশ্বর । আর চিত্রাঙ্গদেশ্বরের উত্তরে হলেন 
ক্ষেমেশ্বর? লিঙ্গ | 


[ অধ্যায় ৭৮--৮১ ] 


আনন্দকাননে যে লিঙ্গটি অক্ষয় ফলদায়ক তার বিষয় জানতে ইচ্ছা 
প্রকাশ করলে দেবদেব ঈশান ঈশানীকে বলেছিলেন, “ত্র মুক্তিম্যরূপা। 
বং স্বয়ং তিষ্ঠসি বিশ্বগে” বিশ্বগে ! যেখানে তুমি নিজেই মুক্তিম্বরূপে 
বিরাজমান, ধার অন্ুকম্পায় আমার ত্রিপুর বিজয়, ইন্দ্রের বৃত্রবিনাশ, 
নরপতি ছুর্দমের ধর্মে মতি লাভ, যার সান্নিধ্যে তিষ্যকযোনি পাখিরও 
পরম জ্ঞান লাভ হয়, সেই ধর্মেশ্বর লিঙ্গঈই হল অক্ষয় ফলদাতা । 
পুরাকালে ন্থর্যপুত্র যম এই আনন্দকাননে তোমারই সামনে 
নূর্যমণি-দ্বারা নিমিত একটি লিঙ্গ প্রতিষ্ঠ। করে দিব্য ষোল যুগ ধরে, 
সুহুশ্চর তপস্তা করেছিলেন'। সেইথানেই ছিল কাঞ্চনশাখ-নামে এক 
বটগাছ-_বিইগকুলের আবাস । পরম সমাধিতে মগ্ন স্থরিহ্ৃদয় 
শমনকে আমি যখন গিয়ে বর-প্রার্থনা করতে বললাম, তিনি আমাকে 
দেখে ভাবঘোরে বললেন-_ 
“নমো নমঃ কারণকারণানাং নমো নমঃ কারণবঞ্জিতায় | 
নমে। নমঃ কাধ্যমক়্ায় তুভ্যং নমো নমঃ কার্যবিভিন্নরূপ ॥৮ (৭৮/৩২) 
--হে কারণসমৃহেরও কারণ ! কারণ-রহিত! আপনাকে 
নমস্কার | হে কার্ধময় ! হে কার্যযবিষ্ডিন্রূপ আপনাকে নমস্কার । 


২১৪ 


এই সব বলে স্তরতি আর বারবার প্রণাম করতে লাগলেন । কিন্তু 
কোন প্রার্থনা জানাতে পারলেন না। আমি নিজেই তখন তাকে 
এই বলে বর দিয়েছিলাম-_ 
০০৭০৭ সপ্ততুরঙ্গন্নবে তং ধন্মরাজো ভব নামতোইপি ॥ 
তবমেব ধম্মাধিকৃতৌ। সমস্তশরীরিণাং স্থাবর-জঙ্গমানাম্‌। 
ময়া নিধুক্তোহগ্য দিনা দিকৃত)ঃ প্রশাধি সর্ববান্মম শাসনেন॥” (৭৮/৪৩-৪৪) 

--হে দিবাকর-তনয় ! আজ থেকে তোমার নাম হক ধর্মরাজ' | 
নিথিল স্থাবর জঙ্গম শরীরিগণের ধর্মাধিকার তোমার ওপর অক্িত 
হল। আজ থেকে আমার নিয়োগ-অন্ুপারে আমার শাসনামুষায়ী 
তুমি লোকপমূহের শাসন কর !--তুমি আজ থেকে হলে দক্ষিণ দিকের 
অধিপতি । 
এই বর দিয়েও দেবাদিদেবের তৃপ্তি হল না, ক্ষন্দদেব বললেন 
অগস্ত্কে । তিনি তাকে আরও বর দিতে উদ্যত হয়ে প্রার্থনা 
জানাতে বললেন । যমরাজের কিন্তু বাকাস্ফৃতাঁ হল না। ছুচোখে 
তার আনন্দাশ্রু, বাম্পরুদ্ধ ক। মহাদেবের করম্পর্শে সেই আবেগ 
তার প্রশমিত হলে, তিনি প্রার্থনা জানালেন__-হে শরীক! আমার 
তপস্তার সাক্ষী এই শুক-শাবকগণ যেন মুক্তিলাভ করে। জন্ম 
গ্রহণের সঙ্গে-সঙেই এর! হয়েছে মাতৃহারা আর এদের পিতা হয়েছে 
শ্যেনের শিকাব 1? 

ধর্মরাজের এই পরোপকার-মনস্কতায় 'গ্রীত হলেন ভগবান শস্তু। 
তিনি তৎক্ষণাৎ পক্ষিশাবকদের ডেকে বর চাইতে বললে, ভারা 
বললে-_তির্ষকপ্রাণী হয়েও যে আপনার দর্শন লাভ করলাম এন 
চেয়ে আর কি অভিলাষ থাকতে পারে? এই স্থানে থেকে ধর্মরাজ 
প্রতিচিত লিঙ্গপুজ।' দেখতে-দেখতে আমরা দিব্যদৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে গেছি? 
আমাদের সামনে ভূত-ভবিষ্যুৎ-বর্তমান অনাবৃত হয়ে গেছে। আমন্বা 
জানতে পেরেছি--দেবযোনি থেকে মনুষ্য-যোনিতে পর্যস্ত আমরা জগ্ম- 
জন্মাস্তর ধরে পরিভ্রমণ করছি কিন্তু কোথাও শাস্তি লাভ করতে পারি 
নি। বর্তমানে তির্ধক প্রাণী হয়েও আপনার দর্শনে আমরা! কৃতকৃত্য | 


২১৫ 


আপনি যদি কপাই করেন, তাহলে এই কূপাই করুন-_-আমাদের যেন 
পুনর্জন্মরহিত কাশীতে মৃত্যু হয়।? 

স্কন্দদেব বললেন, দেবাদিদেব বিহগকুলের ওপর এই ধরেশ্বর- 
পীঠের প্রভাব দেখে, নিজে সর্বত্র অবস্থান কর! সত্বেও রবিস্তকে 
বললেন-__'আজ থেকে তোমার উত্তম তপোবন এই ধর্মেশ্বর গীঠ আমি 
কখনও পরিত্যাগ করব না। আর দেখ, এই শুকশাবকের। তোমার 
সামনেই আমার পুরে গমন করছে।' দেবাদিদেব এই কথা বলামাত্রই 
শুধ্$শাবকের। দিবারপ ধারণ করে দিব্যবিমানে আরোহণ করে 
ধর্মরাজকে বিদায় জানিয়ে কৈলাসে চলে গেল। 

দেবী আন্বকা সেই অনির্চনীয় পীঠমাহাত্ম্য শুনে ধূর্জটিকে 
জানালেন, ঘে তিনি আজ থেকে এই পীঠ-সমীপেই অবস্থান করবেন 
এবং স্ত্রীপুরুষ নিবিশেষে ধ্মেশ্বর লিঙ্গের ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পুরণ 
করবেন। ঈশ্বর আনন্দে সম্মতি জানিয়ে বললেন, “ধবশেষ করে 
মনোরথ-তৃতীয়-ব্রত যারা এই পীঠে বা অন্থত্র-ও উদ্যাপন করবে, 
ভক্তি-সহকারে তোমার অর্চনা করবে, তাদের মনোরথ অবশ্যই 
সিছ্। হবে |) 

দেবী এই মনোরথ-তৃতীয়া-ত্রত সম্বন্ধে কৌতূহলী হলে দেবদেব 
তাকে বলেছিলেন__এই ব্রতানুষ্ঠানের দেবী হলেন বিংশ্তিভূজা 
বিশ্বতুজা গৌরী । তবে এই দেবীর অর্চনার আগে করতে হবে 
আশাবিনায়কের পূজা । এই আশাবিনায়কের চারটি হাত__এক 
হাতে বর, দ্বিতীয় হাতে অভয়, তৃতীয়ে অক্ষমালা। -চতুর্থে মোদক। 
দিনে উপবাস এবং সংবতেন্দ্রিয় থেকে নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে চৈত্রমাসের 
শুর্লা-তৃতীয় থেকে একবৎসর সায়ংকালে পুজা-হোম এবং প্রসাদ ভক্ষণ 
সেই সঙ্গে বিনায়ক-সহ বিশ্বভুজার কাছে মনোরথ-সিদ্ধির প্রার্থন। 
জানালে, বিশ্বভূজা অবশ্যই তাকে অভীষ্ট প্রদান করে থাকেন। 
পুরাকালে অরুদ্ধতী বশিষ্ঠকে; অনন্থয়া অত্রিকে। লক্ষী চতুভূজকে এই 
ব্রতের মাধ্যমেই লাভ করেছিলেন। তাই, পুলোম-তনয়৷ শচী 
দেবগণেরও মাননীয় পরম সুন্দর পতিলাভ, ইচ্ছানুরূপ মুখ-আয়ু এবং 


১৬ 


'পতিসঙ্গ-কালে নিত্য নৃতন দেহের অভিলাষে আর বৈধব্যহীনতার 
কামনায় দেবেশের উদ্দেশ্যে যখন ছুশ্চর তপস্যা করেছিল, দেবদেব 
তাকেও এই ব্রত নিষ্ঠার সঙ্গে উদ্যাপন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন । 

দেব স্বন্দ অতঃপর অগন্ত্যকে বলেছিলেন দেবাদিদেবের মুখনি:ম্থত 
, ধর্মতীর্থের কাহিনী । 

বৃত্রান্থুরকে বধ করে সৃহত্রলোচন দেবরাজ ইন্দ্র ব্রদ্মহত্যাজনিত 
পাপানলে দগ্ধ হয়ে যখন দেবগুরু বুহস্পতির শরণাপন্ন হয়েছিলেন 
তখন দেবগুরু তাকে বলেছিলেন-_- 

“তাং কাশীং প্রাপা বৃত্রারে বৃত্রহত্যাপনুত্তয়ে । 
লমারাধয় বিশ্বেশং বিশ্বমুক্তিপ্রদায়কম.॥” (৮১/১৩) 

হে বৃত্রারে! ব্রহ্মহত্যা থেকে নিষ্কৃতি লাভের জন্কে তুমি 
কাশীতে গিয়ে বিশ্বমুক্তিপ্রদায়ক বিশ্বেশ্বরের আরাধনা কর। স্বয়ং 
ভৈরবও সেখানে ত্রহ্মার কপালমুক্ত হয়েছিলেন । 

দেবগুরুর নির্দেশে ইন্দ্র কাশীতে গিয়ে উত্তরবাহিনী গঙ্গায় সান 
করে ধর্মেশ্বরের কাছে মহেশ্বরের আরাধনায় নিযুক্ত হলেন। মহারুড্র 
জপে রত ইন্দ্র একদিন দেখলেন লিঙ্গমধ্যস্থ তেজোময় ত্রিলোচনকে। 
আবার বেদোক্ত রুদ্রসৃক্তের দ্বারা তার স্তব করতে থাকলে লিঙ্গমধ্য 
হতে স্বয়ং ভগবান আবির্ভূত হয়ে ইন্দ্রকে বর প্রার্থন৷ করতে বললেন। 
ইন বললেন-_-হে সর্ধজ্ঞ। আপনার কি কিছু অবিদ্িত আছে? 
দেবাদিদেব তখন সেই স্থানেই একটি তীর্থ নির্মান করে বললেন-__ 
“ইন্দ্র, তুমি এতে স্নান কর।' ঈশ্বরের নির্দেশে সেই তীর্থে স্নান কন! 
মাত্রই দেবরাজ পূর্বদেহকান্তি ফিরে পেলেন । তাই দেখে নারদ 
প্রভৃতি মুণিগণ সানন্দে সেই তীর্থে স্নান করলেন, ঘটভতি সেই 
তীর্থজল এনে ধর্মেশ্বরকেও স্নান করালেন । সেই থেকে এই তীর্থের 
নাম হল ধর্মকূপ। এই ধর্মকূপে স্নান করে নিষ্পাপ ইন্দ্র প্রত্যাবর্তন . 
করেছিলেন অমরাবতীতে, কীর্তন করেছিলেন এই পীঠের মাহা 
দেবগণের কাছে। ইন্দ্র মুনিগণের সঙ্গে আবার এসেছিলেন এখানে । 
'তারকেশ্বরের পশ্চিমে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্ব-নামে ইন্দ্রেশ্বর' লিঙ্গ, 


২১৭ 


তার দক্ষিণে শচীদেবী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন 'শচীশ্বর? লিঙ্গ । ইন্দ্রেশ্বরের 
কাছেই আছেন “লোকপালেশ্বরা | ধর্মেশ্বরের পশ্চিমে ধেরণীশ্বরা, 
দক্ষিণে “ত্বেশ্বর” পুবে “বৈরাগ্যেশ্বর ঈশানকোণে জ্ঞানেশ্বর" আর. 
উত্তরে 'এই্বর্যযশ্বর' | এই সব লিঙ্গই দেব পঞ্চাননের মৃত্তিবিশেষ | 

কেবলমাত্র ধর্মেশ্বর লিঙ্গ দর্শন করে পাপমতি রাজ ছুর্দম কিভাবে 
শ্রেয়োলাভ করেছিল, শোন £ 

বিদ্ধ্যপর্বতের কদম্বশিখর প্রদেশের রাজ। ছিল এই ছুূর্দম। যেমন 
ছিল অধর্মাচারী, অত্যাচারী, নিষ্ঠুর, তেমনি ছিল কামান্ধ। রাজকার্য 
থেকে ব্রাহ্গণর। তার রাজত্বে বিদূরিত হয়েছিল, প্রতি পদে সাধু ব্যক্তিরা 
হত অপমানিত, লাঞ্ছিত। নিজের স্ত্রী থাকা সত্বেও পরদারে তার 
তীব্র আসক্তির জন্যে পুরবাসীরা সব সময়ই থাকত সন্ত্রস্ত । অসাধু. 
ব্যক্তিদের নিয়ে নিজ রাজ্যে তার উৎগীড়নের শেষ ছিল না । বেশীর, 
ভাগ সময়ই তার কাটত ব্যাধদের নিয়ে মৃগয়ায় | 

একদিন মুগয়ায় বেড়িয়ে পিছু নিল একটি একপ্রস্থতা গাভীর | 
অনুসরণ করতে করতে প্রবেশ করল ঘোর অরণ্যে। হারিয়ে গেল 
তার সঙ্গী-সাধীরা। একা! ঘুরতে-ঘুরতে একসময় সে প্রবেশ করল: 
আনন্দকাননে। খুবই শ্রাস্ত। তরুলতা সঞ্জিত মনোরম সেই কাননে 
প্রবেশ করে মুহুর্তেই তার ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। তারপর এদিক- 
সেদিক তাকাতে-তাকাতে দেখতে পেল রত্ুকিরণোজ্জল এক গগনচুষ্বী 
প্রাসাদ। রাজা ছুর্দম কৌতৃহল দমন করতে না৷ পেরে এল সেখানে । 
নামল অশ্ব হতে। জানত না সেযে এটি সেই ধর্নেশ্বরের মণ্ডপ । 
দেখতে-দেখতে এমনি বিহ্বল হয়ে পড়ল যে দর্শনের তৃষ্ণা যেন তার 
আর কিছুতেই মিটতে চায় না। সেই সঙ্গে তার মনে শুরু হয়ে 
গেল তোলপাড় । বারবার নিজের মনেই সে নিজেকে ধিকার দিতে 
সুর করল। ভিতরের পাপবোধগুলে। যেন তাকে বারবার পীড়া 
দিতে আরম্ভ করল। সেই অবস্থাতেই ধর্মেশ্বরকে দর্শন করে আবার, 
সে ফিরে গেল নিজের রাজ্যে । আহ্বান জানাল, প্রাচীন অমাত্যদের ৮ 
সসম্মানে ব্রাহ্মণদের ডেকে পদে অধিষ্টিত করল, পুরুবাসিদের আশ্বাস, 


৬১৮ 


দিল। অসাধুদের নির্মম সাজা দিল। রাজার এই আকস্মিক পরিবর্তন 
খে সকলেই বিশ্মিত হল। 
রাজা ছূর্দম কিন্তু একাগ্রচিত্তে রাজ্যে শৃঙ্খলা স্থাপন করে, পুত্রের 
হাতে ব্লাজ্যভার অর্পণ করে বনিতা, বিষয়, সবকিছু ত্যাগ করে চলে 
এল কাশীতে । আর বাকি জীবন ধর্সেশ্বরের পুজায় কাটিয়ে অস্তে 
মোক্ষলাভ্ড করল । 


[ অধ্যায় ৮২--৮৪ ] 


দেবদেব মহেশ্বর অতঃপর বীরেশ্বর লিঙ্গের আবির্ভাব কাহিনী যা 
বলেছিলেন পার্বতীকে, দেব ষড়ানন তা বললেন অগস্ত্যকে । 
পুরাকালে অমিত্রতেজ নামে এক নরপতি ছিলেন। বন্থবিধ 
বলবাহন-সম্পন্ন রূপবান যুবক সেই নরপতি ছিলেন অশেষ গুণের 
আধার । যেমন প্রজাবৎসল, তেমনি ধামিক। সত্যা শ্রয়ী সেই নৃপতির 
রাজতে যেমন ছিল সখ, তেমনি শান্তি। রাজ! নিজে ছিলেন অতীব 
বিষুভক্তপন্ায়ণ | তীর কাছে “কৃষ্ণ এব পরো দেব? কৃষ্ণ এব 
পরাগতিঃ। কৃষ্ণ এব পরো বন্ধুস্তস্তাসীদবনীপতেঃ ॥” (৮২/৩৪)-_-কৃষ্ণই 
পরমদেব, কৃষ্ণই পরম গতি, কৃষ্ণই ছিলেন পরম বন্ধু। রাজ্যের 
প্রজারাও ছিল তাই। আবালবৃদ্ধবনিতার মুখে-মুখে সদা-সর্বদা 
গোবিন্দ, গোপালের নাম, তুলসী সেবা: আর ফলাকাজক্ষাহীন বান্থদেব- 
চরণে সমপিত কাজ নিয়েই সম্পুর্ণ নিরামিশাষী ছিল তাঝ । 
একদিন দেবধি নারদ এলেন তার কাছে। রাজা মধুপর্কবিধানে 
ভার ঘথোচিত আপ্যায়ন করলে নারদ বললেন-_ব্রাজা? তুমি সমস্ত 
ভূভেই ভগবান গোবিন্দকে দর্শন করে নিজে যেমন ধন্য হয়েছ, দেবগণের 
কাছেও তেমনি মাননীয় হয়েছ ।? - 
“অনয়া বিষুভক্ত্যা তে সন্বষ্টেক্দিয়মানসঃ | 
উপকর্তমন! ব্রয়াৎ তন্নিশাময় ভূপতে ॥” (৮২/৪৬). 


২১৯ 


_-তোমার অনন্য বিষুভক্তিতে আমার মন ও ইন্দ্রিয় সন্ত 
হয়েছে। তাই তোমার উপকার করবার ইচ্ছায় কিছু বলছি, শোন। 

'হাটকেশ্বর থেকে আসার পথে মলয়গন্ধিনী নামে এক বিদ্ভাধর 
কন্টা আমাকে দেখতে পেয়ে সজল নয়নে বললে, গন্ধমাদন পর্বতে সে 
যখন খেলা করছিল তখন দানব কপালকেতুর ছৃরৃত্ত পুত্র কঙ্কালকেতু 
মায়াবলে তাকে হরণ করে এনে ব্লেখেছে চম্পকাবতী নগরীতে । 
আগামী তৃতীয়াতে সে তাকে জোর করে বিয়ে করবে । পরিত্রাণের 
আশায় সেই কন্। ভগবতীর কাছে আকুল আবেদন জানালে, ভগবতী 
তাকে আশ্বাস দিয়েছেন__আগামী তৃভীয়াতে বিষুুভক্ত এক বুদ্ধিমান 
যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হবে। ভগবতীর এই কথা যাতে সত্য হয়, 
কন্তা আমাকে তার চেষ্টা করতে বলেছে। ছূবৃত্ত কস্কালকেতু কিন্ত 
নিজের ত্রিশূল ছাড়া আর কোন অস্ত্রেই বধ্য নয়। 

কন্যার এই কথ! শুনে, 'অমিত্রজিৎ আমি তোমার কাছেই এসেছি । 
কারণ, তুমিই একমাত্র সেই বুদ্ধিমান এবং বিষুভক্তিপরায়ণ যুবক। তুমি 
সত্বর গিয়ে সেই দুরবৃত্ত্কে বিনাশ করে মলয়গন্ধিনীকে গ্রহণ কর ।' 

'অমিত্রজিৎও চম্পকাবতী নগরীতে যাবার উপায় জিজ্ঞেস করলে 
নারদ বললেন-_“তুমি অর্ণৰপোত নিয়ে এখনি সমুদ্রে বাও। অর্ণৰপোতে 
থাকতে থাকতেই পুণিমার দিন দেখবে সমৃদ্রজল ভেদ করে উঠবে এক 
রুথ। সেই রথে থাকবে এক কল্পবৃক্ষ । সেই কল্পবৃক্ষে দেখবে দিব্য- 
পর্বঙ্কে শায়িতা এক দেবকন্া বীণ। নিয়ে মধুর স্বরে এই গাথা গান 
করছে! 

“যৎকর্ধ। বিহিতং যেন শুভং বাথ শুভেতরম্‌। 
ম এব ভুউক্তে তত্বথ্যং বিধিস্মত্রনিয়স্ত্রিতঃ |” (৮৩/৬৩) 

যে ব্যক্তি শুভ ব1 অশুভ কর্ম করেছে, বিধাতার নিয়মে সেই 
ব্যক্তি নিশ্যয়ই তার ফলভোগ করবে। 

এই গাথা গান করেই সেই দেবী রথ কল্সবৃক্ষ এবং পর্যস্ক-সহ সমুদ্র- 
মধ্যে প্রবেশ করবে । তুমিও তৎক্ষণাৎ নিঃশস্কচিত্তে অর্ণবপোত থেকে 
ভগবান ঘজ্ঞবারাহকে স্মরণ করে ঝীঁপ দিয়ে সমুদ্রে সেই দেবীর অনুগমন 


৪ 


করবে । দেখবে, তুমি পৌছে গেছ চম্পকাবতী নগরীতে আর সামনেই 
দেখতে পাবে সেই কম্াকে। এই কথা বলে নারদ চলে গেলেন । 

রাজা অমিত্রজিৎও আর কালবিলম্ব ন। করে তৎক্ষণাৎ অর্ণৰপোত 
নিযে সমুদ্রে গেলেন । নারদ যেমনটি বলেছিলেন, রাজাও ঠিক তাই 
' দেখলেন এবং তাকে অনুসরণ করে সমুদ্রমধ্যে এসে? গেলেন সেই 
নগরীতে । দোলা-পর্ষস্কে শুয়ে ছিল কন্টা ৷ হঠাৎ ভূজদ্বয়ে শঙ্ঘচক্রাদি 
চিহ্ন, বিশাল বক্ষে তুলসীমালা শোভিত বিশালকায় যুবা-পুরুষকে দেখে 
সচকিতে দোলা থেকে উঠে, তাকেই তার পারত্রাতা-জ্বানে নলজ্জ অথচ 
নিভীক আপ্যায়ন জানাল। ব্রাজাও তাকে দেখে রীতিমত মোহিত 
হলেন । কন্কালকেতু তথন প্রাসাদে ছিল না। পাছে এসে দেখা- 
মাত্রই ছূর্বন্ত তার পরিভ্রাতাকে ত্রিশূল প্রহার করে এই আশঙ্কায় মে 
নৃপতিকে লুকিয়ে রাখল গোপন শস্ত্রাগারে । 

সন্ধ্যায় ফিরল উন্মত্ত কগ্কালকেতু । স্ুুপ্রচুর দিব্যরত্ু এনে রাখল 
কন্তার-সামনে। কন্ঠার পাণিগ্রহণ করতে এখনও মাঝে ছুটো দিন। 
অস্থির কঙ্কালকেতু প্রকাশ করল জনেক প্রগলভতা । তারপর নিজের 
কোলে ত্রিশুল রেখে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল । 

মলরগান্ধনী তাকে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে দেখে, তার কোল থেকে 
ত্রিশূল তৃলে নিয়ে রাজার হাতে দিয়ে বলল-_-“এই ত্রিশুল-ছাড়। ও বধ্য 
নয়। রাজা, এবার সত্ব আপনি ওকে বধ করুন ।, 

ঘুমণ্ত কস্কালকেতুকে কিন্তু আঘাত হানলেন না অমিত্রজিৎ। চক্রধারী 
শ্রীহরিকে স্মরণ করে বাঁ-প! দিয়ে নঙ্গোরে তাকে লাখি মারতেই ধড়মড় 
করে উঠে আগস্তককে দেখে যেমন বিস্মিত হল, তেমনি ক্রোধারুণ হয়ে 
উঠল । শক্রজয়ী ত্রিশূল তার পরহস্তগত। বারবার চেয়েও যখন সে 
তা পেল না, তার ভূজবলের ওপরই অসীম আস্থা নিয়ে রাজার বুকে 
হানল এক ভীম-আঘাত। চক্রধারী ধার রক্ষক, আঘাত তার কি 
করতে পারে ? যে আঘাতে শিলাও থখণ্ড-খণ্ড হয়ে যায় সে আঘাতেও 
অটল সামান্তক একজন ভক্ষ্য মানুষ | অতঃপর অমিত্রজিতের এক: 
চপেটাঘাতে কঙ্কালকেতু যখন লুটিয়ে পড়ল, তখন সে বুঝল তাৰ 


খ্২৯ 


প্রতিপক্ষ সামান্য মামুষ নয় ; সন্দেহ হল বুঝিব৷ সেই নররূগী চতুতূজ। 
বলল- ছলে কৌশলে ত্রিশূল যখন তুমি হস্তগত করেছ, তখন মৃত্যু 
আমার নিশ্চিত। তবে বিনা যুদ্ধে নয়। তোমারই জন্য লক্গমীন্বরূপা এই 
বিদ্ভাধর-কন্যাকে আমি এখানে এনে অক্ষত। অবস্থায় রক্ষা করে 
রেখেছি। কিন্তু আমাকে না মেরে তুমি একে কিছুতেই নিয়ে যেতে 
পারবে না। এই বলে কঙ্কালকেতু রাজাকে বাম হাত দিয়ে আঘাত 
হানতেই রাজা তারই ত্রিশুল তারই বুকে আমূল বিদ্ধ করলে, দানব 
প্রাণত্যাগ করল । | 
ঠিক সেই সময়েই নারদ আবার সেখানে এসে হাজির হলেন এবং 
বিবাহ-বিধির দ্বারা তাদের অভিষিক্ত করে প্রস্থান-পথ দেখিয়ে 
দিলেন। সেই পথে মলয়গন্ধিনী-সহ অমিত্রজিৎ ফিরে এলেন 
বারাণসীতে ! স্বরাজ্যে স্বধর্ম কামসেবায় বেশ কিছুকাল অতিবাহিত 
হবার পর রাজ্ৰী মলয়গন্ধিনী স্বামীর অনুমতি নিয়ে পুত্রকামনায় 
অভীষ্ট-তৃতীয়া ব্রত উদ্যাপন করলেন । 
স্তনপানকারী শিশুর সঙ্গে গৌরীর যথাবিহিত পুজা এবং ব্রত 
উদযাপনের পর রাজ্জী হলেন সন্তানসম্ভবা । দেবী গৌরীর কাছে 
প্রার্থনা জানালেন রাজ্জী £ 
“পুত্রং দেহি মহামায়ে সাক্ষাদিষ্ণংশসম্ভবম্‌ ॥ 
জাতমাত্রে। ব্রজেৎ ন্র্গং পুনরায়াতি চাত্র বৈ। 
ভক্তঃ সদাশিবেহত্যর্থং প্রসিদ্ধ সব্বভূতলে ॥ 
বিনৈব স্তন্যপানেন ষোড়শাব্দাকৃতিঃ ক্ষণাৎ। 
এব্ডূতঃ স্থতো৷ গৌরী যথা মে স্তাত্তথা কুরু |% (৮৩/২০-২২) 
হে মহামায়ে ! আপনি আমাকে বিষ্ণুর অংশসম্ভৃত একটি পুত্র 
দিন। যে বালক জন্মগ্রহণ করেই স্বর্গে যাবে আবার এখানে ফিরে 
আনবে, সদাশিবের পরমভস্তু বলে প্রসিদ্ধ হবে। হে গৌরী ! স্তনাপান 
ছাড়াই দেই বালক ক্ষণকালমধ্যেই ষোল বছরের বালকের আকৃতি 
“ধারণ করবে, এমনি একটি সন্তান আমার যাতে হয়, তাই করুন । 
সুড়ানীও ভক্তিমতী রাজ্ৰীর অভিলাষ যাতে পূর্ণ হয় সেই বর 


২২২ 


শর্দয়ে চলে গেলেন । 
যথাসময়ে রাজ্ীর পুত্র সম্তান জন্মগ্রহণ করল। হিতৈষী মন্ত্রীরা 
দেখলেন, জাতকের জন্ম হয়েছে যূলা-নক্ষত্রে। রাজ্জীর কাছে এসে 
মন্ত্রীরা বললেন,_-যদি পতির মঙ্গল চান, তাহলে ছুষ্ট নক্ষত্রে-জাত এই 
"পুত্রকে আপনায় পরিত্যাগ করতে হুবে।' রাজী হলেন রাজ্ঞী। 
ধাত্রীকে ডেকে বললেন--পঞ্চমুদ্রা নামে যে মহাপীঠ আছে 
সেখানে বিকটা নামে এক মাতৃকা আছে। এই পুত্রকে সেখানে 
রেখে মাতৃকাকে বলে আসবে-_“গৌর্যা। দত্তঃ শিশুরসো তবাগ্রে 
বিনিবেদিতঃ ॥ ব্রাজ্ঞ্যা পতুযুঃ প্রিয়ৈষিণ্যা মন্ত্রিবিজ্ঞপ্রিনুন্নয়া ) 
( ৮৩/২৭-২৮)--গোৌনীপ্রদত্ত এই শিশুটিকে পাতপ্রিয়ৈধিণী রাস্জী 
মস্ত্রিগণের প্রেরণায় আপনাকে প্রদান করিয়াছেন । ব্বাজ্বীর আজ্ঞায় 
খাত্রীও জাতককে রেখে এল বিকটাদেবীর কাছে। দেবীও সঙ্গে-সঙ্গে 
যোগিনীদের ডেকে শিশুটিকে মাতৃগণের কাছে নিয়ে সযতে রক্ষা করার 
আদেশ দিলেন। যোগিনীরাও আকাশপথে শিশুকে নিয়ে গেল 
ব্রহ্মাণী। বৈষ্ণবী, নৌত্রী, বারাহী, নারসিংহী, কৌমারী, মাহেস্দ্রী, 
চামুণ্ডা, চত্তী প্রভৃতি মাতৃকাগণের কাছে। অনুপম এই শিশুকে দেখা 
মাত্রই তারা বুঝলেন, লক্ষণাক্রাস্ত এই শিশু পরে রাজা হবে । জানতে 
চাইলেন জাতকের কাছে তার বাবার নাম। নিরুত্তর শিশু। মাতৃগণ 
তখন যোগিনীদের বললেন-_-“একে কাশীতে মহাসিদ্ধগীঠ কামদা 
'পধ্মুদ্রাদেবীর কাছে নিয়ে যাও।) যোগিনীরাও সঙ্গে-সঙ্গে তাকে 
আবার মত্যে নিয়ে এসে কাশীতে সেই মহাপীঠে রেখে গেল। জাতকও 
সেখানে স্থিরচিত্তে তপস্তামগ্ন হল | তার তপন্তার প্রভাবে সব- 
জ্যোতির্ময় উমাপতি সপ্তপাতাল ভেদ করে লিঙ্গরপে ভার সামনে 
'আবিভূতি হয়ে তাকে বর প্রার্থনা করতে বললেন। তপন্তাক্রিসট 
,ক্পোমাঞ্চিত-তন্ু বালক প্রার্থনা জানালেন £ 
“দেবদেব মহাদেব যদি দেয়ো বর মম। 
তত্র ভবতা৷ স্তেয়ং ভবতাপ্যহ্থতা সদ! ॥ 
অন্মিল্লিঙ্গে স্থিতং শস্তে। কুরু ভক্তসমীহিতম্‌। 


২৩ 


বিন। মুদ্রাদিকরণং মন্ত্রেণাপি বিনা বিভো ॥ 
দিশ সিদ্ধিং পরমাত্র দর্শনাৎ স্পর্শমান্নতেঃ | 
অন্ত লিঙ্গন্য যে ভক্তা মনোবাক্কায়কন্্মভিঃ ॥” (৮৩/৪৯-৫১ ) 
__দেবদেব মহাদেব, আমাকে যদি বরই দেন, তাহলে আমার 
ইচ্ছা আপনি সর্বদা এই লিঙ্গমধ্যে অবস্থান করুন। হে শঙ্কু, হে বিভু 
এইখানে অবস্থান করে মুদ্রাদি এবং মন্ত্রব্যতিরেকেই কেবল দর্শন? 
স্পর্শন এবং প্রণামে আপনি ভক্তদের অনুগ্রহ করুন। কায়মনোবাক্যে- 
ও করে যাদের এই লিঙ্গে ভক্তি আছে তাদের আপনি কৃপা করুন । 
লিঙ্গরূপ মহাদেব বালকের এই প্রার্থনায় সম্মতি জানিয়ে 
বঙ্গেছিলেন-_তুমি বৈষ্কবপ্রধান অমিত্রজিতের পুত্র । আমার এই 
(লঙ্গ তোমারই নামে 'বীরেশ্বর লিঙ্গরপে আখ্যাত হবে। তুমি 
রাজাদেরও দুর্লভ রাজ্য লাভ করে; উপভোগ করেঃ অস্তে সিদ্ধিলাভ 
করবে। কাশীমধ্যে হয়গ্রীব, গজ, হংল, চৌর, সাগর, সপ্তসাগর প্রভৃতি 
যাবতীয় তীর্থ এবং তিনকোটি লিঙ্গ বিদ্যমান রয়েছে। তার মধ্যে 
বীরেশ্বর লিঙ্গ হবে সহাশ্রেষ্ঠ এবং জীবিতাবস্থাতেই তারকজ্ঞানের, 


মহাক্ষেত্র হবে |? 


[ অধ্যায় ৮৫ ] 

“অতঃপর ক্বন্দদেৰ মহামুনি অগস্ত্যকে বললেন কামেশ্বর -এর 
ইতিবৃত্ত । 

পুরাকালে একদিন মহাতেজা, মহাক্রোধী, মহাতপস্থী ছুর্বাস' 
সসাগরা পৃথিবী পরিভ্রমণ করতে-করতে উপস্থিত হলেন আনন্দকাননে । 
বিশ্বেশ্বরের প্রাসাদ, কুণ্ত, খধিদের রমণীয় কুটার; বিভূতিভূষিত 
জটাজুটধারী, কৌপীনবাস তাপস, তার ওপর শান্ত পরিবেশ দেখে, 
স্থানটি খুবই ভাল লেগে গেল হূর্বাসার এবং চঞ্চল চিন্তবৃত্িকে শাস্ত 
করার অন্কতম শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র মর্নে করে সেখানেই তপস্যা আরম 


২২৪ 


করলেন । বহুকাল কাটল তপস্তার । কিন্তু কোন ফলোদয় ঘটল না 
দেখে, ছুবাসার সপ্ত ক্রোধ গর্জন করে উঠল। নিজেকে তো বিকার 
দিলেনই, উপরস্ত শিবক্ষেত্র কাশীকে ধিক্কার দিয়ে শাপ দিতে উদ্যত 
হলেন । অনস্ ক্রোদের আধার হলেও মহাতাপস হুবাসার় এই কাণ্ড 
দেখে, মহেশ্বর হাসতে-হাসতে লিঙগরূপে সেখানে আবিভূতি হলেন। 
সেই লিঙ্গের নাম হল, প্রহসিতেশ্বর | 

কিন্তু ছুরবাপাকে শাপদান থেকে নিরত করার আগেই তার 
ক্রোধানল কাশীর আকাশে-বাতাসে পরিব্যাপ্ূু হয়ে পড়ল । 

“ততক্রোধানলধূমৌতৈর্ব্যাপিতং বন্নভোহঙ্গনম্‌। 
তদ্দধাতি নভোইদ্যাপি নীলিমানং মহত্তরম্‌ ॥” (৮71৯৮) 

_--সেই ক্রোধানলের ধোয়া! গগন পরিব্যাপ্ত করে যে নীলিমা 
ধারণ করেছিল, আজ পরধন্ত গগন সেই মহত্তর নীলিমাকে ধারণ 
করে আছে। 

মহাক্ষেত্রে হঠাৎ এমন একটা বিপধয় দেখে ক্রদ্ধ আক্রোশে ফুঁসে 
উঠল প্রমথের সেই নন্দী, নন্দিষেণ, মহোদর প্রভৃতি শতকোটি গণেরা। 
যাত্ুা। ছিল সবসময়ই সঙ্জাগ পাভারার মধ্যে । বিরাট কোলাহলে সেই 
ধূমাগ্রি নিবারণ করতে-করতে প্রভপ্জনের গাত রোধ করে তারা সরোষে 
এগিয়ে আসতে লাগল উৎপত্তিস্থলের দিকে । প্রহসিতেশ্বর সেই 
লিঙ্গের কাছে আসা-মাত্রই দেব উমাপতি তাদের নিরস্ত করে বললেন-- 
“মদংশ এব হি মুনিরানুনুয়ের এষ বৈ।” (৪৯)--এই অনুসুযা-পুত্র মুনি 
(দর্বাসা ) আমারই অংশ; এর কোন ক্ষতি তোমরা করে না। 
তারপর, মুনির শাপে কাশীতে যাতে নির্বাণলাভের বিশ্ব না ঘটে, তার 
জন্তে সেই লিঙ্গ থেকে মহাতেজোময়রূপে ছর্বাসার সামনে আবিষ্ভৃতি 
হয়ে মহেশ্বর তাকে বর প্রার্থনা করতে বললেন । ছুর্বাসার তখন 
মোহ ভঙ্গ হল। নিজেই ক্রোধের জন্থে লজ্জিত হয়ে মনপ্রাণ দিয়ে 
কাশীর স্তি করলেন । দেব মহেশ্বর তাকে বললেন--একমাত্র 
কাশীর স্তৃতিই হল্‌ শতকোটি যজ্ঞের কল। তুমি মহামোহ থেকে মুক্ত 
হদ্মে অবশ্ঠই পরমঞ্ঞান লাভ করবে । আর ক্রোধ ! 


হ্২€ 


কাশী”-১৫ 


“বস্তান্ত্েব হি সাম স্তপলঃ জ্রুধ্যতীহ সঃ 
কুপিতোইপ্যমর্থস্ত কিং কর্তা ক্ষীণবৃত্তিবৎ ॥” ( ৮৫/৬৯ ) 
_-যার তপোবল আছে; তার ক্রোধ সাজে? অসমর্থ ব্যক্তির ক্রোধ 
হীনবৃত্তিরই পরিচায়ক । 
রোমাঞ্চিত-তনু ছুর্বাসা তখন কৃত্তিবাসের স্তৃতি করে এই বর 
চাইলেন £ 
“দেবদেব জগন্নাথ করুণাকর শঙ্কর । 
মহাপরাধবিধ্বংসিন্নন্ধকারে স্মরাস্তক ॥ 
মৃত্যুগয়োগ্র ভূতেশ মুড়ানীশ ত্রিলোচন। 
য্দি প্রসনো মে নাথ যদি দেয়ো বরো মম ॥ 
তদিদং কামদং লিঙ্গমন্তিহ ধূর্জটে | 
ইদং চ পন্থলং মেহত্র কামকুণ্তাখ্যমন্ত্র বৈ ॥ (৮৫/৭১-৭৩ ) 
_-হে দেবদেব, জগন্নাথ করুণাকর শঙ্কর ! হে মহাপরাধবিধ্বংসি। 
অদ্ধকরিপো, স্মরাস্তক, মৃতুযুপ্রয়, উগ্র, ভূতেশ, মুড়ানীশ, ত্রিলোচন ! 
হে নাথ ! হে ধুর্জটে, যদি প্রসন্নই হয়ে থাকেন, তবে এই বর দিন; 
থে এই লিঙ্গ কামপ্রদ হবে এবং এই ক্ষুদ্র জলশয় কামকুণ্ড নামে 
খ্যাত হবে। 
মহেশ্বর ছুবাসার অভিলষিত প্রার্থনা পুরণ করে বলেছিলেন 
ছুর্বাসেশ্বর? নামে তোমার প্রতিষ্ঠিত যে লিঙ্গ তা 'কামেশ্বত্' নামে 
বিখাত হবে আর এই কূপমধো সান করলে বুজন্মাকৃত পাপ থেকে 
মানুষ মুক্তি লাভ করবে | 
এই বলে মহেশ